ব্যাকডো

ব্যাকডো Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ব্যাকডো, Nonprofit Organization, London.

26/10/2025
26/10/2025

ব্যাকডো (বাংলাদেশ সমন্বিত উন্নয়ন সংস্থা)
=====================

কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ সভার কার্যবিবরণী

তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫
সময়: ইউকে সময় বিকেল ৪টা । বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা
সভাস্থল: অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (ভার্চুয়াল সভা)

সভাপতিত্ব ও পরিচালনা

সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাকডো-এর সম্মানিত যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ ফখর উদ্দিন চৌধুরী,
এবং সভা পরিচালনা করেন ব্যাকডো-এর সম্মানিত আহবায়ক ব্যারিস্টার কাজী এম এ আনোয়ার।

উপস্থিত সদস্যবৃন্দ

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাকডো-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নিম্নলিখিত সদস্যবৃন্দঃ

• ব্যারিস্টার আলিমুল হক লিটন
• ব্যারিস্টার ফারহানা রহমান
• ইঞ্জিনিয়ার এম. ডি. তাজুল ইসলাম
• প্রফেসর হাবিবুর রহমান
• সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক সামিউল আজম
• জনাবা সাইফুন্নাহার কেয়া
• জনাবা কাশফি কাকন
• জনাব আনোয়ার জামিল মুন্না
• জনাব মুজাহিদুল ইসলাম
• ব্যারিস্টার আবরার ফয়েজ
• তাসলিমুল ইসলাম তানভীর চৌধুরী

(এছাড়াও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সদস্যগণ ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।)

সভা আলোচ্যসূচি (এজেন্ডা)

ক) জেলা ভিত্তিক প্রবাসী কমিটি গঠন
খ) সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ আয়োজন
গ) মহাসম্মেলনের সময় নির্ধারণ

আলোচ্য বিষয়সমূহ ও সিদ্ধান্ত:
---------------------

(ক) জেলা ভিত্তিক প্রবাসী কমিটি:

সভায় প্রস্তাব গৃহীত হয় যে, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য প্রবাসী দেশভিত্তিক জেলা অনুযায়ী ব্যাকডো-এর কার্যকরী উপকমিটি গঠন করা হবে। প্রতিটি জেলার কমিটিতে একজন সমন্বয়ক এবং সহ-সমন্বয়ক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক পরবর্তীতে নাম ঘোষণা করবেন।

(খ) সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ:

সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ব্যাকডো-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ উপকমিটির অধীনে নিয়মিতভাবে অনলাইন ও সরাসরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন সদস্যদের সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন ও দক্ষ করে তোলা হবে। আগামী মাস, নভেম্বরে একটা দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচী পালন করা হবে।

(গ) মহাসম্মেলনের সময় নির্ধারণ:

সভায় প্রস্তাব গৃহীত হয় যে, ব্যাকডো-এর প্রথম কেন্দ্রীয় মহাসম্মেলন আগামী ডিসেম্বর ২০২৫ অথবা জানুয়ারী ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত হবে (সুনির্দিষ্ট তারিখ পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে)। সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি কমিটি গঠনের দায়িত্ব আহবায়ককে অর্পণ করা হয়।

সাধারণ সিদ্ধান্ত:
----------

সভায় উপস্থিত সকল সদস্য সংগঠনের অগ্রগতি, ঐক্য ও স্বচ্ছ প্রশাসন বজায় রাখার প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সভার সকল সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

সভা সমাপ্তি:

সভা শেষে সভাপতিত্বকারী অধ্যক্ষ ফখর উদ্দিন চৌধুরী সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ব্যাকডো-এর সাফল্য ও অগ্রগতি কামনা করে দোয়ার মাধ্যমে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

সভাপতি:
অধ্যক্ষ ফখর উদ্দিন চৌধুরী
যুগ্ম আহবায়ক, ব্যাকডো

সভা পরিচালক:
ব্যারিস্টার কাজী এম এ আনোয়ার
আহবায়ক, ব্যাকডো

তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫

26/10/2025

অনুচ্ছেদ: নেতৃত্ব কাঠামো ও নির্বাচন প্রক্রিয়া॥
---------------

ধারা ১: নেতৃত্বের স্তরবিন্যাস

ব্যাকডো -এর নেতৃত্ব কাঠামো তিনটি স্বতন্ত্র স্তরে বিভক্ত থাকবে, যথা:

১. সাধারণ সদস্য স্তর (প্রথম স্তর)
২. কার্যনির্বাহী সদস্য স্তর (দ্বিতীয় স্তর)
৩. সুপ্রিম কাউন্সিল স্তর (তৃতীয় স্তর)

