24/09/2026
মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া
প্রখ্যাত ইসলামি সংস্কারক এবং ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৮১৯ সালে মাদারীপুর জেলার শ্যামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৪০ সালে পিতার মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব লাভ করেন। শিক্ষাগ্রহণের জন্য তিনি প্রায় পাঁচ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। পিতার অসুস্থতার কারণে ১৯ বছর বয়সে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তখন দেশের পরিস্থিতি ছিল জটিল। হিন্দু জমিদার, ইউরোপীয় নীলকর, রক্ষণশীল উলেমা এবং তাদের ভক্তদের সঙ্গে ফরায়েজীরা সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। এসব গোষ্ঠী পৃথকভাবে এবং কখনো যৌথভাবে ফরায়েজীদের আক্রমণ করত। এ সংঘর্ষে সরকারও জমিদার নীলকরদের পক্ষ নিত। দুদু মিয়া এবং তার অনুসারীরা জমিদার ও নীলকরদের ভাড়াটে বাহিনীর শক্তি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত করে দেন। ফলে ১৮৩৮ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত দুই দশক ফরায়েজী এলাকায় শান্তি বিরাজ করে।
শ্রমের ওপর জমির মালিকানা নিহিত-দুদু মিয়া এ মতবাদ প্রচার করেন। তিনি ঘোষণা করেন ‘জমির মালিকানা কৃষকের’। তার এ ঘোষণা নির্যাতিত কৃষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের কৃষকরা ফরায়েজী আন্দোলনের সমর্থনে তার চারপাশে ভিড় জমাতে থাকে। নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ সমাজের লোকদের ঝগড়া-বিবাদ কমিয়ে আনেন। ফরায়েজী খলিফার অনুমতি ছাড়া কোনো বিরোধ নিয়ে সরকারি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ওপর তিনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে মামলার পক্ষে-বিপক্ষে কোনো ধরনের সাক্ষী জুটত না। দুদু মিয়া অবশ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতাকে অস্বীকার করতেন না। খাস মহলের খাজনা তালিকায় প্রদর্শিত হারে জমিদারের রাজস্ব আদায়ের অধিকার তিনি স্বীকার করতেন। পাছে তার অনুসারীদেরও তিতুমীরের অনুসারীদের মতো ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে, সেজন্য তিনি পিতার বিচক্ষণতা অনুসরণ করে তার কর্মকাণ্ড একজন আইনানুগ প্রজার অধিকারের মধ্যে সীমিত রাখেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পর সরকার দুদু মিয়াকে বন্দি করে। ১৮৬১ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৮৬২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর