As-Salsabil Foundation

As-Salsabil Foundation দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয়ে জান্নাতের পথে।।
(1)

# # # As-Salsabil Foundation-এর পরিচিতি

আস্-সালসাবিল ফাউন্ডেশন হলো একটি অ-রাজনৈতিক, জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

**"যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি যা দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করে, যাতে কখনও লোকসান হবে না।" (সূরা ফাতির: আয়াত ২৯)** - এই আয়াতকে সামনে রেখে আমাদের যাত্রা শুরু।

ফাউন্ডেশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সাদকায়ে

জারিয়া ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের ইহকাল ও পরকালে উপকৃত হওয়ার পথ সুগম করা। আমাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

* মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামিক পাঠাগার স্থাপন।
* দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য যাকাত ও পুনর্বাসন প্রকল্প।
* ইয়াতীম ও গরিব শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠাপোষণ।
* ফ্রি চিকিৎসা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
* দ্বীনী শিক্ষা প্রচারের জন্য সেমিনার ও দারসের আয়োজন।

আমাদের সকল প্রচেষ্টা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত। আপনার দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতায় এই মহৎ কাজগুলো আরও বেগবান হবে, ইনশাআল্লাহ।

**যোগাযোগের ঠিকানা:**
মুকুন্দপুর (কানাইপাড়া), কোচাশহর, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

**যোগাযোগ ও অনুদান:**
**বিকাশ/নগদ:** ০১৭৮০-৬৬৪৬৬০, ০১৭১৭-১৩৬৪৫৬
**ইমেইল:** [email protected]

**আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া:**
**ইউটিউব:** As Salsabil-tv
**ফেসবুক:** As Salsabil Foundation

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।পার্ট ১৮সংক্ষিপ্তাকারে তাওহীদের প্রমাণাদি নিম্নরুপ:১৭ তম পার্ট এর পর থেকে.........পঞ্চম প্রমাণ: ﴿مَن...
26/04/2026

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।
পার্ট ১৮
সংক্ষিপ্তাকারে তাওহীদের প্রমাণাদি নিম্নরুপ:
১৭ তম পার্ট এর পর থেকে.........

পঞ্চম প্রমাণ: ﴿مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ﴾ (কে আছে যে, তাঁর সম্মুখে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে?):

অর্থাৎ তার অনুমতি ব্যতীত কেউই সুপারিশ করতে পারবে না। কারণ, তিনি রাজা। আর তাঁর রাজত্বে তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না, কিছু করতেও পারে না।

﴿قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَٰعَةُ جَمِيعٗا﴾ [الزمر: ٤٤]

(বল! সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ইখতিয়ারে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪৪] তাই এর আবেদন করা যাবে না তাঁর আদেশ ছাড়া। আর না এর দ্বারা ধন্য হওয়া যাবে তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া।

﴿وَلَا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ عِندَهُۥٓ إِلَّا لِمَنۡ أَذِنَ لَهُۥ﴾ [سبا: ٢٣]

“যাকে অনুমতি দেওয়া হয় সে ছাড়া আল্লাহর নিকট কারো সুপারিশ ফলপ্রসু হবে না।” [সূরা সাবা, আয়াত: ২৩]

﴿وَكَم مِّن مَّلَكٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغۡنِي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيۡ‍ًٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ ٢٦﴾ [النجم: ٢٦]

“আকাশসমূহে কত ফিরিশতা রয়েছে! তাদের কোনো সুপারিশ ফলপ্রসু হবে না, যতক্ষণ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট তাকে অনুমতি দেন।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৬]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দিন মাকামে মাহমূদ নামক স্থানে সুাপারিশ করার মর্যাদা লাভ করবেন। তিনি নিজে আরম্ভ করবেন না যতক্ষণে আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশ না হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হবে,

«ارْفَعْ رَأْسَكَ، قُلْ تُسْمَعْ، سَلْ تُعْطَهْ، اشْفَعْ تُشَفَّعْ»

“মাথা উঠাও এবং আবেদন কর, আবেদন গ্রহণ করা হবে। সুপারিশ কর, সুপারিশ কবুল করা হবে”।[25]

অতঃপর জানা দরকার যে, সুপারিশকারীর সুপারিশ সবই লাভ করবে না, বরং তা কেবল মুওয়াহহিদ ও মুখলিসদের জন্য নির্দিষ্ট, মুশরিকদের তাতে কোনো অংশ নেই। সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ فَقَالَ: «لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لاَ يَسْأَلُنِي عَنْ هَذَا الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ القِيَامَةِ، مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ»

“আমি আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞাসা করি: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিনে আপনার সুপারিশের কে বেশি সৌভাগ্যবান হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে আবূ হুরায়রা! আমার মনে হচ্ছে, তোমার পূর্বে এ বিষয় সম্পর্কে কেউ প্রশ্ন করে নি, তুমিই প্রথম প্রশ্ন করেছ, যা হাদীসের প্রতি তোমার লিপ্সার পরিচয়। কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশের সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান সে, যে খাঁটি অন্তরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে”।

ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, ‘আবূ হুরায়রার হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ القِيَامَةِ، مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ» “আমার সুপারিশের সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়েছে” এটি তাওহীদের একটি রহস্য। আর তা হলো, সুপারিশ পাবে সে যে, শুধু আল্লাহর জন্যই ইবাদতকে মুক্ত করবে। যার তাওহীদ পূর্ণ হবে সেই শাফা‘আতের বেশি হকদার হবে। এমন নয় যে শির্ককারীও সুপারিশ লাভ করবে যেমন মুশরিকদের ধারণা”।[26]

সহীহ মুসলিমে আবূ হুরায়য়া রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

«لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ، فَتَعَجَّلَ كُلُّ نَبِيٍّ دَعْوَتَهُ، وَإِنِّي اخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَهِيَ نَائِلَةٌ إِنْ شَاءَ اللهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا»

“প্রত্যেক নবীর একটি গৃহীত দো‘আ আছে। প্রত্যেকেই তা অগ্রিম করেন। আর আমি আমার দো‘আকে কিয়ামতের দিনে সুপারিশস্বরূপ আমার উম্মতের জন্যে গোপন রেখেছি। আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো প্রকার শির্ক না করে মারা যাবে সে ইনশাআল্লাহ তা পাবে”।[27]

আল্লাহর প্রাপ্য অন্যকে দেওয়ার ব্যাপারে মুশরিকদের যে বিশ্বাস, এ প্রমাণে তা বাতিল করা হয়েছে। তাদের ধারণা, এ সকল (উপাস্য) সুপারিশকারী এবং মাধ্যমস্বরূপ। এরা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। আল্লাহ বলেন,

﴿وَيَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمۡ وَلَا يَنفَعُهُمۡ وَيَقُولُونَ هَٰٓؤُلَآءِ شُفَعَٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِ﴾ [يونس: ١٨]

“আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুসমূহেরও ইবাদত করে, যারা তাদের কোনো অপকারও করতে পারে না এবং তাদের কোনো উপকারও করতে পারে না, আর তারা বলে, এরা হচ্ছে আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৮]

তারা আরো বলে:

﴿مَا نَعۡبُدُهُمۡ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلۡفَىٰٓ﴾ [الزمر: ٣]

“আমরা তো এদের পূজা এ জন্যই করি যে, এরা আমাদেরকে সুপারিশ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দিবে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৩]

এ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই মৃত, পাথর, গাছ-পালা এবং অন্যান্যদের উদ্দেশ্যে ইবাদত করা হয়। তাদের নিকট দো‘আ করা হয় এবং কুরবানী ও মান্নত করা হয়। প্রয়োজন পূরণ, বিপদ দুরীকরণ এবং বালা-মুসীবত থেকে পরিত্রানের প্রার্থনা করা হয়। তাদের বিশ্বাস, তারা তাদের আহ্বান শোনে, দো‘আ কবুল করে এবং চাহিদা পূরণ করে। এ সবই শির্ক ও ভ্রষ্টতা। প্রাচীন যুগে ও বর্তমানে সুপারিশের নামে তারা এর অনুশীলন করে আসছে। জানা দরকার, শাফা‘আতের তিনটি অধ্যায় আছে, যা ভ্রষ্ট দল জানে না, আর না হলে না জানার ভান করছে। তা হলো, আল্লাহর আদেশ ব্যতীত কোনো সুপারিশ হবে না। তারই জন্যে সুপারিশ হবে যার কর্ম ও কথার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট। আর আল্লাহ সুবহানাহু তাওহীদবাদী না হলে কারও প্রতি সন্তুষ্ট হন না।

[25]. ফাতহুল মাজীদ ২৪৭ পৃঃ।

[26]. বুখারী হা/৩০১৭।

চলবে......


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্_সালসাবিল # #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।পার্ট ১৭সংক্ষিপ্তাকারে তাওহীদের প্রমাণাদি নিম্নরুপ:১৬ তম পার্ট এর পর থেকে.........তৃতীয় প্রমাণ: ﴿لَا...
22/04/2026

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।
পার্ট ১৭

সংক্ষিপ্তাকারে তাওহীদের প্রমাণাদি নিম্নরুপ:
১৬ তম পার্ট এর পর থেকে.........