ধারা ২: সাধারণ সদস্য স্তর

১.⁠ ⁠সাধারণ সদস্য স্তরে অন্তর্ভুক্ত হবেন সকল অফিসিয়ালভাবে তালিকাভুক্ত সদস্যবৃন্দ, যারা সংগঠনের সংবিধান, নীতিমালা, আদর্শ ও কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করবেন।

২.⁠ ⁠প্রত্যেক সাধারণ সদস্য সংগঠনের প্রতি নিয়মিত মাসিক চাঁদা প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন এবং সংগঠনের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন।

৩.⁠ ⁠সাধারণ সদস্যগণ সংগঠনের মূল ভিত্তি ও শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাঁরা সংগঠনের আদর্শ, শিক্ষা ও কর্মধারার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিকশিত ও প্রস্তুত হবার সুযোগ লাভ করবেন।

৪.⁠ ⁠সাধারণ সদস্যগণ সংগঠনের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রাপ্ত হবেন; তবে নীতি-নির্ধারণী বা নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাঁদের থাকবে না।

ধারা ৩: কার্যনির্বাহী সদস্য স্তর

১.⁠ ⁠কার্যনির্বাহী সদস্য স্তরে অন্তর্ভুক্ত হবেন সেই সকল সদস্য, যারা সংগঠনের নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক পরিচালনা, সাংগঠনিক উন্নয়ন এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

২.⁠ ⁠কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মনোনয়ন বা নির্বাচনকালে প্রার্থীর নিম্নলিখিত গুণাবলী ও যোগ্যতা বিশেষভাবে বিবেচ্য হবে -

ক) ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা ও চরিত্রের দৃঢ়তা;
খ) আল্লাহভীরুতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার;
গ) নির্লোভ, আত্মত্যাগী ও নিষ্ঠাবান মানসিকতা;
ঘ) মানুষের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ;
ঙ) ব্যাকডো -এর আদর্শ, লক্ষ্য ও নীতির প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও নিবেদন।

৩.⁠ ⁠কার্যনির্বাহী সদস্যগণ সংগঠনের কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং সংগঠনের অগ্রগতি, ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

৪.⁠ ⁠কার্যনির্বাহী সদস্যদের ওপর সংগঠনের প্রতি জবাবদিহিতা, নিষ্ঠা ও নৈতিক দায়িত্ব পালন বাধ্যতামূলক থাকবে।

ধারা ৪: সুপ্রিম কাউন্সিল

১. সুপ্রিম কাউন্সিল হবে ব্যাকডো-র সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায়, যা নীতি নির্ধারণ, দিকনির্দেশনা প্রদান ও তত্ত্বাবধানের সর্বময় ক্ষমতা রাখবে।

২. কাউন্সিল গঠিত হবে এমন সদস্যদের দ্বারা, যারা -

• জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, রাজনীতি, পরিবেশনীতি ও রাষ্ট্রোন্নয়ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি রাখেন,

• আল্লাহভীরু, নৈতিক, এবং পদলোভনমুক্ত,

• সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ।

৩. সুপ্রিম কাউন্সিল ব্যাকডো-র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করবে, এবং সেই কমিটী সংগঠনের সকল প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

৪. সুপ্রিম কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ, যা কার্যনির্বাহী কমিটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৫. নেতৃত্ব নির্বাচনের একমাত্র ক্ষেত্র হবে সুপ্রিম কাউন্সিল, অর্থাৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুধুমাত্র কাউন্সিল সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ধারা ৫: নেতৃত্ব নির্বাচন ও মেয়াদ

১. সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্যদের নির্বাচন নিরপেক্ষ, গোপন ব্যালট ও ন্যায়নিষ্ঠ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।
২. নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ সংগঠনের পৃথক বিধান অনুসারে নির্ধারিত হবে, এবং নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পুনর্নির্বাচনের সুযোগ থাকবে।
৩. নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অর্থনৈতিক প্রভাব, অনৈতিক প্রলোভন বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

ধারা ৬: নেতৃত্বের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা

১. প্রতিটি স্তরের নেতা ও সদস্য সংগঠনের নীতিমালা, সংবিধান ও ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ অনুসারে পরিচালিত হবেন।
২. নেতৃত্বের পদ কোনো মর্যাদা বা লাভের উৎস নয়, বরং এটি একটি আমানত ও দায়িত্ব, যা আল্লাহ ও সংগঠনের সদস্যদের নিকট জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

31/08/2025

মসজিদ কমিটি প্রণয়ন ও ইমামের অধিকার॥
_________________________

[২য় পর্ব]

মসজিদ: ইবাদতের কেন্দ্র না কি ক্ষমতার কেন্দ্র?

