Durbar Juba Parishad

Durbar Juba Parishad This is a community non-profit organization.

21/09/2024

প্রখ্যাত শিল্পী কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য একবার বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন-

"মানুষ আপনার গান বিকৃত সুরে গায়। আপনার সুর ছাড়া অন্য সুরে গায়। অনেকে আপনার নামটা পর্যন্ত বলে না। এসব দেখতে আপনার খারাপ লাগে না...?"

শাহ্ আবদুল করিম বললেন-
"কথা বোঝা গেলেই হইল...
আমার আর কিচ্ছু দরকার নাই..."

কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য আশ্চর্য হয়ে বললেন-
"আপনার সৃষ্টি... আপনার গান। মানুষ আপনার সামনে বিকৃত করে গাইবে। আপনি কিছুই মনে করবেন না... এটা কোন কথা... এটার কোন অর্থ আছে...?"

শাহ্ আবদুল করিম বললেন-
"তুমি তো গান গাও...
আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দাও তো...

ধর তোমাকে একটা অনুষ্ঠানে ডাকা হলো। হাজার হাজার চেয়ার রাখা আছে কিন্তু গান শুনতে কোন মানুষ আসে নাই। শুধু সামনের সারিতে একটা মানুষ বসে আছে...
গাইতে পারবে...? "
কালীপ্রসাদ কিছুক্ষন ভেবে উত্তর দিলেন-
"না... পারবো না..."
শাহ্ আবদুল করীম হেসে বললেন-
"আমি পারবো...
কারণ আমার গানটার ভেতর দিয়ে আমি একটা আদর্শকে প্রচার করতে চাই। সেটা একজন মানুষের কাছে হলেও। সুর না থাকুক... নাম না থাকুক... সেই আদর্শটা থাকলেই হলো। আর কিছু দরকার নাই... সেজন্যই বললাম শুধু গানের কথা বোঝা গেলেই আমি খুশি..."

কালীপ্রসাদ ভট্টাচার্য জানতে চাইলেই-
"সেই আদর্শটা কি...?"
শাহ আবদুল করীম আবার হেসে বললেন-
"একদিন এই পৃথিবীটা বাউলের পৃথিবী হবে..."
‘এই পৃথিবী একদিন বাউলের পৃথিবী হয়ে যাবে’।

এ কথাটা বলেছিলেন শাহ আব্দুল করিম। এবং উনার চোখে যে বিশ্বাস, মানে যুগ যুগ ধরে... আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমাদের দেশের কোনো রাষ্ট্রপতি কোনো প্রধানমন্ত্রীর চোখে এই বিশ্বাস নেই।... আমরা অনেক নেতাদের মুখে অনেক কথা শুনি, কিন্তু তারা বিশ্বাসে বলেন না কথাগুলো। তারা বলতে হয় বলে বলেন, নয় নিজের স্বার্থে বলেন, নয় লোককে ভুল বুঝানোর জন্য বলেন।...”
- কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য

একবার সুনামগঞ্জে তাকে সংবর্ধনা দেয়ার কথা। প্রোগ্রামের শেষের দিকে মাইকে ঘোষণা আসলো, এবারে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের হাতে তুলে দেওয়া হবে তিন লাখ টাকার সম্মাননা চেক।

আব্দুল করিম বার্ধক্যে উপনীত। তিনি বোধহয় কানে ভুল শুনলেন। তার বিশ্বাস হচ্ছিল না। তিনি পাশে বসে থাকা তার একমাত্র সন্তান জালালকে বললেন, জালাল ইতা কিতা কয়! তিন হাজার টাকা! এ তো অনেক টাকা! এত টাকা দিয়ে আমি কি করতাম!

আব্দুল করিমকে আস্তে করে জানানো হলো, তিন হাজার নয়, টাকার অংকটা তিন লাখ! শাহ আব্দুল করিম অস্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি হতভম্ব। তিনি বললেন, তিন লাখ? সর্বনাশ, অত টাকা! এগুলো নিয়্যা আমরা কিতা করমু? আমরার টাকার দরকার নাই, মানুষ যে ভালোবাসা দিছে, সেইটাই বড় প্রাপ্তি। চল চল বাড়ি চল। বলেই তিনি বেরিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা দিলেন।

একজন মানুষ কতটা আর নির্লোভ হতে পারেন!

দেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাথে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে তিনি বলেন,

' হুমায়ূন সাহেব অত্যন্ত জ্ঞানী-গুণী মানুষ। আমি তাঁকে শ্রদ্ধাও করি। আমাকেও তিনি শ্রদ্ধা করেন, ভালোবাসেন। একবার তিনি টিভিতে একটি অনুষ্ঠান বানানোর জন্য একজন লোককে আমার কাছে পাঠালেন। প্রচার আমি কোনোসময়ই চাইনি, তখনো তা-ই করেছিলাম। কিন্তু লোকটির চাপাচাপিতে ঢাকা গেলাম। হুমায়ূন সাহেব আমার সাক্ষাত্কার নেওয়ালেন, গান গাওয়ালেন। আমি ফিরে আসার সময় উনি সৌজন্যসাক্ষাত্টুকু পর্যন্ত করলেন না, গাড়ির ড্রাইভারকে দিয়ে কিছু টাকা পাঠিয়ে দিলেন। আমার হাসি পেল। এই টাকার জন্য কি আমি এতদূর ঢাকা ছুটে গিয়েছিলাম? আমি হাওরের বনে-বাদাড়ে বড় হয়েছি, মনটা সে রকমই বড়। টাকা আমার কাছে কিছুই না। এই করিম টাকার ধান্ধা করলে এতদিনে অনেক বড়লোক হতে পারত! কই, কখনো তো টাকার পেছনে ছুটিনি। এ ঘটনাটি আমাকে খুব পীড়া দেয়। পরে অনুষ্ঠানটি প্রচারের তারিখও তিনি আমাকে জানাননি। সে ঘটনাই আমি সাক্ষাত্কারে বলেছিলাম। পরে আর কখনো হুমায়ূন আহমদের কাছে যাইনি। সত্য কথা বলার কারণে যদি সম্পর্কের অবনতি হয়ে থাকে—তাতে তো আমার আর কিছুই করার নাই।'

ব্যক্তিত্ব, আত্মসম্মানবোধ কাকে বলে বাউল দেখিয়ে গিয়েছেন।

তিনি একবার বলেছিলেন,
'এত সংবর্ধনা, সম্মান দিয়ে আমার কী হবে? সংবর্ধনা বিক্রি করে দিরাই বাজারে এক সের চালও কেনা যায় না। পেটে যদি ভাত না থাকে করিম মেডেল গলায় দিয়ে কী করবে?'

স্পষ্টতায়, স্পর্ধায় কাটিয়েছেন এক বাউল জীবন।

প্রকৃতি ছিল তার প্রথম শিক্ষক। প্রকৃতিই তাকে নিখাদ সোনা করে গড়ে তুলেছে। পার্থিব জীবনের প্রায় দুই যুগ ধরে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। এরপর তিনি ভর্তি হন নাইট স্কুলে। স্বাক্ষরজ্ঞান লাভের পর তিনি তার সহপাঠীদের নিয়ে গাজীর গান, বাউলা গান, ঘাটু গান, পালাগান, সারিগান, মালজোড় গান, কবিগানসহ বিভিন্ন অতি প্রাকৃতজনের গান গাইতেন। সে সময় ভাটি অঞ্চলের হাওরে নাও বাইছ (নৌকা বাইছ) হতো তখন করিম তার সহপাঠীদের নিয়ে নাওয়ে উঠে গাইতেন ‘কোন মেস্তুরী নাও বানাইছে কেমন দেখা যায় ঝিল-মিল-ঝিল-মিল করেরে ময়ূরপঙ্খী নাও’। এভাবে গানের মধ্য দিয়ে চলে তার বাউলগান চর্চা।

ছিলেন রাখাল বালক। স্কুলে কয়েকদিন মাত্র গিয়েছেন। সারাজীবন দরিদ্রতার সাথে লড়াই করেছেন। বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন প্রিয়তমা স্ত্রী সরলা। তবু গান ছেড়ে যান নি করিম। বরং এইসব প্রতিকূলতা তাকে আরো দৃঢ়চেতা করেছে।

ঈদের নামাজে গেছেন। এক মুরুব্বি তাকে দেখেই বললেন, 'করিম ইসলাম ধ্বংস কইরা ফালাইতাছে। গানবাজনা ইসলামে হারাম, এরপরও সে গান গাইতাছে। এইটার বিহিত করা দরকার'।

তিনি ইমাম সাহেবকে সামনে রেখে সব মানুষের সামনে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, 'গান গাওয়া ইসলামে হালাল কি না?' ইমাম সাহেব বললেন—'গানের সুরে যদি আল্লাহকেও ডাকে, তাহলেও গুনা হবে'।

ব্যাস, আর যায় কই? ওই মুরুব্বি তাকে জিজ্ঞেস করলেন—গান ছাড়ব কি না?তিনি বললেল—সেটা কখনোই আমি পারব না। উত্তর শুনে ওই মুরুব্বি মানুষটি রেগে গেলেন। তিনি বললেন, 'এত স্পর্ধা, ইমাম সাহেব ও মুরুব্বিদের মুখের ওপর কথা। সেটা মেনে নেওয়া যায় না।'

