03/03/2026
একটি জীর্ণ টিনের ঘরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন দিনমজুর রফিক ফরাজী। অভাবের সংসারে তাঁর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম বড় মেয়ে রাফিয়া—যে থ্যালাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত। নুন আনতেই যেখানে পান্তা ফুরায়, সেখানে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রাম।
১৩ বছর বয়সী রাফিয়া একটি মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। কিন্তু তার জীবনসংগ্রাম শুরু হয়েছিল জন্মের দুই বছর পর থেকেই, যখন ধরা পড়ে সে থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্ত। সেই সময় থেকেই পরিবারটিকে অন্ধকার ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।
রাফিয়ার বাবা রফিক একসময় অটোরিকশা চালাতেন। মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে রক্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধে খরচ হতো প্রায় ১০–১২ হাজার টাকা। সেই খরচ বহন করতে না পেরে একসময় তিনি অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেন। বর্তমানে তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ করে দৈনিক ৪০০–৫০০ টাকা আয় করেন।
এই সামান্য আয়ে সংসারের খরচ, মেয়ের পড়াশোনা ও চিকিৎসা—সব মিলিয়ে রফিককে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। রাফিয়াকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতেও অনেক সময় ধার করতে হয় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে। তবুও কোনো কোনো মাসে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। আর সেটাই সবচেয়ে ভয়ংকর সময়, কারণ নিয়মিত রক্ত না পেলে রাফিয়ার শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।
রাফিয়ার মা নিজের কোনো শখ-আহ্লাদ রাখেননি। সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে যতটুকু টাকা থাকে, সেটুকু জমিয়ে রাখেন শুধু মেয়ের মাসিক রক্তের খরচ জোগাড় করার জন্য।
রাফিয়ার নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তার দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন আপনিও।
এই রমজানে নূর-আভীয়া ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ডে আপনার মূল্যবান যাকাত দান করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।
আপনার সামান্য সহায়তাই পারে একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে।
শেয়ার করুন, পাশে থাকুন, মানবিক হোন।