তৃতীয় প্রমাণ: ﴿لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ﴾ (তাঁকে না তন্দ্রা আর না ঘুম স্পর্শ করে):

তন্দ্রা বলা হয় ঘুমের পূর্বাবস্থার ঘুম ঘুম ভাবকে। আর ঘুম তো সবার জানা। আল্লাহ তা‘আলা উভয় থেকে পবিত্র, কারণ তিনি পূর্ণ জীবন এবং পূর্ণ রক্ষকের অধিকারী। পক্ষান্তরে মানুষ এবং অন্যান্য সৃষ্টি জীবিত তবে মরণশীল। তাদের জীবনে প্রয়োজন হয় আরাম-বিরামের। কারণ, তারা ক্লান্ত-ব্যথিত হয়। আর ঘুমের কারণেই হচ্ছে ক্লান্ত ও শ্রান্তবোধ করা। তাই মানুষ ক্লান্তির পর ঘুম নিলে আরাম এবং শান্তি পায়। বুঝা গেল, মানুষ তার দুর্বলতা এবং অক্ষমতার কারণে ঘুমের মুখাপেক্ষী। সে ঘুমায়, তন্দ্রা নেয়, ক্লান্ত হয়, শ্রান্ত হয় এবং অসুস্থ হয়। এ রকম যার অবস্থা তার জন্যে কিভাবে ইবাদত করা হবে?

এই তথ্য থেকে একটি নিয়ম স্পষ্ট হয় যে, কুরআনে আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে যা কিছু অস্বীকার করা হয়, তা দ্বারা মহান আল্লাহর পূর্ণতা প্রমাণ হয়। এ স্থানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘুম ও তন্দ্রা অস্বীকার করা হয়েছে, তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবন, তদারকি, ক্ষমতা এবং শক্তির কারণে। আর এ সবকিছুই ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁকে জরুরীভাবে একক করা ও জানার প্রমাণাদি। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

«إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَنَامُ، وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَنَامَ، يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ، يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ عَمَلِ النَّهَارِ، وَعَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ عَمَلِ اللَّيْلِ، حِجَابُهُ النُّورُ لَوْ كَشَفَهُ لَأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ»

“আল্লাহ তা‘আলা ঘুমায় না, আর না ঘুম তাঁকে শোভা পায়। তিনি (নেকী-বদীর) পরিমাপ নীচু করেন এবং উঁচু করেন। রাতের আমল দিনের পূর্বে এবং দিনের আমল রাতের পূর্বে তাঁর নিকট উঠানো হয়। তাঁর পর্দা জ্যোতি, যদি তিনি তা উন্মুক্ত করে দেন, তাহলে তাঁর চেহারার আলো সমস্ত সৃষ্টিকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিবে”।[24] তিনি সুমহান বরকতপূর্ণ।

চতুর্থ প্রমাণ: ﴿لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ﴾ অর্থাৎ আকাশ ও যমীনে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিক তিনি।

তিনি ব্যতীত আকাশ এবং যমীনের কোনো কিছুর কেউই মালিক নয়। অণু পরিমাণেরও মালিক নয়। যেমন, আল্লাহ বলেন,

﴿قُلِ ٱدۡعُواْ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ لَا يَمۡلِكُونَ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا لَهُمۡ فِيهِمَا مِن شِرۡكٖ وَمَا لَهُۥ مِنۡهُم مِّن ظَهِيرٖ ٢٢﴾ [سبا: ٢٢]

“তুমি বল, তোমরা আহ্বান করা তাদেরকে, যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে মা‘বুদ মনে করতে। তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং উভয়ের মধ্যে তাদের কোনো অংশও নেই এবং তাদের কেউ তার সহায়কও নয়।” [সূরা সাবা, আয়াত: ২২]

অর্থাৎ অণু পরিমাণের মালিক নয়, না তো স্বতন্ত্রভাবে আর না অংশী হিসেবে। ইহজীবনে মানুষ ততটুকুরই মালিক যতটুকু আল্লাহ তাকে মালিক করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُلِ ٱللَّهُمَّ مَٰلِكَ ٱلۡمُلۡكِ تُؤۡتِي ٱلۡمُلۡكَ مَن تَشَآءُ وَتَنزِعُ ٱلۡمُلۡكَ مِمَّن تَشَآءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَآءُۖ بِيَدِكَ ٱلۡخَيۡرُۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ ٢٦﴾ [ال عمران: ٢٦]

“তুমি বল, হে রাজ্যাধিপতি আল্লাহ! আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার নিকট হতে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন, যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন; আপনারই হাতে কল্যাণ, নিশ্চয় আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ২৬]

অতঃপর মানুষ ইহজীবনে যা কিছুর মালিক তার পরিণাম দু’য়ের একটি। মৃত্যুকালে হয় তাকে সম্পদ ছেড়ে চলে যেতে হবে, আর না হলে সম্পদই তাকে ছেড়ে বসবে, দূর্যোগ, দূর্ঘটনা বা অনুরূপ কোনো কারণে। সেই বাগান মালীদের ন্যায় যারা প্রভাতে ফল আহরণের কসম খায় এবং ইনশাআল্লাহ বলে না। অতঃপর সেই রাতে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে দূর্যোগ হানা দেয়। ফলে বাগান পুরে ছাই হয়ে যায়। লক্ষ্য করুন! সন্ধাকালে দামী বাগানের মালিক আর প্রভাতকালে নিঃস্ব। তাই মনে রাখা দরকার, বান্দা যা কিছুর মালিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই। তিনি দানকারী, বঞ্চিতকারী, সঙ্কীর্ণকারী, প্রশস্তকারী, নিম্নকারী, উর্ধ্বকারী, সম্মানদাতা এবং লাঞ্ছিতকারী। আদেশ তাঁরই। রাজত্ব তাঁরই। তাই তিনিই ইবাদতের হকদার। কারণ, তার হাতে আছে দেওয়া, না দেওয়া, সম্মান এবং অপমান। তিনি ব্যতীত কেউই কোনো প্রকার ইবাদতের হকদার নয়। বরং তারা সৃষ্টি, তারা বাধ্য এবং তারা স্রষ্টার অধীনস্ত।

যে এই জগতের মালিক নয়। অণু পরিমাণেরও স্বতস্ত্রভাবে মালিক নয়। তাহলে তার উদ্দেশ্যে ইবাদতের হকদার তো তিনি যিনি এই জগতের মহিমান্বিত বাদশাহ, সম্মানিত স্রষ্টা, পরিচালক প্রভূ যার কোনো অংশী নেই।

চলবে......


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্_সালসাবিল # #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।পার্ট ১৬সংক্ষিপ্তাকারে তাওহীদের প্রমাণাদি নিম্নরুপ:প্রথম প্রমাণ: ﴿ٱلۡحَيُّ﴾ (আল্‌ হাইউ) চিরঞ্জীব:আল্...
18/04/2026

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।
পার্ট ১৬

সংক্ষিপ্তাকারে তাওহীদের প্রমাণাদি নিম্নরুপ:

প্রথম প্রমাণ: ﴿ٱلۡحَيُّ﴾ (আল্‌ হাইউ) চিরঞ্জীব:

আল্লাহ তা‘আলাকে ইবাদতের ক্ষেত্রে এক জানার সম্পর্কে এটি স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি পবিত্র চিরঞ্জীব হওয়ার গুণে গুণান্বিত, পূর্ণ জীবনের অধিকারী, অনাদি, যার ধ্বংস এবং পতন নেই, মন্দ এবং ত্রুটিমুক্ত, মহিমান্বিত, পবিত্র আমাদের রব্ব। এটি এমন জীবন যা আল্লাহর পূর্ণ গুণসমূহকে আবশ্যক করে। এ রকম গুণের অধিকারীই ইবাদত, রুকু এবং সাজদাহ পাওয়ার হকদার। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱلۡحَيِّ ٱلَّذِي لَا يَمُوتُ﴾ [الفرقان: ٥٨]

“তুমি নির্ভর কর তাঁর ওপর যিনি চিরঞ্জীব, যার মৃত্যু নেই।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৮]

আর যে জীবিত কিন্তু তার মৃত্যু আছে, কিংবা যে আসলেই মৃত কোনোভাবেই জীবিত নয়, কিংবা যা জড়পদার্থ যার জীবন নেই, এ রকম কোনো কিছুই কোনো প্রকারের ইবাদতের যোগ্য নয়। ইবাদতের যোগ্য তো তিনিই যিনি চিরঞ্জীব, যার মৃত্যু নেই।

দ্বিতীয় প্রমাণ : ﴿ٱلۡقَيُّومُ﴾ (আল্‌ ক্কাইয়্যূম):

অর্থাৎ নিজে স্বয়ং স্বপ্রতিষ্ঠিত, তার সৃষ্টিকে প্রতিষ্ঠাকারী। এই নামের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে মহান আল্লাহর সকল কার্যগত গুণাবলী। আর এটা আমাদেরকে জানাচ্ছে যে, মহান আল্লাহ সকল সৃষ্টিকুল থেকে পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। কারণ তিনি নিজেই নিজের ধারক এবং সৃষ্টি থেকে অমুখাপেক্ষী। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ أَنتُمُ ٱلۡفُقَرَآءُ إِلَى ٱللَّهِۖ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلۡغَنِيُّ ٱلۡحَمِيدُ ١٥﴾ [فاطر: ١٥]

“হে মানবসকল! তোমরা তো আল্লাহর মুখাপেক্ষী, কিন্তু তিনি অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ১৫]

অন্যত্র হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে,

«إِنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغُوا نَفْعِي، فَتَنْفَعُونِي، وَلَنْ تَبْلُغُوا ضَرِّي فَتَضُرُّونِي».

