30/09/2025
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের ন্যায় বিচারের দাবিতে আমাদের অবস্থান:
সম্প্রতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে ২ সেমিস্টার, ৪ সেমিস্টার এবং আজীবন বহিষ্কার করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরা মনে করি এটি সম্পূর্ণ অন্যায্য, অযৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবিরোধী পদক্ষেপ। প্রায় এক বছর আগের একটি ঘটনাকে সামনে এনে এতদিন পর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার মতো নির্মম সিদ্ধান্ত গ্রহণ কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।
অর্থনীতি বিভাগের ৩৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির মতো বিবৃতি আদায় করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা সেই বক্তব্য থেকে সরে আসলেও প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। অথচ জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে ৩৩তম ব্যাচের সঙ্গে বসানো হলেও কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেনি।
শুধু তাই নয়, পরিসংখ্যান বিভাগ থেকেও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন মেয়ে রয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে সিনিয়রদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো এবং কোনো রকম হয়রানির ঘটনা ঘটেনি। তাদের মতে, শিক্ষকরা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এক বছর আগের ঘটনাকে সামনে এনে এই অন্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর স্যারগণ নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের ভয় দেখিয়ে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্টেটমেন্ট আদায় করেছেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের উপর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা মনে করি—যেসব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করে বিভাজন সৃষ্টি করেন, তারা কোনোভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারেন না।
👉 আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাই—
১️⃣ আজীবন বহিষ্কারের মতো অযৌক্তিক শাস্তি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২️⃣ শিক্ষার্থীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও বিভ্রান্ত করার সঙ্গে জড়িত প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর স্যারগণকে তাদের আচরণের ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩️⃣ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের অবিচারের শিকার না হয়।
আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস না করে অবিলম্বে এই অন্যায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
✊ Care SUST