ইসলাম ধর্মে মসজিদ শুধুমাত্র নামাজ আদায়ের স্থান নয়; বরং এটি মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং নৈতিক জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর নবুয়ত জীবনে মসজিদকে ব্যবহার করেছেন উপাসনা, দাওয়াহ, শিক্ষা, বিচার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ঘাঁটি হিসেবে। সেই মসজিদ, যা একসময় শান্তি, ঐক্য ও আদর্শের প্রতীক ছিল, আজ সেখানে দেখা যায় হিংসা, অহংকার ও দ্বন্দ্ব।

অহংকার ও গৌরবের মনোভাব-কিয়ামতের আলামত:

মসজিদ নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি মহৎ কাজ, তবে সেটি যদি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে না হয়ে, ব্যক্তিগত খ্যাতি, সামাজিক প্রভাব কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রদর্শনী হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা ইসলামের মূল চেতনাবিরোধী। রাসূল (সা:) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “লোকেরা যখন মসজিদ নিয়ে পরস্পর গৌরব ও অহংকারে মেতে উঠবে, তখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।” ~ [আবু দাউদ, হাদিস: ৪৪৯]। এ হাদিস স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, মসজিদ কেন্দ্রিক অহংকার ও দলাদলি একটি গর্হিত কাজ এবং কিয়ামতের পূর্বলক্ষণ।

ক্ষমতার লড়াই: মসজিদের পবিত্রতা কোথায়?

বর্তমান মুসলিম সমাজে অনেক ক্ষেত্রে মসজিদ ইবাদতের কেন্দ্র নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং সামাজিক খ্যাতি অর্জনের একটি হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মসজিদ কমিটি গঠনের নামে শুরু হয় দলাদলি, পক্ষপাত, এমনকি সহিংসতা। যাঁরা নামাজে অনিয়মিত, কোরআন-হাদিসের ন্যূনতম জ্ঞান নেই, তারাও মসজিদের নেতৃত্ব দখলে মরিয়া। মূল উদ্দেশ্য হয়:

* সমাজে নিজেকে “ধর্মীয় নেতা” হিসেবে জাহির করা
* দান-সদকার অর্থে প্রভাব রাখা
* রাজনৈতিক সংযোগ তৈরি করা

অথচ মসজিদ ছিল রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর সময় একটি শান্তির কেন্দ্র, যেখানে দাওয়াত, পরামর্শ ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের পরিকল্পনা হতো। আজ সেই পবিত্র জায়গায় বসেই ষড়যন্ত্র হয়, প্রতিপক্ষকে হেয় করার পরিকল্পনা হয়, যা ইসলামের প্রকৃত চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এর ফলে মসজিদের মর্যাদা যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি অমুসলিমদের কাছেও ইসলামের ভুল ছবি উপস্থাপিত হচ্ছে।

সুদ ও ঘুষ: অভিশপ্ত উপার্জনের মসজিদে প্রবেশ:

বর্তমান তৃতীয় বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে মসজিদ যেন আর কেবল ইবাদতের কেন্দ্র নয়, তা হয়ে উঠেছে ক্ষমতা, অর্থ এবং সামাজিক খ্যাতি অর্জনের মাধ্যম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এইসব দেশের বহু মসজিদ আজ এমন লোকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা প্রকাশ্যে সুদ গ্রহণ করে, ঘুষ খায় এবং হারাম সম্পদে নিজেদের জীবন গড়েছে। কিন্তু আল্লাহ ও রাসূল (সা:) বারবার সুদ ও ঘুষকে জঘন্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেছেন। সুদখোর সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

اَلَّذِیۡنَ یَاۡكُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا كَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّمَا الۡبَیۡعُ مِثۡلُ الرِّبٰوا ۘ وَ اَحَلَّ اللّٰهُ الۡبَیۡعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا ~ অর্থাৎ “যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সুদের মতই। অথচ আল্লাহ বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।” ~ (সূরা বাকারা: ২৭৫)।

ঘুষ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَ لَا تَاۡكُلُوۡۤا اَمۡوَالَكُمۡ بَیۡنَكُمۡ بِالۡبَاطِلِ وَ تُدۡلُوۡا بِهَاۤ اِلَی الۡحُكَّامِ لِتَاۡكُلُوۡا فَرِیۡقًا مِّنۡ اَمۡوَالِ النَّاسِ بِالۡاِثۡمِ وَ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
~ অর্থাৎ “আর তোমরা নিজদের মধ্যে তোমাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং তা বিচারকদেরকে (ঘুষ হিসেবে) প্রদান করো না। যাতে মানুষের সম্পদের কোন অংশ পাপের মাধ্যমে জেনে বুঝে খেয়ে ফেলতে পার।”~ (সূরা বাকারা: ১৮৮)।