এরপর তিনি বললেন, 'এখন বললাম গান ছেড়ে দেব, পরে ছাড়লাম না। তাই এ ধরনের মিথ্যা কথা আমি বলতে পারব না। নিজে যা বিশ্বাস করি, তা-ই বলেছি। আপনার যদি এ কারণে আমাকে গ্রামে জায়গাও না দেন, তাতেও আমি রাজি।

এরপর থেকে প্রায় প্রতি শুক্রবারে জুম্মার নামাজের আগে-পরে মসজিদে মুসল্লিরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে—গান-বাজনা করে তিনি নাকি বেশরা কাজ করছেন।

তখন গ্রামের আশপাশে সারারাত ধরে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ওয়াজে দেশের বিশিষ্ট ওয়াজিরা এসে আল্লা-রসুলের নাম না-নিয়ে উনা শ্রাদ্ধ করার কাজে যোগ দিয়েছিল। রাতভর অকথ্য ভাষায় তাকে গালিগালাজ করত। শেষে একসময় পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে গ্রাম ছাড়েন।

গানের জন্য তাকে ধর্মজীবীরা একঘরে করেছে, স্ত্রী সরলা আর শিষ্য আকবরের জানাযায় অংশ নেয় নি এলাকাবাসী।

শাহ আবদুল করিম লালনের সুযোগ্য শিষ্য। কেন? কারণ-শাহ্ আবদুল করিম তাঁর স্ত্রীকে মনে করতেন মুর্শিদ। ‘মুর্শিদ’ শব্দটার অর্থ-নেতা (আধ্যাত্মিক অর্থে অবশ্য)। শাহ আবদুল করিমের স্ত্রীর নাম ছিল আবতাবুন্নেছা। করিম আদর করে ডাকতেন: 'সরলা।'

স্ত্রীকে ‘মুর্শিদ’ মনে করাটা সহজ নয়। অনেক শিক্ষিত আধুনিক পুরুষও এক্ষেত্রে পিছিয়ে। কেন? ঈশ্বর পুরুষ বলেই?। করিম কেন পারলেন? করিম বাউল বলেই পারলেন। বাউল বাংলার ধর্ম- বাংলা মাতৃতান্ত্রিক বলেই।

বাউলের স্ত্রী সরলা মারা যাওয়ার পর গ্রামের ইমাম সাহেব বললেন—'বাউলের স্ত্রীর জানাজা পড়ানোর দরকার নাই।' আবার তার প্রিয় শিষ্য আকবর মারা যাওয়ার পর মসজিদের মাইকে তার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করেনি। তার দোষ, সে বাউলের সঙ্গে থেকে গানটান গেয়ে নাকি বেশরা ও ইসলাম বিরোধী কাজ করেছে। তাই সে বাউলের মতোই কাফের হয়ে গেছে। তিনি বলেন,'বেতনভোগী ইমামের কথা শুনে আর রাগে-দুঃখে নিজেই আমার বাড়িতে কবর খুঁড়েছি। আকবরের জানাজা পড়িয়ে দাফন করেছি। গ্রামের কেউ কেউ আইছিল, কেউ কেউ আয়ে নাই।'

গ্রামীণ ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীলদের আচরণে বাউল আবদুল করিম নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন 'কুলহারা কলঙ্কিনী' বলে। শহরে এসে বাউল আবিষ্কার করেন, এখানকার 'শিক্ষিত' মানুষেরাও তাকে মানুষ ভাবতে পারে না। সেজন্যই হয়ত আবদুল করিমকে গাইতে হয়েছে, 'এ জীবনে দূর হলো না.. বাউল করিমের পেরেশানি!'

'মানুষের' দেওয়া এসব কষ্ট বুকে নিয়ে আজকের এই দিনে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বাউল শাহ আবদুল করিম!

বাড়ির কাছে উজানধল বাজার। চাল আনতে সেখানে গেছেন তিনি। ফিরে এলে চুলো জ্বালাবেন— এ অপেক্ষায় বসে রইলেন গিন্নি। সামান্য সময়ের ব্যাপার এ বাজারসদাই। অথচ ঘণ্টা পেরিয়ে দিন যায়, সপ্তাহ পেরোয়। অবশেষে ১৮ দিন পর খবর পাওয়া গেল তিনি আছেন হবিগঞ্জে। এক ভক্তের বাড়িতে গান করছেন। এমনই খেয়ালি মানুষ ছিলেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম।

শাহ আবদুল করিম শুধুমাত্র বাউল ছিলেন না, তিনি একাধারে গণসংগীত শিল্পীও। সারাজীবন শোষিত বঞ্চিতদের পক্ষে গান লিখেছেন। তাঁর আঘাতের লক্ষ্য ছিলো ভণ্ড রাজনীতিবিদ, শোষক, পুঁজিবাদ আর সাম্রাজ্যবাদ। ধর্মের অপব্যবহার তো অবশ্যই।

শাহ আবদুল করিমের গানে বৈষ্ণব ধারার মীড়াশ্রয়ী সুরের ঝংকারের সঙ্গে সুফী ধারার গতিপ্রধান ছন্দের সম্মিলন ঘটেছে।

শাহ আব্দুল করিম রচিত পাঁচশতাধিক গানে যেমন সিলেটের ঐতিহ্য ও শিকড়ের সন্ধান মেলে তেমনি বৈষ্ণব-সুফী ধারার সাধন-ভজনের পরিচয়ও পাওয়া যায়। একদিকে বাস্তবজীবনের কঠিন কঠোর পথপরিক্রমা অন্যদিকে জগত-জীবন সম্পর্কে গভীর পর্যবেক্ষণ, সৃষ্টির রহস্য নিয়ে কৌতূহল শাহ আব্দুল করিমকে করে তুলেছে বাউল মরমী।

বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের পূর্বসূরি মরমি সাধকরা তত্ত্বকথা বলে গেছেন। সমাজে সাম্য সৃষ্টির আন্দোলন করেছেন। কিন্তু শাহ আবদুল করিমের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন মাত্রার। দেশের, দশের, জনগণের, সমাজের দুঃখ-দুর্দশার কথা তিনি তাঁর রচনায় উল্লেখ করে ভিন্নধর্মী সংগ্রাম করেছেন।

আবদুল করিমের জীবন সংগ্রাম এবং গানের সাধনা দেখে মনে হয়, এ যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলেরই গল্প। নিজের দারিদ্রের কথা গানের মধ্য দিয়ে বলতে গিয়েই শাহ আবদুল করিম লিখেছিলেন, ‘মাঠে থাকি গরু রাখি, ঈদের দিনেও ছুটি নাই, মনের দুঃখ কার কাছে জানাই’।

শাহ আবদুল করিম কাগমারী সম্মেলনে গান করে মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাদের শ্রদ্ধা আদায় করে নেন।

শাহ আবদুল করিম বেড়ে ওঠার সময় লোক সাহিত্যের একটি উজ্জ্বল পরিবেশ ছিল। শাহ আবদুল করিম ৫৪'র নির্বাচন ৬৯,এর গণ আন্দোলন, ৭১'এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি পর্যায়ে স্বরচিত গনসঙ্গীত পরিবেশন করে জনতাকে দেশ মার্তৃকার টানে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করেছেন। তাঁর গণসঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে মাওলানা আবদুল হামিদ থান ভাসানী তাঁর পিটে হাত রেখে বলেছিলেন-বেটা, গানের একাগ্রতা ছাড়িও না, তুমি একদিন গণ মানুষের শিল্পী হবে।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণসঙ্গীত শুনে একশ পঁচাশি টাকা দেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১১ টাকা দিয়ে বলেন, তোমার মতো শিল্পীকে উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া হবে।

মুখের বোল কাইড়া নিবে
রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে
আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলবো
প্রয়োজনে রক্ত দেবো
জীবন দিয়ে বাংলা রাখবো
ঢাকায় রক্ত দিছে বাংলা মায়ের সন্তান
আমরা রাখবো তাদের মান।।
~বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম,

(গানটি তাৎক্ষণিকভাবে বেধেছিলেন যখন শোনেন ঢাকার রাজপথ ভাষার জন্য রক্তে রঞ্জিত হয়েছে; ১৯৫২'র ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি নেত্রকোনার একটি মঞ্চে গান গাইছিলেন।)

তার লেখা বইগুলো হচ্ছে- ‘আফতাব সঙ্গীত’ (আনু. ১৯৪৮), ‘গণসঙ্গীত’ (আনু. ১৯৫৭), ‘কালনীর ঢেউ’ (১৯৮১), ‘ধলমেলা’ (১৯৯০), ‘ভাটির চিঠি’ (১৯৯৮), ‘কালনীর কূলে’ (২০০১) ও ‘শাহ আব্দুল করিম রচনা সমগ্র’ (২০০৯)।

শুধু সুরের মূর্ছনায় সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে তাঁর কাছ থেকে বাহবা কুড়িয়ে নেয়ার লক্ষ্য আর সাধারণ গায়কের মতো ছিল না। তিনি সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি থাকতেন বলেই তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সুখ-দুঃখের সাথে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল। তাঁর গানের কথা বা ভাষাগুলো তাই প্রমাণ করে। তাঁর গানের মধ্যে সাধারণ মানুষেরই চাওয়া-পাওয়ার সুরই বেজে উঠেছে।

“কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
আমি ফুল, বন্ধু ফুলের ভ্রমরা
সখী গো আমি ফুল, বন্ধু ফুলের ভ্রমরা।”

একবার এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন- ‘আমি বেহেস্ত, দোজখ চাই না। জীবিত অবস্থায় আমার ভাটি অঞ্চলের বিপন্ন মানুষের সুখ দেখতে চাই। ওই মানুষগুলোর সুখ যারা কেড়ে নিয়েছে আমার লড়াই তাদের বিরুদ্ধে। একসময় তত্ত্বের সাধনা করতাম, এখন দেখি তত্ব নয়, নিঃস্ব-বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। দেহতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, আর সোনার বাংলা সোনার বাংলা করলে হবে না। লোভী, শোষক, পাপাত্মাদের আঘাত করতে হবে।’

'বসন্ত বাতাসে সইগো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে
সইগো বসন্ত বাতাসে...'
-বাউল শাহ আব্দুল করিম

একবার তিনি রেডিও'র একটা চেক ভাঙ্গাতে গেলেন বাংলাদেশ ব্যাংকে। আব্দুল করিমের পরনে ছেঁড়া পাঞ্জাবি। তাকে দেখে ব্যাংকের কেউ কি ভেবেছে কে জানে! কিন্তু আব্দুল করিম ভীষণ অপমানিত বোধ করেছেন। তিনি বিলাতে গান গাইতে গিয়েছেন। সেখানে দেখেছেন, মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু নিজের দেশে দেখলেন এখানে মানুষের মর্যাদা পদ পদবিতে, পোষাকে, চেহারায়।

সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেছিলেন,
আমার পাঞ্জাবি ছেঁড়া তো কি হয়েছে, আমি কি এই দেশের নাগরিক না? আমার লুঙ্গিতে নাহয় তিনটা তালি বসানো, কিন্তু আমি তো ট্যাক্স ফাঁকি দেই নাই কখনো। তাহলে এত ব্যবধান, এত বৈষম্য কেন? মানুষ তো মানুষের কাছে যায়। আমি তো কোনো বন্যপশু যাইনি। বন্যপশুরও অনেক দাম আছে, এদেশে মানুষের কোনো দাম নেই, ইজ্জত নেই।

বসন্তে জন্মছিলেন বলেই হয়ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মাটির গন্ধ গলায় তুলে নিয়েছিলেন বাউল শাহ আব্দুল করিম।লাল সবুজের সুরের ডাক নাম শাহ আব্দুল করিম।

শাহ আবদুল করিমের ভাটির সুরের গান শুনে মনের তলায় জল ছলছল করে। বাঙালি মন লোকসুরের জাদুতে যত ভোলে, আর কিছুতে ততটা মজে বলে মনে হয় না। মায়ার টান খুব শক্তিশালী, যেমন তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে’!

এই মায়ার টানে তিনি কোনোদিন কালনি নদী ছেড়ে যাননি। মায়ার টানে পড়েই গ্রামীণ মানুষের সুখ–দুঃখ, প্রেম–ভালাবাসার ব্যালাড রচনা করে গেছেন।

গ্রিক নন্দনের শক্তি যেমন ট্র্যাজিক চেতনা, বাংলা সংস্কৃতির মর্মে তেমন পাই মায়া। মানুষের প্রতি মায়া, ছেড়ে আসা গ্রামের প্রতি মায়া, প্রকৃতির প্রতি মায়া—এমন হাজারো মায়ার টানে ভোগা মানুষ জানে, মায়ার বন্ধন কত শক্তিশালী। মৃত্যু ছাড়া তার বন্ধন নাকি ছেঁড়া যায় না।

শাহ আবদুল করিমের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম ছেঁকে নিলে যা পাই, তা এই মায়া। মায়া বাংলাদেশের কৃষক সংস্কৃতির মূল রস। এটা আমাদের আধুনিক সাহিত্যেও ছড়িয়ে গেছে।

একজন স্বশিক্ষিত কবি। তার চেতনাই তার সৃজনের জ্ঞানশিক্ষা। বাংলার মাটি, জল, সবুজ, সুন্দরমা প্রকৃতিই তাঁর পাঠশালা। সেই পাঠশালার চিত্রছায়ায় পাঠ নিতে নিতে তিনি অনুধাবন করেছেন জীবনকে, জীবনের একক নিয়ামক শক্তিকে।তাইতো তিনি অকপটে বলতে পারেন, ‘কেউ বলে দুনিয়া দোজখ, কেউ বলে রঙের বাজার / কোনো কিছু বলতে চায় না, যে বুঝেছে সারাসার।’

তাঁর সবচেয়ে বড় পুরস্কার বোধহয় মানুষের ভালোবাসা। শাহ আবদুল করিমের গান মানুষের মুখে মুখে। আরও হাজার বছর বেঁচে থাকবে তার গান। তার গান গেয়ে অনেক শিল্পী জনপ্রিয় হয়েছেন। ভবিষ্যতেও হবে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও বহুল চর্চা হচ্ছে তার গান। একজন সুর সাধকের জন্য এরচেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে!!

শেষ বয়সে এসে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্ট, কিডনির জটিলতা, ফুসফুসে ইনফেকশন এবং বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ই ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে উজান ধল গ্রামে স্ত্রী সরলা বিবির কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

কালণীর ঢেউ আছড়ে পড়া উজানধলের বাড়িতে প্রিয়তমা স্ত্রী সরলার পাশে আজ চিরনিদ্রায় শায়িত বাউল সম্রাট । সেই সমাধি ঘিরে আজো প্রতিটি ক্ষণে বেজে উঠে তার শিষ্যদের বাঁশির করুণ রাগিনী কখনোবা কাঠিঢোলে উতাল শব্দে মুখর হয়ে উঠে উজান ধলের আকাশ বাতাস।

‘চলিতে চরণ চলেনা, দিনে দিনে অবশ হই, আগের বাহাদুরি এখন গেলো কই’ মৃত্যুর কিছুদিন আগেই তিনি গানটি লিখেছিলেন।

প্রতিটি মানব জীবনের চরম বাস্তবতার কথা এতটা সহজে বলতে পারার অসম্ভব ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন শাহ আবদুল করিম।

বসন্তে বাতাসে মিশেও থাকে বাউল, মিশে থাকেন শাহ্ আব্দুল করিম।

আজ ১২ই সেপ্টেম্বর, বাউল আব্দুল করিমের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিনম্র শ্রদ্ধা বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিম ❤

21/09/2024

আওয়ামী লী‌গের স‌ক্রিয় কর্মী বি‌বিয়ানা ম‌ডেল ক‌লে‌জের অধ‌্যক্ষ নৃ‌পেন্দ্র দা‌শের আদ‌্যপান্ত ( পর্ব-১)
========================

নিজস্ব প্রতি‌নি‌ধি: অখ‌্যাত অজ্ঞাত কুলশীল বা রাজনী‌তিক প‌রিবা‌রে জন্ম না নি‌য়েই এলাকায় আওয়ামী লী‌গের রাজনী‌তির দাদা হ‌য়ে ও‌ঠেন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপ‌জেলার বি‌বিয়ানা ম‌ডেল ক‌লে‌জের অধ‌্যক্ষ নৃ‌পেন্দ্র দাশ তালুকদার।

দ‌রিদ্র প‌রিবা‌রের সন্তান হ‌য়ে খুব কষ্ট ক‌রে পড়া লেখা চা‌লি‌য়ে যান শৈশ‌বে। টাকার অভা‌বে পড়া‌লেখা বন্ধ হ‌য়ে যাওয়ার যোগার যখন , তখন মাত্র ত্রিশ টাকা রো‌জে কাঠফাঁটা রো‌দে অ‌ন্যের ক্ষে‌তে কাজ ক‌রে টাকা উপার্জন ক‌রে লেখাপড়ার টাকা‌ যোগার কর‌তেন ।

সিনহা গ্রু‌পের বাটন সেকশ‌নে কর্মরত সহকারী ম‌্যানাজার এক পর্যা‌য়ে বি‌বিয়ানা ম‌ডেল ক‌লে‌জের অধ‌্যক্ষ প‌দে আসীন হন ।

এলাকায় তার কোন পা‌রিবা‌রিক প‌রিচয় ছিল না। ক‌লেজ উদ্যোক্তা‌দের পা‌রিবা‌রিক প‌রি‌চি‌তির হাত ধ‌রে নৃ‌পেন্দ্র চন্দ্র তালুকদার এলাকায় প‌রি‌চি‌তি পাওয়া শুরু ক‌রেন।

সুর‌ঞ্জিত সেন গু‌প্তের আগ্রহে তার কাছাকা‌ছি গি‌য়ে ভো‌টের রাজনী‌তি‌তে নি‌জে‌কে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা ক‌রে সফল হন বি‌বিয়ানা ম‌ডেল ক‌লে‌জের এই অধ‌্যক্ষ। আওয়া‌মী লী‌গের রাজনী‌তি‌কে তি‌নি স‌ক্রিয় হ‌য়ে এলাকায় প্রভাব খাটা‌নো শুরু ক‌রেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপ‌জেলা প‌রিষদ নির্বাচ‌নের সময় ক‌লেজ ফা‌ন্ডের টাকা বিতরণ ক‌রে তি‌নি আওয়ামী লী‌গের প্রার্থীর প‌ক্ষে প্রচারণা চালা‌তেন এবং টাকা দি‌য়ে ভোট কিন‌তেন।

