07/09/2026
প্রতিবাদলিপি: প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে
বৃহত্তর রংপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)-এর প্রধান উপদেষ্টা ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম স্যারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় প্রকাশিত "কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনিয়মের বেড়াজালে বন্দি..." শীর্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একপাক্ষিক প্রতিবেদনের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও চরম মানহানিকর।
শেকৃবির যেসব সম্মানিত শিক্ষক আজ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে শিক্ষা ও গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা আমাদের গর্ব। বস্তুত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের উপাচার্য কোনো শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে পারেননি। বর্তমান উপাচার্য মহোদয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নিয়োগ প্রাপ্তির মাত্র দুই মাসের মধ্যেই প্রথম একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার ঐতিহাসিক সাফল্য দেখান। তাঁর দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তাল মিলিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তিনটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়কে সততা, মেধা ও নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে নেওয়ার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দাপ্তরিক প্রতিবাদলিপি পত্রিকা বরাবর প্রেরণ করেছে, যা থেকে মূল বাস্তব চিত্র সুস্পষ্ট:
• স্বল্প সময়ে একাডেমিক অচলাবস্থা নিরসন:
প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ প্রায় চার বছর বন্ধ থাকা একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় ক্লাস শুরু করে বর্তমানে তিনটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা উপাচার্য মহোদয়ের অসাধারণ কর্মদক্ষতারই বহিঃপ্রকাশ।
• উত্তরাঞ্চলের পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ লাঘব:
পূর্বে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য পুরো উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি ও বিপুল অর্থ ব্যয় করে ঢাকা অথবা ময়মনসিংহে আসতে হতো। বর্তমান উপাচার্য মহোদয়ের দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এখন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীনে কুড়িগ্রাম ও রংপুরের উপকেন্দ্রগুলোতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।
• স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত ও অপপ্রচার:
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কিছু অযোগ্য প্রার্থী উপাচার্যের কাছে উচ্চতর লেভেল থেকে অনৈতিক লবিং ও তদবির করেও কোনো অবৈধ সুবিধা করতে না পেরে ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে। এর সাথে একটি সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্বেষী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার মতো দিবাস্বপ্ন দেখছে; তবে সত্যের সামনে তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না, ইনশাআল্লাহ।
• নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা:
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি; কেবল প্রাতিষ্ঠানিক জরুরত মেটাতে বিধি মেনেই সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে ৫১টি পদে স্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। স্বজনপ্রীতি বা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পুরোটাই মনগড়া।
• সরকারি বিধি মোতাবেক টেন্ডার প্রক্রিয়া:
সকল টেন্ডার সরকারি ই-জিপি (e-GP) সিস্টেমের মাধ্যমে এবং ৩টি কমিটির অন্তত ১৫ জন বিজ্ঞ সদস্যের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শতভাগ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়। এখানে কোনো একক ব্যক্তি বা তাঁর আত্মীয়ের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অবাস্তব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
• প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন রুটিন কাজেরই অংশ:
নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাজেট ও প্রয়োজনীয় নীতিমালার অনুমোদন সংক্রান্ত কাজে ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত সমন্বয় ও যোগাযোগ উপাচার্যের দাপ্তরিক দায়িত্বেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছুটির দিনেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রেখেছেন, যাকে বিভ্রান্তিকরভাবে "ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি" হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
• জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও মানবিক দৃষ্টান্ত:
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম স্যার শহীদ নূর আলমের স্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ করে দিয়ে যে অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সর্বমহলে প্রশংসিত।
কোনো নিরপেক্ষ তথ্য-প্রমাণ ছাড়া একজন সম্মানিত ও কর্মনিষ্ঠ শিক্ষাবিদের বিরুদ্ধে এমন একপাক্ষিক ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বৃহত্তর রংপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতি, শেকৃবি পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা এই ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে এই ভিত্তিহীন সংবাদ প্রত্যাহার করে যথাযথ সংশোধনী প্রকাশের জোর দাবি জানাচ্ছি। রংপুর বিভাগের একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে অপপ্রচার ও মব সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা সর্বদাই সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের কণ্ঠস্বর সর্বদা জারি থাকবে।
বৃহত্তর রংপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতি
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১২০৭
(পূর্ণ নোটিশ কমেন্ট বক্সে)