As-Salsabil Foundation

As-Salsabil Foundation দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয়ে জান্নাতের পথে।।
(1)

# # # As-Salsabil Foundation-এর পরিচিতি

আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন হলো একটি অ-রাজনৈতিক, জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

**"যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি যা দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করে, যাতে কখনও লোকসান হবে না।" (সূরা ফাতির: আয়াত ২৯)** - এই আয়াতকে সামনে রেখে আমাদের যাত্রা শুরু।

ফাউন্ডেশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সাদকায়ে

জারিয়া ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের ইহকাল ও পরকালে উপকৃত হওয়ার পথ সুগম করা। আমাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

* মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামিক পাঠাগার স্থাপন।
* দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য যাকাত ও পুনর্বাসন প্রকল্প।
* ইয়াতীম ও গরিব শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠাপোষণ।
* ফ্রি চিকিৎসা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
* দ্বীনী শিক্ষা প্রচারের জন্য সেমিনার ও দারসের আয়োজন।

আমাদের সকল প্রচেষ্টা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত। আপনার দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতায় এই মহৎ কাজগুলো আরও বেগবান হবে, ইনশাআল্লাহ।

**যোগাযোগের ঠিকানা:**
মুকুন্দপুর (কানাইপাড়া), কোচাশহর, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

**যোগাযোগ ও অনুদান:**
**বিকাশ/নগদ:** ০১৭৮০-৬৬৪৬৬০, ০১৭১৭-১৩৬৪৫৬
**ইমেইল:** [email protected]

**আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া:**
**ইউটিউব:** As Salsabil-tv
**ফেসবুক:** As Salsabil Foundation

19/06/2026

যাকাতুল ফিতর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সঠিক বণ্টনের নিয়ম ।। Abdur Razzak bin Abdus Sobhan
ালসাবিল_ফাউন্ডেশন #সুধী_সমাবেশ_২০২৬ #আব্দুর_রাজ্জাক_বিন_আব্দুস_সোবহান #সুধী_সমাবেশ_২০২৬ #ইসলামি_আলোচনা #কুরআন_ও_সুন্নাহ

12/06/2026

আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য _ শরিয়া প্রধানের বক্তব্য।
ালসাবিল_ফাউন্ডেশন #সুধী_সমাবেশ_২০২৬ #আব্দুল_মমিন
#শরিয়া_প্রধান #ইসলামি_আলোচনা #কুরআন_ও_সুন্নাহ

12/06/2026

আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য _ শরিয়া প্রধানের বক্তব্য।

ালসাবিল_ফাউন্ডেশন #সুধী_সমাবেশ_২০২৬ #আব্দুল_মমিন
#শরিয়া_প্রধান #ইসলামি_আলোচনা #কুরআন_ও_সুন্নাহ

২য় অধ্যায় তাওহীদের মর্যাদাতাওহীদ ও শিরক সিরিজ।পার্ট ২৫২৪ তম পার্ট এর পর থেকে.........১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,الَّذِ...
03/06/2026

২য় অধ্যায়
তাওহীদের মর্যাদা

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।

পার্ট ২৫

২৪ তম পার্ট এর পর থেকে.........

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

الَّذِينَ آَمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ (الأنعام:৮২)

“যারা ঈমান এনেছে এবং ঈমানকে জুলুম [শিরক] এর সাথে মিশ্রিত করেনি” [তাদের জন্যই রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা] (আনআম : ৮২)

২। সাহাবী উবাদা ইবনে সামেত (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল (স:) এরশাদ করেছেন,

من شهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله وأن عيسى عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، والجتة حق والنار حق أدخله الله الجنة على ما كان من العمل. (أخرجاه)

“যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দান করল যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরিক নেই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁর এমন এক কালিমা যা তিনি মরিয়াম (আঃ) এর প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং তিনি তাঁরই পক্ষ থেকে প্রেরিত রুহ বা আত্মা। জান্নাত সত্য জাহান্নাম

সত্য। সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা জান্নাত দান করবেন, তার আমল যাই হোক না কেন। (বুখারি ও মুসলিম)

সাহাবী ইতবানের হাদিসে বর্ণিত আছে, ইমাম বুখারি ও মুসলিম হাদিসটি সংকলন করেছেন,

فإن الله حرم على النار من قال لا إله إلاالله يبتغى بذلك وجه الله

“আল্লাহ তা’আলা এমন ব্যক্তির উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে।’

৩। প্রখ্যাত সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী (রা:) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি এরশাদ করেছেন, মূসা (আঃ) বললেন,

يارب علمني شيئا أذكرك وأدعوك به قال: قل يا موسى لا إله إلا الله، قال: كل عبادك يقولون هذا؟ قال يا موسى لو أن السموات السبع وعامرهن غيري والأرضين السبع في كفة ولا إله إلاالله فى كفة مالت بهن لا إله إلا الله (رواه ابن حبان والحاكم وصححه)

“হে আমার রব, আমাকে এমন জিনিস শিক্ষা দিন যা দ্বারা আমি আপনাকে স্মরণ করবো এবং আপনাকে ডাকবো। আল্লাহ বললেন, ‘হে মূসা, তুমি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো। মূসা বললেন, “আপনার সব বান্দাই তো এটা বলে।” তিনি বললেন, “হে মূসা, আমি ব্যতীত সপ্তাকাশে যা কিছু আছে তা, আর সাত তবক যমীন যদি এক পাল্লায় থাকে আরেক পাল্লায় যদি শুধু লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ থাকে, তাহলে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর পাল্লাই বেশী ভারী হবে।” (ইবনে হিব্বান, হাকিম)

৪। বিখ্যাত সাহাবী আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, ‘আমি রাসূল (স:) কে এ কথা বলতে শুনেছি,

قال الله تعالى يابن آدم لو أتيتني بقراب الأرض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بى شيئا لأتيتك بقرابها مغفرة. (ترمذي و حسنه)

“আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “হে আদম সন্তান, তুমি দুনিয়া ভর্তি গুনাহ নিয়ে যদি আমার কাছে হাজির হও, আর আমার সাথে কাউকে শরিক না করা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করো, তাহলে আমি দুনিয়া পরিমাণ মাগফিরাত নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে আসবো”। (তিরমিজী)

এ অধ্যায় থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ-

১। আল্লাহর অসীম করুণা।

২। আল্লাহর নিকট তাওহীদের অপরিসীম সওয়াব।

৩। গুনাহ সত্ত্বেও তাওহীদের দ্বারা পাপ মোচন।

৪। সূরা আন আনআমের ৮২ নং আয়াতের তাফসীর।

৫। উবাদা বিন সামেতের হাদীসে বর্ণিত পাঁচটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেয়া।

৬। উবাদা বিন সামেত এবং ইতবানের হাদীসকে একত্র করলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থ সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং ধোকায় নিপতিত লোকদের ভুল সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়বে।

৭। ইতবান (রা:) হতে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত শর্তের ব্যাপারে সতর্কী করণ।

৮। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর ফজীলতের ব্যাপারে সতর্কীকরণের প্রয়োজনীয়তা নবীগণের জীবনেও ছিলো।

৯। সমগ্র সৃষ্টির তুলনায় এ কালেমার পাল্লা ভারী হওয়ার ব্যাপারে সতর্কীকরণ, যদিও এ কলেমার অনেক পাঠকের পাল্লা ইখলাসের সাথে পাঠ না করার কারণে হালকা হয়ে যাবে।

১০। সপ্তাকাশের মত সপ্ত যমীন বিদ্যমান থাকার প্রমাণ।

১১। যমীনের মত আকাশেও বসবাসকারীর অস্তিত্ব আছে।

১২। আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলীকে ইতিবাচক বলে সাব্যস্ত করা যা আশআরী সম্প্রদায়ের চিন্তা ধারার সম্পূর্ণ বিপরীত।

১৩। সাহাবী আনাস (রাঃ) এর হাদীস সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর ইতবান (রা:) এর হাদীসে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী।

فإن الله حرم على النار من قال لا إله إلا الله يبتغي به وجه الله

এর মর্মার্থ হচ্ছে শিরক বর্জন করা। শুধু মুখে বলা এর উদ্দেশ্য নয়।

১৪। নবী ঈসা (আঃ) এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয়ই আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল হওয়ার বিষয়টি গভীর ভাবে চিন্তা করা।

১৫। “কালিমাতুল্লাহ” বলে ঈসা (আঃ) কে খাস করার বিষয়টি জানা।

১৬। হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহর পক্ষ থেকে রুহ (পবিত্র) আত্মা হওয়া সম্পর্কে অবগত হওয়া।

১৭। জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান আনার মর্যাদা।

১৮। আমল যাই হোক না কেন, এ কথার মর্মার্থ উপলব্ধি করা।

১৯। মিজানের দুটি পাল্লা আছে এ কথা জানা।

২০। আল্লাহার চেহারার উল্লেখ আছে, এ কথা জানা।


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্_সালসাবিল # #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল
#তাওহীদ

তাওহীদের বিশ্বাসতাওহীদ ও শিরক সিরিজ।পার্ট ২৪২৩ তম পার্ট এর পর থেকে.........১ম অধ্যায়তাওহীদ১। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন,...
29/05/2026

তাওহীদের বিশ্বাস

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।
পার্ট ২৪
২৩ তম পার্ট এর পর থেকে.........

১ম অধ্যায়

তাওহীদ

১। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

“আমি জিন এবং মানব জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (যারিয়াত . ৫৬)।

২। আল্লাহ তা’আলা আরো এরশাদ করেছেন,

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ (النحل: ৩৬)

“আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি। [তাঁর মাধ্যমে এ নির্দেশ দিয়েছি] তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, আর তাগুতকে বর্জন করো।” (নাহল: ৩৬)

আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র এরশাদ করেছেন,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا (الإسراء: ২৩)

৩। “তোমার রব এ নির্দেশ দিয়েছেন যে তাঁকে ছাড়া তোমরা আর কারো ইবাদত করো না। আর মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করো”। (ইসরা: ২৩)

৪। সূরা নিসাতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا (النساء: ৩৬)

“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। আর তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না।” (নিসা: ৩৬)

৫। সূরা আনআমে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন,

قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا (الأنعام: ১৫১)

“হে মুহাম্মদ বলো, [হে আহলে কিতাব] তোমরা এসো তোমাদের রব তোমাদের জন্য যা হারাম করে দিয়েছেন তা পড়ে শুনাই। আর তা হচ্ছে এই, “তোমরা তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না।” (আনআম: ‘১৫১)

৬। ইবনে মাসউদ (রা:) বলেছেন,

من أراد ان ينظر إلى وصية محمد صلى الله عليه وسلم التى عليها خاتمه فليقرأ قوله تعالى قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا….. وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا﴿১৫৩﴾

“যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মোহরাঙ্কিত অসিয়ত দেখতে চায়, সে যেন আল্লাহ তাআলার এ বাণী পড়ে নেয়, “হে মুহাম্মদ বলো, তোমাদের রব তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন তা পড়ে শুনাই। আর তা হলো, তোমরা তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না . . . . আর এটাই হচ্ছে আমার সরল, সোজা পথ”।

৭। সাহাবী মুআয বিন জাবাল (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে একটি গাধার পিঠে বসে ছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন,”

يا معاذ أتدري ما حق الله على العباد، وما حق العباد على الله؟ قلت الله ورسوله أعلم، قال: حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا وحق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا، قلت يا رسول الله أفلا أبشر الناس؟ قال: لا تبشرهم فيتكلوا (أخرجاه في الصحيحين)

“হে মুআয, তুমি কি জানো, বান্দার উপর আল্লাহর কি হক রয়েছে? আর আল্লাহর উপর বান্দার কি হক আছে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে তারা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হচ্ছে “যারা তার সাথে

কাউকে শরিক করবে না, তাহলে তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন না।” আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি কি এ সুসংবাদ লোকদেরকে জানিয়ে দেব না? তিনি বললেন, তুমি তাদেরকে এ সুসংবাদ দিওনা, তাহলে তারা ইবাদত ছেড়ে দিয়ে [আল্লাহর উপর ভরসা করে] হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। (বুখারি ও মুসলিম)

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:

১। জ্বিন ও মানব জাতি সৃষ্টির রহস্য।

২। ইবাদতই হচ্ছে তাওহীদ। কারণ এটা নিয়েই বিবাদ।

৩। যার তাওহীদ ঠিক নেই, তার ইবাদতও ঠিক নেই। এ কথার মধ্যে

ولا أنتم عابدون ما أعبد এর অর্থ নিহিত আছে।

৪। রাসূল পাঠানোর অন্তর্নিহিত হিকমত বা রহস্য।

৫। সকল উম্মতই রিসালতের আওতাধীন ছিল।

৬। আম্বিয়ায়ে কেরামের দীন এক ও অভিন্ন।

৭। মূল কথা হচ্ছে, তাগুতকে অস্বীকার করা ব্যতীত ইবাদতের মর্যাদা অর্জন করা যায় না।

৮। আল্লাহর ইবাদত ব্যতীত আর যারই ইবাদত করা হয়, সেই তাগুত হিসেবে গণ্য।

৯। সালাফে-সালেহীনের কাছে সূরা আনআমের উল্লেখিত তিনটি মুহকাম আয়াতের বিরাট মর্যাদার কথা জানা যায়। এতে দশটি বিষয়ের কথা রয়েছে। এর প্রথমটিই হচ্ছে; শিরক নিষিদ্ধ করণ।

১০্‌ সূরা ইস্‌রায় কতগুলো মুহকাম আয়াত রয়েছে। এবং তাতে আঠারোটি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ বিষয়গুলোর সূচনা করেছেন তাঁর বাণী-

لا تجعل مع الله إلها آخر فتقعد مذموما مخذولا

এর মাধ্যমে, আর সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন তাঁর বাণী-

ولا تجعل مع الله إلها آخر فتلقى في جهنم ملوما مدحوراً

এর মাধ্যমে। সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা এ বিষয়টির সুমহান মর্যাদাকে উপলব্ধি করার জন্য তাঁর বাণী,

ذلك مما أوحى إليك ربك من الحكمة এর মাধ্যমে আমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

১১। সূরা নিসার ‘আল- হুকুকুল আশারা’ [বা দশটি হক] নামক আয়াতের কথা জানা গেলো। যার সূচনা হয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী,

واعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا

এর মাধ্যমে। যার অর্থ হচ্ছে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, আর তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না।

১২। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অন্তিমকালের অসিয়তের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন।

১৩। আমাদের উপর আল্লাহ তাআলার হক সম্পর্কে জ্ঞানার্জন।

১৪। বান্দা যখন আল্লাহর হক আদায় করবে, তখন আল্লাহ তাআলার উপর বান্দার হক সম্পর্কে জ্ঞানার্জন।

১৫। অধিকাংশ সাহাবিই এ বিষয়টি জানতেন না।

১৬। কোন বিশেষ স্বার্থে এলেম (জ্ঞান) গোপন রাখার বৈধতা।

১৭। আনন্দদায়ক বিষয়ে কোন মুসলিমকে খোশখবর দেয়া মুস্তাহব।

১৮। আল্লাহর অপরিসীম রহমতের উপর ভরসা করে আমল বাদ দেয়ার ভয়।

১৯। অজানা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির الله ورسوله أعلم [অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন] বলা।

২০। কাউকে বাদ রেখে অন্য কাউকে জ্ঞান দানে বিশেষিত করার বৈধতা।

২১। একই গাধার পিঠে পিছনে আরোহণকারীর প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দয়া ও নম্রতা প্রদর্শন।

২২। একই পশুর পিঠে একাধিক ব্যক্তি আরোহণের বৈধতা।

২৩। মুআয বিন জাবাল (রা:) এর মর্যাদা।

২৪। আলোচিত বিষয়টির মর্যাদা ও মোহত্ব।

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।পার্ট ২৩২২ তম পার্ট এর পর থেকে.........[একটি মহান মূলনীতি]ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, “এটির বর্ণনার পর ...
26/05/2026

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।
পার্ট ২৩

২২ তম পার্ট এর পর থেকে.........

[একটি মহান মূলনীতি]
ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, “এটির বর্ণনার পর এখানে এক মূলনীতি পাওয়া যায়, যা উক্ত বিষয়ের রহস্য উন্মোচন করে দেয়, আর তা হলো: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো, তাঁর সম্পর্কে কু-ধারণা রাখা। কারণ, কু-ধারণা পোষণকারী তাঁর সম্পর্কে এমন ধারণা রাখে, যা তাঁর উত্তম নামসমূহ এবং গুণাবলীর বরখেলাফ। এ কারণে আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে কু-ধারণা পোষণকারীদেরকে ধমক দিয়েছেন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿عَلَيۡهِمۡ دَآئِرَةُ ٱلسَّوۡءِۖ وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمۡ وَلَعَنَهُمۡ وَأَعَدَّ لَهُمۡ جَهَنَّمَۖ وَسَآءَتۡ مَصِيرٗا﴾ [الفتح: ٦]

“অমঙ্গল চক্র তাদের জন্যে, আল্লাহ তাদের প্রতি রুষ্ট হয়েছেন এবং তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন আর তাদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন; এটা কত নিকৃষ্ট আবাস!” [সূরা আল-ফাত্‌হ, আয়াত: ৬]

তাঁর কোনো গুণ অস্বীকারকারীর সম্পর্কে বলেন,

﴿وَذَٰلِكُمۡ ظَنُّكُمُ ٱلَّذِي ظَنَنتُم بِرَبِّكُمۡ أَرۡدَىٰكُمۡ فَأَصۡبَحۡتُم مِّنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٢٣﴾ [فصلت: ٢٣]

“তোমাদের রব সম্বন্ধে তোমাদের এই ধারণাই তোমাদের ধ্বংস এনেছে। ফলে তোমরা হয়েছো ক্ষতিগ্রস্ত।” [সূরা ফুস্‌সিলাত, আয়াত: ২৩]

আল্লাহ তাঁর খলীল ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন, তিনি তাঁর গোত্রকে বলেন,

﴿مَاذَا تَعۡبُدُونَ ٨٥ أَئِفۡكًا ءَالِهَةٗ دُونَ ٱللَّهِ تُرِيدُونَ ٨٦ فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٨٧﴾ [الصافات: ٨٥، ٨٧]

“তোমরা কিসের পূজা করছ? তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা মা‘বুদগুলোকে চাও? জগতসমূহের রব সম্বন্ধে তোমাদের ধারণা কী?” [সূরা সাফ্‌ফাত, আয়াত: ৮৫-৮৭] অর্থাৎ অন্যের ইবাদত করার পর তোমাদের কী মনে হয়? তোমাদের আল্লাহ কী বদলা দিতে পারেন যখন তোমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে? তাঁর নামাবলী, গুণাবলী এবং রুবুবিয়্যাতের সম্বন্ধে তোমরা কতই না বেশি খারাপ ধারণা পোষণ করছ, যার ফলে তোমরা অন্যের দাসত্বমুখী হয়ে গেছ?

যদি তোমরা তাঁর সম্পর্কে সে ধারণা রাখতে যা তিনি প্রাপ্য, তাহলে তা কতই না ভালো হত, আর তা হচ্ছে, তিনি সবকিছুর ব্যাপারে জ্ঞাত, সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, তিনি তাঁর সত্তার বাইরে সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী, আর সবকিছু তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি ন্যায়বিচারক। সৃষ্টিকে পরিচালনার ব্যাপারে তিনি একক, এ ক্ষেত্রে তাঁর কেউ অংশী নেই। পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়াদির তিনি যথার্থ জ্ঞানী, তাই সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর কাছে অস্পষ্ট নয়। তিনি একাই তাদের জন্য যথেষ্ট, তাই কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। তিনি তাঁর সত্তাসহ পরম করুণাময়, তাই দয়া করার ব্যাপারে তিনি কারো সহানুভূতির প্রয়োজন মনে করেন না। এটা রাজাগণ এবং অন্যান্য শাসকদের বিপরীত। কারণ, তারা মুখাপেক্ষী এমন লোকের, যারা তাদেরকে প্রজাদের অবস্থা এবং সমস্যার সম্পর্কে অবগত করাবে এবং তাদের প্রয়োজন পূরণে সাহায্য করবে। মুখাপেক্ষী এমন লোকের, যে তাদের সুপারিশের মাধ্যমে দয়াপ্রার্থী এবং সহানুভূতির তলবকারী হবে। এ কারণে তাদের মাধ্যমের প্রয়োজন হয়েছে তাদের সমস্যা, দুর্বলতা, অক্ষমতা এবং তাদের জ্ঞানে স্বল্পতার কারণে। কিন্তু যিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, সবকিছু হতে অমুখাপেক্ষী, সবকিছুর ব্যাপারে সম্যক জ্ঞানী, পরম করুণাময় দয়ালু, যার দয়া সবকিছুকে শামিল করেছে। এ রকম গুণে গুণান্বিত সত্তা এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম স্থাপন করা আসলে তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভূত্ব) উলুহিয়্যাত (ইবাদত-সংক্রান্ত) এবং একত্ব সম্পর্কীয় ব্যাপারে তাঁর ক্ষমতা ছোট করা এবং তাঁর সম্পর্কে কু-ধারণা রাখা ছাড়া আর কি। এটি কখনও তিনি তাঁর বান্দাদের জন্যে বৈধ করেন নি। সুবিবেক এবং সু স্বভাবও এর বৈধতা অস্বীকার করে। আর এর জঘন্যতা সুবিবেকের কাছে অপরাপর সকল জঘন্যতার উপরে স্থান পায়।

এর বিশ্লেষণ এইরূপ: অবশ্যই উপাসনাকারী তাঁর উপাস্যকে সম্মান করে, উপাস্যের মর্যাদা দেয় এবং তাঁর জন্যে বিনয়-নম্রতা অবলম্বন করে। অন্যদিকে মহান রব আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন এককভাবে পূর্ণ সম্মান, মর্যাদা, ভালোবাসা এবং বিনয় পাওয়ার হকদার। এটা তাঁর একচ্ছত্র হক। তাই তাঁর হক অন্যকে দেওয়া অথবা তাঁর হকের মাঝে অন্যকে অংশীদার সাব্যস্ত করা জঘন্য যুলুম-অত্যাচার। বিশেষ করে তাঁর হকে শরীককৃত ব্যক্তি যদি তাঁর বান্দা এব দাস হয় তাহলে তা হবে আরো জঘন্য। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ضَرَبَ لَكُم مَّثَلٗا مِّنۡ أَنفُسِكُمۡۖ هَل لَّكُم مِّن مَّا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُم مِّن شُرَكَآءَ فِي مَا رَزَقۡنَٰكُمۡ فَأَنتُمۡ فِيهِ سَوَآءٞ تَخَافُونَهُمۡ كَخِيفَتِكُمۡ أَنفُسَكُمۡۚ كَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يَعۡقِلُونَ ٢٨﴾ [الروم: ٢٨]

“আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন: তোমাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের কেউ কি তাতে অংশীদার? ফলে তোমরা কি তাদেরকে সেরূপ ভয় কর? এভাবেই আমরা বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শণাবলী বর্ণনা করি।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৮] অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অপছন্দ করে যে, তার দাস তার সম্পদে অংশীদার হোক, তাহলে কীভাবে আমার দাসদের মধ্যে কাউকে আমার অংশীদার করে থাক, যে বিষয়ে আমি একক? আর সে বিষয়টি হচ্ছে, ইবাদত বা উপাসনা, যা আমি ব্যতীত অন্যের জন্যে কখনো সমীচীন নয়, আমি ছাড়া অন্যের জন্য অগ্রহণযোগ্য।

সুতরাং যে কেউ এমন ধারণা রাখবে, সে আমাকে যথোচিত মর্যাদা দিল না, যথাযথ সম্মান করল না, আমাকে একক মনে করলো না, যে বিষয়ে আমি একক কোনো সৃষ্টি নয়। সে ব্যক্তি যথাযথ আল্লাহর সম্মান করলো না যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদত করলো। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٞ فَٱسۡتَمِعُواْ لَهُۥٓۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَن يَخۡلُقُواْ ذُبَابٗا وَلَوِ ٱجۡتَمَعُواْ لَهُۥۖ وَإِن يَسۡلُبۡهُمُ ٱلذُّبَابُ شَيۡ‍ٔٗا لَّا يَسۡتَنقِذُوهُ مِنۡهُۚ ضَعُفَ ٱلطَّالِبُ وَٱلۡمَطۡلُوبُ ٧٣ مَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ ٧٤﴾ [الحج: ٧٣، ٧٤]

“হে লোকসকল! একটি উপমা দেওয়া হচ্ছে, মনোযোগসহ তা শ্রবণ কর; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো তারা তো কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, এই উদ্দেশ্যে তারা সবাই একত্রিত হলেও পারবে না এবং মাছি যদি সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের নিকট থেকে, এটাও তারা এর নিকট থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। পূজারী ও দেবতা কতই না দুর্বল! (বস্তুত) তারা আল্লাহর যথোচিত মর্যাদা দেয় না; আল্লাহ নিশ্চয় ক্ষমতাবান, পরাক্রমশালী।” [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭৩-৭৪]

তাই সে ব্যক্তি আল্লাহর যথাযথ সম্মান করলো না, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে এমন কারো ইবাদত করলে যে অতি দুর্বল এবং অতি ছোট প্রাণী সৃষ্টি করতে অক্ষম এবং তার নিকট থেকে যদি মাছি কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাও উদ্ধার করতে অপারগ।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦ وَٱلۡأَرۡضُ جَمِيعٗا قَبۡضَتُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ مَطۡوِيَّٰتُۢ بِيَمِينِهِۦۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ ٦٧﴾ [الزمر: ٦٧]

“তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না। কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মৃষ্টিতে এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাজকৃত তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাকে শরীক করে তিনি তার উর্ধ্বে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৭] যার এই মহিমা ও মহত্ব তাঁর সে যথাযথ সম্মান করে না, যে তাঁর ইবাদতে অন্য এমন কাউকে শরীক করে যার এতে কোনোই অংশ নেই, বরং সে সবচেয়ে দুর্বল ও অক্ষম। তাই সে ব্যক্তি শক্তিশালী ক্ষমতাবান আল্লাহর যথাযথ সম্মান করলো না, যে ব্যক্তি দুর্বল পদদলিতকে তাঁর সাথে শরীক করলো”।[34]

[উপসংহার]
এ হচ্ছে তাওহীদের ১২টি প্রমাণ, যা এই মহান আয়াতে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর তাতে এ বিশ্লেষণ বর্ণিত হয়েছে যে, অবশ্যই এক আল্লাহই উপাসনার ক্ষেত্রে একক, ইবাদতের হকদার আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ নেই। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য মা‘বুদ নেই। একজন মুসলিম ব্যক্তির উচিৎ হবে, সে যেন দিন-রাত এ আয়াতস্থলে গবেষণামূলক চিন্তা-ভাবনা করতঃ তাওহীদ ও ইখলাসকে কেন্দ্র করে যা বর্ণিত হয়েছে তা বাস্তবায়ন করে। আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক ও অংশীদার সাব্যস্ত করা থেকে মুক্ত থাকে। মহান রবের উদ্দেশ্যে তাঁর সুন্দর নামাবলী এবং মহান গুণাবলী প্রতিষ্ঠিত করে। এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার পাঁচটি সুন্দর নাম এবং বিশটিরও অধিক গুণের বর্ণনা রয়েছে, যা মহান রবের পূর্ণতা, তাঁর মাহাত্ম্য, মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং মহিমা প্রমাণ করে। যার জন্যে চেহারা অবনত, আওয়াজ বিনম্র, তাঁর ভয়ে অন্তর শঙ্কিত এবং গর্দানসমূহ অনুগত। তিনি আল্লাহ, মহান, দু’ জাহানের রব। এই আয়াত সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করাতে দুনিয়া ও আখেরাতের কতই না মহত্ত লাভ এবং অঢেল কল্যাণ নিহিত রয়েছে।



[আন্তরিক আহ্বান]
আমি এ স্থানে বলতে চাই, এই আয়াতটির সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা থেকে এবং আয়াতটি যা প্রমাণ করে তা উপলব্ধি করা থেকে সেই সমস্ত লোকদের বিবেক কোথায় গুম হয়ে যায়, যারা এ আয়াত অধ্যায়ন করে। যারা কবরের সম্মান, সেখানে অবস্থান এবং বিনয়-নম্রতা অবলম্বন করার ব্যাধিতে লিপ্ত। যারা কবরবাসীর উদ্দেশ্যে নযরানা-উপঢৌকন পেশ করে, সেখানে কুরবানী দেয়, প্রয়োজন কামনায় সেদিকে মনোযোগ দেয় এবং তাদের এমন সম্মান দেয় যা আকাশ যমীনের রব ছাড়া অন্যের জন্যে একেবারে অনুচিত। যে ব্যক্তি কবরের নিকট তাদের এ সমস্ত কার্যকলাপ দেখবে সে আশ্চর্য জিনিস দেখতে পবে। ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, “যদি আপনি অতিরঞ্জনকারীদের দেখেন যারা কবরের নিকট মেলা লাগায়, তো দেখতে পাবেন তারা গাড়ি-ঘোড়া থেকে অবতরণ করে, যখন দূর থেকে সে স্থান দেখতে পায়। অতঃপর তাদের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কপাল ঠেকায় (সাজদাহ করে), মাটি চুম্বন করে, মাথা খোলা রাখে, শোরগোল করে, এক অপরকে দেখাদেখি করে কাঁদে যার ফলে ক্রন্দনের আওয়াজ শোনা যায় এবং মনে করে তারা হজ্জের চেয়েও অধিক নেকী অর্জন করেছে। এভাবে তারা এমন কারও কাছে ফরিয়াদ জানায় যে না অস্তিত্বদান করতে সক্ষম আর না পুনরাবর্তন ঘটাতে পারঙ্গম। তারা কবরবাসীদের ডাকতে থাকে বহু দূর হতে। তারপর যখন নিকটস্থ হয় তখন কবরের কাছে দুই রাকাত সালাত পড়ে। এরপর মনে করে তারাই নেকীর ভাণ্ডার লাভ করেছে, অথচ যারা এ জাতীয় দু’ কিবলার দিকে সালাত পড়েছে সে কোনো সওয়াব অর্জন করতে সক্ষম হবে না। তাদের দেখতে পাবেন কবরের চতুষ্পার্শে রুকু এবং সাজদারত অবস্থায়, মৃতলোকদের কৃপা এবং সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে। আসলে তাদের হাতে জমা হচ্ছে নিরাশা এবং ব্যর্থতা। আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য বরং শয়তানের জন্য সেথায় অশ্রু ঝরানো হয়। কণ্ঠ উচ্চকিত হয়। মৃত ব্যক্তির নিকট প্রয়োজন চাওয়া হয়, বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া হয়, দারিদ্রতা দূরীকরণের জন্য প্রার্থনা করা হয় এবং অসুস্থতা হতে সুস্থতা কামনা করা হয়। তারপর তাদেরকে দেখবেন কবরের চতুষ্পার্শে তাওয়াফে মনযোগ দিতে, যেন তা বায়তুল হারাম যাকে আল্লাহ করেছেন বরকতপূর্ণ এবং দুই জাহানের জন্য হিদায়াতস্বরূপ। তারপর তারা সেসব কবরকে চুম্বন এবং স্পর্শ করতে লেগে যায়। আপনি কি হাজরে আসওয়াদকে দেখেছেন তার সাথে বায়তুল হারামের অতিথিরা কী করে? (সে সব লোকে কবরের কাছে অনুরূপ কাজটিই করে থাকে) তারপর সেখানে মাটিতে ঘর্ষণ করা হয় সেই সমস্ত কপাল ও গাল, যা আল্লাহ জানেন যে তাঁর দরবারে সাজদার সময় অনুরূপ ঘর্ষণ করা হয় না। অতঃপর তারা কবরের হজ পূর্ণ করে চুল চাঁটে বা কাটে। সেই মূর্তি থেকে পাওয়া অংশ দ্বারা তারা উপকৃত হতে চায়, আসলে তারাই সেটা করে আল্লাহর কাছে যাদের কোনো অংশ নেই। তারা কবর নামক সে প্রতিমার উদ্দেশ্যে কুরবানী পেশ করে। আসলে তাদের সালাত, তাদের উপঢৌকন ও কুরবানী হয় রাব্বুল আলামীন আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে। আপনি তাদের দেখবেন এক অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে, তারা বলে: আল্লাহ আমাদেরকে এবং তোমাদেরকে অধিক ও উত্তম বদলা দিন! আর যখন তারা দেশে ফিরে তখন অনুপস্থিত অতিরঞ্জণকারীরা আবেদন করে, তোমাদের কেউ আছে কি যে কবরের হজকে বায়তুল্লাহর হজের বিনিময়ে বদল করবে? উত্তরে বলা হয়, না, তোমার প্রতি বছরের হজ্জের বিনিময়েও নয় !!!

এটি সংক্ষিপ্ত, আমরা তাদের ব্যাপারে বাড়তি কিছু বলি নি, আর না তাদের সমস্ত বিদ‘আত ও ভ্রষ্টতার পূর্ণ বর্ণনা দিয়েছি। আসলে সেগুলো তো বিবেক ও কল্পনায় যা আসে না তারও বাইরে।”[35]

এই সমস্ত বিপথগামী পথভ্রষ্টদের আক্কেল কোথায় হারিয়ে গেছে! কী আশ্চর্য! তারা তাদের নিজেদের মত বান্দাদের ইবাদতে লিপ্ত হয়েছে, তাদের মহান প্রতিপালকের ইবাদত ছেড়ে বসেছে। অথচ আল্লাহ বলেন,

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ عِبَادٌ أَمۡثَالُكُمۡۖ فَٱدۡعُوهُمۡ فَلۡيَسۡتَجِيبُواْ لَكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ ١٩٤﴾ [الاعراف: ١٩٤]

“আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা তো তোমাদেরই ন্যায় বান্দা। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাকতে থাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৯৪]

তারা আল্লাহর সম্পর্কে যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র এবং যা শির্ক করে তা থেকে তিনি উর্ধ্বে।

এ প্রকার লোকদের জন্য এবং অন্যান্যদের জন্য এ মহৎ আয়াতটির অধ্যয়ন এবং এর মহান প্রমাণাদির সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করার উদ্দেশ্যে, এই পুস্তিকাটি একটি আহ্বান। এর মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে এ আয়াতে বর্ণিত স্পষ্ট প্রমাণাদি এবং উজ্জ্বল দলীলসমূহের মাধ্যমে সাব্যস্ত তাওহীদ ও ইখলাস সম্পর্কীয় বিধি-বিধান এবং শির্ক ও অংশীদার সাব্যস্ত করা থেকে মুক্ত করণের আহ্বান।

হে আল্লাহ! তোমার হিদায়াতের তাওফীক দান করো! আমাদের আমলকে তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করো! আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দাও! তুমিই প্রার্থনা শ্রবণকারী, তুমিই আশারস্থল, তুমিই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং অতি উত্তম কর্মবিধায়ক।

আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সহচরগণের প্রতি।

আয়াতুল কুরসী ও তাওহীদের প্রমাণ: গ্রন্থকার এ গ্রন্থে আয়াতুল কুরসীর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন, কীভাবে এটি কুরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত হলো তাও ব্যক্ত করা হয়েছে, সাথে সাথে এ আয়াতে তাওহীদের যেসব প্রমাণাদি রয়েছে তাও বিবৃত হয়েছে।

[34] আল-জাওয়াব আল-কাফী ১৬২-১৬৪।
[35] ইগাসাতুল লাহফান ১/২১৩।


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্_সালসাবিল # #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল
#তাওহীদ

🌱✨ **বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী – ২০২৬** ✨🌱পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মানবকল্যাণ এবং সদকায়ে জারিয়ার মহান উদ্দেশ্যে আস্-সালসাবিল ফা...
19/05/2026

🌱✨ **বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী – ২০২৬** ✨🌱

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মানবকল্যাণ এবং সদকায়ে জারিয়ার মহান উদ্দেশ্যে আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন আয়োজন করতে যাচ্ছে **বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী – ২০২৬** ইনশাআল্লাহ। 🤲

🌳 **যেসব বৃক্ষ রোপণ করা হবে:**
🥭 আম গাছ
🍈 লিচু গাছ
🍃 কাঠাল গাছ
🌿 আমড়া গাছ
🍏 বেল গাছ
🥥 নারিকেল গাছ
🫒 জলপাই গাছ
ও অন্যান্য।

📍 **স্থান:**
দামোদপুর বায়তুন নূর এতিমখানা
তালুককানুপুর, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

📅 **তারিখ:**
৩০/০৫/২০২৬ ইং (শনিবার)

📖 **রাসূল ﷺ বলেন:**
*“যখন কোনো মুসলিম গাছ লাগায় অথবা কোনো ফসল বোনে, আর মানুষ ও পশুপাখি তা থেকে খায়, এটা রোপণকারীর জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।”*
— সহিহ বুখারি: ২৩২০

🌱 আসুন, একটি গাছ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ ও মানবতার কল্যাণে অংশগ্রহণ করি এবং সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব অর্জন করি।

💳 **অনুদান পাঠাতে:**
📱 01717136456
মোঃ শাকিল আহমেদ
(প্রকল্প পরিচালক)

✨ **আয়োজনে:**
আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন

#বৃক্ষরোপণ_কর্মসূচী #গাছ_লাগান #সদকায়ে_জারিয়া

🌙✨ ঈদ সামগ্রী বিতরণ – ঈদ-উল আযহা ২০২৬ ✨🌙পবিত্র ঈদ-উল আযহা ২০২৬ উপলক্ষে আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে দুস্থ, অসহায় ও ...
16/05/2026

🌙✨ ঈদ সামগ্রী বিতরণ – ঈদ-উল আযহা ২০২৬ ✨🌙

পবিত্র ঈদ-উল আযহা ২০২৬ উপলক্ষে আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে দুস্থ, অসহায় ও অভাবী মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ।

সদকায়ে জারিয়া ও সদকাভিত্তিক এই কল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, অসহায় মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি। 🤲

📦 প্রতি প্যাকেজে সম্ভাব্য উপকরণ:
🍚 চিনিগুড়া চাল
🛢 তেল
🧅 পেয়াজ
🧄 আদা/রসুন
🌶 মসলা

💰 প্রতি প্যাকেজের সম্ভাব্য মূল্য: ৪৫০ টাকা

📖 আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তোমরা কখনো পূর্ণ নেকী অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।”
— সূরা আলে ইমরান: ৯২

🤝 আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করুন এবং একটি অসহায় পরিবারের ঈদের হাসির কারণ হোন।

📞 যোগাযোগ:
০১৭১৭১৩৬৪৫৬
০১৩৩১৯৫৬৭৫৫

🏢 অফিস:
আনন্দবাজার, মুকুন্দপুর, কোচাশহর, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

📩 মেইল:
[email protected]

📡 Follow Us:
Facebook: As-Salsabil Foundation
YouTube: As Salsabil-TV

✨ সার্বিক তত্ত্বাবধানে:
আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন

া ামগ্রী_বিতরণ #সদকায়ে_জারিয়া ালসাবিল_ফাউন্ডেশন

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।পার্ট ২২সংক্ষিপ্তাকারে তাওহীদের প্রমাণাদি নিম্নরুপ:২১ তম পার্ট এর পর থেকে.........দশম প্রমাণ: ﴿ وَلَ...
09/05/2026

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।
পার্ট ২২
সংক্ষিপ্তাকারে তাওহীদের প্রমাণাদি নিম্নরুপ:
২১ তম পার্ট এর পর থেকে.........

দশম প্রমাণ: ﴿ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَا﴾ (উভয়ের সংরক্ষণে তাঁকে বিব্রত হতে হয় না।):

এটিও আল্লাহর মাহাত্ম্য এবং তাঁর ক্ষমতা ও শক্তির পূর্ণতার বর্ণনা। আমরা ইতোপূর্বে জেনেছি যে, কুরআনে না-সূচক কোনো কিছু শুধু না বলার জন্য ব্যবহৃত হয়না বরং তাতে আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণতার প্রমাণ শামিল হয়। তাঁর বাণী: (وَلَا يَئُودُهُ) লা-ইয়াউদহু-অর্থাৎ তাঁকে চিন্তিত করে না, কাঠিন্যতায় ফেলে না এবং ক্লান্ত করে না। (হিফ্‌ যুহুমা)-উভয়ের সংরক্ষণ- অর্থাৎ আকাশ এবং যমীনের সংরক্ষণ। এতে তাঁর শক্তি ও ক্ষমতার পূর্ণতার প্রমাণ হয় এবং প্রমাণ হয় যে তিনি সংরক্ষক, আকশমণ্ডলী এবং যমীনের সংরক্ষণকারী। যেমন, আল্লাহ বলেন,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ يُمۡسِكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ أَن تَزُولَاۚ وَلَئِن زَالَتَآ إِنۡ أَمۡسَكَهُمَا مِنۡ أَحَدٖ مِّنۢ بَعۡدِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورٗا ٤١﴾ [فاطر: ٤١]

“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ”। [সূরা ফাতির, আয়াত: ৪১]

তিনি আরো বলেন,

﴿وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَن تَقُومَ ٱلسَّمَآءُ وَٱلۡأَرۡضُ بِأَمۡرِهِۦۚ﴾ [الروم: ٢٥]

“তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবীর স্থিতি।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৫] এতেও আল্লাহর প্রতি সমস্ত সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ হয়। তাদের অবস্থান তাঁর নির্দেশে এবং তাদের সংরক্ষণ তাঁর ইচ্ছায়। তাঁর ক্ষমতায় তিনি তাদের ধারক। সৃষ্টির ওপর কর্তব্য হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে তাঁর জন্য ইবাদত করা, তাঁরই উদ্দেশ্যে আনুগত্য খাঁটি করা। শির্ক ও শরীক হতে তাঁকে মুক্তকরণের ব্যাপারে এটি একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। দুর্বল সৃষ্টি এবং লাঞ্ছিত বান্দাকে কেমন করে তার প্রভূ ও স্রষ্টার সমতুল্য নির্ধারণ করা হতে পারে? কিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তি সংরক্ষকের সমতুল্য হতে পারে? সর্বক্ষেত্রে অভাবী, পদদলিত কেমন করে অভাবমুক্ত প্রসংশিতের সমকক্ষ হতে পারে। তাদের শির্ক থেকে তিনি উর্ধ্বে।

ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, “এটা অজ্ঞতা এবং অত্যাচারের শেষ সীমা। কীভাবে মাটিকে মুনিবদের মুনিবের সাথে তুলনা করা হবে? কীভাবে দাসকে মালিকের মতো মনে করা হবে? কেমন করে দুর্বল, সত্তাগতভাবে অক্ষম, সত্তাগতভাবে অভাবী, সত্তাগতভাবে অস্তিত্বহীন হওয়াই যার আসল কথা, সে সত্তাগতভাবে অমুখাপেক্ষী, সত্তাগতভাবে সক্ষম, যার অমুখাপেক্ষিতা, ক্ষমতা, রাজত্ব, তাঁর সত্তার আবশ্যিক অংশ, তার সমকক্ষ হতে পারে? এর চেয়ে জঘন্য যুলুম আর কী হতে পারে? এর চেয়ে মারাত্মক কঠিন যুলুমপূর্ণ বিধান আর কী হতে পারে? যেখানে এমন সত্তাকে তার সৃষ্টির সমকক্ষ সাব্যস্ত করা হচ্ছে যার সমকক্ষ আসলে কেউ নেই। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَجَعَلَ ٱلظُّلُمَٰتِ وَٱلنُّورَۖ ثُمَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بِرَبِّهِمۡ يَعۡدِلُونَ ١﴾ [الانعام: ١]

“সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর জন্য যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আলো ও অন্ধকার; তা সত্ত্বেও কাফিররা অপর জিনিসকে তাদের রবের সমকক্ষ নিরূপণ করছে।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১]

মুশরিকরা সমকক্ষ নির্ধারণ করেছে আকাশ ও যমীন, আলো ও অন্ধকার সৃষ্টিকারীর সাথে এমন কাউকে, যে আকাশ ও যমীনের অনু পরিমাণ কোনো কিছুর, না নিজে মালিক, না অপরের জন্য মালিক। আফসোস এমন সমকক্ষ স্থাপনের, যাতে আছে বড় যুলুম ও বড় জঘন্যতা।[31]

একাদশ এবং দ্বাদশ প্রমাণ: ﴿وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ﴾ (তিনি সুউচ্চ, মহীয়ান):

এ দু’টি তাওহীদের অন্যতম প্রমাণ। এগুলো প্রমাণ করছে যে, তিনি সুবহানাহুই ইবাদাতের হকদার, অন্য কেউ নয়। সমস্ত সৃষ্টির উপরে তাঁর উচ্চতা এবং তাঁর মাহাত্মের পূর্ণাঙ্গতা বর্ণনার মাধ্যমে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আল্লাহ তা‘আলার বাণী (وَهُوَ الْعَلِيُّ) এর মধ্যে বর্ণিত “আলিফ-লাম”টি ইস্তিগরাক তথা সম্পূর্ণবোধক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এটি উচ্চতা বলতে যা বুঝায়, সেরকম সব অর্থকে শামিল করে। যেমন, সত্তাগত উচ্চতা, ক্ষমতাগত উচ্চতা এবং মর্যাদাগত উচ্চতা। (কবি বলেন),