প্রভাব দেখা‌তে গি‌য়ে ক‌লে‌জের শিক্ষার্থী জীবন দাশ এর সা‌থেও তি‌নি একপর্যা‌য়ে ঝা‌মেলায় জ‌ড়ি‌য়ে যান। তা‌কে ক‌লে‌জে গা‌ছের সা‌থে বেঁ‌ধে রে‌খে দিরাই থানা থে‌কে পু‌লিশ ডে‌কে তা‌দের হা‌তে তু‌লে দেন। এরপর থে‌কে জীবন দা‌শ অধ‌্যক্ষ নৃ‌পেন্দ্র দা‌শের প্রতিপক্ষ হওয়া শুরু ক‌রে। একপর্যা‌য়ে জীবন‌কে হত‌্যা করা হয়। নি‌জে‌কে এই হত‌্যাকা‌ন্ডের আড়া‌লে রাখার জন‌্য ক‌লেজের শিক্ষার্থী দি‌য়ে জীবন হত‌্যার প্রতিবা‌দে মানব বন্ধন করান। মূলত জীবন হত‌্যার পিছ‌নে অধ‌্যক্ষ নৃ‌পেন্দ্র চন্দ্র দাশ তালুকদা‌রের হাত র‌য়ে‌ছে ব‌লেই এলাকার লোকজন ম‌নে ক‌রে।

আওয়ামী রাজনী‌তির সা‌থে সম্পৃক্ত হওয়ার সা‌থে সা‌থে এলাকার বি‌ভিন্ন লোকজন‌কে হয়রানী করা শুরু ক‌রেন অধ‌্যক্ষ নৃ‌পেন্দ্র।

মানুষ ভাড়া ক‌রে প্রতিপক্ষ‌কে শার‌রী‌রিক ও মান‌সিকভা‌বে না‌জেহাল কর‌াতেন অধ‌্যক্ষ।
ক‌লে‌জের পা‌শে জ‌মি নি‌য়ে বি‌রো‌ধের জের ধ‌রে ভাড়া ক‌রে লা‌ঠিয়ালবা‌হিনী এনে বাউসী গ্রা‌মের কমলা কা‌ন্তের জ‌মি দখল ক‌রেন। তখন দেশী অস্ত্র নি‌য়ে ক‌লেজ প্রাঙ্গন মুখ‌রিত হ‌য়ে ও‌ঠে।

সুর‌ঞ্জিত সেন গু‌প্তের দোহাই দি‌য়ে তি‌নি দিরাই উপ‌জেলার বোয়া‌লিয়া বাজার এলাকায় এসব কাজ কর‌তেন ।

৯নং কুলঞ্জ ইউনিয়‌নে যত ধর‌নের অবকাঠা‌মো উন্নয়‌নের জন‌্য সরকা‌রি বরাদ্দ আস‌তো নৃ‌পেন্দ্র দাশ প্রতিটা কাজ থে‌কে সা‌বেক এম‌পি সুর‌ঞ্জিত সেন গু‌প্তের নাম ক‌রে টাকা আদায় কর‌তেন ।

৯নং কুলঞ্জ ইউনিয়‌নের সা‌বেক ম‌হিলা মেম্বার রাজ রাণী চক্রবর্তী অবকাঠা‌মো উন্নয়‌নের সরকা‌রি বরাদ্দ দি‌য়ে কাজ করার ক্ষে‌ত্রে তার লালসার স্বীকার হন। কা‌জের বরা‌দ্দের পা‌র্সেন্টেজ দেয়া নি‌য়েই রাজরাণীর সা‌থে তার প‌রিচয় ।
একপর্যা‌য়ে সুর‌ঞ্জিত সেন গু‌প্তের সাহচা‌র্যে থে‌কে নি‌জের প্রভাব খা‌টি‌য়ে রাজ রাণী চক্রবর্তী‌কে উপ‌জেলা ম‌হিলা আওয়ামী লী‌গের সভাপ‌তি বানান। এরপর থে‌কে তার সা‌থে ‌বি‌য়ে না ক‌রেও সংসার করা শুরু ক‌রেন ।

নৃ‌পেন্দ্র দাশ নি‌জে স‌ক্রিয় আওয়ামী লীগ করার প্রেক্ষি‌তে ধাইপুর গ্রা‌মের বিএন‌পি এর স‌ক্রিয় সদস‌্য শাহানুর আলম সাবান এবং কামরুল আলী‌কে রাজ‌নৈ‌তিকভা‌বে পৃষ্ঠ‌পোষকতা কর‌তেন । ক‌লে‌জের ফা‌ন্ডের বিশাল অংকের টাকা শাহনূর আলম সাবানের পিছ‌নে খরচ ক‌রে এক লা‌ঠিয়াল বা‌হিনী গ‌ড়ে তো‌লে এলাকায় ত্রা‌সের রাজত্ব কা‌য়েম ক‌রেন। এর প্রেক্ষি‌তে শাহানূর আল সাবা‌নের ঝুপ‌ড়ি ঘর থে‌কে দালান তৈরী হয়। য‌দিও দালানঘর বানা‌নোর মত কোন জ‌মিজমা বা আয় রোজগার ছিল না। এতে ক‌রে ক‌লে‌জের হি‌সে‌বের খাতা আর মিলা‌তে পা‌রেন‌নি অধ‌্যক্ষ নৃ‌পেন্দ্র দাশ ।

রাজ‌নৈ‌তিক পটপ‌রিবর্তনের সা‌থে সা‌থে এলাকা বিএন‌পি'র স‌ক্রিয় কর্মী‌দের সা‌থে সখ‌্যতা গ‌ড়ে তো‌লে নি‌জে‌কে বিএন‌পি প‌ন্থি অধ‌্যক্ষ হি‌সে‌বে প্রতি‌ষ্ঠিত করার চেষ্টা কর‌ছেন। এজন‌্য উপ‌জেলা বিএন‌পি নেতা‌দের সা‌থেও আজকাল তার উঠাবসা চো‌খে পড়ার মত।

মূলত, সুর‌ঞ্জিত সেন গু‌প্তের স‌ক্রিয় কর্মী হি‌সে‌বে ক‌লে‌জের প্রায় ষাট লক্ষটাকা আত্মসাৎ ক‌রেন , নারীসঙ্গ নি‌য়ে আমোদ প্রমোদ ক‌রে ক‌লেজ ফা‌ন্ডের টাকা অপচয় ক‌রেন। এমন কি ক‌লে‌জের অ‌ফি‌সিয়াল চেক দি‌য়ে নি‌জের পাওনা টাকা প‌রি‌শো‌ধের প্রেক্ষি‌তে চেক ডিজঅনা‌রের মামলায় তি‌নি বর্তমা‌নে চার্জভূক্ত আসামী। এসব কার‌ণে মন্ত্রণালয় তা‌কে সাম‌য়িক বরখা‌স্তের আদেশ জারী ক‌রে। গভ‌র্ণিংব‌ডি অদৃশ‌্য কার‌ণে বরখা‌স্তের আদেশ বাস্তবায়ন কর‌ছে না।

পড়া লেখার মান উন্নয়ন করা যেখা‌নে একজ অধ‌্যক্ষের ধ‌্যান জ্ঞান হওয়া উচিত সেখা‌নে দুর্নী‌তি ক‌রে টাকা আত্মসাৎ করা, রাজ‌নৈতিক প্রভাব খা‌টি‌য়ে ভাড়া‌টিয়া লা‌ঠিয়াল দি‌য়ে নি‌জের শ‌ক্তি মত্তার প্রমাণ করাই যেন তার একমাত্র লক্ষ‌্য। কার‌ণে অকার‌ণে ক‌লে‌জের শিক্ষার্থী‌কে নি‌জের স্বার্থে ব‌্যবহার করে‌ছেন অধ‌্যক্ষ নৃ‌পেন্দ্র চন্দ্র দাশ তালুকদার। তার সাম‌য়িক বরখা‌স্তের আদেশ বাস্তবায়ন ক‌রে ক‌লেজ কে কলঙ্কমুক্ত করা হোক এটাই সাধারণ জনগ‌ণের মূল চাওয়া।

