13/07/2025
👉 Free tips 👈
আজকের টপিক টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ , নতুন ইউজার রা তো এটাই ভুল করে থাকেন ই, বরং অনেক পুরাতন সাইক্লিষ্ট এই জায়গাটায় ভুল করে থাকেন।
আজকের টপিক মূলত কিভাবে গিয়ার শিফটিং করবেন সেটা নিয়ে ।
গিয়ার শিফটিং বুঝতে হলে আগে একদম বেসিক থেকে আসতে হবে। বাজারে মূলত দুই ধরনের সাইকেল পাওয়া যায় :
১. Single speed / fixed gear /(locally knows as non gear)
২. Multiple speed / ( locally known as gear cycle)
বোঝার সুবিধার্থে আমরা এই পোস্ট এ নন গিয়ার সাইকেল এবং গিয়ার সাইকেল এই দুইটা টার্ম ইউজ করবো ।
নন গিয়ার সাইকেল এর মেইনটেনেন্স এর খরচ এবং মেইনটেনেন্সের ঝামেলা সাধারণ একটু কম হয় । কারণ গিয়ার সিস্টেম একটি জটিল সিস্টেম , এটি নিয়মিত মেইনটেইনেন্স করতে হয় এবং এটি রিলেটেড পার্টস এর দামও বেশি। কিন্তু নন গিয়ার সাইকেল বাজারে ভালো স্পেসিফিকেশনের পাবেন না, সাধারণত কম দামি সাইকেলগুলোর অনেক সময় নন গিয়ার ভ্যারিয়েন্ট থাকে ।
তাহলে সবচেয়ে বড় কোয়েশ্চেন দাঁড়ায়, কেন আপনি গিয়ার সাইকেল ইউজ করবেন ? উত্তরটা হচ্ছে বেটার রাইডিং এক্সপেরিয়েন্স । আরো ডিটেলসে উত্তর খুঁজতে গেলে আপনার বুঝতে হবে গিয়ার সিস্টেম কি এবং এটার কাজ কি?
সাইকেলে মাল্টিপল গিয়ার ব্যবহার করা হয় মূলত বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় সহজে চালানোর জন্য । আমাদের রাস্তা কখনোই একদম ফ্ল্যাট এবং স্মুথ না, কোথাও রাস্তা ভাঙ্গা, কোথাও হয়তো একটু উঁচু অথবা কোথাও হয়তো একটু নিচু - বিভিন্ন ধরনের অবস্থা মিলিয়েই আমাদের রাস্তাঘাট । নন গিয়ার সাইকেলে যেটা হয়, আপনি প্যাডেলিং করার সময় এক ধরনের প্রেশারই এপ্লাই করা সম্ভব সেটা রাস্তা যেরকমই হোক না কেন । এজন্য দেখা যায় আপনি নন গিয়ার সাইকেল দিয়ে যখন একটা ব্রীজ ক্লাইম্ব করবেন তখন আপনার প্যাডেলিং করতে খুবই কষ্ট হবে, আবার যখন ব্রিজ থেকে নামা শুরু করবেন তখন দেখবেন প্যাডেলিং এর প্রেসার একদম লুজ হয়ে গিয়েছে এবং আপনি তাল মিলাতে গেলে এত পরিমাণ পা ঘুরাতে হচ্ছে যে সেটা তাল মিলানো আপনার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না । মাল্টিপল গিয়ার সাইকেল যেটা করে, আপনার এই প্যাডেলিং এর সময় প্রেশার অনেকগুলো সেকশনে ভাগ করে দেয়। আপনি যখন লো গিয়ারে চালাবেন তখন প্যাডেলিং অনেক লুজ মনে হবে অর্থাৎ আপনি পা ঘুরাতে পারবেন কিন্তু অনেক কম প্রেশারে। আবার যখন আপনি হাই গিয়ারে চালাবেন তখন প্যাডেলিং অনেক হার্ড মনে হবে, আপনার লো গিয়ারের সমপরিমাণ পা একবার ঘুরাতে গেলে আগের থেকে অনেক বেশি শক্তি ব্যয় হবে প্রতিবার ঘোরাতে, কিন্তু আপনি আগের থেকে অনেক বেশি ডিসট্যান্স কভার করতে পারবেন একবার ঘুরিয়েই ।
এতক্ষণে আপনাদের একটা ধারণা হয়ে গিয়েছে সিস্টেমের কাজটা কি । এখন মূল আলোচনায় আসি কিভাবে এটা ইউজ করবেন । অনেকেরই ধারণা গিয়ার হয়তো একটা নির্দিষ্ট গিয়ার পজিশনে রেখে চালাতে হয় অথবা নির্ধারিত কোন সূত্র আছে ধরেন উপরে উঠতে গেলে অমুক গিয়ারে অথবা নিচে নামতে গেলে তমুক গিয়ার - এ ধরনের অনেক কথাই প্রচলিত আছে ।
