18/12/2025
আজ মাদরাসাতুল মদীনা সিলেট—এর জালালাইন জামাতের আনুষ্ঠানিক “বিদায় অনুষ্ঠান” অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত হাফলায় মাদরাসার সম্মানিত আসাতেযায়ে কেরাম গভীর অর্থবহ নসিয়াহ পেশ করেন। সংক্ষেপে সেগুলো নিচে তুলে ধরছি—
১️) ‘বিদায়’ নয়—ইলমের যাত্রা অব্যাহত।
কথার শুরুতেই মুদীরে মুহতারাম বলেন—
আমি ‘বিদায়’ শব্দটি বলতে চাই না। কারণ ছাত্রদের কোনো বিদায় বা ছুটি নেই। ইলমের পথচলা আজীবনের। আমাদের মাদরাসায় যেহেতু মেশকাত ও দাওরা নেই, তাই ইলমে অগ্রগতির জন্য ছাত্রদের অন্য মাদরাসায় পড়ার সুযোগ দিচ্ছি —এটি বিদায় নয়, বরং ইলমের ধারাবাহিকতা।
কিছু আসাতেযায়ে কেরাম ‘বিদায়’ শব্দটিকে দৈহিক বিদায় হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকবে—ইনশাআল্লাহ।
২️) আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বজনীন নসিহত।
একজন উস্তায বলেছেন—আমি তোমাদের সেই নসিহতই করছি, যা আল্লাহ তায়ালা করেছেন—
> وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ
তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদেরকেও এবং তোমাদেরকেও আমি এই অসিয়ত করেছি—তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।
তথা তাকওয়া এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
৩️) কুরআনের সাথে সম্পর্ক অটুট রাখা।
আমরা যারা কুরআনের তাফসির শেষ করেছি—তারা যেন কখনো কুরআন থেকে দূরে না সরে যাই।
যখনই ইলমে বরকত কম মনে হবে বা অন্তরে অশান্তি অনুভব হবে, তখনই কুরআনের দিকে ফিরে যাবো—ইনশাআল্লাহ।
৪️) উস্তাযদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।
আজ যারা অত্র মাদরাসা থেকে ফারেগ হচ্ছি—আমরা অবশ্যই আসাতেযায়ে কেরামের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবো।
যতক্ষণ ডাল গাছের সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ তা জীবিত থাকে; বিচ্ছিন্ন হলে প্রাণহীন হয়ে যায়। তাই সব সময় উস্তাযদের সাথে যোগাযোগ রাখবো—ইনশাআল্লাহ।
৫️) দারুল উলুম দেওবন্দ—আমাদের আদর্শ।
দারুল উলুম দেওবন্দ আমাদের আদর্শ।
আমরা আমাদের বিশুদ্ধ আকিদার বিপরীত যে কোনো বাতিল ফিরকা থেকে দূরে থাকবো—বিশেষ করে যারা সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি মানে না এবং নবীগণকে নিষ্পাপ মনে করে না। তাদের ব্যাপারে আমরা সর্বদা সতর্ক থাকবো।
৬️) বাংলাদেশের সকল মাদারিস—এক পরিবার।
বাংলাদেশের সকল মাদারিস আমাদের পরিবার।
সুতরাং এই পরিবার থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। উস্তাযদের তত্ত্বাবধানে ও পরামর্শ অনুযায়ী মাদরাসা নির্বাচন করবে।
৭️) শুধু আদর্শ ছাত্র নয়—আদর্শ মানুষও হতে হবে।
তুমি সব দিক দিয়ে আদর্শ হবে।
শুধু ভালো ছাত্র হলেই যথেষ্ট নয়। যদি উস্তাযদের সাথে সালাম-কালাম থাকে কিন্তু ঘরে মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক না থাকে—তাহলে তুমি আদর্শ ছাত্র হলেও আদর্শ মানুষ নও।
কারণ নবী ﷺ বলেছেন—
> خيركم خيركم لأهله، وأنا خيركم لأهلي
তোমাদের মধ্যে উত্তম সে-ই, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।
৮️) উস্তাযদের আনুগত্যে কামিয়াবি।
উস্তাযদের কথা বুঝে আসুক বা না আসুক—পূর্ণ আনুগত্য করতে হবে।
কারণ মানার মাঝেই প্রকৃত কামিয়াবি নিহিত।
৯️) ইলমের সাথে আমল অপরিহার্য।
আমি, তুমি—আমরা সবাই তালিবুল ইলম।
কেউ দারসে বসে শেখার মাধ্যমে ছাত্র, আর কেউ দারস দেওয়ার মাধ্যমে শেখে—উভয়েই ছাত্র।
কিন্তু আমাদের পূর্ণ পরিচয় হওয়া উচিত—
طالبُ العلمِ والعمل
ইলম শিখলাম কিন্তু আমল নেই—তাহলে সবই ব্যর্থ। তাই ইলমের পাশাপাশি আমলের যত্ন নিতে হবে, বিশেষ করে নামাজের ব্যাপারে।
১০) যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে সর্বপ্রথম উস্তাযদের সাথে পরামর্শ করবো।
নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিবো না। কেউ যদি আগে থেকেই কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে—তাহলে এখনই তা পরিবর্তন করে ফেলবে।
১️১) উস্তাযদের সামনে নিজের মত পেশ করা যাবে।
কিন্তু সিদ্ধান্ত জানিয়ে ‘পরামর্শ’ চাওয়া যাবে না। কারণ সিদ্ধান্ত দিয়েই ফেললে পরামর্শের আর কোনো অর্থ থাকে না।
লিখেছেন: মাওলানা Fujaeel Hossain হাফি.
মুশরিফ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।