20/03/2023
কুরআন তিলাওয়াত শুরু করার আগেই যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হয়, সেগুলো জানুন
▬▬▬▬▬▬▬▬✪▬▬▬▬▬▬▬▬
(১) তিলাওয়াত শুরু করার আগে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়তকে স্থির করা:
সর্বপ্রথম জাহান্নামকে উদ্বোধন করা হবে তিন ব্যক্তির মাধ্যমে, যাদের একজন সেই কুরআন পাঠকারী, যে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করতো। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৩৮২; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৪০৮; হাদিসটি সহিহ]
আল্লাহ বলেন, ‘‘আর তাদেরকে এছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করবে।’’ [সুরা বায়্যিনাহ, আয়াত: ০৫]
(২) মুখে দুর্গন্ধ থাকলে তিলাওয়াতের আগে পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম; তবে, জরুরি নয়।
আলি (রা.) বলেন, আমাদেরকে মিসওয়াক করতে (দাঁত পরিষ্কার করতে) আদেশ করা হয়েছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘...তোমরা তোমাদের মুখকে কুরআনের জন্য পরিষ্কার-পবিত্র করো।’’ [ইমাম বাযযার, আল-মুসনাদ: ৬০৩; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ২১৫; হাদিসটি হাসান সহিহ]
(৩) স্পর্শ করে কুরআন পড়তে অজু করা:
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘পবিত্র না হয়ে কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।’’ [ইমাম মালিক, আল-মুয়াত্তা: ৪৬৮; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৭৯৩; হাদিসটি সহিহ]
❖ এইকেন্দ্রিক আরও কিছু মাসয়ালা:
ক) কুরআনের মুসহাফ বা কপি স্পর্শ না করে, মুখস্থ তিলাওয়াত করতে অজুর প্রয়োজন নেই। তবে, মুসহাফ স্পর্শ করে পড়তে চাইলে অজু করতে হবে।
খ) অধিকাংশ আলিমের মতে, মোবাইলে কুরআন পড়লে অজু করা জরুরি নয়, তবে উত্তম। কারণ মোবাইলের কুরআন মুসহাফের কুরআনের মতো নয়। তবে, অজুসহ পড়া উত্তম।
গ) গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করে হোক অথবা স্পর্শ ছাড়া হোক, কোনোভাবেই তিলাওয়াত করা যাবে না।
ঘ) হায়েজা (পিরিয়ড) অবস্থায় কুরআন স্পর্শ না করে পড়াকে অনেক আলিম জায়েয বলেছেন। উলামায়ে আহনাফসহ অনেক আলিম এটিকে নাজায়েয বলেন।
ঙ) হায়েজা অবস্থায় কিংবা গোসল ফরজ অবস্থায় নিজেকে হেফাজত ও নিরাপত্তার জন্য কুরআন স্পর্শ না করে সুরা ফালাক, সুরা নাস, আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত ইত্যাদি এগুলো পড়া যাবে।
(৪) ঘুম ঘুম চোখে তিলাওয়াত করা উচিত নয়।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কেউ রাতে নামাজ পড়ে, ফলে তার জিহ্বায় কুরআন এমনভাবে জড়িয়ে আসে যে, সে কী পড়ছে তা টের পায় না, তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৭২১]
(৫) তিলাওয়াতের শুরুতে আউযুবিল্লাহ পড়া উচিত। অনেক আলিমের মতে, এটি ওয়াজিব (আবশ্যক), তবে অধিকাংশ আলিম এটিকে মুসতাহাব (উত্তম) বলেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘সুতরাং, যখন তুমি কুরআন পড়ো, তখন আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো।’’ [সুরা নাহল, আয়াত: ৯৮]
পাশাপাশি, বিসমিল্লাহ পড়া উত্তম। সুরা তাওবাহ পড়তে চাইলে ‘বিসমিল্লাহ’ না পড়া উত্তম। বরং শুধু আউযুবিল্লাহ পড়ে তিলাওয়াত করা; আগের সুরার সাথে মিলিয়ে পড়লে আউযুবিল্লাহ পড়ারও দরকার নেই।
(৬) কুরআনের বড়ত্ব ও মহত্ত্ব মনে জাগ্রত রাখা:
আল্লাহ বলেন, ‘‘আমি যদি এই কুরআনকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তাহলে আপনি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত, বিদীর্ণ দেখতে পেতেন। আর আমি এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি মানুষের জন্য, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।’’ [সুরা হাশর, আয়াত: ২১]
আল্লাহ বলেন, ‘‘বলো, যদি মানুষ ও জিন এ কুরআনের অনুরূপ আরেকটি (কুরআন) আনার জন্য একত্র হয়, তবুও তারা অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।’’ [সুরা ইসরা, আয়াত: ৮৮]
(৭) কুরআন পড়ার উদ্দেশ্য সঠিক করা:
আমরা কয়েকটি উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করবো।
ক) আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে এবং কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার পরিণতি থেকে বাঁচতে। (সুরা আলাক্ব, আয়াত: ০১; সুরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪-১২৬; সহিহুত তারগিব: ১৪২৩)
খ) নেকি ও ফজিলত লাভের উদ্দেশ্যে। প্রতি হরফে ১০ নেকি, না বুঝে পড়লেও (সুনান তিরমিযি: ২৯১০)। কুরআন দ্বারা রহমতলাভ করতে ও উপকৃত হতে। (সুরা ইসরা, আয়াত: ৮২)
গ) আল্লাহর কথা বুঝা, উপলব্ধি ও তাদাব্বুরের উদ্দেশ্যে। (সুরা সোয়াদ, আয়াত: ২৯)
ঘ) কুরআন অনুযায়ী আমল করার উদ্দেশ্যে। (সুরা আন‘আম, আয়াত: ১৫৫)
ঙ) কুরআনের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ এবং অন্তরকে অটল-অবিচল রাখতে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ০২; সুরা নাহল, আয়াত: ১০২)