08/05/2026
জীবন থেকে কিছু হারিয়ে গেলে তা আবারো ফিরে আসে; দ্বিগুণভাবে, ভিন্ন অঙ্গে আর ভিন্ন রূপে।
পাগলটা জীবনে আসার আগে আমি মোটামুটি পুরো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম বেশ কয়েক বছর। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত পরিমণ্ডল—সবকিছু থেকে অনেক দূরে একদম একা হয়ে গিয়েছিলাম। রাস্তা দিয়ে হাঁটলেও মাথা নিচু করে হাঁটতাম; পরিচিত কাউকে দূর থেকে দেখলে অন্য পথে চলে যেতাম যেন আমায় দেখতে না পায়।
রঙহীন, বিবর্ণ, ধূসর কঠিন পথে একাকী হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করেই একদিন দেখা হয়ে গেল আরেক একাকী পথিকের সাথে—এক পাগলের সাথে। আমার নিঃসঙ্গ পথের সাথী হলো অন্য এক নিঃসঙ্গ পথিক।
পাগলটাকে নিয়ে শুরু হলো আমার নতুন এক পথচলা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একটা পাগলকে নিয়ে ভীষণ কঠিন এক পথ পাড়ি দিলাম। এমন এক পাগল আমার সাথী হলো, যে কি না কথাই বলে না! হাঁটতে-চলতে বা ফিরতে ছোট্ট শিশুদের মতো যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করে দেয়। তার ওপর ক্ষণে ক্ষণে পাগলটা হারিয়ে যায়, আর আমি তাকে পাগলের মতোই হন্যে হয়ে খুঁজে আনি। পথটা যে কতটা কঠিন এবং রহস্যময় ছিল, তা বর্ণনাতীত।
একটা সময় এসে উপলব্ধি করলাম, আমার রঙহীন ধূসর জীবন বর্ণিল হয়ে গিয়েছে। প্রেমময় হয়ে উঠেছে আমার চারপাশ। এখন যেখানেই যাই, সেখানকার মানুষ আমাদের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে; আমাদের ভালোবাসছে, সম্মান করছে। আমরা বর্তমানে বটতলার যে এলাকায় থাকি, তার আশেপাশের দশ গ্রামের ছোট্ট শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ—নারী-পুরুষ সবাই আমাদের অত্যন্ত ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। মজার বিষয় হলো, যে পাগলটাকে একটা সময় মানুষ মূল্যই দিত না, কেউ কেউ আবার ঘৃণাও করত, সেই পাগলটাকেই এই এলাকার অনেকে এখন ‘গুরু’ বলে সম্বোধন করে।
আমি আরও একটা বিষয় উপলব্ধি করেছি—শুধু মানুষ নয়; পশুপাখি, গাছপালা, নদী-নালা, চাঁদ-সূর্য আর আকাশ-বাতাস, সবকিছুই যেন আমাকে ভালোবেসে আপন করে নিয়েছে।
জীবন থেকে কিছু হারিয়ে গেলে তা আবারো ফিরে আসে; দ্বিগুণভাবে, ভিন্ন অঙ্গে আর ভিন্ন রূপে।