04/09/2024

দয়াল বাবার বিপ্লব পরবর্তী ভার্সন

চলন্ত অবস্থায় গাড়ী থেকে নামলে যেরকম গতি জড়তা রয়ে যায় শিষ্য তেমনিভাবে আজকাল গতির জড়তায় কাবু হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন যাবত কোন ধরনের কাজ তেমন একটা আসতেছে না। এধারকার মাল ওধার করাটা একটা রুটিন কাজ হলেও আজকাল তেমন তিন না পেয়ে ফের দয়াল বাবার আস্তানায় গিয়ে হাজির হয়।
- বাবা, দেশের সবকিছু তো পাল্টে গেল । আমি এবার কি করে চলব ?
- হক মাওলা ! বৎস, শোন , আমি তরে একখান কথা কই, পাঁচ বছর আগের কথা মনে আছে ? তোর ভাঙ্গা ঘরে চাল গড়াইয়া চেল চেলাইয়া বৃষ্টির পানি পড়তো ।
- বাবা, এসবই তো আপনার জানা। আপনার দোয়া নিয়াই তো আজ পাকা ঘরের মালিক।
- ওহে বৎস কথাটা তুই ঠিক কইলি না ।
- কেন , বাবা ?
- তুই কি , সেটা আমি যেমন আমি জানি , তুই নিজেও জানিস।
- বাবা, কিছু লোক ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে গেলেই তো আমার দাম একেবারে আকাশে গিয়ে ঠেকে । আমি অন্যায়কারি কে সাহায্য করি আর পকেট তরতাজা করি।
- ওদের তুই কুচক্রি বললে ও আসল কুচক্রি তো তুই আর আমি। ওরা যতই সংগ্রাম করবে , আমাদের ততই মওকা মারার সুযোগ হবে।
- বাবা, ওরা আমার রিজিকদাতা । ওদের জন্যই আজ আমি ইমারতের মালিক।
- ফেইসবুকে চোখ রাখ। দেখ , কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ ওরা করে কি না । যদি, তা করে তাহলে তোর বাজার দর আকাশে উঠবে।
- বাবা, আমি তো ওসব চালাই না। ছোট ছোট ছেলে ছুকরা বলল কি একটা নিউজ নাকি আজকাল আসছে । এখন কি করব , বাবা?
- হক মাওলা ! তুই কিছুক্ষণ পরে আয় । আমি একটু ধ্যান করে নেই।
দয়াল বাবা শিষ্যকে বিদায় দিয়ে ভীষণ ধ্যানে মজে গেলেন। আস্তে আস্তে তার সামনে ভেসে উঠতে থাকলো তার আশা ভঙ্গের চিত্র। সরকার তার চেয়ার নিয়ে গেছে। এবার আমার বান্দাদের কেমনে যে বাঁচাই, ধ্যান করতে করতে সেটাই ভাবতেছে, দয়াল বাবা। পরের দিন শিষ্য আবার হাজির।
- দয়াল বাবা, আমি মুখ্খ সুখ্খ মানুষ। পড়া লেখাও তেমন নাই। যদিও লোকজনকে আমি খুব একটা পাত্তা দেই না।
- হক মাওলা ! ওসবের কিছুই লাগবে না। তোর জন্য আমি একটা ধান্দা রেডি করে রাখছি। একবার তো ওদের উছিলায় দালান ঘরের মালিক হইছিস , এবার কোটি পতি হতে আর বাধা নাই। পারলে ছেলে পিলে ইউরোপ আমরিকা পাঠাতে পারবি ।
- বাবা, কেমনে, কি যদি গোলামকে একটু পথ দেখাতে পারতেন ।
- শোন, আমার মুখের কাছে আয় । একেবারে গোপনে একটা কথা বলি ।
শিষ্য দয়াল বাবার কাছে যেতেই কানে কানে কিছু পরামর্শ দিতেই শিষ্য ভীষণ ভাবে হই হই করে উঠলো । আবার চিন্তা করলো ওরা তো ভাল মানুষ । অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। কীভাবে যে কাজটা করি । অন্তরে আবার ভীষণ ভয়ও কাজ করে। সংখ্যায় কম হলেও যদি একবার গলায় চাপ দিয়ে ধরে তাহলে আন্ডা বাচ্চা পর্যন্ত না খেয়ে মরতে হবে। আগ-পাছ ভেবে আল্লাহ ভরসা বলেই শিষ্য কাজে নেমে পড়লো।
- শোন, বেশী কথা বলবি না। তরুণদের মনে বিষ ঢেলে দিয়ে তুই মঞ্চে ধাপাইয়া বক্তব্য দিবি। তবে, সাবধান ওরা যদি একবার তোর টার্গেট করে তবে কিন্তু তোর খেইল খতম । না খেয়ে মরতে হবে। জেল খাটতে হবে । আমার আসনের সামনে দুই হালি শবরি কলা আর তিনটা কালো মুরগীর ডিম দিয়ে যাবি আজ সন্ধ্যায়।
- বাবা, মাথায় হাত বুলিয়ে আমার জন্য দোয়া করে দিন।
- হক মাওলা ! যা এখন।
- বাবা, ওরা কি জিতে যাবে নাকি ?
- ওদের সাথে তুই আর পারবি না , বৎস ।
- এবার ওরা তোরে আর আমারে জেলের ভাত খাওয়াবে। তবে, কিছুই করার নাই , আমরা যা করার তাই করবো। শয়তানের কোন কাজ আমরা বাকি রাাখব না। যখন সময় হবে , আমরা আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্য করবো।
- হক মাওলা !

21/04/2024

অনলাইন শিক্ষক বদলী বনাম গতি জড়তা

সারাবিশ্ব আজ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাংলাংদেশও এর সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন সেবাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার দিকে দুর্বার গতিতে ধাবিত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার সকল কর্মকান্ডের মধ্যে ডিজিটাল স্মার্ট সেবা প্রদান দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অনলাইলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলী তেমনি একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সারাদেশে অফলাইনে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতেই যে কোন সরকারি কর্মচারীকে বদলী করা হয়ে থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও অফলাইনে আবেদন করেই বদলী হয়ে থাকেন। ২০২৩ খ্রি. থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলী অনলাইনে কার্যক করা হয়। এ বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ১৭ এপ্রিলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার ডেডলাইন বেঁধে দেয়া হয়। যদিও পরে সেটা কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়।

গত বছরে সহকারী শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকগণ বদলীর সফটওয়ার ব্যবহার করে আবেদন করলেও এবার IPEMIS সফটওয়ার ব্যবহার করে প্রথম ধাপে বদলীর কাযক্রম সম্পন্ন করা হয়। বদলীর আবেদন সহকারী শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক থেকে ক্ষেত্রমতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, বিভাগীয় উপপরিচালক এবং মহাপরিচালক পর্যায়ে গিয়ে সয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে থাকে।

এরপর সহকারী শিক্ষককের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং প্রধান শিক্ষকের জন্য বিভাগীয় উপপরিচালক চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করার পর সহকারী শিক্ষকের বদলীর আদেশ সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষক অফিসার এবং প্রধান শিক্ষককের বদলীর আদেশ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষর করে জারী করে থাকেন যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের আইডিতে প্রদর্শিত হয় এবং ডাউন লোড করে নিজে সংরক্ষণ করতে পারেন। বদলীকৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার আইডিতে গিয়ে সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানোর মধ্য দিয়ে অনলাই বদলী প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়ে থাকে।

এখন কথা হলো, বদলীর আবেদন কোন পর্যায়ে বাদ দিলে কি হতে পারে?

সেটা আবার অফলাইনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করা যাবে।

সেখানেও বিফল হলে অফলাইনে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন পাঠালে সেখানে সব কিছু সঠিক থাকলে আপনি সফলভোবে বদলীর আদেশ পেতে পারেন।

তবে, এবার অন্ত: উপজেলা বদলীতে কোন সমস্যা থাকলে মন্তব্যসহকারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করতে হয়েছে।

# তাহলে,চূড়ান্ত অনুমোদনকারির কাছে কি তাহলে লাইন দিতেই হবে ?

#অথবা সেটা যাতে রিজেক্ট না করে সে জন্য তদবির করতেই হবে ?

#এক কথায় যদি বলি সেটা হচ্ছে্ একটা বিশাল “না” ।

আপনি যখন অনলাইনে আবেদন করেছেন, সিস্টেমে সয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে আর লাইনে দাঁড়িয়ে দর্শন চাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

আপনাকে সংশ্লিষ্ট অনুমোদনকারি কর্মকর্তা অবশ্যই চূড়ান্ত অনুমোদন দিবেন। এর বিকল্প আপাতত নেই।

তাই, কারো ফোনে, কিম্বা ডাকে সাড়া দিয়ে দৌড় শুরু না করে কিম্বা কারো প্রলোভনে মোহিত না হয়ে একেবারেই ঘরে বসে থাকুন, আর আপনার আইডিতে চোখ রাখুন । যথা সময়ে আপনি আপনার বদলীর আদেশ সিস্টেম থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন।

চলন্ত গাড়ি থেকে নামলে ভারসাম্য্ রাখার জন্য অযথাই আমরা দৌড়াই। বদলীর ক্ষেত্রেও এবার তাই হলো মনে হচ্ছে।

বিভিন্ন জনের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে দৌড়ঝাঁপ বা লাইনে দাঁড়ানো আর নিজেকে বোকা বানানো একই কথা ।

এতদিন বদলীর জন্য দৌড় ঝাঁপ যেভাবে করেছেন এখন সেই দিন শেষ । তাই, ক’দিন আগের বদলীতে যারা বিশাল লাইনে দাঁড়ালেন (অযথাই), মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত ছিলেন বা ভয়ে একেবারে কুকড়ে গিয়ে ছিলেন তার অযথাই ভয় পেলেন আর নিজেকে কষ্ট দিলেন ।

হয়তো অযথা অজায়গায় কিছুটা ক্ষতির সম্মুখিনও হয়ে থাকতে পারেন। এটা একেবারেই তথ্য না জানার জন্য , আত্মবিশ্বাস না থাকার কারণে হলো।

এখন, প্রাথমিক শিক্ষায় কোন ধরনের কষ্ট ছাড়াই বদলী হতে পারেন।

তাই, আপনি সরকার প্রবর্তীত সিস্টেমে বিশ্বাস রাখুন, আর প্রলোভন প্ররোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিন ।

