14/07/2026
গ্রিটের চেয়ারপার্সন ও মাননীয় সাংসদ মাহমুদা হাবীবা আপা, তাঁর সংসদের প্রথম বক্তব্যে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ত্বারোপ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি সে বক্তব্যে সমাজে এই বিষয়ে এখনও যে ধরণের ট্যাবু কাজ করে কিংবা বাস্তবিক অর্থে বিষয়টি কতটা অবহেলিত, সংখ্যাগতদিক থেকে কতজন ভুক্তভোগীর বিপরীতে কী পরিমাণে অপ্রতুল চিকিৎসক আছে, সমস্তটা দারুণ ভাবে তুলে ধরেছিলেন! সেই সাথে এইসব মোকাবিলা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার পাশাপাশি তৎক্ষনাৎ সমাধানের যে যে পথ খোলা আছে যেমন মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড এর উপায়ও বলে দিয়েছিলেন। পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছিলেন যে দেশে ৪৫৯৯ টি ইউনিয়ন রয়েছে। সেখান থেকে ৩ জনকে এই ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ দিলে প্রশিক্ষনার্থী নিজেসহ আশেপাশের মানুষকে সহায়তা করতে পারবেন।
তারই প্রেক্ষিতে, গ্রিট ফাউন্ডেশন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্হ্যের প্রাথমিক সাহায্য সেবা প্রদান বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের শুভসূচনা স্বরূপ আমাদের উদ্বোধনী আয়োজন এবং দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদে।
গ্রিটের এই আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ জন পার্টিসিপেন্ট সার্টিফাইড হয়েছে প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে।
সমাপনী ও সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস. এম জিয়াউদ্দিন হায়দার মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার দিকে জোর দেন৷ বিশেষ অতিথি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মোঃ সাইমুম পারভেজ তাঁর প্রবাসে শিক্ষা জীবনে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভবের স্মৃতিচারণ করেন ও গ্রিটের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আমন্ত্রিত অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা ও এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গ্রিটকে ধন্যবাদ জানান।
সবশেষে গ্রিটের চেয়ারপার্সন মাহমুদা হাবীবা, এমপি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অধিকতর গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন ও ভবিষ্যতে গ্রিটের মতো প্রতিষ্ঠানকে সরকারের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিকল্পনার সাথে যুক্ত করা যায় কিনা সেই বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেন৷
এর আগে দিনব্যাপী কর্মশালার প্রথম ভাগে মানসিক স্বাস্থ্য কি ও তার প্রয়োজনীয়তা, বাংলাদেশের কনটেক্সটে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক সেবার প্রকৃত অবস্থা ও কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষনার্থীদের জানানো হয়৷ কর্মশালার দ্বিতীয় ভাগে আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষদের জীবন বাঁচাতে কিছু মৌলিক ও বিজ্ঞানসম্মত কৌশল সম্পর্কে শেখানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড মডেল এই কর্মশালার অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
আগামীতে শিক্ষার্থী, পেশাজীবি, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ভিত্তিক মানুষগুলোকে মানসিক স্বাস্থ্য ফার্স্ট এইড বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অধিভুক্ত করবার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য গ্রিটের রয়েছে।