18/01/2025
ফজরের পর মেসেজটা দেখলাম। বয়স ১৪-১৫ বছর হবে। মারা গেছে।
প্রতিদিন সকালে উঠেই দেখি "আমি মরিনি, বেঁচে আছি"। সারাজীবন এটাই দেখেছি প্রতিটা সকালে।
ফলে, একটা সিদ্ধান্ত মাথায় গেঁথে গেছে। প্রতিদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ সিদ্ধান্ত:
"আমি মরি না। আমি প্রতিদিন বেঁচে থাকি।"
জানি, এটা ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু নিয়মিত অভিজ্ঞতার কারণে মস্তিস্ক ধোঁকা খেয়ে যায়। ভুলে যায়।
পোক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় যে, "আমি বেঁচে আছি, থাকবো।"
এইটুকু বিভ্রান্তি আমরা সবাই বুঝি। এক্সপেরিয়েন্স করি। প্রতিদিনের ভ্রান্তিতে আরো ডুবে যাই।
আজ, এক ঘন্টা পরে যে মারা যাবে, সে হসপিটালে থাকলেও এই বিভ্রান্তিতে ভাবতে থাকার কথা,
"কতদিন হয়ে গেলো এই হসপিটালে! আরো কতদিন যে থাকতে হবে!"
পাশের বেডের রোগীটা মারা গেলে মনে হয়,
"আহারে বেচারা! আমিও একদিন মারা যাবো। ইন্না লিল্লাহি..."
মনে হয় না, আমিও হয়তো আর দুই মিনিট পরেই "...ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" এর কাতারে চলে আসবো।
প্রস্তুতি নেয়া হয় না। আজও নিইনি। অথচ আজ বাসায় জীবিত নাও ফিরতে পারি।
আজও বলে আসা হয়নি, লিখে রাখা হয়নি, আজ আমি মারা গেলে কী কী করতে হবে, কিভাবে করতে হবে।
এভাবেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছে। প্রস্তুতিবিহীন জীবন। যেখানে কবর নিয়ে, হাশর আর পুলসিরাত নিয়ে কোন আশঙ্কা নেই, ভয় নেই। ফলে, সিরিয়াস কোন প্রস্তুতি নেই। অথচ দুনিয়ার একেকটা কাগুজে পরীক্ষা নিয়ে আমাদের প্রিপারেশান...
আমাদেরকে চাঁদের হিসেবে গণণা করতে বলা হইসে। সেই হিসাবে এবং সৌর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ আমি আরো একটা বছর হারালাম। কবরের মাটিচাপার দিকে আরো একটা বছর এগিয়ে গেলাম। অথচ...
এই লেখাটা কতজন যে পড়বে!
কিন্তু সত্যিই কয়জন মানুষ নিজের গুনাহের জীবন ছেড়ে দিবে এই মূহুর্তে?
আল্লাহর অবাধ্যতা ছেড়ে দিয়ে, ক্ষমা চেয়ে, সম্পূর্ণ নতুন জীবন কয়জন শুরু করবে "এক্ষণ" থেকেই?
আপনি শুরু করবেন?
তাহলে জেনে রাখেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন, আল্লাহ আপনার উপরে খুশি হয়ে যাবেন ইন-শা-আল্লাহ।
- মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর হাফি