এই আয়াতের একটি তাৎপর্য হলো - কোনো অবস্থাতেই শাসক, বিচারক বা কর্তৃপক্ষকে উৎকোচ দিয়ে অবৈধভাবে অন্যের সম্পদ বা সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করা যাবে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো - তুমি যদি নিজেও নিশ্চিত হও যে কোনো সম্পদ প্রকৃতপক্ষে অন্যের, তবে শুধুমাত্র তার কাছে উপযুক্ত কাগজপত্র নেই বা আইনগত দুর্বলতা আছে বলে সেই সম্পদের মালিকানা পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়া নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল।

আইনি কৌশল বা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যদি তুমি আদালত থেকে কোনো রায় আদায় করে নাও, তাহলে তা হয়তো দুনিয়ার আইনে বৈধ বলে বিবেচিত হবে - কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টিতে তা সম্পূর্ণ হারাম এবং অন্যায় ভক্ষণ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, ন্যায়বিচার শুধু কাগজপত্র বা আদালতের রায় দ্বারা নির্ধারিত হয় না; বরং তা নির্ধারিত হয় সততা, হক এবং প্রকৃত মালিকানার ভিত্তিতে।

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, “ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা - উভয়ই জাহান্নামে যাবে।” ~ (মুসনাদে আহমাদ)। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি,

* বহু মসজিদের কমিটি গঠনে দানশীলতার আড়ালে হারাম অর্থের মালিকরাই প্রথম সারিতে থাকছে।
* সমাজের নামকরা সুদখোর, ঘুষখোর, ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজেরা মসজিদের দায়িত্ব নিচ্ছে, যেন তারা ইসলামের সেবক!
* দান-সদকার টাকায় গোপন লেনদেন, মসজিদের অর্থব্যবস্থায় অনিয়ম, এমনকি ব্যক্তিগত আয়-উৎস তৈরির ঘটনা এখন আর লুকোনো কিছু নয়।

তবে এর পরিণাম কিন্তু মারাত্মক ভয়াবহ। এই কারণে:

* মসজিদ হারাচ্ছে তার পবিত্রতা ও গ্রহণযোগ্যতা।
* সমাজের প্রকৃত সৎ ও পরহেজগার ব্যক্তিরা মসজিদের প্রশাসন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
* মুসল্লিদের মনে মসজিদের নেতৃত্ব ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।
* ইসলাম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যুবসমাজের ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে।

মসজিদকে যদি সত্যিকার অর্থে “আল্লাহর ঘর” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, তাহলে এই সমস্যা নিরসনে আমাদের নিন্মক্ত স্টেপসমূহ নিতে হবে:

* তবে মসজিদের নেতৃত্বে থাকতে হবে সৎ, পরহেজগার, আমানতদার ও ইসলামী জ্ঞানসম্পন্ন লোকদের।
* মসজিদ কমিটি গঠন করতে হবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে, যেখানে সুদ ও ঘুষখোরদের স্থান থাকবে না।
* মসজিদের দান, আয় ও ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে উন্মুক্ত রাখা আবশ্যক।

মসজিদ একদিকে যেমন আল্লাহর ঘর, অন্যদিকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কেন্দ্র। এই ঘরে যদি হারাম উপার্জনের লোকদের প্রবেশ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা পায়, তাহলে শুধু মসজিদই অপবিত্র হয় না, বরং মুসলিম সমাজের ভিতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই সময় এসেছে মসজিদকে রাজনীতি, লোভ ও হারামের করালগ্রাস থেকে মুক্ত করে ঈমানদার নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনার।

নামমাত্র কমিটি নয় - জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন:

একজন সত্যিকারের মসজিদ পরিচালকের উচিত হলো - নিয়মিত জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা; মসজিদে একাগ্রচিত্তে ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চিত করা; সম্পদের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা; এবং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে দায়িত্ব পালন করা। যারা নিজেরাই মসজিদে নিয়মিত আসে না অথচ মসজিদ কমিটিতে থাকতে চায়, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ
كَبُرَ مَقْتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُوا۟ مَا لَا تَفْعَلُونَ
অর্থাৎ- “তোমরা যা করো না তা কেন বলো? আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত ঘৃণিত যে, তোমরা যা করো না তা বলো।” ~ (সূরা আস-সাফ, আয়াত: ২-৩)।

যোগ্য মসজিদ কমিটি গঠনের সঠিক মানদণ্ড:

একটি মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং মুসলিম সমাজের নৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক পথনির্দেশনার কেন্দ্রবিন্দু। তাই একটি সৎ, যোগ্য ও বিশ্বস্ত মসজিদ কমিটি গঠন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা উচিত:

১. ইমানদার ও পরহেজগার সদস্য নির্বাচন: কমিটির প্রতিটি সদস্যের ঈমান মজবুত হওয়া এবং তার জীবনদর্শন যেন কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

২. হারাম আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তি নির্বাচন: সদস্যদের জীবনযাপন হতে হবে সুদ, ঘুষ ও অনৈতিক উপার্জন থেকে মুক্ত। কারণ, হারাম অর্থে পরিচালিত ইবাদত কার্যক্রম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ও মসজিদে সক্রিয় উপস্থিতি: যিনি মসজিদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন, তার জন্য মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা একটি মৌলিক শর্ত। মসজিদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক না থাকলে নেতৃত্ব গ্রহণের নৈতিক ভিত্তি থাকে না।

৪. আর্থিক স্বচ্ছতা ও আমানতের প্রতি দায়িত্বশীলতা: মসজিদের অর্থ ও সম্পদ জাতীয় আমানত। তাই কমিটির সদস্যদের হতে হবে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছ, সৎ এবং জবাবদিহিতার মানসিকতা সম্পন্ন।

৫. রাজনৈতিক পক্ষপাত ও দলাদলি থেকে মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি: মসজিদ কমিটি যেন কোনো দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে প্রভাবিত না হয়। এর নেতৃত্বে আসা উচিত নিঃস্বার্থ, নিরপেক্ষ ও উম্মাহর সেবা মনোভাবসম্পন্ন মানুষদের।

উপসংহার:
-----------

মসজিদ শুধু ইট-পাথরের একটি ভবন নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর আত্মিক ও নৈতিক জীবনের কেন্দ্র। এই পবিত্র স্থানের নেতৃত্ব এমন কারো হাতে থাকা উচিত, যারা আন্তরিকভাবে আল্লাহকে ভালোবাসে এবং উম্মাহর কল্যাণে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সুতরাং, মসজিদ পরিচালনা মানে শুধু দান গ্রহণ বা কমিটি গঠন নয়, বরং এটি এক পবিত্র আমানত - যার জবাবদিহি কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে করতে হবে। “মসজিদকে রাজনৈতিক নয়, আধ্যাত্মিক নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনাই হোক আমাদের মূল চেতনা।”

[চলবে – তৃতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষা করুণ]

__________________

ব্যারিস্টার কাজী এম এ আনোয়ার।
------------------------

31/08/2025

বাংলাদেশ সমন্বিত উন্নয়ন সংস্থা (ব্যাকডো)॥
⸻⸻⸻⸻⸻⸻

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

বাংলাদেশের সার্বিক সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য। সংস্থাটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি মুক্ত সমাজ বিনির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে। এই সংস্থার মাধ্যমে দেশের সামাজিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে এবং দেশবাসীর জীবনমান উন্নত হবে যাতে বাংলাদেশ একটা সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

সংগঠনের নেতৃত্বঃ

এই সংস্থার নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন সুশিক্ষিত, দেশপ্রেমী, সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিরা, যারা দৃঢ় নৈতিক চরিত্রের অধিকারী এবং সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী। এর জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে, যারা সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন।

উচ্চশিক্ষিত ও নীতিবান সদস্যদের নিয়ে একটি উচ্চ পরিষদ (সুপ্রীম কাউন্সিল) গঠন করা হবে, যারা সংস্থার প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষ মনোনয়ন করবেন। প্রেসিডেন্ট উচ্চ পরিষদের সাথে পরামর্শক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবেন। সংস্থার কাঠামো ও কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়ন করা হবে।

বিঃদ্রঃ

[প্রতিটি সংগঠনে নেতা বা পরিচালকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রায়ই দেখা যায়, বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নেতৃত্বের পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা অনেক সময় সংগঠনের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়, ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গ্রুপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বিনষ্ট হয়ে সংগঠনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাহত হয়।

এ ধরনের দ্বন্দ্ব এড়াতে আমাদের অবশ্যই নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সংগঠন অত্যন্ত সতর্ক অবলম্বন করবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে সততা, দক্ষতা এবং সংগঠনের সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন প্রক্রিয়া থাকবে যার মাধ্যমে নেতা বা পরিচালনা পরিষদ নির্বাচিত হবে। ফলে সংগঠনের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং এই মাধ্যমে এটা নিশ্চিত হবে যে নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ সংগঠনের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করবে, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়।

আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অনন্য ও উদ্ভাবনী হবে। এতে একটি বিশেষ উচ্চ পরিষদ থাকবে, যা গঠিত হবে অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সৎ, আন্তরিক, প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী এবং ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিদের নিয়ে। এই উচ্চ পরিষদ আমাদের গবেষণা শাখার বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করবে। গবেষণা শাখাটি গঠিত হবে আরেকটি সৎ ও বিশ্লেষণধর্মী দলের মাধ্যমে, যারা নিরপেক্ষ গবেষণা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করবে।]

