01/06/2026
আমি জীবনে কখনো আওয়ামীলীগের কোনো পার্টি অফিসের সামনে যাইনি বা সামনে থেকে দেখিনি । গতকাল প্রথম গেলাম, প্রথম দেখলাম । তাও আওয়ামীলীগের প্রাণকেন্দ্র, গোপালগঞ্জের পার্টি অফিস দেখার সৌভাগ্য হলো ।
কোথাও কেউ নেই । কিছুদিন আগেও এই পার্টি অফিস হয়তো ভরে থাকতো মানুষে । এখন কেউ নেই । কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম সামনে । এই রাস্তা দিয়েই হেঁটে যেতেন বঙ্গবন্ধু, পাশেই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিময় তার ছেলেবেলার স্কুল ।
ভিড় ভালো লাগে না, হট্টগোল ভাল লাগে না । বঙ্গবন্ধুর সাথেই যেন দেখা হলো নিভৃতে । কল্পনায় দেখলাম তিনি হাঁটছেন অফিসের আঙ্গিনায় তার সেই রাজসিক ভঙ্গিতে ।
আমি ভিড়ের লোক না, আবার হয়তো কোনো একদিন এই অফিস আঙ্গিনা আবার মুখরিত হবে কিন্তু সেদিন আর আসবো না । ছোটবেলা থেকে ঠাকুমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে বড় হয়েছি ।
আমি ঠাকুমার পাশে ঘুমাতাম ছোটবেলা । মুক্তিযুদ্ধ আমি চিনেছি ঠাকুমার গল্পে, সেই বালাট শরণার্থী ক্যাম্প, পাঞ্জাবীদের আক্রমণে আমার পরিবার এবং নোয়াগাঁও গ্রামের অন্য পরিবারগুলোর শরণার্থী হওয়া । বাবা তখন ছোট, বাবাকে কাঁধে নিয়ে আমার দাদুর মাইলের পর মাইল হেঁটে যাওয়া...
আমার জ্যাঠুরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলেন, আমার দাদু(ঠাকুমার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিতোষ দাশ) মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলেন..
তাদের কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন 'শেখ সাব'.. দাদুদের কাছে সেই শেখ সাবের গল্প শোনা...
মুক্তিবাহিনী, রেজাকার, সংগ্রাম... ঠাকুমা, দাদুরা মুক্তিযুদ্ধ বলতেন না কখনো, বলতেন সংগ্রাম, সংগ্রামের বছর...
একটু বড় হইতে লাগলাম, পড়তে লাগলাম একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের বই, গল্প, শিখতে লাগলাম গান, জয় বাংলা বাংলার জয়...এক সাগর রক্তের বিনিময়ে...
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র, আহারে! মহান জাতির মহান নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব... এক জাতি এক দেশ, শেখ মুজিবের বাংলাদেশ...
আমাদের রক্তের প্রতিটি কণায় মিশে আছে সেসব...
একটা দেশ, যে দেশটা মাত্র ৫৫ বছর আগেই, রক্তের ঋণে একটা পতাকা পেয়েছিলো, যাদের ডাকে বাংলার কৃষক, শ্রমিক, কামার, মজুর, ধনী, গরীব, হিন্দু, মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে আমাদের একটা লাল সবুজের পতাকা দিয়েছিলো...
সেই মুক্তিযোদ্ধারা আজ এই স্বাধীন দেশটায় লাঞ্চিত, অপমানিত । এই দেশটা স্বাধীন করার অপরাধে আজ তাদের গলায় জুতার মালা...
যে দেশটার ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার সহযোগী আলবদর রেজাকারেরা আজ পর্যন্ত একটাবার ক্ষমা চায়নি, দু:খ প্রকাশ করেনি, বরং মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষঢ়যন্ত্র বলে নগ্নভাবে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে উল্লাস করে...সেই দেশটার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাবার চেষ্টা করার অপরাধে, সেই দেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটিকে আপনারা অনুতপ্ত হতে বলছেন? রিকনসলিয়েশনের কথা বলছেন!
তার চেয়ে তাদেরকে যেভাবে খুন করছেন, বাড়িঘরে না পেয়ে মা বাবাকে হত্যা করছেন, সেভাবে হত্যাই করে ফেলুন । নিশ্চই তারা অনেক অপরাধ করেছেন, পাকিস্তান ভেঙেছেন, একটি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছেন, পাকিস্তানি মন্ত্রীদের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন "কম সে কম হামে বাংলাদেশ বানা দো"...
কার কাছে ক্ষমা চাইবে? রেজাকার আলবদর আল শামস, সাম্রাজ্যবাদের দালালদের কাছে যারা কিছু খুচরো ডলারের লোভে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিয়েছে, তাদের কাছে?
এর থেকে মেরেই ফেলেন সবাইকে । যেভাবে ৭১ এর ১৪ই ডিসেম্বর মেরেছেন,যেভাবে ১৫ ই আগস্ট মেরেছেন, যেভাবে গত দুই বছর ধরে মেরেছেন... গ্যাস চেম্বার বানিয়ে ফেলুন হিটলারের মতো, এতে খরচ কমবে ।
তবে মনে রাখবেন, আবারও কোনো একদিন সেই পোড়া ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠবে তারা, আবারও সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠবে, "জয় বাংলা বাংলার জয়, হবে হবে হবে, হবে নিশ্চয়..."@