08/05/2023
Al - Hidayah Foundation ইসলামিক দাওয়া কার্যক্রম এর পাশাপাশি যেহেতু একটি সামাজিক জনকল্যান মূলক প্রতিষ্ঠান, সেহেতু এই Foundation এর সদস্যগণ ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষদের মুখে হাসি ফুটানোর কাজেও নিয়োজিত থাকবে ইংশাআল্লাহ।
শেষ জামানার সম্পর্কের একটি হাদীস রয়েছে _হাদীস টি নিম্নরূপ
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
"তোমরা সৎকর্মে অগ্রগামী হও। অচিরেই অন্ধকার রাতের খণ্ডসমূহের মতো ফিতনা-ফাসাদ দেখা দেবে। তখন লোকে সকালবেলা মুমিন থাকবে, সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে। সন্ধ্যাবেলা মুমিন থাকবে, ভোরবেলা কাফের হয়ে যাবে। সে তার দীন বিক্রি করবে দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে"।
রেফারেন্স:-সহীহ মুসলিম ১১৮, জামে তিরমিযী ২১৯৫
আর নিঃসন্দেহে এই যুগটি শেষ জামানার অন্তর্ভুক্ত যা শেষ জামানার বিভিন্ন আলামত ও ফেতনা সম্পর্কে পড়লে ভালোভাবেই উপলব্ধি করা যায়।
এই হাদীস কে সামনে রেখে Al - Hidayah Foundation এর সদস্যগণ সৎকর্মের প্রতি অগ্রগামী হওয়ার ব্যপারে সতেষ্ট ও আগ্রহী থাকবে বলে বিশ্বাস করি।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সৎকর্ম তথা নেক কাজের মাধ্যমে জান্নাত পাওয়ার প্রতি মুমিনদের প্রতিযোগিতাকে পছন্দ করেন এবং তাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
আল্লাহ তা'আলা নেককারদের জান্নাতে সীলমোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করাবেন, জান্নাতের এই নেয়ামত টি পাওয়ার জন্য নেককার মুমিনদের প্রতিযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ করে বলেন
"তার মোহর হবে মিসক। আর প্রতিযোগিতাকারীদের উচিত এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা"। (আল মুতাফফিফীন আয়াত: ২৬)
আল্লাহু আকবর।
একটি হাদীসের অংশ বিশেষ থেকে পাই..
হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা ‘উমর ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে ফিতনা সম্পর্কিত হাদীস মনে রেখেছ? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে বলেছেন, আমি ঠিক সেভাবেই তা স্মরণ রেখেছি। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তুমি [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে] বড় দুঃসাহসী ছিলে, তিনি কিভাবে বলেছেন (বলতো)? তিনি বলেন, আমি বললাম, (হাদীসটি হলোঃ) মানুষ পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশী নিয়ে ফিতনায় পতিত হবে আর সালাত, সদকা ও নেক কাজ সেই ফিতনা মুছে দিবে। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৪৩৫]
সুবহানাল্লোহি ওয়াবিহামদিহি। এই হাদিসে থেকে এটা স্পষ্ট যে আল্লাহ তার বান্দার সালাত, সদকা ও নেক কাজ এর মাধ্যমে শেষ জামানার ভয়াবহ ফেতনা থেকে হেফাজত করবেন, বিইজনিল্লাহ্।
এরই পরিপেক্ষিতে Al - Hidayah Foundation ইসলামিক দাওয়াহ কাজের পদ্ধতি ও সামাজিক জনকল্যাণ কাজের কিছু ক্ষেত্র নির্বাচন করেছে আলহামদুলিল্লাহ যা গঠনমূলক, দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত ভাবে ও বিজ্ঞ আলেম-ওলামাদের পরামর্শের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে ইংশাআল্লাহ।
➤ দাওয়াহ কাজের পদ্ধতি;
• বিজ্ঞ আলেম/ব্যক্তি দ্বারা কোরআন তিলোওয়াত শুদ্ধকরণ প্রোগ্রাম।
• কোরআন শরিফ এর নির্দিষ্ট কিছু সূরা মুখস্তকরণ প্রতিযোগিতা।
• বিভিন্ন ইসলামিক বই এর সহজলভ্যতা বাড়ানোর জন্য ফাউন্ডেশন কর্তৃক লাইব্রেরী গঠন।