সংস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ
⸻⸻⸻

১. অরাজনৈতিক সংস্থাঃ

এই সংস্থা সম্পূর্ণরূপে অরাজনৈতিক এবং এটি শুধুমাত্র আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে। এই সংগঠনে কোন ধরণের বৈষম্য থাকবে না এবং সকল সদস্য সমান ভাবে বিবেচিত হবে।

২. রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাঃ

সংস্থাটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা রাজনৈতিক মতাদর্শের নামে পরিচালিত হবে না এবং কোনো ধর্ম বা রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিতও হবে না। এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যাতে সমাজের সকল স্তরের মানুষ এখানে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে, সংগঠনটি যেকোনো কার্যকলাপকে স্রষ্টার নামে শুরু করতে এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে শুরু করতে উৎসাহিত করে।

সংস্থার কোনো সদস্য যদি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী হন, তবে তাকে অবশ্যই সংস্থার সংবিধান, নীতিমালা ও আদর্শ মেনে চলতে হবে। সংস্থাটি ন্যায়নীতি, সততা, সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস ও ভীতি, এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে, যাতে এটি স্বচ্ছ, কার্যকর ও সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

এছাড়া, সংস্থাটি এমন কোনো কার্যক্রমে অংশ নেবে না যা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। বরং, এর সকল কার্যক্রম সমাজকল্যাণ, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যাতে এটি সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কার্যক্রম ও নৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনঃ

সংস্থার কোনো সভা, সমাবেশ বা কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক দলের স্লোগান, সংগীত বা প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এটি সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে, যাতে সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম কোনো পক্ষপাতিত্বের শিকার না হয় এবং সর্বস্তরের মানুষ নিরপেক্ষভাবে এতে অংশ নিতে পারে।

তবে, সৎ, নীতিবান ও যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে সংস্থা একটি স্বতন্ত্র নির্বাচন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংস্থার মধ্য থেকে আদর্শবান, দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের মনোনীত করা হবে, যারা জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন এবং দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজের সেবা করবেন। এ প্রক্রিয়াটি হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার উপযোগী, যাতে প্রকৃত ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারে।

৪. ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের ভিত্তিতে উন্নয়নঃ

সংস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করা। এটি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিক ন্যায়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একে অপরের কল্যাণে কাজ করতে পারে।

সংস্থা বিশ্বাস করে যে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি অপরিহার্য। তাই, এটি এমন প্রকল্প ও কার্যক্রম পরিচালনা করবে যা সমাজের প্রতিটি স্তরে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করবে। সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সংস্থা উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যাতে সামগ্রিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হয়।

৫. ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও উচ্চশিক্ষিতদের ঐক্যঃ

সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো সমাজের জ্ঞানী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে ওলামা-মাশায়েখ, গীর্জার ফাদার, মন্দিরের পুরোহিত এবং উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও একতা স্থাপন করা এবং একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।

৬. সংগঠনের সদস্যদের দায়িত্ব ও নৈতিক আচরণঃ

সংস্থার প্রত্যেক সদস্যকে স্বচ্ছ মানসিকতা, সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে। সংস্থার আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি তাদের পূর্ণ অঙ্গীকার থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা দেখা না দেয়। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে পারে।

৭. আইনগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সংস্থার সুরক্ষাঃ

সংস্থার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় কোনো আইনি জটিলতা বা বাধার সম্মুখীন হলে, সকল সদস্যকে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে। আইনগতভাবে যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংগঠনের সদস্যদের সচেতন করা হবে, যাতে তারা আইন ও সংবিধানের পরিপূর্ণ অনুসরণ করে এবং সংস্থার কার্যক্রম আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।

৮. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সহায়তা:

দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প বা অন্যান্য বিপর্যয়ের সময় সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে। পুনর্বাসন, খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

-----------------------------------

"বাংলাদেশ সমন্বিত উন্নয়ন সংস্থা (ব্যাকডো)" এর প্রাথমিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা॥
⸻⸻⸻⸻⸻⸻⸻ ⸻⸻⸻⸻
সংস্থার প্রধান প্রকল্পসমূহঃ

প্রাথমিক পর্যায়ে, সংস্থাটি নিম্নলিখিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই প্রকল্পগুলো দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১. ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খতিবদের অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পঃ

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মুতাওয়াল্লি ও খতিবদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ধর্মীয় নেতা ও আলেমদের মর্যাদা রক্ষা, উপযুক্ত সম্মানী নিশ্চিত করা এবং তাদের পেশাগত উন্নয়নে বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

২. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পঃ

মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা হবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

৩. মসজিদভিত্তিক যাকাত ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ প্রকল্পঃ

মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সমাজের দারিদ্র্যপীড়িত ও অসহায় মানুষদের সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। যাকাতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।