“হে আমার বান্দারা! তোমরা কখনই আমার উপকার করার পর্যায়ে যেতে পারবে না যে আমার উপকার করবে, আবার আমার ক্ষতি করার পর্যায়েও যেতে পারবে না যে আমার ক্ষতি করবে”। সৃষ্টি থেকে আল্লাহ তা‘আলার অমুখাপেক্ষিতা সত্তাগত অমুখাপেক্ষিতা, কোনো বিষয়েই তিনি সৃষ্টির প্রয়োজন বোধ করেন না। সর্বক্ষেত্রে তিনি তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী।

অনুরূপ এই নামটি আমাদের জানাচ্ছে যে, মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং তাদের উপর রয়েছে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। তিনি তাঁর মহান ক্ষমতার মাধ্যমে তাদেরকে সুস্থির রাখছেন। সমস্ত সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী। চোখের পলক পড়া বরাবরও তাঁর থেকে অমুখাপেক্ষী নয়। ‘আরশ, কুরসী, আকাশসমূহ, যমীন, পর্বতরাজি, গাছ-পালা, মানুষ এবং জীব-জন্তু সবই তাঁর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ বলেন,

﴿أَفَمَنۡ هُوَ قَآئِمٌ عَلَىٰ كُلِّ نَفۡسِۢ بِمَا كَسَبَتۡۗ وَجَعَلُواْ لِلَّهِ شُرَكَآءَ قُلۡ سَمُّوهُمۡ﴾ [الرعد: ٣٣]

“তবে কি প্রত্যেক মানুষ যা করে তার যিনি পর্যবেক্ষক, তিনি এদের অক্ষম উপাস্যগুলোর মতো? আর তারা তাঁর জন্য অংশীদার সাব্যস্ত করছে। বলুন, তোমরা সে সব (মনগড়া) অংশীদারের নাম বল” [সূরা আর-রা‘দ, আয়াত: ৩৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ يُمۡسِكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ أَن تَزُولَاۚ وَلَئِن زَالَتَآ إِنۡ أَمۡسَكَهُمَا مِنۡ أَحَدٖ مِّنۢ بَعۡدِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورٗا ٤١﴾ [فاطر: ٤١]

“আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সংরক্ষণ করেন যাতে ওরা স্থানচ্যুত না হয়, তারা স্থানচ্যুত হলে তিনি ব্যতীত কে তাদেরকে সংরক্ষণ করবে? তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ৪১]

তিনি আরো বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ أَنتُمُ ٱلۡفُقَرَآءُ إِلَى ٱللَّهِۖ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلۡغَنِيُّ ٱلۡحَمِيدُ ١٥﴾ [فاطر: ١٥]

“হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তো আল্লাহর মুখাপেক্ষী, কিন্তু আল্লাহ, তিনি অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ১৫]

তিনি আরো বলেন,

﴿وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَن تَقُومَ ٱلسَّمَآءُ وَٱلۡأَرۡضُ بِأَمۡرِهِۦ﴾ [الروم: ٢٥]

“তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও যমীনের স্থিত হওয়া।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৫] এই অর্থের প্রচুর আয়াত বর্ণিত হয়েছে যে, অর্থ বহন করে যে, তিনিই সমগ্র সৃষ্টির এবং সমগ্র জাহানের পরিচালক এবং পরিকল্পনাকারী।

এ দ্বারা জানা যায় যে, মহান আল্লাহ সকল কার্যগত গুণাবলী, যেমন সৃষ্টি করা, রূযী দেওয়া, পুরস্কৃত করা, জীবিত করা, মৃত্যু দেওয়া ইত্যাদি সবই এ (ক্কাইয়ূম) নামের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। কারণ, এটির দাবী হচ্ছে এই যে, তিনিই তার সৃষ্টিকুলকে সুস্থির করেছেন, সৃষ্টি, আহার, জীবন, মৃত্যু এবং পরিচালনার দিক থেকে। যেমনিভাবে মহান আল্লাহর সকল সত্তাগত গুণাবলী, উদাহরণস্বরূপ: শ্রবণ, দর্শন, হাত, জ্ঞান প্রভৃতি তাঁর নাম ‘হাই’ (চিরঞ্জীব) এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়: সমস্ত সুন্দর নামাবলীর উৎস এই দু’টি নাম (আল-হাই ও আল-ক্বাইয়ূম)। এ কারণে ইসলামী মনীষীদের একদল এই দু’টি নামকে ইসমে ‘আযম বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, যাকে মাধ্যম করে বা যার উসীলা দিয়ে দো‘আ করলে দো‘আ কবুল করা হয়, প্রার্থনা করলে প্রার্থনা গ্রহণ করা হয়। আর উভয়ের মর্যাদার কারণে এটি তাওহীদের প্রমাণাদি এবং দলীলাদির গুরুত্বে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাই যার শান-মর্যাদা এই যে, তিনি চিরঞ্জীব, মৃত্যুহীন, ধারক সৃষ্টির পরিচালক, কোনো কিছুই তাঁকে পরাস্ত করতে পারে না। আর না কোনো কিছু্র অস্তিত্ব হতে পারে তাঁর আদেশ ছাড়া। এ রকম গুণের অধিকারীই তো ইবাদতের যোগ্য। অন্য কেউ না। আর তিনি ব্যতীত অন্যের ইবাদত ভ্রষ্টতারই নামান্তর। কারণ, তিনি ব্যতীত অন্য, হয় জড়পদার্থ, যার আসলে জীবন নেই, আর না হলে জীবিত ছিল কিন্তু মারা গেছে কিংবা জীবিত আছে কিন্তু অচিরেই মারা যাবে। আর না কোনো সৃষ্টির হাতে জগতের পরিচালনা ও পরিকল্পনার ক্ষমতা আছে বরং রাজত্ব ও পরিচালনা সবকিছু এক আল্লাহর হাতে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يُولِجُ ٱلَّيۡلَ فِي ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِي ٱلَّيۡلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلّٞ يَجۡرِي لِأَجَلٖ مُّسَمّٗىۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡ لَهُ ٱلۡمُلۡكُۚ وَٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ مَا يَمۡلِكُونَ مِن قِطۡمِيرٍ ١٣ إِن تَدۡعُوهُمۡ لَا يَسۡمَعُواْ دُعَآءَكُمۡ وَلَوۡ سَمِعُواْ مَا ٱسۡتَجَابُواْ لَكُمۡۖ وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ يَكۡفُرُونَ بِشِرۡكِكُمۡۚ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثۡلُ خَبِيرٖ ١٤ ﴾ [فاطر: ١٣، ١٤]

“আর তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো তারা তো খেজুরের আঁটির আবরণেরও অধিকারী নয়। তোমরা তাদেরকে আহ্বান করলে তারা তোমাদের আহ্বান শুনবে না এবং শুনলেও তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিবে না। তোমরা তাদেরকে যে শরীক করেছো তা তারা কিয়ামতের দিন অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞাত ন্যায় কেউই তোমাকে অবহিত করতে পারে না।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ১৩-১৪]

তিনি আরো বলেন,

﴿قُلِ ٱدۡعُواْ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُم مِّن دُونِهِۦ فَلَا يَمۡلِكُونَ كَشۡفَ ٱلضُّرِّ عَنكُمۡ وَلَا تَحۡوِيلًا ٥٦﴾ [الاسراء: ٥٦]

“বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে মা‘বুদ মনে কর তাদেরকে আহ্বান কর; করলে দেখবে তোমাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করার অথবা পরিবর্তন করবার শক্তি নেই।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৫৬]

এবং তিনি বলেন,

﴿وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗ لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡ‍ٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرّٗا وَلَا نَفۡعٗا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتٗا وَلَا حَيَوٰةٗ وَلَا نُشُورٗا ٣﴾ [الفرقان: ٣]

“আর তারা তাঁর পরিবর্তে মা‘বুদরূপে গ্রহণ করেছে অপরকে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের অপকার অথবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না এবং জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের ওপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না।” [সূরা আল-ফুরক্কান, আয়াত: ৩]

এ রকম দুর্বল-অক্ষমদের ইবাদত কীভাবে করা যায়!

চলবে......


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্_সালসাবিল # #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।পার্ট ১৫"কালেমার উদ্দেশ্য শুধু মুখে উচ্চারণ করা নয়"এই কালেমার ফযীলত এবং ইসলামে এর গুরুত্ব, বর্ণনাকার...
14/04/2026

তাওহীদ ও শিরক সিরিজ।
পার্ট ১৫

"কালেমার উদ্দেশ্য শুধু মুখে উচ্চারণ করা নয়"

এই কালেমার ফযীলত এবং ইসলামে এর গুরুত্ব, বর্ণনাকারীর বর্ণনা এবং জ্ঞানীদের জ্ঞানের উর্ধ্বে। বরং এর ফযীলত এবং গুরুত্ব এত বেশি যা, মানুষের মনে এবং অন্তরেও কখনো উদিত হয় নি। তবে মুসলিম ব্যক্তিকে এই স্থানে একটি বড় এবং মহৎ বিষয় জানা উচিৎ, যা এই বিষয়ের মগজ এবং আসল, তা হচ্ছে, এই কালেমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা আছে যা বুঝা জরুরী। কিছু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ আছে যা আয়ত্ব করা প্রয়োজন। জ্ঞানীদের সর্বসম্মত অভিমত হচ্ছে যে, এই কালেমার মানে না বুঝে শুধু মুখে উচ্চারণে কোনো লাভ নেই, অনুরূপভাবে তার চাহিদা অনুযায়ী আমল না করাতেও কোনো উপকার নেই। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا يَمۡلِكُ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ مِن دُونِهِ ٱلشَّفَٰعَةَ﴾ [الزخرف: ٨٦]

“আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের আহ্বান (ইবাদত) করে, তারা সুপারিশের অধিকারী নয়।” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮৬]

আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাস্‌সিরগণ বলেন, অর্থাৎ কিন্তু যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র সাক্ষ্য দেয়। মুখে যা বলে, অন্তরে তা বিশ্বাস করে (শুধু তাদের সাক্ষ্যই উপকারে আসবে)। কারণ, সাক্ষ্যর দাবী হচ্ছে, যার সাক্ষী দেওয়া হচ্ছে তার সম্বন্ধে জ্ঞান রাখা। অজানা বিষয়ে সাক্ষ্য হয় না। অনুরূপ সাক্ষ্যের দাবী হচ্ছে সত্যতা এবং এটির বাস্তবায়ন। বুঝা গেল, এই কালেমার সাথে আমল ও সত্যতার সাথে সাথে এর সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা জরুরী। জ্ঞানের দ্বারাই বান্দা খৃষ্টানদের রীতি-নীতি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে, যারা না জেনে আমল করে। আমলের মাধ্যমে মানুষ ইয়াহূদীদের চরিত্র থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে, যারা জানে তবে আমল করে না। জ্ঞানের দ্বারাই বান্দা মুনাফিকদের চরিত্র থেকে নাজাত পায়, যারা অন্তরে যা আছে, প্রকাশ করে তার বিপরীত। এরপর বান্দা আল্লাহর সরল পথ অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। যাদের প্রতি গযব বর্ষণ করেন নি এবং তারা পথভ্রষ্টও নয়।

সারকথা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য ও লাভজনক হবে যে ব্যক্তি এ কালেমার ইতিবাচক এবং নেতিবাচক অর্থের জ্ঞান রাখে এবং তা বিশ্বাস করে ও আমল করে। যে যবানে বলে এবং বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমল করে কিন্তু অন্তুরে বিশ্বাস করে না সে তো মুনাফিক। আর যে মুখে বলে কিন্তু তার বিপরীত আমল করে শির্ক করে সে তো কাফির। অনুরূপ যে মুখে বলেছে কিন্তু এর কোনো জরুরী বিষয় এবং দাবীসমূহের কোনো কিছু অস্বীকার করার কারণে ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে গেছে, এ কালেমা তার কোনো লাভ দিবে না যদিও সে হাজার বার তা পাঠ করে। অনুরূপ যে তা মুখে বলে অথচ সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্যে কোনো প্রকার ইবাদত করে, তারও কোনো লাভ দিবে না। যেমন, আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দো‘আ-প্রার্থনা করা, যবেহ করা, মান্নত করা, ফরিয়াদ করা, ভরসা করা, দুঃখ কষ্টের সময় প্রত্যাবর্তন করা, আশা-আকাংখা করা, ভয় করা এবং ভালোবাসা ইত্যাদি। তাই যে ব্যক্তি ইবাদতের প্রকারসমূহের কোনো কিছু অন্যের জন্য করল, যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য করা যায় না, সে তো মহান আল্লাহর সাথে শরীক করল, যদিও সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ে থাকে। কারণ, এই কালেমা, তাওহীদ ও ইখলাসের যে দাবী রাখে সে অনুযায়ী সে আমল করল না, যা প্রকৃত পক্ষে এই মহান কালেমার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ।[22]

কারণ, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’এর অর্থ হচ্ছে: কোনো সত্য উপাস্য নেই একজন ব্যতীত, তিনি হচ্ছেন এক আল্লাহ; যার কোনো অংশীদার নেই।’ ‘ইলাহ’ অভিধানিক অর্থে উপাস্যকে বলা হয়। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই। যেমন, আল্লাহ বলেন,

﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيٓ إِلَيۡهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدُونِ ٢٥﴾ [الانبياء: ٢٥]

“আপনার পূর্বে আমরা যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই দিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো (সত্য) উপাস্য নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত কর।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৫] এর সাথে আল্লাহর এই বাণীও ﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ﴾ [النحل: ٣٦] “অবশ্যই আমরা প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি যেন, তারা কেবল আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাগুত বর্জন করে।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬] এ দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, ‘ইলাহ’ এর অর্থ মা‘বুদ (উপাস্য) এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অর্থ কেবল এক আল্লাহর জন্যই ইবাদত সুনিশ্চিত করা এবং তাগুতের ইবাদত থেকে বিরত থাকা। এ কারণে কুরাইশ কাফিরদেরকে যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ উচ্চারণ করতে বলতেন, তখন তারা বলত:

﴿أَجَعَلَ ٱلۡأٓلِهَةَ إِلَٰهٗا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٌ عُجَابٞ ٥﴾ [ص: ٥]

“সে কি বহু মা‘বুদের পরিবর্তে এক মা‘বুদ বানিয়ে নিয়েছে? এতো এক আশ্চার্য ব্যাপার!” [সূরা স-দ, আয়াত: ৫]

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলতে বললে হূদ নবীর কাওম তাকে বলেছিল:

﴿أَجِئۡتَنَا لِنَعۡبُدَ ٱللَّهَ وَحۡدَهُۥ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعۡبُدُ ءَابَآؤُنَا﴾ [الاعراف: ٧٠]

“তুমি কি আমাদের নিকট শুধু এই উদ্দেশ্যে এসেছো, যেন আমরা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করি এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণ যাদের ইবাদত করতো তাদেরকে বর্জন করি?” [সুরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৭০] তারা এটি তখন বলে যখন তাদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর দিকে আহ্বান করা হয়; কারণ তারা জানতো যে, এর অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত সমস্ত উপাসনার অস্বীকার এবং তা কেবল এক আল্লাহর জন্য সাব্যস্তকরণ, কোনো শরীক নেই। তাই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমায় দু’টি বিষয় পরিলক্ষিত। একটি না বাচক আর একটি হ্যাঁ বাচক।

না বাচক হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনার অস্বীকার। তাই আল্লাহ ব্যতীত সবকিছু, ফিরিশতাবর্গ হোক বা নবীগণ, তারা উপাস্য নয়। তাদের কোনো উপাসনা হতে পারে না। এ ছাড়া অন্যরা তো আরও যোগ্য নয়।

আর হ্যাঁ বাচক হচ্ছে, শুধু আল্লাহর উদ্দেশ্যেই ইবাদত সুনিশ্চিতকরণ। বান্দা তিনি ছাড়া আর কারও শরণাপন্ন হবে না। … যেমন, দো‘আ-প্রার্থনা, কুরবানী এবং নযর-মান্নত ইত্যাদি।

কুরআনে কারীমে অনেক প্রমাণ আছে যা, তাওহীদের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অর্থ প্রকাশ করে এবং উদ্দেশ্য বর্ণনা করে। তন্মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿وَإِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ ١٦٣﴾ [البقرة: ١٦٣]

“এবং তোমাদের মা‘বুদ একমাত্র আল্লাহ; সেই সর্বপ্রদাতা করুণাময় ব্যতীত অন্য কোনো মা‘বুদ নেই।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬৩] এবং তাঁর বাণী:

﴿وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ﴾ [البينة: ٥]

“তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনগত্যে বিশুদ্ধ চিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে।” [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫] এবং তাঁর বাণী:

﴿وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوۡمِهِۦٓ إِنَّنِي بَرَآءٞ مِّمَّا تَعۡبُدُونَ ٢٦ إِلَّا ٱلَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُۥ سَيَهۡدِينِ ٢٧ وَجَعَلَهَا كَلِمَةَۢ بَاقِيَةٗ فِي عَقِبِهِۦ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ ٢٨﴾ [الزخرف: ٢٦، ٢٨]

