14/04/2026
মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রসঙ্গে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদে শহীদ মাওলানা আব্দুল আজীজ সাহেবের বক্তব্যঃ
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিহিল কারীম।
মাননীয় স্পীকার, মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সূত্রে আমাকে আলোচনার সুযোগ দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সাথে সাথে মোবারকবাদ জানাচ্ছি আমার এলাকার চারদলীয় জোটের নেতাকর্মী ও জনগনকে। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, জেল-জুলুম, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আজ জাতীয় সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। আজ স্মরণ করি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, বিশেষ করে চোখ হারিয়েছিলেন সেই ভাই শহীদ ইসলামকে। স্মরণ করি মুকুল ইসলামকে, যিনি পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ১৭ বছর বয়সে ছাত্রদলের কর্মী থাকাকালীন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অগ্নিসংযোগে মায়ের বুক খালি করে জীবন দিয়েছে। মোবারকবাদ জানাচ্ছি আমার এলাকার হাজার হাজার রিকশা শ্রমিক ও মাটি কাটা শ্রমিক সহ সকল শ্রেণি ও পেশার শ্রমিক যারা ঢাকা শহরের বাড্ডা, আজিমপুর, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেছেন এবং ১ অক্টোবর নির্বাচন এলাকায় গিয়ে ভোট দিয়েছেন। চারদলীয় জোটের সংসদ সদস্য হিসেবে অবহেলিত এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে এ আশায় তারা আমাকে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন। সাথে সাথে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি আমার এলাকার অসংখ্য মহিলাদের, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, ভোটার হয়েছেন, দোয়া করেছেন এবং বৃষ্টি ভিজে ভোট দিয়েছেন।
মাননীয় স্পীকার, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই মহান সংসদে মূল্যবান ভাষণ দিয়েছেন। এ জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে আমার ও আমার এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে প্রগাঢ় অভিনন্দন জানাই। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে অত্যন্ত বাস্তব ও সত্য কথা বলেছেন। জাতীয় সকল সমস্যার বাস্তব সমাধান তাঁর ভাষণে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির যুক্তিযুক্ত ভাষণ প্রশংসার দাবী রাখে। কিন্তু শত দিনের কর্মসূচিতে যতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে চারদলীয় জোট সরকারের কাছে জনতার এর চেয়ে ঢের বেশী দাবী ছিলো। চাঁদাবাজি, মাস্তানী, সন্ত্রাস দেশ থেকে একদম মূলোৎপাটন করার জন্য বাংলার জনগণ চার দলকে ভোট দিয়েছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণে অবশ্য এ বক্তব্য এসেছে। তাই এ ব্যাপারে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের দাবি করছি।
মাননীয় স্পীকার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল–এর রিপোর্টের ভিত্তিতে দুর্নীতিবাজ আগের সরকারকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্পষ্ট বক্তব্য এবং পদক্ষেপ দেশবাসীর আশান্বিত করেছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভাবনা আগামী দিনের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। কিন্তু উত্তর জনপদের অবহেলিত জনগণ গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির ভাবনা আরো সুস্পষ্ট কথা আসলে তাঁর ভাবনা অধিক যথার্থ হয়ে উঠতো। তাই আমি উত্তর বঙ্গে গ্যাস সুবিধা প্রদানের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।
মাননীয় স্পীকার, যোগাযোগের ক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে যেমন পাকশী সেতু, পদ্মা সেতু, ভৈরব সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। সে সাথে রাষ্ট্রপতি যদি উত্তরবঙ্গের নালিতাবাড়ী, কুড়িগ্রাম, উলিপুর, চিলমারি এলাকায় লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তায় নদীর উপর তিস্তায় সেতু নির্মাণের কথা উল্লেখ করতেন তাহলে ভালো হতো। সে জন্য আমি উলিপুর–সুন্দরগঞ্জের সংযোগসড়কে তিস্তা ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
মাননীয় স্পীকার, আমার নির্বাচনী এলাকা সুন্দরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে পূর্বাঞ্চলের সাতটি ইউনিয়ন বেশ অনুন্নত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৫ সালে সেখানে গিয়েছিলেন এবং তাঁর নির্দেশক্রমে সেখানে একটি পুলিশ স্টেশন নির্মিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সে পুলিশ স্টেশনটি উদ্বোধন করা হয়নি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
মাননীয় স্পীকার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন একটি এলাকার উন্নয়ন বয়ে আনে। সেদিক থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা সুন্দরগঞ্জ এলাকা অনেক পিছিয়ে। সে জন্য কুড়িগ্রাম জেলার সাথে রাজধানীর যোগাযোগের জন্য উলিপুর–সুন্দরগঞ্জ ভিত্তি ব্রিজ নির্মাণ করত: সুন্দরগঞ্জ–গাইবান্ধা হয়ে রংপুর জেলার সারিয়াকান্দি দিয়ে সিরাজগঞ্জ আমতলী ঘাটে বিশ্ব রোডের সাথে সংযোগের মাধ্যমে উত্তর অঞ্চলের উন্নয়নের দাবি রাখছি। এছাড়া গোপিনগঞ্জ–নাকাই হাট–গাইবান্ধা রাস্তাটি পাকাকরণ এবং অসমাপ্ত ব্রিজটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সম্পন্ন করার আবেদন জানাচ্ছি।
মাননীয় স্পীকার, দেশের সর্বত্র ডিজিটাল ও মোবাইল ব্যবস্থা চালু আছে। কিন্তু আমার উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখনো মোবাইল চেনে না। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ যথার্থ হবে না মাননীয় স্পীকার। তাই রাষ্ট্রপতির ভাষণ অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য করার জন্য আমার এলাকায় ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ ও মোবাইল টেলিফোন আরও প্রয়োজন। এছাড়া আমার নির্বাচনী এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট পাকাকরণ, ৮টি ব্রিজ নির্মাণ এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি জানাচ্ছি। কৃষি প্রধান বাংলাদেশে সিংহভাগ কৃষি পণ্য উত্তরাঞ্চলে উৎপন্ন হয়। কিন্তু সেখানে বিপণনের জন্য উন্নত কোন প্রকল্প চালু না থাকায় আমার নির্বাচনী এলাকা সুন্দরগঞ্জ তথা গাইবান্ধা জেলার কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। সে জন্য আমার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আইপিএম প্রকল্প, এন.সি.ডি.পি প্রকল্প বরাদ্দ, উন্নয়ন প্রকল্প, কৃষি গুদাম ও কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন আরও প্রয়োজন। এখানকার আলু ও কলা বাইরে রপ্তানি করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাই হাজার হাজার কৃষকের কৃষি পণ্য বিশেষ করে আলু এবং কলা রপ্তানি করার জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
মাননীয় স্পীকার, উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয় আমার সুন্দরগঞ্জে। তাই আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি জুট মিল স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। গাইবান্ধা জেলা শহরের পাশে একটি পর্যটন মোটেল স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। পরিশেষে, মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে তাঁর মূল্যবান ভাষণের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।