21/09/2024
আজ ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে শাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বিকাল ৪ ঘটিকায় ক্যাম্পাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল প্রকার দলীয় ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শাবিপ্রবির গোলচত্ত্বরে একটি অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।এসময় বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও শিক্ষার্থীদের গোলচত্ত্বরে জড়ো হতে দেখা যায়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ জমায়েতটি প্রথমে হল প্রদক্ষিণ করে গোলচত্ত্বরে এসে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে। এসময় বক্তারা বলেন যে ৯০ পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির নামে ক্যাম্পাসভিত্তিক যে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে অধিকাংশক্ষেত্রেই তা ছিলো অপরাজনীতি। শিক্ষার্থীদের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি,জনমত গঠন,রাষ্ট্রের ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনা সৃষ্টি এবং ক্যাম্পাস ভিত্তিক গঠনমূলক কার্যক্রম ইত্যাদি না করে এসব প্যানেলভিত্তিক রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো হল দখলের রাজনীতি, টেন্ডারবাজি,ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন-পীড়ন ইত্যাদি।
পাশাপাশি সাস্টের ২২ সালের ভিসি বিরোধী আন্দোলনের অরাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের অরাজনৈতিক উদাহরন টেনে বক্তারা বলেন যে রাষ্ট্রের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার ছাড়াই শুধুমাত্র ন্যায্য দাবির ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের ব্যাপক পরিসরে একতাবদ্ধ করা সম্ভব। এ বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয় যে উক্ত দাবির মূলভিত্তি ক্যাম্পাসে দলীয় এবং প্যানেলভিত্তিক রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধকরণ,এবং এই নিষেধাজ্ঞার দাবি শুধুমাত্র শাবিপ্রবির ৩২০ একরের মাঝেই সীমাবদ্ধ, ৩২০ একরের বাইরে যেকোনো শিক্ষার্থী যেকোনো রাজনৈতিক দল বা প্যানেলের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি পৌছাতে প্যানেলভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির বদলে দেশি,বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে "Students Representative Body/Students Cabinet/শাকসু" ইত্যাদি গঠনের বিষয়ে মতামত দেন।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের শিক্ষক রাজনীতির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বক্তারা বলেন যে শিক্ষক রাজনৈতিক প্যানেলগুলো সরাসরি রাজনৈতিক দলীয় নাম ব্যাবহার না করে হলেও বিভিন্ননামে পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীন দলের লেজুরবৃত্তি,হল রাজনীতি, শিক্ষক নিয়োগে দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগদান,ছাত্ররাজনৈতিক দলগুলোর অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা না গ্রহণের মাধ্যমে মৌন সমর্থন প্রদান ইত্যাদি করাও যে শিক্ষকরাজনৈতিক প্যানেল কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত তা পরিষ্কার করেন।ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিতে ভবিষ্যতে এরকম আরও কর্মসূচি গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করে উক্ত দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।