৪. পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনায়ন প্রকল্পঃ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে পরিকল্পিত বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৫. শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব গঠনে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রকল্পঃ

প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যৎ সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করতে আত্মবিশ্বাস, সততা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।

৬. শিশু শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পঃ

প্রাইমারি, এবতেদায়ী, কওমি ও নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য:

* শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক ধারণা প্রদান।
* আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।
* শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান।
* ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
* দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আইটি-প্রশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম তৈরি করা।

প্রকল্পের কার্যক্রম:

* মাদ্রাসা ও স্কুল পর্যায়ে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন।
* শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।
* তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন।
* ফ্রি ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা।
* ক্ষুদ্র প্রযুক্তি উদ্যোক্তা গঠনে সহায়তা।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাদ্রাসা ও প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদেরকে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হবে। “শিশুরা হবে আগামীর প্রযুক্তিবিদ” - এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য।

৭. স্থানীয় সরকারে ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রকল্প:

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো - স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন প্রার্থী নির্বাচন করা, যারা সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক এবং সমাজসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আমরা এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রার্থীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এতে করে সাধারণ মানুষ তাদের এলাকার জন্য প্রকৃত জনকল্যাণে বিশ্বাসী নেতৃত্ব বেছে নিতে পারবে। এই উদ্যোগের ফলে:

• স্থানীয় সরকারে সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে,
• নির্বাচনী পরিবেশ হবে বিশ্বাসযোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত,
• এবং সমাজে একটি ইতিবাচক ও জনমুখী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

এভাবেই প্রকল্পটি একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল স্থানীয় সরকার গঠনে অবদান রাখবে।

সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনাঃ
⸻⸻⸻⸻

সংস্থাটি ভবিষ্যতে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। বর্তমান সময়ের চাহিদা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে সংস্থাটি নিম্নোক্ত প্রধান খাতে কাজ প্রসারিত করবে:

১. সামাজিক উন্নয়ন:

দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার রক্ষা এবং সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

২. শিক্ষা খাত:

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত ও ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দারিদ্র্য কমবে।

৩. স্বাস্থ্যসেবা:

সুলভ, সহজলভ্য ও গুণগত মানসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৪. পরিবেশ সংরক্ষণ:

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা হবে।

৫. জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশু কল্যাণ, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে।

এই সকল খাতে কাজ করার জন্য সংস্থাটি সরকারি-বেসরকারি, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সঙ্গে সমন্বয় ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে।

সংস্থার লক্ষ্য হলো একটি দায়িত্বশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গঠন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সংস্থাটি একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

________ ________ ________ ________
সবার জন্য সমৃদ্ধি, একসাথে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ!

30/08/2025

ব্যাকডো-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা:
⸻⸻⸻

ব্যাকডো-এর আর্থিক ব্যবস্থা:

ব্যাকডো--এর টেকসই কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি সুসংগঠিত, স্বচ্ছ ও বহুমুখী আর্থিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে। এই কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সংগঠনের সাংগঠনিক, সমাজসেবামূলক ও প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য অর্থের উৎস নিশ্চিত করা।

অর্থ সংগ্রহের উৎসসমূহ:
---------------

১. সদস্য চাঁদা

(ক) প্রত্যেক সদস্যকে তার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী মাসিক চাঁদা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হবে।
(খ) চাঁদার হার নির্ধারণ করা হবে সদস্যের অবস্থান ও দায়িত্বের ভিত্তিতে (যেমন: সাধারণ সদস্য, কার্যনির্বাহী সদস্য)।
(গ) কেন্দ্রীয় কমিটি অধীনস্থ সকল ইউনিটকে চাঁদা সংগ্রহে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করবে।

২. প্রবাসী সদস্যদের অবদান:

(ক) প্রবাসী সদস্যদের নিয়ে একটি আলাদা “প্রবাসী কমিটি” গঠন করা হবে, যারা মাসিক বা বাৎসরিক ভিত্তিতে অনুদান সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা দেবে।
(খ) এই তহবিল থানা, জেলা ও বিভাগীয় কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

৩. সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের অনুদান:

(ক) সমাজের দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এককালীন অনুদান সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
(খ) এই অর্থ সামাজিক প্রকল্প ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

৪. কর্পোরেট সেক্টর থেকে সি,এস,আর ফান্ড:

(ক) দেশীয় ও বহুজাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সি,এস,আর) ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
(খ) এর মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

৫. বিশেষ তহবিল সংগ্রহ:

(ক) জাতীয় দিবস, বার্ষিক সম্মেলন, বিশেষ প্রশিক্ষণ বা কর্মসূচি উপলক্ষে বিশেষ তহবিল সংগ্রহ করা হবে।
(খ) এই তহবিল সময়োপযোগী সংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