আপনি স্মার্ট, তো বাংলাদেশ স্মার্ট।

উডব‌্যাজ  আবেদনকারী‌দের জন‌্য  প্রয়োজনীয়  পরামর্শস্কাউট  ও‌রি‌য়ে‌ন্টেশন প্রোগ্রা‌মে অংশগ্রহণ করার মাধ‌্যমে একজন মানুষ ...
10/09/2023

উডব‌্যাজ আবেদনকারী‌দের জন‌্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ

স্কাউট ও‌রি‌য়ে‌ন্টেশন প্রোগ্রা‌মে অংশগ্রহণ করার মাধ‌্যমে একজন মানুষ স্কাউট আন্দোল‌নের প‌থে যাত্রা শুরু ক‌রেন । কাব স্কাউট/ স্কাউট/ রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার বে‌সিক কোর্স করার মাধ‌্যমে একজন স্কাউটার বয়স্ক নেতা হি‌সে‌বে একটা ইউনি‌টে কাজ করার যোগ‌্যতা অর্জন ক‌রেন। একজন ইউনিট লিডারের স‌র্বোচ্চ পদমর্যাদা হ‌চ্ছে উডব‌্যাজ।

যারা কাব স্কাউট/স্কাউট/রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার অ‌্যাডভান্সড কোর্স সম্পন্ন করার পর একবছর ইউনি‌টে কাজ করে‌ছেন এবং ইতোম‌ধ্যে কাব স্কাউট/স্কাউট/রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার স্কিল কোর্স সম্পন্ন ক‌রে‌ছেন তারা আর দে‌রি না ক‌রে আজই উডব‌্যা‌জ পার্চমে‌ন্টের জন‌্য আবেদন কর‌তে পা‌রেন। আবেদ‌নের প্রয়োজনীয় ডকু‌মেন্ট সম্প‌র্কে সং‌ক্ষে‌পে আলোচনা করা হ‌লো।

যেভা‌বে উডব‌্যাজ আবেদন ফরম পুরণ কর‌তে হ‌বে

উডব‌্যাজ পার্চমে‌ন্টের জন‌্য বাংলা‌দেশ স্কাউটস নির্ধা‌রিত ফর‌মে আবেদন কর‌তে হয় । সা‌থে স্কাউট পোশাক প‌রি‌হিত অবস্থায় একক‌পি র‌ঙিন ছ‌বি ফর‌মের উপ‌রে ডানপা‌শে যুক্ত করতে হ‌বে ।

ফর‌মের উপ‌রে প্রথ‌মেই যে শাখার উডব‌্যাজ পার্চমেন্টের জন‌্য আবেদন কর‌তে চান ( কাব স্কাউট/ স্কাউট/ রোভার স্কাউট) সে শাখার উপর ঠিক চিহ্ন দি‌তে হবে ।

দশটা কলা‌মে তথ‌্য প্রদান ক‌রে ফরম পুরণ কর‌তে হয় । অনে‌কেই স‌ঠিকভাবে আবেদন ফরম পুরণ কর‌তে ব‌্যর্থ হওয়ায় উডব‌্যাজ পার্চমেন্ট পে‌তে অ‌নেক দে‌রি হয়ে যায়। নী‌চে পর্যায়ক্রমে তা আলোচনা করা হ‌লো।

১. স্কাউটা‌রের নাম বাংলায় এবং ইং‌রে‌জি ক‌্যা‌পিটাল লেটা‌রে লিখ‌তে হ‌বে ।
২. গ্রুপ বা ইউনি‌টের নাম লিখ‌তে হ‌বে । ক) কাব স্কাউট/ স্কাউট/ রোভার স্কাউট ইউনিটের ঠিকানা খ) স্কাউটা‌রের বর্তমান ঠিকানা গ) স্কাউটা‌রের স্থায়ী ঠিকানা লিখ‌তে হ‌বে।
৩. জন্ম তা‌রিখ
৪. শিক্ষাগত যোগ‌্যতা
৫. ইমেইল ঠিকানা (খুবই গুরুত্বপূর্ণ যার মাধ‌্যমে আপ‌নি আপনার উডব‌্যাজ পার্চমেন্ট মঞ্জু‌র হওয়ার চি‌ঠি পা‌বেন ) এবং মোবাইল ফোন নম্বর
৬. গ্রুপ/ইউনি‌টে স্কাউট পদমর্যাদা সেটা হ‌তে পা‌রে কাব স্কাউট/স্কাউট/রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার অথবা কাব স্কাউট/স্কাউট/রোভার স্কাউট সহকারী ইউনিট লিডার ‌যে কোন এক‌টি‌তে টিক চিহ্ন দি‌তে হ‌বে ।
৭. ইউনি‌টের রে‌জি‌স্ট্রেশন নম্বর এবং তা‌রিখ সহ চার্টার নম্বর। উপ‌জেলা স্কাউট / জেলা স্কাউটস থে‌কে প্রাপ্ত নম্বর হ‌চ্ছে রে‌জি‌স্ট্রেশন নম্বর এবং সং‌শ্লিষ্ট আঞ্চ‌লিক স্কাউটস থে‌কে প্রাপ্ত নম্বর হ‌চ্ছে চার্টার নম্বর।
৮. শাপলাকাব / পিএস/পিআরএস অ‌্যাওয়ার্ড অর্জনে সহ‌যো‌গিতা ক‌রে থাক‌লে ফাঁকা ব‌ক্সে হ‌্যাঁ লিখ‌তে হ‌বে । উডব‌্যাজ আবেদ‌নের অন‌্যতম শর্ত হচ্ছে ইতোম‌ধ্যে দুইজন কাব স্কাউট/ স্কাউট/ রোভার স্কাউট‌কে স‌র্বোচ্চ অ‌্যাওয়ার্ড অর্জনে সহায়তা কর‌তে হ‌বে।
৯. বে‌সিক কোর্স সম্পন্ন করার পর থে‌কে উপ‌জেলা/ জেলা স্কাউটসে এ‌্যাসাইন‌মেন্ট দা‌খি‌লের পূর্ব পর্যন্ত আপনার প‌রিচা‌লিত স্কাউট ইউনি‌টে স্কাউট‌দের নি‌য়ে বা ব‌্যক্তিগতভা‌বে কোন বহিকার্যক্রমে অংশ গ্রহণ ক‌রে‌ছেন কি ? ক‌রে থাক‌লে সেখা‌নে হ‌্যাঁ লিখ‌তে হ‌বে । এসাইন‌মে‌ন্টে সেসব ডকু‌মেস্ট সং‌যোজন কর‌তে হ‌বে।
১০. পা‌র্সোনাল সা‌পোর্ট ট্রেনার নি‌য়ে‌ছেন কি ? হ‌্যাঁ লি‌খতে হ‌বে এবং সা‌পোর্ট ট্রেনা‌রের ( সহকারী লিডার ট্রেনার/ লিডার ট্রেনার হ‌লে ভাল হয়। উডব‌্যাজার হ‌লেও চল‌বে) প্রত‌্যয়ন সং‌যুক্ত কর‌তে হ‌বে ।

যেসকল ডকু‌মেন্ট আবেদন ফর‌মের সা‌থে সংযুক্ত কর‌তে হ‌বে ।

আবেদন ফরম পুরণ করার পর নী‌চের কাগজগু‌লো আবেদন ফর‌মের সা‌থে সংযুক্ত কর‌তে হ‌বে।

১. স্কাউটার ডা‌য়ে‌রী এবং এ‌্যাসাইন‌মেন্ট দা‌খি‌লের প্রত‌্যয়নপত্র আবেদন ফর‌মের সা‌থে সংযুক্ত কর‌তে হ‌বে । প্রত‌্যয়ন পত্র আঞ্চ‌লিক স্কাউটস থে‌কে প্রদান করা হয়। আবেদন ফর‌মের সা‌থেও অ‌নে‌কে এ‌্যাসাইন‌মেন্ট পা‌ঠি‌য়ে দি‌লে সেটা আঞ্চ‌লিক স্কাউট গ্রহণ ক‌রে আবেদন ফর‌মের সা‌থে এ‌্যাসাইন‌মেন্ট প্রা‌প্তির প্রত‌্যয়ন পত্র সংযুক্ত করে দি‌য়ে থা‌কেন । নিয়ম হ‌চ্ছে, উডব‌্যাজ আবেদ‌নের আগেই এ‌্যাসাইন‌মেন্ট উপ‌জেলা স্কাউটস থে‌কে জেলা স্কাউটস হ‌য়ে আঞ্চ‌লিক স্কাউটস এ জমা প্রদান ক‌রে প্রত‌্যয়ন পত্র সংগ্রহ কর‌তে হয়।

২. উডব‌্যা‌জের আবেদন ফরম উপ‌জেলা স্কাউটস এ দা‌খিল কর‌লে যাচাই বাছাই ক‌রে জেলা স্কাউটস এ প্রেরণ করা হয় । জেলা স্কাউটস যাচাই বাছাই ক‌রে আঞ্চ‌লিক স্কাউটসে প্রেরণ কর‌লে আঞ্চ‌লিক উপ ক‌মিশনার (প্রশিক্ষণ) এর অনু‌মোদনক্রমে উপ‌জেলা/জেলা কাব স্কাউট/ স্কাউট/ ‌রোভার স্কাউট লিডার, ট্রেনিং টি‌মের সদস‌্য ( এএল‌টি/ এল‌টি) অথবা প্রফেশনাল স্কাউট এক্সি‌কিউটিভ সং‌শ্লিষ্ট ইউনিট প‌রিদর্শন ক‌রে আঞ্চ‌লিক স্কাউটস এ প‌রিদর্শন প্রতি‌বেদন জমা প্রদান কর‌লে সেটা বাংলা‌দেশ স্কাউটস এর প্রশিক্ষণ বিভা‌গে আবেদন ফর‌মের সা‌থে প্রেরণ করা হয়। ত‌বে, আবেদনকারী প‌রিদর্শনকারীর স্বাক্ষ‌রিত নির্ধা‌রিত ফর‌মে একক‌পি প‌রিদর্শন প্রতি‌বেদন আবেদন ফর‌মের সা‌থে সংযুক্ত ক‌রে দি‌বেন ।
৩. SSC পরীক্ষার সনদসহ সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ‌্যতার সনদপ‌ত্রের ফ‌টোক‌পি
৪. BS ID র ফ‌টো ক‌পি
৫. NID র ফ‌টো ক‌পি
৬. বে‌সিক, অ‌্যাভান্সড এবং স্কিল কো‌র্সের সা‌র্টিফি‌কে‌টের ফ‌টোক‌পি ।
৭. ইউনি‌টের স্কাউট ফি প‌রি‌শো‌ধের র‌শি‌দের ফ‌টোক‌পি ।
৮.নির্ধা‌রিত ফর‌মে ইউনি‌টের বা‌র্ষিক প‌রিসংখ‌্যান তথ‌্য প্রদান কর‌তে হ‌বে ।
৯. পা‌র্সোনাল সা‌পোর্ট ট্রেনা‌রে নাম, পদবী ( স্কাউট পদবী) ও মোবাইল নম্বর উল্লেখপূর্বক প্রত‌্যয়ন পত্র ।
১০. অগ্রদূত গ্রাহক ফি প‌রি‌শো‌ধের র‌শি‌দের ফ‌টোক‌পি ।
১১. দুইজন শাপলা/ পিএস/পিআরএস অ‌্যাওয়ার্ড প্রার্থীর আবেদ‌নের ফ‌টোক‌পি।

কোন তথ‌্য বা ডকু‌মেন্ট না দি‌লে সে‌ক্ষে‌ত্রে উডব‌্যাজ পার্চমেন্ট মঞ্জুর হ‌তে অ‌নেক সময় লে‌গে যে‌তে পা‌রে।

উক্ত কাগজগু‌লো সংযুক্ত ক‌রে উপ‌জেলা স্কাউটস এর ম‌াধ‌্যমে জেলা স্কাউটস হ‌য়ে আঞ্চ‌লিক স্কাউটস এ প্রেরণ করা হ‌লে যাচাই বাছাই ক‌রে তা বাংলা‌দেশ স্কাউটস এর প্রশিক্ষণ বিভা‌গে প্রেরণ করা হ‌য়। সেখানে জাতীয় উপ ক‌মিশনার (প্রশিক্ষণ) আবেদন ফরম‌টি যাচাই বাছাই ক‌রে জাতীয় ক‌মিশনার ( প্রশিক্ষণ) বরাবর উপস্থাপন করা হ‌লে তাঁর স্বাক্ষ‌রের পর প্রধান জাতীয় ক‌মিশনার আবেদন ফর‌মে স্বাক্ষর ক‌রে অনু‌মোদন দি‌লেই কেবল একজন স্কাউটারের জন‌্য উডব‌্যাজ পার্চমেন্ট মঞ্জুর ক‌রে সা‌র্টিফি‌কেট বিট ও স্কার্ফ প্রেরণ করা হয় ।

প‌রের লেখায় এ‌্যাসাইন‌মেন্ট নি‌য়ে আলোচনা করা হ‌বে ।
______________________
স্কাউটার মোহাম্মদ জা‌হির মিয়া তালুকদার ( উডব‌্যাজার , কাব ও স্কাউট শাখা)
ইন্সট্রাক্টর
উপ‌জেলা রি‌সোর্স সেন্টার
হ‌বিগঞ্জ সদর , হ‌বিগঞ্জ।
তা‌রিখ: ১০/০৯/২০২৩ খ্রিঃ

আজ‌কের প্রাস‌ঙ্গিকতায় বেগম রো‌কেয়া মোহাম্মদ জা‌হির মিয়া তালুকদার ______________________________ডি‌সেম্বর মাস বাঙা‌লি জ...
09/12/2022

আজ‌কের প্রাস‌ঙ্গিকতায় বেগম রো‌কেয়া

মোহাম্মদ জা‌হির মিয়া তালুকদার

______________________________

ডি‌সেম্বর মাস বাঙা‌লি জা‌তির জন‌্য বিশাল গৌর‌বের মাস, আত্মমর্যাদায় মাথা উঁচু ক‌রে দাঁড়া‌নোর মাস, স্বাধীন চিন্তা চেতনায় জাগ্রত হওয়ার মাস , নি‌জের অ‌স্থিত্ব‌কে জানান দেয়ার মাস । কারণ, এ মা‌সে বাঙা‌লি জা‌তি নি‌জেকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থে‌কে মুক্ত ক‌রে বি‌শ্বের আকা‌শে বিজয় পতাকা উ‌ড়ি‌য়ে বি‌শ্বসভায় নি‌জের সম্মান‌কে প্রতি‌ষ্ঠিত ক‌রে‌ছিল ।

ডি‌সেম্বর মাস আ‌রো এক‌টি কার‌ণে বিশাল গুরুত্ব বহন ক‌রে । আর তা হ‌লো ম‌হিয়সী নারী , নারী জাগর‌ণের অগ্রদূত বেগম রো‌কেয়ার জন্ম ও মৃত‌্যু হ‌য়ে‌ছিল ডি‌সেম্বর মা‌সের ৯ তা‌রি‌খে।

মানুষ সৃ‌ষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, তার অ‌র্ধেক অংশ নারী । নারী‌কে অন্ধকা‌রে রে‌খে সমাজ দেশ তথা রাষ্ট্র চল‌ছিল একটা নিস্তরঙ্গ নিয়‌মে। এম‌নি প‌রি‌বে‌শে বৃ‌টিশ শাস‌নের শেষ দি‌কে ১৮৮০ সা‌লে এক বাঙা‌লি সম্ভ্রান্ত রক্ষণশীল মুস‌লিম জ‌মিদার প‌রিবা‌রে বেগম রো‌কেয়া জন্ম গ্রহণ ক‌রেন ।

সে সময় নারী‌শিক্ষার দার আজ‌কের মত খোলা ছিল না । শিক্ষার চে‌য়ে পর্দা বা গৃহাবদ্ধ বা অব‌রোধবা‌সিনী থাকাটাই নারীর জন‌্য সব‌চে‌য়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যা সামা‌জিক প‌রিমন্ড‌লে এর অনুশীলন অব‌্যাহত ছিল অ‌নেকটা বিনা বাক‌্য ব‌্যয়ে মে‌নে নেয়ার মত।

সামা‌জিক এই বুহ‌্য অ‌তিক্রম ক‌রে প্রা‌তিষ্ঠা‌নিক শিক্ষার আওতায় আসার জন‌্য সামা‌জের রক্তচক্ষু উ‌পেক্ষা করার মত সাহস , সামর্থ সাধারণ মানু‌ষের তো ছিলই না এমন কি এ‌লিট শ্রেণীরও কোন ধর‌নের ম‌নের জোর বা নারীকে এ‌গি‌য়ে নি‌য়ে যাওয়ার মত মুক্ত চিন্তা ছিলনা । বি‌শেষ ক‌রে মুস‌লিম প‌রিবা‌রের নারীর প্রতি স‌চেতনতা তো ছিল ভয়ংকর রক‌মের রক্ষণশীল । লেখা পড়া শিখ‌লেই নারী বাধ‌্যতার শৃঙ্খল ভে‌ঙ্গে এ‌গি‌য়ে যা‌বে সেরকম ভয় সকল শ্রেণী পেশার মানু‌ষের ম‌নে বদ্ধমূল ছিল যা থে‌কে বেগম রো‌কেয়ার প‌রিবারও মুক্ত ছিল না ।

অ‌নেকটা নি‌জের চেষ্টায় এবং তার বড় ভাই‌য়ের সহ‌যো‌গিতায় বেগম রো‌কেয়া বা‌ড়ি‌তেই পড়া‌লেখায় হা‌তেখ‌ড়ি শুরু। বিবা‌হিত জীব‌নে যা অপার স্বাধীনতা এ‌নে‌ দেয় স্বামী সাখাওয়াত হো‌সেন এর সাহচার্য ও উৎসাহ উদ্দীপনায়।

বেগম রো‌কেয়া নারী সমা‌জের জন‌্য সবসময় প্রস‌ঙ্গিক ব‌লে ম‌নে ক‌রি । বেগম রো‌কেয়ার গড়া প‌থেই আমা‌দের নারী সমাজ আজ ভীষণভা‌বে এ‌গি‌য়ে যা‌চ্ছে । শিক্ষা শুধু জ্ঞানার্জনের একটা উপলক্ষ‌্যই নয়, এটা সকল ধর‌নের‌ বাঁধা বিপ‌ত্তি অন্ধকার দূর করার একটা হা‌তিয়ারও ব‌টে ।