وله العلو من الوجوه جميعها ذاتًا وقهرًا مع علو الشان
অর্থ: তাঁর জন্য উচ্চতা সর্বক্ষেত্রে। অবস্থান ও সত্তাগত, ক্ষমতাসম্পর্কীয়, মর্যাদার উচ্চতাও বটে।

তাই তিনি তাঁর সত্তাসহ উঁচুতে রয়েছেন, সমস্ত সৃষ্টির উর্ধ্বে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ٱلرَّحۡمَٰنُ عَلَى ٱلۡعَرۡشِ ٱسۡتَوَىٰ ٥﴾ [طه: ٥]

“দয়াময় (আল্লাহ) ‘আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্ব-হা, আয়াত: ৫]

তিনি সার্বভৌমত্বের দিক দিয়েও সুউচ্চে। যেমন, আল্লাহ বলেন,

﴿وَهُوَ ٱلۡقَاهِرُ فَوۡقَ عِبَادِهِۦۚ﴾ [الانعام: ١٨]

“তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৮]

তিনি তাঁর সম্মানের দিক দিয়েও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। যেমন, আল্লাহ বলেন,

﴿وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦ﴾ [الزمر: ٦٧]

“তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না।’ [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৭]

এটি তাওহীদের প্রমাণাদির মধ্যে একটি বৃহৎ প্রমাণ এবং শির্কের খণ্ডন। এ কারণে আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেন,

﴿ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ هُوَ ٱلۡبَٰطِلُ وَأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡكَبِيرُ ٦٢﴾ [الحج: ٦٢]

“এ জন্যেও যে, আল্লাহ, তিনিই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে এটা তো অসত্য এবং আল্লাহ- তিনিই তো সমুচ্চ, মহান।” [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৬২]

এবং তাঁর বাণী: (الْعَظِيم) এতে তাঁর মহত্বের প্রমাণ হয় এবং প্রমাণ হয় যে, তাঁর চেয়ে মহান আর কিছু নেই। আরও প্রমাণ হয় যে, মাখলুকের মর্যাদা, সে যত বড়ই হোক না কেন, তার অবস্থা এতই হীন যে তার সাথে মহান সৃষ্টিকর্তা এবং অস্তিত্বে আনয়নকারীর মহত্বের তুলনা করা যায় না।

হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

«الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي، فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا، قَذَفْتُهُ فِي النَّارِ»

“অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার লুঙ্গি, যে ব্যক্তি উভয়ের মধ্যে কোনো একটি নেওয়ার চেষ্টা করবে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব”।[32]

এই নামের সাথে সম্পর্কিয় উপাসনাদির মধ্যে হচ্ছে বান্দা যেন তাঁর রবের সম্মান করে, তাঁর সামনে হীনতা অবলম্বন করে এবং তাঁর মহান সান্নিধ্যের উদ্দেশ্যে নম্রতা প্রকাশ করে। বিনয় নম্রতা এবং আনুগত্য কেবল তাঁরই জন্য করে। কিছু লোককে শয়তান ধোকা দিয়েছে তারা এই সত্যকে বদলে দিয়েছে এবং স্পষ্ট শির্কে নিমজ্জিত হয়েছে এবং শয়তানকে আল্লাহর সম্মানের আসনে বসিয়েছে। তারা বলছে: আল্লাহ তা‘আলা মহান মহিয়ান। তাঁর নৈকট্য, মধ্যস্থতাকারী, সুপারিশকারী, নিকটবর্তীকারী উপাস্য ছাড়া লাভ করা যেতে পারে না। আসলে কোনো বাতিলপন্থীই তার বাতিলের প্রচার-প্রসার ঘটাতে পারে না যতক্ষণ না সে বাতিলকে সত্যের মোড়কে পেশ করে।

আবদুর রহমান ইবন মাহদী রাহিমাহুল্লাহর কাছে জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়ের কথা বলা হলো যে, তারা আল্লাহ তা‘আলার গুণ সম্পর্কীয় হাদীসগুলোকে অস্বীকার করে এবং বলে: এই ধরনের গুণে গুণান্বিত হওয়া থেকে আল্লাহ তা‘আলা মহান। তখন তিনি বলেন, “এক সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছে সম্মানকে কেন্দ্র করে, তারা বলেছে: আল্লাহ তা‘আলা কিতাব অবতরণ করা কিংবা রাসূল প্রেরণ করা থেকে উর্ধ্বে। তারপর তিনি পড়েন:

﴿وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦٓ إِذۡ قَالُواْ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَىٰ بَشَرٖ مِّن شَيۡءٖ﴾ [الانعام: ٩١]

“এই লোকেরা আল্লাহ তা‘আলার যথাযথ মর্যাদা উপলদ্ধি করে নি। যখন তারা বলেছে, আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কোনো কিছু অবতীর্ণ করেন নি।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৯১], তারপর তিনি (ইবনে মাহদী) বলেন, অগ্নিপুজকরা তো সম্মানকে কেন্দ্র করেই ধ্বংস হয়েছে। তারা বলে: আল্লাহ এটি থেকে মহান যে আমরা তাঁর ইবাদত করব বরং আমরা ইবাদত করব তার যে আমাদের চেয়ে আল্লাহর অধিকতর নিকটবর্তী। তাই তারা সূর্যের ইবাদত করে এবং সাজদাহ করে। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেন:

﴿وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ أَوۡلِيَآءَ مَا نَعۡبُدُهُمۡ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلۡفَىٰٓ﴾ [الزمر: ٣]

“যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে (তারা বলে,) আমরা তো এদের পূজা এজন্যেই করি যে, এরা আমাদেরকে সুপারিশ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দিবে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৩][33]

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সম্বন্ধে এটা তাদের ভ্রান্ত ধারণা, যা তাদেরকে আল্লাহর সাথে শির্ক এবং অংশী স্থাপনে লিপ্ত করেছে। মধ্যস্থতাকারী ও সুপারিশকারী সাব্যস্ত করছে, তারা মনে করছে এ দ্বারা তারা রাব্বুল আলামীনের সম্মানই করছে। বস্তুত সত্যিই যদি তারা তাদের প্রভূ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখত, তবে তারা তাঁর যথার্থ তাওহীদ সাব্যস্ত করতো।

[31] আল-জাওয়াব আল-কাফী ১৫৬।
[32] আহমদ, শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন। হাদীস নং ৫৪০।
[33] আল-হুজ্জাহ, তায়মী-১/৪৪০।

চলবে......


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্_সালসাবিল # #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল
#তাওহীদ

Address

Rangpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when As-Salsabil Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to As-Salsabil Foundation:

Share