15/03/2026
আমাদের প্রিয় নবী, হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেন, “তোমাদের কাছে এমন একটি মাস এসেছে, যার মধ্যে একটি রাত রয়েছে, যে রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এই রাত থেকে বঞ্চিত হলো, সে যেন সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হয়ে গেল। আর এই রাতের কল্যাণ থেকে কেবল তারাই বঞ্চিত হয়, যারা সত্যিকার অর্থে হতভাগা।” [সুনানে ইবনে মাজাহ্, ২/২৯৮, হাদিস, ১৬৪৪]
এই পবিত্র হাদীসে যেমন মর্যাদাপূর্ণ রমযান মাসের আগমনের কথা বলা হয়েছে, তেমনি এই মাসের মধ্যে বরকতময় রাত শবে ক্বদরেরও উল্লেখ রয়েছে। এই হাদীসে শবে ক্বদরের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিকে প্রকৃত অর্থে সৌভাগ্য হতে বঞ্চিত বলা হয়েছে।
হযরত আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ ব্যাখ্যা করেছেন, “শবে ক্বদরের কল্যাণ লাভের অর্থ হলো এই রাতে ইবাদতের তওফিক্ব পাওয়া এবং এই রাতের কিছু সময় হলেও নফল নামায পড়ে কিয়াম করার সৌভাগ্য অর্জন করা। আর যে ব্যক্তি এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে এমন একজন, যে এই সৌভাগ্য — অর্থাৎ নামায ও অন্যান্য ইবাদতের কোনো অংশই পেল না এবং ইবাদতের প্রতি আগ্রহও জাগাতে পারল না। ” [ মিরকাতুল মাফাতিহ, ৪/৪৫৩, হাদিস নং: ১৯৬৪-এর আলোচনা]
হাকিমুল উম্মত মুফতি আহ্মাদ ইয়ার খান নঈমী رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ লিখেছেন, “যে ব্যক্তি এই রাত গুনাহের মধ্যে কাটালো বা ইশা ও ফজরের নামায জামাতের সঙ্গে আদায় করল না, সে এই রাতের কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত রইল। এমনকি বাকি দিনগুলোতেও সে কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।
শবে ক্বদরের ইবাদতের তিনটি ধরন রয়েছে, যার শেষ ধরন হলো ইশা ও ফজরের নামায জামাতের সঙ্গে পড়া। যে এটি করতে পারল না, সে সত্যিই হতভাগা।” তিনি আরও বলেন, “এই রাতের ইবাদতে কষ্ট খুবই কম, কিন্তু প্রতিদান অনেক বেশি। যে এতটুকু পরিশ্রমও করতে পারল না, সে সত্যিকারের বঞ্চিত ও দুর্ভাগা।” [মীরআতুল মানজীহ, ৩/১৩৮-১৩৯]
শবে ক্বদর কোন রাতে হয়?
হাদীসে পবিত্র এই রাতকে রমযানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে খুঁজতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই রাত নিয়ে বড় বড় আলেম ও ফক্বীহ্গণের মতভেদ রয়েছে, তবুও বেশিরভাগ উলামা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ্য মত হলো, এটি রমযানের ২৭তম রাত (২৬ রমযানের দিবাগত রাত)। তাই এই রাতকে কখনোই অবহেলা বা উদাসীনতায় কাটানো উচিত নয়।
হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ লিখেন, “বেশিরভাগ উলামা রমযানের ২৭তম রাতকেই শবে ক্বদর বলে মনে করেন।”
হযরত ইবনে আব্বাস رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ বলেন, “আল্লাহ্ ﷻ’র কাছে বিজোড় সংখ্যা পছন্দনীয়, আর বিজোড় সংখ্যার মধ্যে ৭ সংখ্যা তাঁর বেশি প্রিয়। কারণ, তিনি সাতটি যমীন, সাতটি আসমান সৃষ্টি করেছেন, সাতটি অঙ্গে সিজদার নির্দেশ দিয়েছেন, কাবা ঘরের সাতবার তাওয়াফ নির্ধারণ করেছেন এবং সপ্তাহে সাত দিন সৃষ্টি করেছেন। যেহেতু সাত সংখ্যা আল্লাহ্ ﷻ’র কাছে বেশি প্রিয়, তাই শবে ক্বদর রমযানের শেষ দশকের সাততম রাত হওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত।” [ফাতহুল বারী, ৫/২২৭, হাদিস নং: ২০১৭-এর আলোচনার সারমর্ম]
শবে ক্বদরে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হয় তারাই, যারা: ১. মদ্যপানে আসক্ত বা নেশাগ্রস্ত, ২. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, ৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, ৪. পরস্পরের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারী। [শুআবুল ঈমান, ৩/৩৩৬, হাদিস নং: ৩৬৯৫ থেকে সংগৃহীত]
আল্লাহ্ ﷻ আমাদেরকে ক্বদরের রাত তাঁর ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোর তওফিক্ব দান করুন।
- মুফতী মুহাম্মাদ শফীক্ব আত্তারী মাদানী
---
Translation reviewed and approved by Ala’Hazrat Academy.
Divine Spectrum SUST - DSS