17/08/2026
সোনা ত্রিপুরার গল্পটা শুনি।
"আমি সোনা ত্রিপুরা। পাহাড়ের মেয়ে।পাহাড়েই জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা।
বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছি।আমার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ভাইবোন ছড়ার হেলাধুলাপাড়া গ্রামে।পাহাড়ি দূর্গম এই গ্রাম থেকে মেয়ে হিসেবে আমিই প্রথম দেশের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাই।শুধু আমার গ্রাম নয়, এমন আরও হাজারো গ্রাম রয়েছে এই পার্বত্য অঞ্চলে যেখানে নারীরা আজও সামনে এগোতে চাইলে তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় অনেককিছু।
অনেক বাঁধাকেই আমরা রুখতে পারি, কিন্তু জন্মগতভাবে যেই বৈশিষ্ট্য প্রাপ্তি, তা যদি কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা প্রতিরোধ করার সাধ্য কি সবার থাকে?
হ্যাঁ।
আমাকেও যেই বাঁধা রুখে দিতে চেয়েছিলো বহুবার।
পাহাড়ি প্রত্যেকটি নারীই প্রতিনিয়ত যেই বাঁধার সাথে সংগ্রাম করে তা হলো মাসিক সমস্যা।এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো খুবই কম থাকায় তারা জানেনা, এই সময়ে কিভাবে নিজের যত্ন নেয়া উচিত।কি কি কাজ করা উচিত, আর কি কি উচিত না।এছাড়াও আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য কেউই স্যানিটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে জানার আগ্রহও রাখেনা।এমনকি এই সময়ে কেমন কাপড় ব্যবহার করা উচিত আর কি করা উচিত না তাই পাহাড়ি নারীরা অধিকাংশই জানেনা।যার ফলে, অনেক সময়ই অল্প বয়সে নারীরা আক্রান্ত হয় বিভিন্ন রোগে।গর্ভধারণে জটিলতা থেকে শুরু করে মৃত্যুশয্যা, এই পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে যা খুবই সাধারণ ঘটনা।ছোট ছোট মেয়েরা মাসিককালীন সময়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, ফলে পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যাপকহারে।
তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমিই দাঁড়াবো আমার গ্রামের পাশে।মাসিককালীন কোন সমস্যাই যেন বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায় পাহাড়ি মেয়েদের কাছে।আমি আমার গ্রামে ফিরে যাবো, মাসিক নিয়ে নারীদের মধ্যে তৈরী করবো সচেতনতা।আমি হয়তো একা, একা আমরা সবাই, কিন্তু সবাই মিলে আমরা একা নই।আসুন, আমরা সবাই মিলে পাহাড়ের কিশোরী এবং নারীদের মাসিক অভিজ্ঞতাকে সুন্দর ও সহজ করে তুলি।"
--------------------------
সোনা ত্রিপুরার তার পাড়া এবং গ্রামের ১১০ জন কিশোরী এবং নারীদের জন্য এক বছরের একটা ক্যাম্পেইন হাতে নিয়েছে।যে ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য খুব ব্যাসিক একটা নীডকে অ্যাড্রেস করা।সেটা হচ্ছে মাসিক সচেতনতা দেয়া এবং ছোট ছোট কিশোরী মেয়েরা যেন মাসিকের সময় স্কুলে যেতে পারে তার জন্য তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন দেয়া।
২০২৬ সালে এসেও একজন কিশোরীকে ন্যাপকিন না থাকার জন্য স্কুল মিস করছে।একজন নারী টাকা আর সচেতনতার অভাবে কোনো প্রকার মাসিক পণ্য ছাড়া প্রতি মাসে ৫-৭দিন অমানবিক দিন পার করছে!
সোনা ত্রিপুরা,যে তার পুরো গ্রামে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দেয়া নারী।
সোনা ত্রিপুরা ভুলে যান নি তার শিকড়ের কথা।ভুলে যান নি তার গ্রামের নারীদের কষ্টের কথা।সোনা ত্রিপুরার সাথে আমরা YOUTH HUB, Youth Connect Foundation, Wreetu Health and Well-being Foundation আর Love For Human, Bangladesh-LFHBD পাশে দাঁড়িয়েছি।
---------------------------------------------------------------
এই ক্যাম্পেইনে আমরা যা কাভার করছিঃ
ক্যাম্পেইন সময়কালঃ অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৬
যা যা থাকছেঃ
-৬টি মাসিক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা
-মাসিক পণ্য (স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং আন্ডারওয়্যার) বিতরণ
-৩ মাসের কার্যক্রম মনিটরিং এবং পরিবর্তন নিয়ে একটা রিপোর্ট বানানো
এই ক্যাম্পেইনের টার্গেট ১১০ জন কিশোরী এবং নারীদের সেবা দেয়া যাদের বয়স ভিত্তিক গ্রুপটা হচ্ছেঃ
৯ বছর থেকে ১৫ বছর= ৪০ জন
১৬ বছর থেকে ২৫ বছর=৩৫ জন
২৬ বছর থেকে ৪৫ বছর=৩৫ জন
মোটঃ ১১০ জন কিশোরী এবং নারী
বাজেটঃ
৪টা আন্ডারোয়্যার= ৪টা* ৮০টাকা * ১১০ জন = ৩৫,২০০টাকা
১প্যাকেট ঋতু ওয়াশবেল স্যানিটারি ন্যাপকিন=১টা প্যাকেট*৪৯০টাকা*১১০ জন= ৫৩,৯০০টাকা
৬টি মাসিক সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনার যাতায়াত ভাড়া (আনুমানিক)= ১৫,০০০টাকা
মোটঃ ১,০৪,১০০টাকা
সোনা ত্রিপুরার সাথে আপনিও খাগড়াছড়ি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ভাইবোন ছড়ার হেলাধুলাপাড়া গ্রামের কিশোরী এবং নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থপনার জন্য পাশে থাকতে অবদান রাখতে পারেন।
এখানে দেয়া বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আপনার অবদানের টাকা পাঠাতে পারেন
ব্যাংক অ্যাকাউন্টঃ
YOUTH CONNECT FOUNDATION
Current AC No: 400111100017520
Shahjalal Islami Bank PLC
Dhaka Main Branch
Routing Number: 190271781
bKash (Personal): 01711928027
এই ক্যাম্পেইনের বিস্তারিত বা আপডেট জানতে জানতে ইমেইল করুনঃ [email protected]