08/10/2026
জীবনের কঠিন বাস্তবতার সামনে হেরে গিয়ে মানুষ কত অসহায় হয়ে পড়ে, তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত এই বৃদ্ধ বাবা।
কাজের সন্ধানে গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন এক মুঠো ভাতের জোগাড় করতে। কিন্তু বয়সের ভারে ঢলে পড়া চেহারায় আজ আর কেউ কাজ দিতে চায় না। কাজ না পেলে হাত চলবে না, আর পেটের ক্ষুধা তো বয়স কিংবা পরিস্থিতি কোনোটারই তোয়াক্কা করে না!
নিজের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ঘরে এখনও বিয়ে দেওয়ার বাকি দুটো মেয়ে, অথচ মাথার ওপর নেই কোনো ছেলের আশ্রয়।
জীবনের এই পড়ন্ত বয়সেও নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে এক শহর থেকে অন্য শহরে।
ভিডিওতে দেখলাম, মাত্র দুটো রুটির জন্য দোকানের সামনে কান্নাভেজা চোখে আকুতি-মিনতি করছেন তিনি। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া সেই জল বলে দিচ্ছিল—না জানি কতদিন ধরে এক লোকমা খাবার পেটে পড়েনি!
ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে দোকানদারকে বলল একটা রুটি দেবেন?
দোকানের মালিকের প্রশ্ন শুনে বৃদ্ধ বাবাটি বললেন- একটা রুটির জন্য এভাবে কান্না কন্ঠে বলা লাগে? আপনি কয়টা রুটি খেতে পারবেন?
তখন উনি বলেন-
“আমি দুইটা রুটিই খেতে পারব, দুইটাই দেন”
আমাদের সমাজে এমন অজস্র অসহায় মানুষ প্রতিনিয়ত নিঃশব্দে কেঁদে মরে, অনাহারে দিন কাটায়। সবাই তো আর সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে না; কোমল হৃদয় আর পরোপকারী মনমানসিকতা সবার থাকে না।
ধন্য সেই দোকানদার ভাই, যিনি শেষ পর্যন্ত বাবার হাতে দুটি রুটি তুলে দিয়ে কিছুটা হলেও ক্ষুধার কষ্ট লাঘব করেছেন।
আসুন, আমাদের আশপাশে থাকা এসব সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের দিকে একটু নজর দিই। ক্ষমতা থাকলে কেবল দুটো রুটি নয়, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই তো প্রকৃত মনুষ্যত্ব। 💔
[তথ্য ও ছবি: বাংলা টিভি থেকে নেওয়া]
#মানবিকতা #অসহায়ত্ব #মানুষ_মানুষের_জন্য #হৃদয়বিদারক #গল্প_নয়_বাস্তবতা #গাইবান্ধা