“স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তার পিতা এবং সম্প্রদায়কে বলেছিল: তোমরা যাদের পূঁজা কর তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক আছে শুধু তাঁরই সাথে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সৎ পথে পরিচালিত করবেন। এই ঘোষণাকে সে স্থায়ী বাণীরূপে রেখে গেছে তার পরবর্তীদের জন্যে যাতে তারা (শির্ক থেকে) প্রত্যাবর্তন করে।” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ২৬-২৮]

আল্লাহ তা‘আলা সূরা ইয়াসীনে মুমিন বান্দার ঘটনা বর্ণনায় বলেন,

﴿وَمَا لِيَ لَآ أَعۡبُدُ ٱلَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ٢٢ ءَأَتَّخِذُ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةً إِن يُرِدۡنِ ٱلرَّحۡمَٰنُ بِضُرّٖ لَّا تُغۡنِ عَنِّي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيۡ‍ٔٗا وَلَا يُنقِذُونِ ٢٣ إِنِّيٓ إِذٗا لَّفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ ٢٤﴾ [يس: ٢٢، ٢٤]

“আমার কী হয়েছে যে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে আমি তাঁর ইবাদত করবো না? আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য মা‘বুদ গ্রহণ করবো? দয়াময় (আল্লাহ) আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না। এরূপ করলে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পড়বো।” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ২২-২৪]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿قُلۡ إِنِّيٓ أُمِرۡتُ أَنۡ أَعۡبُدَ ٱللَّهَ مُخۡلِصٗا لَّهُ ٱلدِّينَ ١١ وَأُمِرۡتُ لِأَنۡ أَكُونَ أَوَّلَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ ١٢ قُلۡ إِنِّيٓ أَخَافُ إِنۡ عَصَيۡتُ رَبِّي عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٖ ١٣ قُلِ ٱللَّهَ أَعۡبُدُ مُخۡلِصٗا لَّهُۥ دِينِي ١٤﴾ [الزمر: ١١، ١٤]

“বল: আমি আদিষ্ট হয়েছি, আল্লাহর আনুগত্য একনিষ্ট হয়ে তাঁর এবাদত করতে। আর আদিষ্ট হয়েছি, আমি যেন আত্মসমর্পণকারীদের অগ্রণী হই। বল: আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি মহা দিবসের শাস্তির। বল: আমি ইবাদত করি আল্লাহরই তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ১১-১৪]

আল্লাহ তা‘আলা ফির‘আউনের পরিবারের মুমিন লোকটির ঘটনা বর্ণনা করে বলেন,

﴿وَيَٰقَوۡمِ مَا لِيٓ أَدۡعُوكُمۡ إِلَى ٱلنَّجَوٰةِ وَتَدۡعُونَنِيٓ إِلَى ٱلنَّارِ ٤١ تَدۡعُونَنِي لِأَكۡفُرَ بِٱللَّهِ وَأُشۡرِكَ بِهِۦ مَا لَيۡسَ لِي بِهِۦ عِلۡمٞ وَأَنَا۠ أَدۡعُوكُمۡ إِلَى ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡغَفَّٰرِ ٤٢ لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدۡعُونَنِيٓ إِلَيۡهِ لَيۡسَ لَهُۥ دَعۡوَةٞ فِي ٱلدُّنۡيَا وَلَا فِي ٱلۡأٓخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَآ إِلَى ٱللَّهِ وَأَنَّ ٱلۡمُسۡرِفِينَ هُمۡ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِ ٤٣﴾ [غافر: ٤١، ٤٣]

“হে আমার কাওম, ব্যাপার কি, আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও জাহান্নামের দিকে। তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও, যাতে আমি আল্লাহকে আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্তুকে, যার কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে। এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে আহ্বান কর, ইহকালে ও পরকালে তার কোনো দাওয়াত নেই! আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং সীমালংঘনকারীরাই জাহান্নামী।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৪১-৪৩]

এ মর্মের প্রচুর আয়াত আছে যা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র অর্থ বিশ্লেষণ করে। আর তা হচ্ছে, আল্লাহ ব্যতীত সমস্ত কথিত শরীক ও সুপারিশকারীর ইবাদত থেকে মুক্ত হওয়া এবং কেবল এক আল্লাহর জন্য ইবাদত করা। এটাই হচ্ছে উত্তম তরীকা এবং সত্য দীন, যার কারণে আল্লাহ নবীদের প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ অবতীর্ণ করেছিলেন। শুধু বুলিস্বরূপ মুখে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা, অর্থ না বুঝা, দাবী অনুযায়ী আমল না করা, হয়তবা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্যেও ইবাদতের কিছু অংশ করা; যেমন প্রার্থনা করা, ভয় করা, কুরবানী দেওয়া, নযর-মান্নত ইত্যাদি করা। এরূপ করলে বান্দা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমাওয়ালার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। আর না কিয়ামতের দিনে এটি বান্দাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে।[23]

তাই জেনে রাখা ভালো যে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ শুধু একটি বিশেষ্য নয় যে, যার কোনো অর্থ নেই। আর না শুধু একটি বাক্য যার কোনো সত্যতা নেই। আর না একটি শব্দ যার কোনো মর্ম নেই। যেমন, অনেকের ধারণা। যারা বিশ্বাস করে যে এই কালেমার আসল রহস্য হচ্ছে শুধু মুখে বলা, অন্তরে কোনো প্রকার অর্থের বিশ্বাস ছাড়াই। কিংবা শুধু মুখে উচ্চারণ করা কোনো প্রকারের বুনিয়াদ বা ভিত্তি স্থাপন ছাড়াই। এটা কখনও এই মহান কালেমার মর্যাদা নয়। বরং এটি একটি এমন বিশেষ্য যার আছে মহৎ অর্থ। একটি এমন শব্দ যার আছে উত্তম বিশ্লেষণ যা, সমস্ত বিশ্লেষণ হতে উৎকৃষ্ট। যার মূল কথা, আল্লাহ ব্যতীত সমস্ত কিছুর উপাসনা হতে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করা এবং এক আল্লাহর উপাসনার দিকে মনযোগ দেওয়া, বিনয়-নম্রতার সাথে, লোভ-লালসার সাথে, আশা-ভরসার সাথে এবং দো‘আ-প্রার্থনার সাথে। তাই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ওয়ালা কারো নিকট চাইবে না কিন্তু আল্লাহর কাছে, কারো কাছে ফরিয়াদ জানাবে না কিন্তু আল্লাহর দরবারে, ভরসা করবে না কারো ওপর, কিন্তু আল্লাহর প্রতি; আশা করবে না আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে, কুরবানী-নযরানা পেশ করবে না, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। আর না সে ইবাদতের কোনো অংশ গায়রুল্লাহর জন্যে করবে। সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উপাসনা অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর কাছে সেসব থেকে বিচ্ছেদের ঘোষণা জানাবে।

এটি অবগত হওয়ার পর জানা প্রয়োজন যে, আয়াতুল কুরসীতে তাওহীদের উজ্জ্বল দলীলসমূহ এবং স্পষ্ট প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, ইবাদতের হকদার কেবল তিনি। তিনি আল্লাহ একক, সকলের ওপর বিজয়ী। এই আয়াত উক্ত দলীলসমূহ পরস্পর ক্রমানুসারে একের পর এক এসেছে অত্যন্ত সুন্দর সাবলীলভাবে; যাতে তাওহীদের দলীলসমূহ ভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণিত হয়েছে।

[22]. তাওহীদের মর্মকথা ১১৬ পৃঃ।

[23]. আবুদাউদ হা/৩০৪৩, সনদ ছহীহ।


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্_সালসাবিল # #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল

10/04/2026

তরুণদের চরিত্র গঠনে সঠিক মানহাজে ভূমিকা ।। Dr. Imamuddin bin Abdul Bashir /26






#সঠিক_মানহাজ

#তরুণদের_চরিত্র_গঠন



05/04/2026
[Brief issue of Ayatul Kursi]This prestigious Mubarak verse consists of ten sentences. It describes Allah's Tawheed, His...
27/03/2026

[Brief issue of Ayatul Kursi]

This prestigious Mubarak verse consists of ten sentences. It describes Allah's Tawheed, His honor, greatness and His oneness in fullness and generosity, which verify the protection and sufficiency of its reader. There are five names of the beautiful names of Allah. Even the bud has more quality mention. Ayat started by the reference of His oneness about worship and the cancellation of worship other than Him. Then the full life of Allah is described which is not destroyed. Then His Holy Qayumiyat and the Holder of everything (the Holder of all plans of himself and creation) described it. Then His holiness is described by disabled qualities such as sleep and sleep. And then his vast reign was described. It has been said: All that is in the earth and in the heavens are His servant, in His sovereignty and under Him. The proof of His greatness has been stated that no one in creation can intercede to Him except His command. This comes the proof of the knowledge of the great Allah. His wisdom surrounds everything. He knows what happened in the past, what will happen in the future and what didn't happen, if it was, what would it be. This describes the greatness of Allah Subhanahu by describing the greatness of His creations. Because, the chair which is a creation among the creation, which surrounds the sky and the earth. So how great can be honorable creator and great Lord! This describes his full potential. The identity of his full power is that he has no difficulty in preserving heaven and earth. Then the verse was concluded by the mention of two great names.

Those two names are: 'Aliyu' is the highest, 'Al Azim' is the greatest. These two names have been proved that Allah Ta'ala is the highest in power, honor and power and victory. His greatness is proved by the belief that He alone is the owner of all kinds of greatness and dignity. No one deserves respect, bragging and dignity except him.

This is the short issue of Ayatul Kursi. This is a great verse. It contains great meaning, deep meaning documentary and faithful knowledge that prove the excellence and great dignity of this verse.

মুহতারাম শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান ইবন সা‘দী রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেন, এ মর্যাদাসম্পন্ন আয়াতটি কুরআন মাজীদের সর্বমহান এবং সর্বোত্তম আয়াত। কারণ, এতে বর্ণিত হয়েছে মহৎ বিষয়াদী এবং মহান গুণাবলী। আর এ কারণেই বহু হাদীসে এটি পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং মানুষকে সকাল-সন্ধা, ঘুমানোর সময় এবং ফরয সালাতসমূহের পর পড়তে বলা হয়েছে।

আল্লাহ তা‘আলা নিজ সম্পর্কে বলেন, (লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া) অর্থাৎ তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। তাহলে তিনিই সত্য মা‘বুদ যার জন্যে নির্ধারিত হবে সমস্ত প্রকারের ইবাদত, আনুগত্য এবং উপাসনা। তাঁর অগণিত করুনার কারণে এবং এই কারণে যে, দাসকে তাঁর প্রভূর দাস হওয়া মানায়। তাঁর আদেশাদি পালন করা এবং নিষেধাদি থেকে বিরত থাকা মানায়। তিনি ব্যতীত সব মিথ্যা। তাই তিনি ব্যতীত অন্যের ইবাদত মিথ্যা। কারণ, তিনি ছাড়া সব সৃষ্টি, অক্ষম, নিয়ন্ত্রিত, তাঁরই মুখাপেক্ষী সর্বক্ষেত্রে। তিনি ব্যতীত কেউই কোনো প্রকার ইবাদত পাওয়ার যোগ্য নয়।

আল্লাহ তা‘আলার বাণী (আল্ হাইউল কাইয়ূম): ‘চিরঞ্জীব ও সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী’ এই দু’টি সম্মানীয় নাম কোনো না কোনোরূপে আল্লাহর সকল সুন্দর নামাবলীর ওপর প্রমাণ বহন করে। যেমন, ‘হাই’ তথা চিরঞ্জীব, আর ‘হাই’ তো সেই সত্তাই হতে পারেন, যিনি পূর্ণ জীবনের অধিকারী, সত্তার সমস্ত গুণকে আবশ্যককারী। যেমন শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, ক্ষমতা ইত্যাদি। (আল্ কাইয়্যূম) অর্থাৎ নিজের ধারক এবং অপরের ধারক। এটি তাঁর সমস্ত কর্ম প্রমাণ করে যে, সমস্ত কর্মের গুণে তিনি গুণান্বিত যা তিনি চান। যেমন ‘আরশের উপর উঠা, অবতরণ করা, বাক্যালাপ করা, বলা, সৃষ্টি করা, রুযী দেওয়া, মৃত্যু দেওয়া, জীবিত করা এবং সব প্রকারের পরিকল্পনা করা। এসব কার্যাদি কাইয়ূম শব্দের সাথে সংযুক্ত। এ কারণে কিছু গবেষক বলেছেন: উপরোক্ত নাম দু’টি ইসমে আযম (মহান নাম) যার দ্বারা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে তিনি কবুল করেন এবং চাইলে তিনি দান করেন।

তাঁর পূর্ণ জীবন এবং পূর্ণ ধারক হওয়ার স্বরূপ এই যে, তাঁকে তন্দ্রা এবং নিদ্রা স্পর্শ করে না।

(লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল্ আর্ দ) আকাশ ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁর মালিকানাধীন’। অর্থাৎ তিনি প্রভূ, তিনি ছাড়া অন্য সব দাস। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা পরিকল্পনাকারী, আর বাকী সবকিছু সৃষ্ট, রিযিকপ্রাপ্ত, নিয়ন্ত্রিত, যারা আকাশ এবং যমীনে অণু পরিমাণেরও না নিজের জন্য মালিক, না অপরের জন্য মালিক।

এ কারণে আল্লাহ বলেন, (কে আছে যে, তাঁর কাছে সুপারিশ করবে তাঁর আদেশ ছাড়া?) অর্থাৎ তাঁর আদেশ ব্যতীত তাঁর কাছে কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। সমস্ত সুপারিশের মালিক তিনি। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি রহম করতে চাইবেন, আদেশ করবেন তাকে, যাকে আল্লাহ সম্মান দিতে চাইবেন, যেন সে সেই বান্দার জন্য সুপারিশ করে। তার পরেও সুপারিশকারী আল্লাহর আদেশের পূর্বে সুপারিশ শুরু করবে না।

তার পরে আল্লাহ বলেন, (তিনি অবগত যা তাদের সম্মুখে আছে) অর্থাৎ অতীতের সমস্ত বিষয়। (এবং পশ্চাতে যা আছে) অর্থাৎ ভবিষ্যতে যা কিছু হবে। সব বিষয়ের সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান পূংখানুপূংখরূপে পরিবেষ্টিত। আগের ও পরের, প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য, উপস্থিত এবং অনুপস্থিত সবকিছু। বান্দারা এ সবের মালিক নয় আর না অনু পরিমাণ কোনো ইলমের মালিক। কেবল ততটুকুই যতটুকু আল্লাহ তাদের শিক্ষা দেন।

এ কারণে আল্লাহ বলেন, “তাঁর জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে তারা কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন।” এটি তাঁর মাহাত্ম্যের পূর্ণাঙ্গতা এবং ক্ষমতার ব্যাপকতা প্রমাণ করে। আর এটা যদি কুরসীর অবস্থা হয়, যা মহান আকাশ এবং যমীন এবং উভয়ের মধ্যে অবস্থিত বৃহৎ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করতে সক্ষম, অথচ কুরসী আল্লাহুর সর্ববৃহৎ সৃষ্টি নয়। বরং এর অপেক্ষা বড় সৃষ্টি আছে আর তা হচ্ছে ‘আরশ’। আরও যা কেবল আল্লাহই জানেন। এই সৃষ্টিগুলোর বড়ত্বতা সম্পর্কে চিন্তা করলে মানুষ হতভম্ব হয়ে যায়। দৃষ্টি শক্তি দুর্বল হয়ে যায়, পাহাড় কম্পিত হয় এবং বীরপুরুষ কাপুরুষ হয়ে পড়ে। তাহলে তিনি কত মহান যিনি এ সবের সৃষ্টিকর্তা, আবিষ্কারক! যিনি এতে রেখেছেন কত তত্ত্ব কত রহস্য! যিনি আকাশ এবং যমীনকে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করেন বিনা কষ্টে বিনা শ্রান্তে।

এই কারণে আল্লাহ বলেন, (ওয়ালা ইয়াউদুহু) অর্থাৎ বিনা শ্রান্তে। (উভয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করেন)।

আর (তিনি সর্বোচ্চ) তাঁর সত্তায় তিনি আরশের উপর, ক্ষমতার মাধ্যমে তিনি সমস্ত সৃষ্টির ওপর, অনুরূপভাবে মর্যাদার দিক থেকেও তিনি সবার উপরে, তাঁর গুণসমূহের পূর্ণাঙ্গতার কারণে।

(আল্ আযীম) সর্বাপেক্ষা মহান। যার মহানতার কাছে অত্যাচারীর অত্যাচার দুর্বল। যার মর্যাদার সামনে শক্তিশালী বাদশাহদের মর্যাদা ক্ষীণ। পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁরই যিনি মহান মহত্বের মালিক, পূর্ণ অহংকারের মালিক এবং প্রত্যেক বস্তুর প্রতি জয়-বিজয়ের মালিক।”[20]

Ibn Qasir Rahemahullah said in his tafsir, "There are ten sentences in this verse (Ayatul Kursi).. ” . Then he started analyzing the interpretation of them. It would be good to read Tafseer and other Tafseer books for explanation and accurate proof of this Mubarak verse.

এই বরকতপূর্ণ আয়াতের প্রমাণাদিকে কেন্দ্র করে নিম্নে তাওহীদের দলীলসমূহ এবং মহৎ সহায়ক বিষয়াদির কিছু বর্ণনা দেওয়া হলো: তাওহীদ সাব্যস্ত করণার্থে এবং তাওহীদের সহায়ক বিষয়াদী বর্ণনার্থে।

[The beginning words of the verse]

এই বরকতপূর্ণ আয়াতটি চিরন্তন তাওহীদের বাক্য দ্বারা প্রারম্ভ করা হয়েছে (মহান আল্লাহ তিনিই যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এটি একটি মহান বাক্য, বরং সর্বাপেক্ষা মহান বাক্য। যার কারণে আকাশ-যমীন দণ্ডায়মান। যার কারণে সৃষ্টি হয় সমস্ত সৃষ্টি হয় । যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে রাসূলদের প্রেরণ করা হয়েছিল এবং আসমান হতে কিতাবসমূহ অবতরণ করা হয়েছিল। যার কারণে নেকী-বদীর পরিমাপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আমলনামা রাখা হয়েছে এবং জান্নাত-জাহান্নাম নির্মিত হয়েছে। এর কারণেই আল্লাহর বান্দা মুমিন এবং কাফিরে বিভক্ত হয়েছে। যার প্রতিষ্ঠিত করণের উদ্দেশ্যে কিবলা নির্মিত হয়েছে এবং মিল্লাতের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। এটি আল্লাহ তা‘আলার হক সমস্ত বান্দাদের প্রতি। ইসলামের কালেমা এবং জান্নাত তথা শান্তির বাসস্থানের চাবি। এটি তাক্কওয়ার কালেমা এবং সুদৃঢ় হাতল। এটি ইখলাসের কালেমা এবং হক্কের সাক্ষী, হক্কের আহ্বান এবং শির্ক থেকে মুক্তির ডাক। এটি সর্বোত্তম নি‘আমত এবং উৎকৃষ্ট উপহার ও মিনতি।

সুফিয়ান ইবন উয়াইনাহ বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা কোনো বান্দার ওপর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর জ্ঞান দিয়ে যে নে‘আমত দান করেছেন, তার চেয়ে বড় আর কোনো নে‘আমত প্রদান করেন নি।[21]

People before and after will be asked about this Kalema on the Day of Judgment. Adam's son's footsteps cannot move before Allah until they are asked two things. There is one, whom do you worship? The other one is, how much did you respond to the call of the Prophet?

Answer to the first: Kalemaye Tawheed establishing it by knowing, accepting and acting in reality. Answer to the second: 'Indeed Muhammad is the Messenger of Allah'. This testimony is known well, recognize and implement it through loyalty and following.

[20]. Fahul Majid 252 pages in Muslims' ceremony.
[21]. Tawheed Poetry 117 page.


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্-সালসাবিল #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল #গাইবান্ধা

[আয়াতুল কুরসীর সংক্ষিপ্ত বিষয়াদি]

এই মর্যাদা সম্পন্ন মুবারক আয়াতটি দশটি বাক্য দ্বারা গঠিত। এতে আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর সম্মান, মাহাত্ম্য এবং পূর্ণাঙ্গতা ও মহানুভবতার ক্ষেত্রে তাঁর একত্বের বর্ণনা হয়েছে যা, এর পাঠকারীর রক্ষা ও যথেষ্টতা সত্যায়িত করে। এতে আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর নামসমুহের পাঁচটি নাম আছে। কুঁড়িটিরও অধিক গুণের উল্লেখ আছে। ইবাদতের ব্যাপারে তাঁর একত্বের বর্ণনা এবং তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য বাতিল, এর উল্লেখ দ্বারা আয়াত শুরু করা হয়েছে। তারপর আল্লাহর পূর্ণ জীবনের বর্ণনা করা হয়েছে যার ধ্বংস নেই। তারপর তাঁর পবিত্র কাইয়ুমিয়্যাত তথা সবকিছুর ধারক (নিজের ও সৃষ্টির যাবতীয় পরিকল্পনার ধারক) এটি বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর অক্ষম গুণাবলী হতে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করা হয়েছে যেমন তন্দ্রা এবং ঘুম। অতঃপর তাঁর প্রশস্ত রাজত্বের বর্ণনা হয়েছে। বলা হয়েছে: ভুমণ্ডলে ও নভোমণ্ডলে যা কিছু আছে সবই তাঁর দাস, তাঁর সার্বভৌমত্বে ও তাঁর অধীনে। তাঁর মহানতার প্রমাণস্বরূপ বলা হয়েছে যে, সৃষ্টির কেউই তাঁর আদেশ ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারবে না। এতে মহান আল্লাহর জ্ঞানের গুণের প্রমাণ এসেছে। তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টিত। তিনি জানেন অতীতে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে যা হবে এবং যা হয় নি, যদি হত, তো কেমন হত। এতে আল্লাহ সুবহানাহুর মহানতার বর্ণনা হয়েছে তাঁর সৃষ্টিসমূহের বড়ত্বের বর্ণনার মাধ্যমে। কারণ, কুরসী যেটি সৃষ্টিজগতের মধ্যে একটি সৃষ্টি, যা আকাশ ও যমীনকে পরিব্যপ্ত করে আছে। তাহলে সম্মানীয় স্রষ্টা এবং মহান প্রভূ কত মহান হতে পারেন! এতে তাঁর পূর্ণ ক্ষমতার বর্ণনা হয়েছে। তাঁর পূর্ণ ক্ষমতার পরিচয় এই যে, আকাশ এবং যমীনের সংরক্ষণে তাঁর কোনো অসুবিধা হয় না। অতঃপর দু’টি মহান নামের উল্লেখের মাধ্যমে আয়াতের সমাপ্তি করা হয়েছে।

সে দু’টি নাম হচ্ছে: ‘আল্‌ ‘আলিইউ’ সর্বোচ্চ, ‘আল্‌ আযীম’ সর্বমহান। এই দু’টি নাম দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার সত্তা, সম্মান ও ক্ষমতা এবং বিজয়ের দিক থেকে সর্বোচ্চে থাকার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মহত্বের প্রমাণ হয় এ বিশ্বাসের মাধ্যমে যে, সর্বপ্রকার মাহাত্ম্য এবং মর্যাদার মালিক কেবল তিনি। তিনি ব্যতীত আর কেউই সম্মান, বড়াই এবং মর্যাদার হকদার নয়।

এই হচ্ছে আয়াতুল কুরসীর সংক্ষিপ্ত বিষয়াদি। এটি একটি মহান আয়াত। এতে আছে মহান অর্থ, গভীর অর্থের দলীল-প্রমাণাদি এবং ঈমানী জ্ঞানসমূহ যা, এই আয়াতের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সুমহান মর্যাদা প্রমাণ করে।

মুহতারাম শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান ইবন সা‘দী রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেন, এ মর্যাদাসম্পন্ন আয়াতটি কুরআন মাজীদের সর্বমহান এবং সর্বোত্তম আয়াত। কারণ, এতে বর্ণিত হয়েছে মহৎ বিষয়াদী এবং মহান গুণাবলী। আর এ কারণেই বহু হাদীসে এটি পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং মানুষকে সকাল-সন্ধা, ঘুমানোর সময় এবং ফরয সালাতসমূহের পর পড়তে বলা হয়েছে।

আল্লাহ তা‘আলা নিজ সম্পর্কে বলেন, (লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া) অর্থাৎ তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। তাহলে তিনিই সত্য মা‘বুদ যার জন্যে নির্ধারিত হবে সমস্ত প্রকারের ইবাদত, আনুগত্য এবং উপাসনা। তাঁর অগণিত করুনার কারণে এবং এই কারণে যে, দাসকে তাঁর প্রভূর দাস হওয়া মানায়। তাঁর আদেশাদি পালন করা এবং নিষেধাদি থেকে বিরত থাকা মানায়। তিনি ব্যতীত সব মিথ্যা। তাই তিনি ব্যতীত অন্যের ইবাদত মিথ্যা। কারণ, তিনি ছাড়া সব সৃষ্টি, অক্ষম, নিয়ন্ত্রিত, তাঁরই মুখাপেক্ষী সর্বক্ষেত্রে। তিনি ব্যতীত কেউই কোনো প্রকার ইবাদত পাওয়ার যোগ্য নয়।

আল্লাহ তা‘আলার বাণী (আল্‌ হাইউল কাইয়ূম): ‘চিরঞ্জীব ও সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী’ এই দু’টি সম্মানীয় নাম কোনো না কোনোরূপে আল্লাহর সকল সুন্দর নামাবলীর ওপর প্রমাণ বহন করে। যেমন, ‘হাই’ তথা চিরঞ্জীব, আর ‘হাই’ তো সেই সত্তাই হতে পারেন, যিনি পূর্ণ জীবনের অধিকারী, সত্তার সমস্ত গুণকে আবশ্যককারী। যেমন শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, ক্ষমতা ইত্যাদি। (আল্‌ কাইয়্যূম) অর্থাৎ নিজের ধারক এবং অপরের ধারক। এটি তাঁর সমস্ত কর্ম প্রমাণ করে যে, সমস্ত কর্মের গুণে তিনি গুণান্বিত যা তিনি চান। যেমন ‘আরশের উপর উঠা, অবতরণ করা, বাক্যালাপ করা, বলা, সৃষ্টি করা, রুযী দেওয়া, মৃত্যু দেওয়া, জীবিত করা এবং সব প্রকারের পরিকল্পনা করা। এসব কার্যাদি কাইয়ূম শব্দের সাথে সংযুক্ত। এ কারণে কিছু গবেষক বলেছেন: উপরোক্ত নাম দু’টি ইসমে আযম (মহান নাম) যার দ্বারা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে তিনি কবুল করেন এবং চাইলে তিনি দান করেন।

তাঁর পূর্ণ জীবন এবং পূর্ণ ধারক হওয়ার স্বরূপ এই যে, তাঁকে তন্দ্রা এবং নিদ্রা স্পর্শ করে না।

(লাহু মা ফিস্‌ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল্‌ আর্‌দ) আকাশ ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁর মালিকানাধীন’। অর্থাৎ তিনি প্রভূ, তিনি ছাড়া অন্য সব দাস। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা পরিকল্পনাকারী, আর বাকী সবকিছু সৃষ্ট, রিযিকপ্রাপ্ত, নিয়ন্ত্রিত, যারা আকাশ এবং যমীনে অণু পরিমাণেরও না নিজের জন্য মালিক, না অপরের জন্য মালিক।

এ কারণে আল্লাহ বলেন, (কে আছে যে, তাঁর কাছে সুপারিশ করবে তাঁর আদেশ ছাড়া?) অর্থাৎ তাঁর আদেশ ব্যতীত তাঁর কাছে কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। সমস্ত সুপারিশের মালিক তিনি। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি রহম করতে চাইবেন, আদেশ করবেন তাকে, যাকে আল্লাহ সম্মান দিতে চাইবেন, যেন সে সেই বান্দার জন্য সুপারিশ করে। তার পরেও সুপারিশকারী আল্লাহর আদেশের পূর্বে সুপারিশ শুরু করবে না।

তার পরে আল্লাহ বলেন, (তিনি অবগত যা তাদের সম্মুখে আছে) অর্থাৎ অতীতের সমস্ত বিষয়। (এবং পশ্চাতে যা আছে) অর্থাৎ ভবিষ্যতে যা কিছু হবে। সব বিষয়ের সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান পূংখানুপূংখরূপে পরিবেষ্টিত। আগের ও পরের, প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য, উপস্থিত এবং অনুপস্থিত সবকিছু। বান্দারা এ সবের মালিক নয় আর না অনু পরিমাণ কোনো ইলমের মালিক। কেবল ততটুকুই যতটুকু আল্লাহ তাদের শিক্ষা দেন।

এ কারণে আল্লাহ বলেন, “তাঁর জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে তারা কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন।” এটি তাঁর মাহাত্ম্যের পূর্ণাঙ্গতা এবং ক্ষমতার ব্যাপকতা প্রমাণ করে। আর এটা যদি কুরসীর অবস্থা হয়, যা মহান আকাশ এবং যমীন এবং উভয়ের মধ্যে অবস্থিত বৃহৎ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করতে সক্ষম, অথচ কুরসী আল্লাহুর সর্ববৃহৎ সৃষ্টি নয়। বরং এর অপেক্ষা বড় সৃষ্টি আছে আর তা হচ্ছে ‘আরশ’। আরও যা কেবল আল্লাহই জানেন। এই সৃষ্টিগুলোর বড়ত্বতা সম্পর্কে চিন্তা করলে মানুষ হতভম্ব হয়ে যায়। দৃষ্টি শক্তি দুর্বল হয়ে যায়, পাহাড় কম্পিত হয় এবং বীরপুরুষ কাপুরুষ হয়ে পড়ে। তাহলে তিনি কত মহান যিনি এ সবের সৃষ্টিকর্তা, আবিষ্কারক! যিনি এতে রেখেছেন কত তত্ত্ব কত রহস্য! যিনি আকাশ এবং যমীনকে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করেন বিনা কষ্টে বিনা শ্রান্তে।

এই কারণে আল্লাহ বলেন, (ওয়ালা ইয়াউদুহু) অর্থাৎ বিনা শ্রান্তে। (উভয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করেন)।

আর (তিনি সর্বোচ্চ) তাঁর সত্তায় তিনি আরশের উপর, ক্ষমতার মাধ্যমে তিনি সমস্ত সৃষ্টির ওপর, অনুরূপভাবে মর্যাদার দিক থেকেও তিনি সবার উপরে, তাঁর গুণসমূহের পূর্ণাঙ্গতার কারণে।

(আল্‌ আযীম) সর্বাপেক্ষা মহান। যার মহানতার কাছে অত্যাচারীর অত্যাচার দুর্বল। যার মর্যাদার সামনে শক্তিশালী বাদশাহদের মর্যাদা ক্ষীণ। পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁরই যিনি মহান মহত্বের মালিক, পূর্ণ অহংকারের মালিক এবং প্রত্যেক বস্তুর প্রতি জয়-বিজয়ের মালিক।”[20]

ইব্‌নে কাসীর রাহেমাহুল্লাহ তাঁর তফসীরে বলেন, “ এই আয়াতে (আয়াতুল কুরসী) দশটি বাক্য আছে..” । তারপর তিনি সে গুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শুরু করেন। এই মুবারক আয়াতটির ব্যাখ্যা এবং নির্ভুল প্রমাণাদি জানার জন্যে এর তাফসীর এবং অন্যান্য তাফসীরের বই পাঠ করা ভালো হবে।

এই বরকতপূর্ণ আয়াতের প্রমাণাদিকে কেন্দ্র করে নিম্নে তাওহীদের দলীলসমূহ এবং মহৎ সহায়ক বিষয়াদির কিছু বর্ণনা দেওয়া হলো: তাওহীদ সাব্যস্ত করণার্থে এবং তাওহীদের সহায়ক বিষয়াদী বর্ণনার্থে।

[আয়াতটির শুরু কথা]

এই বরকতপূর্ণ আয়াতটি চিরন্তন তাওহীদের বাক্য দ্বারা প্রারম্ভ করা হয়েছে (মহান আল্লাহ তিনিই যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এটি একটি মহান বাক্য, বরং সর্বাপেক্ষা মহান বাক্য। যার কারণে আকাশ-যমীন দণ্ডায়মান। যার কারণে সৃষ্টি হয় সমস্ত সৃষ্টি হয় । যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে রাসূলদের প্রেরণ করা হয়েছিল এবং আসমান হতে কিতাবসমূহ অবতরণ করা হয়েছিল। যার কারণে নেকী-বদীর পরিমাপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আমলনামা রাখা হয়েছে এবং জান্নাত-জাহান্নাম নির্মিত হয়েছে। এর কারণেই আল্লাহর বান্দা মুমিন এবং কাফিরে বিভক্ত হয়েছে। যার প্রতিষ্ঠিত করণের উদ্দেশ্যে কিবলা নির্মিত হয়েছে এবং মিল্লাতের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। এটি আল্লাহ তা‘আলার হক সমস্ত বান্দাদের প্রতি। ইসলামের কালেমা এবং জান্নাত তথা শান্তির বাসস্থানের চাবি। এটি তাক্কওয়ার কালেমা এবং সুদৃঢ় হাতল। এটি ইখলাসের কালেমা এবং হক্কের সাক্ষী, হক্কের আহ্বান এবং শির্ক থেকে মুক্তির ডাক। এটি সর্বোত্তম নি‘আমত এবং উৎকৃষ্ট উপহার ও মিনতি।

সুফিয়ান ইবন উয়াইনাহ বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা কোনো বান্দার ওপর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর জ্ঞান দিয়ে যে নে‘আমত দান করেছেন, তার চেয়ে বড় আর কোনো নে‘আমত প্রদান করেন নি।[21]

কিয়ামত দিবসে এই কালেমার সম্পর্কে পূর্বের ও পরের লোকদের জিজ্ঞাসা করা হবে। আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহর সম্মুখে ততক্ষণ নড়া-চড়া করতে পারে না যতক্ষণ না তাদেরকে দু’টি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। একটি হচ্ছে, তোমরা কার ইবাদত করতে? অপরটি হচ্ছে, নবী-রাসূলদের আহ্বানে তোমরা কতখানি সাড়া দিয়েছিলে?

প্রথমটির উত্তর: কালেমায়ে তাওহীদ ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’কে জেনে, স্বীকার করে এবং বাস্তবে আমল করার মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত করা। দ্বিতীয়টির উত্তর: ‘অবশ্যই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’। এই সাক্ষ্য ভালোভাবে জেনে, স্বীকৃতি দান করে এবং আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা।

[20]. মুসলিম এর সনদে ফাহুল মাজীদ ২৫২ পৃঃ।
[21]. তাওহীদ মর্মকথা ১১৭ পৃঃ।


#ইসলামিক #কনফারেন্স #আস্_সালসাবিল # #সুধী #আলহামদুলিল্লাহ #গোবিন্দগঞ্জ #কনফারেন্সের #সালসাবিল #গাইবান্ধা

Address

Rangpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when As-Salsabil Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to As-Salsabil Foundation:

Share