• ইসলামিক বই পড়ার প্রচলন বৃদ্ধি করা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যেমন:- সিরাহ ও ইসলামিক ইতিহাস সংক্রান্ত কুইজ প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র এবং ইসলামিক বই হাদিয়া দেয়া ইত্যাদি।
• আহ্লুল হক আলেম-ওলামা অথবা বিজ্ঞ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণের মাধ্যমে হালাকা বা ইসলাহি মাজলিসের আয়োজন করা (অনলাইন অথবা অফলাইন)।
• সময় করে মাসে অন্তত দুই থেকে তিন দিন নির্ধারিত স্থান নির্বাচন করে দাওয়াতিচক্র বের করার চেষ্টা করা(২ থেকে ৩ জনের একটি দাওয়াতি টিম) যার প্রধানতম কাজ হল "আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার" অর্থাৎ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা, এবং আল্লাহ তাদেরকে সফলকাম বলেছেন (সূরা আলে-ইমরান; আয়াত নং ১০৪ ও ১১০ এ দেখুন)।
• মাসে একবার হলেও ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যরা মোনাসিব কোনো দিনে একত্রিত হওয়া, যাতে সবাই সবার সাথে কানেক্টেড থাকতে পারেন এবং লক্ষ্য রাখা আমাদের কেউ কি ফেতনার এই সাগরে হারিয়ে যাচ্ছে কি না।
• তাজকিয়াহ আল-নফস বা আত্মশুদ্ধি মূলক কিছু চ্যালেঞ্জ বা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা যেমন:- সদস্যদের মাঝে ২০ বা ৩০ দিনের আমলিয়াত বৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ থ্রু করা তা হতে পারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তাকবীরে উলার সাথে আদায় করা, দৈনন্দিন ৫০০ বা ১০০০ বার দরুদ ও ইস্তেগফার পাঠ করা, দৈনন্দিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পৃষ্ঠা কোরআন তেলাওয়াত করা, অর্থসহ পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত করা, নির্দিষ্ট দিনের ভিতরে কোরআন খতম করা, নির্দিষ্ট দিনের ভিতরে প্রত্যেকদিন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করা, আত্মশুদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন বই দৈনন্দিন পাঠ করা, দৈনন্দিন বাবা মায়ের খেদমত করা ইত্যাদি এ সংক্রান্ত প্রত্যেকটি আমল চেকলিস্ট আকারে দেওয়া হবে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক পূরণকারীকে হাদিয়া দিয়ে এ কাজে উৎসাহ প্রদান করা।
• আরো বিভিন্ন দাওয়াহ কাজ সম্পাদন করা যা অবস্থান অনুযায়ী পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন হতে পারে।
➤ সামাজিক জনকল্যাণ কাজের ক্ষেত্র;
• কষ্টে দিন অতিবাহিত করা আল্লাহর বান্দাদের প্রয়োজন মাফিক সহায়তা করা।
• স্বাবলম্বী প্রজেক্ট
• ঈদ ভিত্তিক প্রজেক্ট
• রমাদান প্রজেক্ট
• শীতকালীন সহায়তা প্রজেক্ট
• অসুস্থ, ইয়াতিম ও সাহায্যকামি ব্যক্তির প্রতি সাপোর্ট
• সাধারণদের মাঝে দ্বীনি ইলম শিক্ষার প্রসারের জন্য ফ্রী ইলম কোর্স প্রজেক্ট
• কর্যে হাসানা প্রদান ( শর্ত সাপেক্ষে) ইত্যাদি।
আমরা গুনাহগার এবং নেক আমলিয়াত অতি নগণ্য আর এ ব্যাপার আল্লাহর পাকড়াও কে ভয় করি, তার সৃষ্টি জাহান্নামের আজাব ব্যাপারে আতঙ্কিত হই, আমরা বড় অসহায় কিন্তু তারই সৃষ্টি জান্নাতে যাওয়ার ব্যাপারে আশা রাখি, কারণ তিনি তো আর-রহিম (পরম দয়ালু) আর-রহমান(অতিশয় মেহেরবান), আল-গফ্ফার(পরম ক্ষমাশীল), আল-মিহাইমিন(অভিভাবক) এবং আমরা তার সৃষ্ট বান্দা তাই তিনার প্রতি আমরা এ ইয়াকিন রাখি তিনি আমাদের দ্বীনের এই সামান্য নেক কাজ কে কবুল করবেন এবং তা জান্নাতের যাওয়ার উসিলা বানাবেন, বিইজনিল্লাহ্ (আমিন)।