উপমহা‌দে‌শের নারী শিক্ষার অর্গল খো‌লে দেয়া হয় সাখাওয়াত মেম‌রিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ‌্যমে । সেই পাঁচ জন নারী থে‌কে আটজন এবং ক`বছর পর সেটা আ‌শি‌তে রূপান্ত‌রিত হ‌য়ে‌ছিল । আজ উপমহা‌দে‌শে সে নারী শিক্ষা সংখ‌্যার গণনায় হাজার লক্ষ পে‌ড়ি‌য়ে কো‌টি‌তে পৌঁ‌ছে গে‌ছে । মাত্র প্রায় এক`শ বছর আ‌গে যে আদ‌র্শের বীজটা রূপন করে গি‌য়ে‌ছি‌লেন বেগম রো‌কেয়া আজ সেটা বিশাল ম‌হীরো‌হের আকার ধারণ ক‌রে‌ছে ।

চোখ খো‌লে তাকা‌লেই নারী শিক্ষার প্রসার দেখ‌তে পাওয়া যায় । আজ আমা‌দের দে‌শের প্রাথ‌মিক বিদ‌্যাল‌য়ের শতকরা ষাটভাগেরও উপ‌রে নারীরা কর্মরত আ‌ছেন যা এক সময় স্বপ্ন ছিল । নারী চাকুরী করাটা আজ আর আ‌গের ম‌তো অ‌লীক স্বপ্ন নয়, এখন সেটা সমান অধিকা‌রের ম‌ধে‌্যই এ‌সে দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছে ।

এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠা‌নের প্রধান নারী, আ‌র্থিক প্রতিষ্ঠা‌নের প্রধান নারী, ব‌্যবসা প‌রিচালনায় নারী, জনপ্রতিনি‌ধি ‌ হি‌সে‌বে দা‌য়িত্ব পালন কর‌ছেন নারী । প্রতিরক্ষায় নারী, পু‌লিশ প্রশাস‌নে নারী , সি‌ভিল প্রশাস‌নে নারী , বিচার ব‌্যবস্থায় নারী, আইনী লড়াই‌য়ে দাঁ‌ড়ি‌য়ে যান নারী । দেশ প‌রিচালনায় নারী, দে‌শের প্রধান মন্ত্রী নারী, দে‌শে‌র বি‌রোধী দ‌লের নেতা নারী , জাতীয় সংস‌দের স্পীকার নারী , মন্ত্রণাল‌য়ের দা‌য়ি‌ত্বে তাও একজন নারী ।

আজ‌কের দি‌নে এসে নারী‌দের এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অ‌ধি‌ষ্ঠিত হওয়ার মূল উৎস হ‌চ্ছে বেগম রো‌কেয়ার -শিক্ষা আ‌ন্দোলন, সমাজ সংস্কার আ‌ন্দোলন, নারী পুরুষ সমতার আ‌ন্দোলন, নারীর চার দেয়া‌লের বাই‌রে পা রাখার আ‌ন্দোলন । তি‌নি নারী শিক্ষার ক্ষেত্রটা প্রসা‌রিত করার চেষ্টা ক‌রেছি‌লেন ব‌লেই আজ‌কে আমরা এটা‌কে মস্তবড় ভি‌তের উপর দাঁ‌ড় ক‌রিয়ে নারী‌দের হা‌তে সমা‌জের অগ্রযাত্রার পতাকা তু‌লে দি‌তে পারছি ।

বেগম রো‌কেয়ার চিন্তায় ছিল- নারীকে সমান দা‌য়িত্ব পালন কর‌তে হ‌লে তা‌কে ক্ষমতায়‌নের দি‌কে নি‌য়ে যে‌তে হ‌বে, আর সেটা হ‌বে সু‌শিক্ষায় শি‌ক্ষি‌ত করার মাধ‌্যমে। পর্দা প্রথা‌কে তি‌নি ম‌নে প্রা‌ণে না মান‌তে পার‌লেও কাজ করার স্বার্থে তা‌কে তখন সমা‌জের সা‌থে আ‌পোস ক‌রে কাজ কর‌তে হ‌য়ে‌ছিল ।

য‌দি তখনই পু‌রোটা অমান‌্য ক‌রে এ‌গি‌য়ে যে‌তেন তাহ‌লে নারী উন্নয়‌নের অগ্রযাত্রা থম‌কে দাঁ‌ড়ি‌য়ে যেত । বু‌দ্ধিমত্তার সা‌থে তি‌নি বর্তমান‌কে উ‌পেক্ষা না‌ ক‌রে সেটা মে‌নেই ভ‌বিষ‌্যতে সকল অ‌নিয়ম অব‌রোদ্ধ প‌রি‌বেশ‌কে রাহুমুক্ত করার ল‌ক্ষ্যে কাজ ক‌রে গে‌ছেন । সমা‌জের নারী সমাজ‌কে সংগ‌ঠিত ক‌রে জা‌গি‌য়ে তোলার চেষ্টা ক‌রে গে‌ছেন । যার জন‌্য আ‌জকের নারীরা শিক্ষা-দীক্ষা, সা‌ম্যে-সভ‌্যতায়, চিন্তা-‌চেতনায় পরিবার , সমাজ, দেশ ও জা‌তি‌কে ছা‌ড়ি‌য়ে বিশ্বময় ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে‌ছে । নারীর এ ঈর্ষণীয় অগ্রযাত্রার মূল চা‌লিকাশ‌ক্তি হ‌চ্ছেন বেগম রো‌কেয়া ।

আমারা স্বাধীন জা‌তি হি‌সে‌বে আজ প্রায় পঞ্চাশ বছ‌রেরও বেশী সময় ধ‌রে বি‌শ্বের বু‌কে মাথা উঁচু ক‌রে দাঁ‌ড়ি‌য়ে আ‌ছি । কিন্তু বেগম রো‌কেয়ার নী‌তি , আদর্শ, আ‌ন্দোলন , সমাজসংস্কার এখ‌নো শতভাগ বিস্তার কর‌তে পা‌রি‌নি । আজো খব‌রের কাগ‌জে, টে‌লি‌ভিশ‌নে, সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ‌্যমে অ‌নেক নারীর রুদ্ধতার কা‌হিনী পড়‌তে হয় , দেখ‌তে হয়, শুন‌তে হয় । একুশ শত‌কে এ‌সেও নারী‌কে ‌নিপিড়‌নের শিকার হ‌তে হয়, দা‌বি‌য়ে রাখার পায়তারা করা হয়, শারী‌রিকভা‌বে মান‌সিকভা‌বে অত‌্যাচা‌রিত হ‌তে হয়। শি‌ক্ষি‌ত নারী‌দের বিচর‌ণের ক্ষেত্রটা আজও আমরা প্রস্তুত কর‌তে পা‌রি‌নি সমসাম‌য়িক চেতনার আদ‌লে ।

আ‌জো ম‌নে হয় প্রতি‌টি ঘ‌রে ঘ‌রে বেগম রো‌কেয়ার কণ্ঠ এবং কলম প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন । রাষ্ট্রীয় প‌রিমন্ড‌লে নারী‌কে আ‌রো বেশী সম্মা‌নিত পর্যা‌য়ে দেখ‌তে হ‌লে সমাজ‌কে সেভা‌বে প্রস্তুত কর‌তে হ‌বে, স‌চেতন করে গ‌ড়ে তোল‌তে হ‌বে নারী‌দের‌কে । সেই সা‌থে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব‌্যবস্থায় নারীর সমঅ‌ধিকার প্রতিষ্ঠায় পুরুষ‌কে এ‌গি‌য়ে আস‌তে হ‌বে সমান তা‌লে । তাহ‌লেই অব‌রোধবা‌সিনী‌কে স্ব‌প্নের সুন্দর সমাজ উপহার দেয় সম্ভব হ‌বে।
আজ‌কের দি‌নে রো‌কেয়া দিবস কে এক‌টি দি‌ন বা তা‌রি‌খের ম‌ধ্যে আবদ্ধ না রে‌খে সমা‌জে, রা‌ষ্ট্রে, কর্মক্ষে‌ত্রে , প‌রিবা‌রে নারী‌কে তার ন‌্যায‌্য অ‌ধিকার দি‌তে পার‌লেই আজ‌কের রো‌কেয়া দিবস পূর্ণতা পা‌বে ব‌লে ম‌নে ক‌রি ।

নারী উন্নয়‌নে বেগম রো‌কেয়া যে সবসময়ই প্রস‌ঙ্গিক সেটা অস্বীকার করার কোন উপায় নাই । এই ম‌হিয়সী নারীর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জা‌নি‌য়ে আজ‌কে আ‌লোচনার এখা‌নেই ই‌তি টান‌ছি ।
______________________________
লেখক:
ইন্সট্রাক্টর
উপ‌জেলা রি‌সোর্স সেন্টার
হ‌বিগঞ্জ সদর, হ‌বিগঞ্জ ।
তা‌রিখ: ০৯/১২/২০২২ খ্রিঃ
https://www.koranginews24.com/news/57280

Address

Boalia Bazar, Derai
Sunamganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Durbar Juba Parishad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Durbar Juba Parishad:

Share