৬. অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ক্রাউডফান্ডিং

(ক) দেশি ও প্রবাসী দাতাদের অংশগ্রহণে অনলাইন ফান্ডরেইজিং এবং ক্রাউডফান্ডিং চালু করা হবে।
(খ) সহজ ডিজিটাল মাধ্যমে ছোট অঙ্কের অনুদান সংগ্রহ করে বৃহৎ তহবিল গঠনের লক্ষ্য থাকবে।

৭. স্বেচ্ছা অনুদান:

(ক) সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় অনুদান দিতে পারবেন।
(খ) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনুদান গ্রহণে ব্যাকডো সাধারণত অনাগ্রহী থাকবে, তবে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।
(গ) ক্ষুদ্র অনুদান উৎসাহিত করতে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা হবে।

আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা
---------------------

১. কেন্দ্রীয় তহবিল:

(ক) সংগৃহীত সব অর্থ একটি নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
(খ) আয়ের সকল উৎস ও ব্যয়ের খাত স্বচ্ছভাবে লিপিবদ্ধ এবং ডিজিটালি সংরক্ষিত হবে।

২. হিসাবরক্ষণ ও প্রতিবেদন:

(ক) প্রত্যেক লেনদেনের রসিদ প্রদান ও গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
(খ) অধীনস্থ কমিটিগুলোকে নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় কমিটিকে হিসাব উপস্থাপন করতে হবে।
(গ) মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন নিতে হবে।

৩. বার্ষিক অডিট ও জবাবদিহিতা:

(ক) একজন স্বতন্ত্র নিরীক্ষকের মাধ্যমে প্রতি বছর বার্ষিক অডিট সম্পন্ন করা হবে।
(খ) সকল আয়-ব্যয়ের তথ্য সকল সদস্য ও দাতার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

৪. আর্থিক দায়িত্ব বণ্টন:

(ক) কেন্দ্রীয় অর্থসম্পাদক সর্বোচ্চ আর্থিক দায়িত্বে থাকবেন।
(খ) থানা, জেলা ও বিভাগীয় কমিটিকে তহবিল ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় নীতিমালার আওতায় পরিচালনা করতে হবে।

ব্যয়ের অগ্রাধিকার
--------------

১. সাংগঠনিক ব্যয়: কমিটি গঠন, সভা, প্রশিক্ষণ, নীতিমালা উন্নয়ন ইত্যাদি।

২. সমাজসেবামূলক কার্যক্রম: দরিদ্র সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ ইত্যাদি।

৩. প্রশাসনিক ব্যয়: অফিস পরিচালনা, যাতায়াত, যোগাযোগ, প্রিন্টিং ও অন্যান্য ব্যয়।

উপসংহার:
-------

ব্যাকডো বিশ্বাস করে, একটি সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ আর্থিক কাঠামোই সংগঠনকে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য এনে দিতে পারে। আমাদের লক্ষ্য - সকল সদস্য, দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও টেকসই সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলা যাতে শীঘ্রই দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।

_________
১. [কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সি,এস,আর) মানে হলো কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুধু মুনাফা অর্জনের জন্য কাজ করবে না, বরং নৈতিকভাবে দায়িত্বশীল হয়ে সমাজ ও পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অর্থাৎ, ব্যবসার কার্যক্রমের সাথে সামাজিক, পরিবেশগত এবং নৈতিক বিষয়গুলোকে যুক্ত করে নেওয়া। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান শুধু মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের লাভের কথা ভাববে না, বরং কর্মচারী, গ্রাহক, স্থানীয় মানুষ এবং পুরো সমাজের উপকারের কথা বিবেচনা করবে।]

২. [ক্রাউডফান্ডিং হলো অর্থ সংগ্রহ করার একটি আধুনিক পদ্ধতি। এতে অনেক মানুষ অল্প অল্প করে টাকা দিয়ে কোনো প্রকল্প, ব্যবসা, সামাজিক কাজ বা সাহায্যের উদ্যোগকে সফল করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, একজন মানুষ বা একটি প্রতিষ্ঠান একা বড় অঙ্কের টাকা না দিয়ে অনেক মানুষ মিলে ছোট ছোট অঙ্কের টাকা দেয়, আর সেখান থেকে বড় অঙ্কের টাকা তৈরি হয়। যেমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য অনেকেই অনলাইনে ছোট অঙ্কের টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারে। বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে ক্রাউডফান্ডিং ব্যবহার করে মূলধন জোগাড় করা যেতে পারে। সহজভাবে বললে, ক্রাউডফান্ডিং মানে হলো অনেক মানুষের কাছ থেকে অল্প অল্প টাকা সংগ্রহ করে একটি বড় লক্ষ্য পূরণ করা।]

Address

London

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ব্যাকডো posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share