30/05/2026
আমাদের এবারের মিনি ম্যারাথন নিয়ে একজন অংশগ্রহণকারীর অভিব্যক্তি অবিকল তার মতো করে তুলে ধরলাম।
মিনিম্যারাথন-২০২৬: এক টুকরো সোনালী সকাল ও বন্ধুত্বের গল্প-
জীবনের ক্যানভাসে কিছু সকাল আসে যা চিরদিনের জন্য জমা হয়ে রয় স্মৃতির মণিকোঠায়। গত ৩০-০৫-২০২৬ তারিখের সকালটি ছিল তেমনই এক অনন্য, উৎসবমুখর আর বাঁধভাঙা উম্মাদনার দিন। বামনিপাড়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর চমৎকার উদ্যোগে আয়োজিত হলো ‘০৫/১০ কি.মি. মিনিম্যারাথন-২০২৬’। আর সেই মহতী আয়োজনে জীবনের প্রথমবার ম্যারাথনের ট্র্যাকে পা রাখা!
এই আনন্দের ষোলকলা পূর্ণ হয়েছিল আমার প্রিয় বন্ধুদের উপস্থিতি। বাবুল আর টিটো তো বেশ আটঘাট বেঁধেই পূর্বেই নিজেদের রেজিষ্ট্রেশন সম্পাদন করে রেখেছিল। আসল টুইস্টটা দিল মাহবুব আর শিশির। শেষ মুহূর্তে এসেও ওরা আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলতে দুলতে মাঠে এসে হাজির হলো—অংশ নিতে পারবে কিনা! ঠিক তখনই এগিয়ে এলো আয়োজক কমিটির নিশাত। ওর আন্তরিক সহযোগিতায় সব দ্বিধা কাটিয়ে ওরাও অফিসিয়ালি রেজিস্টার্ড রানার হিসেবে আমাদের সাথে যোগ দিল। ব্যস, আমরা পাঁচ বন্ধু এক সুতোয় গেঁথে গেলাম।
ম্যারাথনের ফ্ল্যাগ অফ হলো দাড়িয়াপুরের ঐতিহ্যবাহী হাজি ওসমান গনি কলেজ মাঠ থেকে। এরপর শুরু হলো এক রূপসী বাংলার রূপদর্শন। গ্রামের চেনা-অচেনা আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে আমাদের কাফেলা এগিয়ে চলল। ভোরের আলোয় রাস্তার দুপাশের দিগন্তজোড়া সবুজ প্রান্তর যেন এক মায়াবী রূপে দেখা দিল। কোথাও মাথার ওপরে কাঁচা রোদের সোনাঝরা স্পর্শ, আবার কোথাও ঘন গাছগাছালির শীতল ছায়া আর বন্য পাখিদের সুমিষ্ট কলকাকলি। মনে হচ্ছিল, আমরা কোনো প্রতিযোগিতায় নয়, বরং প্রকৃতির এক পরম আশ্রয়ে হেঁটে চলেছি।
আমাদের পাঁচ বন্ধুর মধ্যে বাবুল এবং টিটো শুরুতেই আমাদের ফেলে বহুদূর এগিয়ে যায়। মাহবুব, শিশির এবং আমার ‘রানিং স্ট্র্যাটেজি’ অবশ্য ছিল বেশ জুতসই ও মজাদার! পুরো পথজুড়ে আমরা মোটেও দৌড়ানোর ধার ধারিনি; বরং খোশগল্প করতে করতে জোর কদমে হেঁটে চলেছি। তবে হ্যাঁ, আমাদের এই অলস হেঁটে চলায় একটা বিশেষ নিয়ম ছিল—পুরো রুটে যেখানেই কোনো ক্যামেরাম্যান বা লাইভ ক্যামেরার দেখা মিলত, ঠিক সেখানে আমরা মুহূর্তে দারুণ এক অ্যাথলেটের ভঙ্গিতে আলতো দৌড় শুরু করে দিতাম! ক্যামেরা পার হতেই আবার সেই আয়েসী হাঁটা। এই খুনসুটি আর হাসাহাসি করতে করতেই একসময় আমরা আবার সেই চেনা হাজি ওসমান গনি কলেজে এসে শেষ সীমানা স্পর্শ করলাম।
সার্বিক বিবেচনায়, এই মিনিম্যারাথনটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। বিশেষ করে গ্রামীণ আবহের এই রুট প্ল্যানটি ছিল জাদুকরী। এমন একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন উপহার দেওয়ার জন্য বামনিপাড়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং আয়োজক কমিটির প্রতি অন্তরের অন্তস্তল থেকে অশেষ ধন্যবাদ এবং গভীর কৃতজ্ঞতা। জীবন সুন্দর, আর বন্ধুদের সাথে কাটানো এমন একেকটি সকাল সেই সুন্দরকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়!