31/08/2025
বাংলাদেশ সমন্বিত উন্নয়ন সংস্থা (ব্যাকডো)॥
⸻⸻⸻⸻⸻⸻
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
বাংলাদেশের সার্বিক সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য। সংস্থাটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি মুক্ত সমাজ বিনির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে। এই সংস্থার মাধ্যমে দেশের সামাজিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে এবং দেশবাসীর জীবনমান উন্নত হবে যাতে বাংলাদেশ একটা সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
সংগঠনের নেতৃত্বঃ
এই সংস্থার নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন সুশিক্ষিত, দেশপ্রেমী, সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিরা, যারা দৃঢ় নৈতিক চরিত্রের অধিকারী এবং সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী। এর জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে, যারা সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন।
উচ্চশিক্ষিত ও নীতিবান সদস্যদের নিয়ে একটি উচ্চ পরিষদ (সুপ্রীম কাউন্সিল) গঠন করা হবে, যারা সংস্থার প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষ মনোনয়ন করবেন। প্রেসিডেন্ট উচ্চ পরিষদের সাথে পরামর্শক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবেন। সংস্থার কাঠামো ও কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়ন করা হবে।
বিঃদ্রঃ
[প্রতিটি সংগঠনে নেতা বা পরিচালকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রায়ই দেখা যায়, বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নেতৃত্বের পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা অনেক সময় সংগঠনের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়, ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গ্রুপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বিনষ্ট হয়ে সংগঠনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাহত হয়।
এ ধরনের দ্বন্দ্ব এড়াতে আমাদের অবশ্যই নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সংগঠন অত্যন্ত সতর্ক অবলম্বন করবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে সততা, দক্ষতা এবং সংগঠনের সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন প্রক্রিয়া থাকবে যার মাধ্যমে নেতা বা পরিচালনা পরিষদ নির্বাচিত হবে। ফলে সংগঠনের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং এই মাধ্যমে এটা নিশ্চিত হবে যে নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ সংগঠনের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করবে, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়।
আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অনন্য ও উদ্ভাবনী হবে। এতে একটি বিশেষ উচ্চ পরিষদ থাকবে, যা গঠিত হবে অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সৎ, আন্তরিক, প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী এবং ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিদের নিয়ে। এই উচ্চ পরিষদ আমাদের গবেষণা শাখার বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করবে। গবেষণা শাখাটি গঠিত হবে আরেকটি সৎ ও বিশ্লেষণধর্মী দলের মাধ্যমে, যারা নিরপেক্ষ গবেষণা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করবে।]
সংস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ
⸻⸻⸻
১. অরাজনৈতিক সংস্থাঃ
এই সংস্থা সম্পূর্ণরূপে অরাজনৈতিক এবং এটি শুধুমাত্র আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে। এই সংগঠনে কোন ধরণের বৈষম্য থাকবে না এবং সকল সদস্য সমান ভাবে বিবেচিত হবে।
২. রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাঃ
সংস্থাটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা রাজনৈতিক মতাদর্শের নামে পরিচালিত হবে না এবং কোনো ধর্ম বা রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিতও হবে না। এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যাতে সমাজের সকল স্তরের মানুষ এখানে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে, সংগঠনটি যেকোনো কার্যকলাপকে স্রষ্টার নামে শুরু করতে এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে শুরু করতে উৎসাহিত করে।
সংস্থার কোনো সদস্য যদি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী হন, তবে তাকে অবশ্যই সংস্থার সংবিধান, নীতিমালা ও আদর্শ মেনে চলতে হবে। সংস্থাটি ন্যায়নীতি, সততা, সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস ও ভীতি, এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে, যাতে এটি স্বচ্ছ, কার্যকর ও সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
এছাড়া, সংস্থাটি এমন কোনো কার্যক্রমে অংশ নেবে না যা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। বরং, এর সকল কার্যক্রম সমাজকল্যাণ, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যাতে এটি সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কার্যক্রম ও নৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনঃ
সংস্থার কোনো সভা, সমাবেশ বা কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক দলের স্লোগান, সংগীত বা প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এটি সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে, যাতে সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম কোনো পক্ষপাতিত্বের শিকার না হয় এবং সর্বস্তরের মানুষ নিরপেক্ষভাবে এতে অংশ নিতে পারে।
তবে, সৎ, নীতিবান ও যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে সংস্থা একটি স্বতন্ত্র নির্বাচন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংস্থার মধ্য থেকে আদর্শবান, দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের মনোনীত করা হবে, যারা জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন এবং দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজের সেবা করবেন। এ প্রক্রিয়াটি হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার উপযোগী, যাতে প্রকৃত ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারে।
৪. ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের ভিত্তিতে উন্নয়নঃ
সংস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করা। এটি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিক ন্যায়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একে অপরের কল্যাণে কাজ করতে পারে।
সংস্থা বিশ্বাস করে যে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি অপরিহার্য। তাই, এটি এমন প্রকল্প ও কার্যক্রম পরিচালনা করবে যা সমাজের প্রতিটি স্তরে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করবে। সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সংস্থা উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যাতে সামগ্রিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হয়।
৫. ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও উচ্চশিক্ষিতদের ঐক্যঃ
সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো সমাজের জ্ঞানী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে ওলামা-মাশায়েখ, গীর্জার ফাদার, মন্দিরের পুরোহিত এবং উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও একতা স্থাপন করা এবং একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
৬. সংগঠনের সদস্যদের দায়িত্ব ও নৈতিক আচরণঃ
সংস্থার প্রত্যেক সদস্যকে স্বচ্ছ মানসিকতা, সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে। সংস্থার আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি তাদের পূর্ণ অঙ্গীকার থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা দেখা না দেয়। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে পারে।
৭. আইনগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সংস্থার সুরক্ষাঃ
সংস্থার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় কোনো আইনি জটিলতা বা বাধার সম্মুখীন হলে, সকল সদস্যকে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে। আইনগতভাবে যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংগঠনের সদস্যদের সচেতন করা হবে, যাতে তারা আইন ও সংবিধানের পরিপূর্ণ অনুসরণ করে এবং সংস্থার কার্যক্রম আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।
৮. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সহায়তা:
দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প বা অন্যান্য বিপর্যয়ের সময় সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে। পুনর্বাসন, খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
-----------------------------------
"বাংলাদেশ সমন্বিত উন্নয়ন সংস্থা (ব্যাকডো)" এর প্রাথমিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা॥
⸻⸻⸻⸻⸻⸻⸻ ⸻⸻⸻⸻
সংস্থার প্রধান প্রকল্পসমূহঃ
প্রাথমিক পর্যায়ে, সংস্থাটি নিম্নলিখিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই প্রকল্পগুলো দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১. ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খতিবদের অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পঃ
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মুতাওয়াল্লি ও খতিবদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ধর্মীয় নেতা ও আলেমদের মর্যাদা রক্ষা, উপযুক্ত সম্মানী নিশ্চিত করা এবং তাদের পেশাগত উন্নয়নে বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
২. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পঃ
মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা হবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
৩. মসজিদভিত্তিক যাকাত ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ প্রকল্পঃ
মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সমাজের দারিদ্র্যপীড়িত ও অসহায় মানুষদের সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। যাকাতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।
৪. পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনায়ন প্রকল্পঃ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে পরিকল্পিত বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৫. শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব গঠনে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রকল্পঃ
প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যৎ সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করতে আত্মবিশ্বাস, সততা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।
৬. শিশু শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পঃ
প্রাইমারি, এবতেদায়ী, কওমি ও নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য:
* শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক ধারণা প্রদান।
* আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।
* শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান।
* ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
* দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আইটি-প্রশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম তৈরি করা।
প্রকল্পের কার্যক্রম:
* মাদ্রাসা ও স্কুল পর্যায়ে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন।
* শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।
* তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন।
* ফ্রি ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা।
* ক্ষুদ্র প্রযুক্তি উদ্যোক্তা গঠনে সহায়তা।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাদ্রাসা ও প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদেরকে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হবে। “শিশুরা হবে আগামীর প্রযুক্তিবিদ” - এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য।
৭. স্থানীয় সরকারে ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রকল্প:
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো - স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন প্রার্থী নির্বাচন করা, যারা সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক এবং সমাজসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আমরা এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রার্থীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এতে করে সাধারণ মানুষ তাদের এলাকার জন্য প্রকৃত জনকল্যাণে বিশ্বাসী নেতৃত্ব বেছে নিতে পারবে। এই উদ্যোগের ফলে:
• স্থানীয় সরকারে সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে,
• নির্বাচনী পরিবেশ হবে বিশ্বাসযোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত,
• এবং সমাজে একটি ইতিবাচক ও জনমুখী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
এভাবেই প্রকল্পটি একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল স্থানীয় সরকার গঠনে অবদান রাখবে।
সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনাঃ
⸻⸻⸻⸻
সংস্থাটি ভবিষ্যতে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। বর্তমান সময়ের চাহিদা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে সংস্থাটি নিম্নোক্ত প্রধান খাতে কাজ প্রসারিত করবে:
১. সামাজিক উন্নয়ন:
দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার রক্ষা এবং সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
২. শিক্ষা খাত:
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত ও ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দারিদ্র্য কমবে।
৩. স্বাস্থ্যসেবা:
সুলভ, সহজলভ্য ও গুণগত মানসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৪. পরিবেশ সংরক্ষণ:
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা হবে।
৫. জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশু কল্যাণ, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে।
এই সকল খাতে কাজ করার জন্য সংস্থাটি সরকারি-বেসরকারি, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সঙ্গে সমন্বয় ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে।
সংস্থার লক্ষ্য হলো একটি দায়িত্বশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গঠন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সংস্থাটি একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
________ ________ ________ ________
সবার জন্য সমৃদ্ধি, একসাথে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ!