Dawah Rajshahi

Dawah Rajshahi যুব সমাজ কে আল্লাহ্‌র রশিতে ঐক্যবদ্ধ করতে আমাদের পথচলা

23/03/2026

আসসালামু আলাইকুম। আমাদের উদ্দেশ্য সৎ হইলে আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট ইনশা আল্লাহ্। ইসলাম শুধুই ব্যক্তিগত ইবাদতের করার ধর্ম নয়, সাথে এটি দাওয়াতী ধর্ম তথা সকল কে নিয়ে পালনীয় ধর্ম। রাসূল সাঃ বলেন, “তোমাদের মধ্যে উত্তম ওই ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়”।
বন্ধুগণ,ভাইগণ, সহযোদ্ধগণ চলেন ঘুম থেকে উঠে আমরা একইসাথে জ্ঞান অর্জনে ও আল্লাহর হুকুম পালন মশগুল হয়ে যাই।
দাওয়াতী কাজ কে টাইম পাস ও ফ্যান্টাসি হিসেবে না নিয়ে সিরিয়াসলি নেই। যেহেতু আমাদের সৃষ্টি আল্লাহর ইচ্ছায় , আমাদের মৃত্যু আল্লাহর ইচ্ছায়, আমাদের অস্তিত্ব আল্লাহর ইচ্ছায় কাজেই আমাদের জীবনটা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী অতিবাহিত করবো এইটাতো স্বাভাবিক হওয়ার কথা। আর আমাদের ইচ্ছামত জীবন যাপনে রয়েছে দুনিয়ায় অপমান,দুর্দশা আর শেষবিচার পর জাহান্নামের আগুনের দহন পক্ষান্তরে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে দুনিয়ায় আছে সম্মান,শান্তি আর শেষ বিচারের পর জান্নাতে চিরকালীন সুখ ও সন্তুষ্টি যা আল্লাহর ওয়াদা।
وَّ تَوَكَّلۡ عَلَی اللّٰهِ ؕ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیۡلًا
'আর তুমি আল্লাহর ওপর নির্ভর করো, কর্ম সম্পাদনে আল্লাহই যথেষ্ট।' (সূরা আহযাব: ৩)

22/03/2026
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে,কাবুলে সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির খবরে আমরা গভীর উদ্বেগ ও শ...
17/03/2026

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে,
কাবুলে সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির খবরে আমরা গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করছি। মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, সাধারণ মানুষকে হত্যা করা এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধি খুবই উদ্বেগ জনক বিষয়।
এমন এক সময়ে যখন উম্মাহ অসংখ্য বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ এবং রক্তপাত কেবল আমাদের সম্মিলিত সমস্যাকেই বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহ سبحانه وتعالى স্পষ্টভাবে ঐক্যের নির্দেশ দিয়েছেন:
“وَٱعْتَصِمُوا۟ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًۭا وَلَا تَفَرَّقُوا۟ ۚ”
"তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" (সূরা আল-ইমরান ৩:১০৩)
একজন মুমিনের প্রাণ হরণের বিষয়ে আল্লাহ অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন:
“وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًۭا مُّتَعَمِّدًۭا فَجَزَآؤُهُۥ جَهَنَّمُ خَٰلِدًۭا فِيهَا وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُۥ وَأَعَدَّ لَهُۥ عَذَابًا عَظِيمًۭا”
"আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম; সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য বিশাল শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।" (সূরা আন-নিসা ৪:৯৩)
এবং মুমিনদের মধ্যে সংঘাত প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন:
“وَإِن طَآئِفَتَانِ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱقْتَتَلُوا۟ فَأَصْلِحُوا۟ بَيْنَهُمَا”
"আর যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।" (সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:৯)
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মুসলমানদের মধ্যে সহিংসতার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন:
"যদি দুইজন মুসলমান তরবারি নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তবে হত্যাকারী এবং যাকে হত্যা করা হয়েছে—উভয়ই জাহান্নামী।" (সহীহ বুখারী ৩১, সহীহ মুসলিম ২৮৮)
"মুসলমানকে অত্যাচার করা ফাসেকি এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরি।" (সহীহ বুখারী ৪৮)
"আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান উড়িয়ে দিয়ে কাফেরে পরিণত হয়ো না।" (সহীহ বুখারী ১২১, সহীহ মুসলিম ৬৫)
"এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। তার রক্ত, তার সম্পদ এবং তার সম্মান (অন্য মুসলমানের জন্য) পবিত্র।" (সহীহ মুসলিম ২৫৬৪)
এই শিক্ষাগুলোতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। মুসলিম জীবনের পবিত্রতা প্রশ্নাতীত এবং এর লঙ্ঘনের কারণ হয় এমন যেকোনো কাজ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
তাই আমরা নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি করে এমন সব ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানাই:
- সংযম প্রদর্শন করা এবং উত্তেজনা পরিহার করা
- সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া
- স্বচ্ছতার সাথে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
- আল্লাহ এবং উম্মাহর কাছে নিজেদের দায়িত্বের কথা স্মরণ রাখা
এই মুহূর্তটি যেন আরও বিভাজনের কারণ না হয়ে বরং আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠভাবে ফিরে আসা, আত্মোপলব্ধি এবং পুনর্মিলনের সুযোগ হয়।
আল্লাহ সকল নেতা ও রাষ্ট্রকে ন্যায়বিচার, প্রজ্ঞা এবং ঐক্যের পথে পরিচালিত করুন এবং উম্মাহকে ফিতনা ও রক্তপাত থেকে রক্ষা করুন।
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

In the Name of Allah, the Most Merciful, the Most Compassionate,We express our deep concern and sorrow over the recent r...
17/03/2026

In the Name of Allah, the Most Merciful, the Most Compassionate,
We express our deep concern and sorrow over the recent reports of violence and loss of innocent lives in Kabul, Afghanisthan. Regardless of differing claims and narratives, the killing of civilians and the escalation of conflict among Muslim nations is a matter that demands urgent reflection and accountability.
At a time when the Ummah faces numerous external and internal challenges, division and bloodshed among Muslims only deepen our collective suffering. Allah سبحانه وتعالى has clearly commanded unity:
“وَٱعْتَصِمُوا۟ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًۭا وَلَا تَفَرَّقُوا۟ ۚ
"And hold firmly to the rope of Allah all together and do not become divided." (Surah Aal-e-Imran 3:103)
Allah also warns with utmost severity regarding the taking of a believer’s life:
“وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًۭا مُّتَعَمِّدًۭا فَجَزَآؤُهُۥ جَهَنَّمُ خَٰلِدًۭا فِيهَا وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُۥ وَأَعَدَّ لَهُۥ عَذَابًا عَظِيمًۭا”
"And whoever kills a believer intentionally, his recompense is Hell, wherein he will abide eternally, and Allah has become angry with him and has cursed him and has prepared for him a great punishment." (Surah An-Nisa 4:93)
And regarding conflict between believers:
“وَإِن طَآئِفَتَانِ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱقْتَتَلُوا۟ فَأَصْلِحُوا۟ بَيْنَهُمَا”
"And if two groups of believers fight, then make peace between them." (Surah Al-Hujurat 49:9)
The Messenger of Allah صلى الله عليه وسلم gave stern warnings regarding violence among Muslims:
"If two Muslims confront each other with swords, then both the killer and the one killed are in the Hellfire."
(Sahih al-Bukhari 31, Sahih Muslim 288)
"Abusing a Muslim is sinful, and fighting him is disbelief."
(Sahih al-Bukhari 48)
"Do not revert to disbelief after me by striking the necks of one another."
(Sahih al-Bukhari 121, Sahih Muslim 65)
"A Muslim is the brother of a Muslim. His blood, his wealth, and his honor are sacred."
(Sahih Muslim 2564)
These teachings leave no ambiguity. The sanctity of Muslim life is absolute, and any act that leads to its violation is a grave matter in the sight of Allah.
We therefore strongly condemn all forms of violence that harm innocent people and call upon all parties involved to:
* Exercise restraint and avoid escalation
* Prioritize dialogue and peaceful resolution
* Uphold justice and accountability with transparency
* Remember their responsibility before Allah and the Ummah
Let this be a moment not of further division, but of sincere return to Allah, reflection, and reconciliation.
May Allah guide all leaders and nations toward justice, wisdom, and unity, and protect the Ummah from fitnah and bloodshed.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

ইবনে জোহর (১০৯৪–১১৬২ খ্রিষ্টাব্দ), যাঁর পূর্ণ নাম আবু মারওয়ান আবদ আল-মালিক ইবনে জোহর। পশ্চিমা বিশ্বে তিনি 'অ্যাভেনজোয়া...
14/03/2026

ইবনে জোহর (১০৯৪–১১৬২ খ্রিষ্টাব্দ), যাঁর পূর্ণ নাম আবু মারওয়ান আবদ আল-মালিক ইবনে জোহর। পশ্চিমা বিশ্বে তিনি 'অ্যাভেনজোয়ার' (Avenzoar) নামে পরিচিত। তিনি শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না, বরং আধুনিক ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ও সার্জারির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী এক বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব।
ইবনে জোহরের শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে ছিল তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য। তাঁর পরিবার টানা পাঁচ প্রজন্ম ধরে আন্দালুসিয়ার (স্পেন) শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকদের জন্ম দিয়েছে:
* আবু মারওয়ান জোহর (দাদা): তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক এবং ফকীহ।
* আবু আল-আলা জোহর (বাবা): আলমোরাভিড রাজবংশের প্রধান চিকিৎসক এবং একজন অত্যন্ত দক্ষ রোগনির্ণয়কারী।
* ইবনে জোহর (নিজে): পরিবারের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র।
* তাঁঁর পরবর্তী প্রজন্ম: এমনকি তাঁর মেয়ে এবং নাতনিও সে সময়ের প্রথিতযশা ধাত্রী ও নারী রোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন, যা সেই যুগে নারী শিক্ষার এক অনন্য উদাহরণ।
ইবনে জোহর ছিলেন প্রথম চিকিৎসক যিনি তাত্ত্বিক দর্শনের চেয়ে ক্লিনিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট বা বাস্তব পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তাঁর প্রধান আবিষ্কারগুলো হলো:
* পরজীবী বিদ্যা (Parasitology): তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি প্রমাণ করেছিলেন যে 'স্ক্যাবিস' বা চুলকানি কোনো অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যহীনতা নয়, বরং ইচ মাইট' (Sarcoptes scabiei) নামক এক ক্ষুদ্র পরজীবীর কারণে হয়। এটি আধুনিক পরজীবী বিদ্যার ভিত্তি।
* কার্ডিওলজি (Cardiology): তিনি প্রথম পেরিকার্ডাইটিস (হৃৎপিণ্ডের ঝিল্লির প্রদাহ) এবং হৃৎপিণ্ডের আবরণে তরল জমার বিষয়টি নির্ভুলভাবে বর্ণনা করেন।
* গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি: অন্ননালীর ক্যান্সার (Esophageal Cancer) এবং পাকস্থলীর আলসারের প্যাথলজি তিনি প্রথম বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। কৃত্রিম উপায়ে (পুষ্টি ইনজেকশন বা রেকটাল ফিডিং) রোগীদের খাবার খাওয়ানোর পদ্ধতিও তাঁর উদ্ভাবন।
* অটোপসি ও অ্যানাটমি: তিনি মৃতদেহের ব্যবচ্ছেদ (Autopsy) করে রোগের কারণ খোঁজার প্রথা চালু করেন, যা আধুনিক প্যাথলজির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
* ট্র্যাকিওটমি (Tracheotomy): শ্বাসকষ্ট দূর করতে গলায় ছিদ্র করে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব কি না, তা তিনি প্রথমে একটি ছাগলের ওপর পরীক্ষা করে সফল হন।
* অ্যানাটমিক্যাল ডিসেকশন: তিনি সার্জারিকে সাধারণ চিকিৎসা থেকে আলাদা একটি বিশেষ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
* আল-তাইসির (Al-Taisir): তাঁর রচিত এই মুল্যবান গ্রন্থে তিনি স্নায়বিক রোগ, পক্ষাঘাত এবং বিভিন্ন ওষুধের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হওয়ার পর ৩০০ বছর ইউরোপের শ্রেষ্ঠ মেডিকেল ম্যানুয়াল হিসেবে গণ্য হতো।
বিখ্যাত দার্শনিক ও চিকিৎসক **ইবনে রুশদ (Averroes)** ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইবনে রুশদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ইবনে জোহর ছিলেন গ্যালেনের পর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক। ইবনে জোহরের অনুরোধেই ইবনে রুশদ তাঁর বিখ্যাত চিকিৎসা গ্রন্থ 'আল-কুল্লিয়াত' রচনা করেছিলেন।
ইবনে জোহর আমাদের শিখিয়ে গেছেন যে বিজ্ঞান মানেই হলো নিরন্তর পরীক্ষা এবং যুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ। তাঁর অসিলায় মহান আল্লাহ্‌ পাক আধুনিক সার্জারি ও চর্মরোগ বিজ্ঞান কে আজ বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন।

13/03/2026

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কবীরা গুনাহ্‌সমূহ কী? তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র সঙ্গে শরীক করা। সে বলল, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তারপর পিতা-মাতার অবাধ্যতা। সে বলল, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তারপর মিথ্যা কসম করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মিথ্যা শপথ কী? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি (শপথের সাহায্যে) মুসলিমের ধন-সম্পদ হরণ করে নেয়। অথচ সে এ শপথের ক্ষেত্রে মিথ্যাচারী।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৫২)

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৯২০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

09/03/2026

ইসলামী প্রেক্ষাপটে ব্যবসা এবং আধুনিক পুঁজিবাদী ব্যবসার মধ্যে পার্থক্যটা আসলে কোথায়? আধুনিক পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোতে আপনি একটি পন্য বা সেবা তৈরি করেন সর্বোচ্চ মুনাফা লাভ করার জন্য।
ইসলাম বিষয়টিকে ঠিক উল্টোভাবে দেখে।
ইসলামে আপনি মুনাফা অর্জন করেন সমাজকে সেবা করার জন্য।
দুর্ভাগ্যজনক যে, মুসলমান হিসেবে আমরা ব্যবসার এই নৈতিক দর্শন হারিয়ে ফেলেছি।
কিন্তু আমরা এটি হারালাম কীভাবে? কেন আমরা একটি বিকৃত বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে শুরু করলাম যেখানে সবকিছুই কেবল মুনাফা বাড়ানোর বিষয়ে পরিণত হলো?
গত পাঁচ শতাব্দী ধরে আধুনিক বিশ্ব পুরোপুরি একটি ইউরোপ-কেন্দ্রিক জ্ঞান ও ক্ষমতার ধারণার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।
ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলো তাদের স্বর্ণশিখরে থাকাকালীন বিশ্বের প্রায় ৮৫% এলাকা দখল করে নিয়েছিল; তারা স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস ও প্রান্তিক করে দিয়েছিল। ইসলামী বিশ্বের যেসকল প্রতিষ্ঠান এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যবস্থাগুলো শতাব্দী ধরে সমাজকে পরিচালিত করেছিল, সেগুলো হারিয়ে গিয়েছিল।
ফলে তারা তাদের নিজেদের আদলে একটি নতুন পৃথিবী গড়ে তোলে।
এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা কমে গেলেও, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য ঠিকই থেকে গেছে।
আজও আমরা সেই একই কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যেই শিক্ষা নিচ্ছি।
আর এই বিশ্বদর্শন মূলত দুটি মৌলিক ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
প্রথমটি হলো - পাশ্চাত্য সভ্যতা সবচেয়ে উন্নত এবং এটিই মানব অগ্রগতির চূড়ান্ত শিখর। তাই প্রগতি মানেই হলো পাশ্চাত্যের মতো হওয়া।
দ্বিতীয়টি হলো - পাশ্চাত্যের জ্ঞান এমনকি ঐশ্বরিক ওহীর (Divine Revelation) চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
এই ভিত্তি থেকেই মানুষের স্বভাব এবং সমাজ সম্পর্কে নতুন সব তত্ত্ব তৈরি হতে থাকে।
এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী পশ্চিমা দার্শনিকদের একজন ছিলেন রনে দেকার্ত (René Descartes), যিনি জ্ঞানের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন।
তার বিখ্যাত উক্তিটি হচ্ছে — "I think, therefore I am."
এই বক্তব্যের মাধ্যমে দেকার্ত নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিটি 'ওহী' থেকে সরিয়ে 'মানুষের যুক্তি'র ওপর নিয়ে আসেন।
তিনি যুক্তিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং এমন এক পশ্চিমা বিশ্বাসের পথ প্রশস্ত করেন যেখানে মনে করা হয় যে জ্ঞান আল্লাহর সাহায্য ছাড়াই স্বাধীনভাবে টিকে থাকতে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, তিনি একজন ব্যাপ্টাইজড ক্যাথলিক ছিলেন, কিন্তু তিনি মহাবিশ্ব এবং স্রষ্টা সম্পর্কে মানুষের চিন্তা করার ধরণটি আমূল বদলে দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে এই পরিবর্তনটি চার্লস ডারউইনের মতো মানুষদের মাধ্যমে আরও ঘনীভূত হয়। তার বিবর্তনবাদ বা 'যোগ্যতমের টিকে থাকা' (survival of the fittest) তত্ত্বটি সমাজের জন্য একটি রূপক হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষ মনে করতে শুরু করল জীবন মানে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা নয়।
অথচ কুরআনে পারস্পরিক সহযোগিতা বা কো-অপারেশনকে অপরিহার্য বলা হয়েছে।
এক পর্যায়ে ধর্মের নৈতিক শিক্ষাগুলোকেও উল্টে দেওয়া হলো।
বাইবেলে শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল যে “সম্পদের মোহ সকল অনিষ্টের মূল”।
ইসলামের অবশ্য এ বিষয়ে আরও সূক্ষ্ম ও গভীর দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যা নিয়ে আমরা ইনশাআল্লাহ পরে আলোচনা করতে পারি।
কিন্তু জর্জ বার্নার্ড শ-এর মতো আধুনিক চিন্তাবিদরা বিষয়টি উল্টে দিয়ে বলেন যে, “সম্পদের অভাবই হলো সকল অনিষ্টের মূল”।
সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই চিন্তাবিদদের কারণেই সম্পদ এবং ব্যবসা সম্পর্কে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলাতে শুরু করল।
অর্থনীতি এবং ব্যবসায় এটি শেষ পর্যন্ত মুনাফা এবং আত্মতৃপ্তি সর্বোচ্চ করার দৌড়ে পরিণত হলো, যাকে আমরা এখন 'ইউটিলিটি' বা উপযোগিতা বলি।
বিংশ শতাব্দীতে এসে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ মিল্টন ফ্রিডম্যান দাবি করলেন যে, “ব্যবসার একমাত্র দায়িত্ব হলো তার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মুনাফা সর্বোচ্চ করা”।
সহজ কথায়, ব্যবসার কাজ স্রেফ টাকা বানানো।
এর পেছনে আরও অনেক যুক্তি আছে, তবে আমরা বর্তমানে যেভাবে কাজ করি তার ভেতরের ধারণাগুলো বোঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
বিগত ১০০ বছরে বিংশ শতাব্দীর ব্যবসা ইসলামের বিশ্বদর্শন থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
ইসলামের নিজস্ব একটি বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি আছে যেখানে ব্যবসাকে দেখা হয় আল্লাহর পথে চলার এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির একটি মাধ্যম হিসেবে।
রাসূলুল্লাহর (সা.) শিক্ষা হলো—যেসব উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী তাদের আধ্যাত্মিকতা এবং নৈতিকতাকে গুরুত্ব সহকারে নেন, তাদের জন্য সরাসরি জান্নাতে যাবার উপায় রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বিখ্যাত সেই হাদিসে বলেছেন: "একজন সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী (পরকালে) নবীগণ, সত্যবাদীগণ এবং শহীদদের সাথে থাকবেন।"
কিন্ত ব্যবসা এখন আর সত্য, গুণ, নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য সম্পদ অর্জনের জায়গা নেই; বরং এটি স্রেফ ব্যক্তিস্বার্থে মুনাফা বাড়ানোর একটি কৌশলে পরিণত হয়েছে।