গিয়ার সাইকেলে কত গিয়ারে চালাবেন এটা নির্ধারিত কোন মান নেই , আপনার রাস্তা এবং শারীরিক কন্ডিশন অনুযায়ী কম্ফোর্টেবল প্যান্ডেলিং প্রেসার যে গিয়ার থেকে পাবেন সেই গিয়ার পজিশনে রেখে আপনি চালাবেন । হিসেবে সুবিধার্থে ধরে নেই আপনি সামনে ৩ স্পিড এবং পিছনে ৮ স্পিড এর একটি সাইকেল চালাচ্ছেন । অর্থাৎ আপনার কাছে টোটাল গিয়ার কম্বিনেশন আছে ২৪টি। এখন আপনি এই ২৪ টি কম্বিনেশনের মধ্যে থেকে আপনি যে মুহূর্তে চালাচ্ছেন সেই মুহূর্তের কম্ফোর্টেবল গিয়ার অপশনটি বেছে নিবেন । ধরেন আপনি চালানো শুরু করলেন, খেয়াল করলেন আপনার কমফোর্ট জোন থেকে প্যাডেল ঘুরাতে হচ্ছে তখন বুঝবেন আপনার গিয়ার বাড়াতে হবে। আবার আপনি যখন ফিল করবেন আপনার পেডেলিং করতে খুব কষ্ট হচ্ছে এবং বেশি প্রেশার প্রয়োজন হচ্ছে তখন আপনি গিয়ার কমাবেন । সামনের গিয়ার প্রতিটি কম-বেশ করলে প্রেশার অনেক বেশি আপডাউন করে, পিছনের গিয়ার আপডাউন করলে প্রেশার আস্তে ধীরে আপ ডাউন করে । সুতরাং বেশি শিফট করবেন পিছনের গিয়ার, যখন দেখবেন পিছনের গিয়ারে আর অপশন নেই তখন সামনের গিয়ার চেঞ্জ করে আবার অ্যাডজাস্ট করবেন পিছনের টা চেঞ্জ করেও।
সাধারণত যখন আপনি কোনও উঁচু রাস্তায় উঠবেন আস্তে আস্তে গিয়ার কমাতে থাকবেন , একইভাবে আপনি যখন নিচে নামবেন আপনার সাইকেলের স্পিড বাড়তে থাকবে একই সাথে আপনি আপনার গিয়ার বাড়াতে থাকবেন কম্ফোর্টেবল পজিশন অনুযায়ী । এছাড়া যদি জ্যামে পড়েন বা কোথাও থামেন, আমার আগে একটি বা দুটি গিয়ার নামিয়ে নিবেন যাতে পরবর্তীতে স্টার্ট করা সহজ হয় । হাই গিয়ারে প্যাডেলিং স্টার্ট করলে অনেক বেশি শক্তির অপচয় হয় এবং অনেক সময় ডাইভট্রেইনে প্রেশার পড়লে ডেরা হ্যাঙ্গার বাঁকিয়ে যেতে পারে অথবা ডিরেইলারের ক্ষতি হতে পারে ।
এখানে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে - নিয়মিত শিফটিং এর অভ্যাস করা, যখন যেরকম গিয়ার প্রয়োজন হবে কন্টিনিউয়াসলি আপডাউন করা । রেগুলার শিফটিং করে চালালে আপনার চেইন - ক্যাসেট / ফ্রিহুইল, ক্র্যাংক, শিফটার দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং সমানভাবে ক্ষয় হবে। আপনি যদি নির্ধারিত একটি দুটি বা তিনটি গিয়ারে চালান সে ক্ষেত্রে আপনার শুধুমাত্র সেই দাঁতগুলো দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাবে এবং আপনার চেইন, ক্যাসেট/ফ্রিহুইল রিপ্লেস করা লাগবে দ্রুত সময়ের মধ্যে । আরো একটি এক্সট্রা টিপস দিয়ে দিতে পারি - কেউ যদি পাহাড়ে চালানোর প্ল্যানিং করে থাকেন কিন্তু আগের অভিজ্ঞতা নেই, সেক্ষেত্রে সবার আগে জরুরি হচ্ছে আপনি শিফটিং টা বুঝেন কিনা। আপনি যখন নিজ থেকে ফিল করবেন সাইকেলে গিয়ার শিফটিং এর জন্য শিফটারের ডিসপ্লেতে কত নাম্বার গিয়ারে আছে সেটা দেখার প্রয়োজন হচ্ছে না এবং রাস্তার কন্ডিশন অনুযায়ী আপনি অটোমেটিক রিফ্লেক্সে শিফটিং করতে পারছেন তখন আপনি বুঝবেন প্রোপারলি শিফটিং শিখে গেছেন আপনি ।
চেইন ক্রসিং : (৩*৮ স্পিড ধরে) ১*৮ / ৩*১ গিয়ার কম্বিনেশন হলে সেটাকে চেইন ক্রসিং বলা হয়। এটা করা উচিত নয়। কারন যখন আপনি ১*৮ গিয়ারে থাকবেন তখন আপনার চেইন একদম লুজ হয়ে চেইন পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার যখন আপনি ৩*১ এ রাখবেন, তখন ডিরেইলার সর্বোচ্চ টানটান অবস্থায় থাকে, উল্টাপাল্টা প্রেশার পড়লে ডেরা ভাঙ্গার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়।
কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ । আগামী সপ্তাহের এপিসোডে ইনশাআল্লাহ আলোচনা হবে কত গিয়ারের সাইকেল ইউজ করা উচিত সেটা নিয়ে।
সবাই ভালো থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ ❣️