গত ৩০-৪০ বছরে যখন কর্পোরেট দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং শোষণের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে শুরু করল - বিশেষ করে বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর আসক্তিকর পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করা, কিংবা তেলের খনির নানা কেলেঙ্কারি, তখন কর্পোরেট ইমেজ বা ভাবমূর্তি উদ্ধারের জন্য একটি নতুন শব্দ আবিষ্কৃত হলো। আমরা সবাই সেই শব্দটির সাথে পরিচিত: CSR (Corporate Social Responsibility) বা কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা।
এর বিপরীতে কুরআন মানুষ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে শুরু হয়।
মানুষ, ব্যবসা এবং বৃহত্তর সমাজ নিয়ে কুরআনের এই দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কুরআন প্রতিটি আত্মার সহজাত মর্যাদাকে স্বীকৃতি দেয়।
যেমন সূরাহ ইসরা এর ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন –
۞ وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِىٓ ءَادَمَ وَحَمَلْنَـٰهُمْ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ وَرَزَقْنَـٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَـٰتِ وَفَضَّلْنَـٰهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍۢ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًۭا
আর অবশ্যই আমরা আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি; স্থলে ও সাগরে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে উত্তম রিযক দান করেছি আর আমরা যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।
আমাদের প্রত্যেককে অনন্য প্রতিভা দেওয়া হয়েছে। সুরা আল-ইসরা-তে মানুষের নিজস্ব স্বভাব বা 'শাকলাহ' (unique disposition) সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই প্রতিভাগুলো কল্যাণের কাজে ব্যবহার করার জন্য।
আমাদের কাজ হলো এগুলো খুঁজে বের করা এবং এই উপহারগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীতে আল্লাহর নূর বা আলোর প্রতিফলন ঘটানো।
আর এই প্রতিভা ও উপহারগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের কাজের জায়গা বা ব্যবসার চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে? কারণ আমাদের জাগ্রত জীবনের অধিকাংশ সময় আমরা কর্মক্ষেত্রেই কাটাই।
আমরা সূরা বাকারাতে পড়ি যে, আল্লাহ আমাদের তাঁর প্রতিনিধি বা 'খলিফা' হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
সুরাহ বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ পাক এরশাদ করেছেন –
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَـٰٓئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌۭ فِى ٱلْأَرْضِ خَلِيفَةًۭ ۖ قَالُوٓا۟ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ ٱلدِّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّىٓ أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ
আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বললেন ‘নিশ্চয় আমি যমীনে খলীফা সৃষ্টি করছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাওকে সৃষ্টি করবেন যে ফাসাদ ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? আর আমরা আপনার হামদসহ তাসবীহ পাঠ করি এবং পবিত্রতা ঘোষণা করি। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তা জানি, যা তোমরা জান না’।
আমাদের সীমিত মানবিক সক্ষমতা দিয়ে আল্লাহর গুণাবলি ও নামগুলোর প্রতিফলন ঘটানোই আমাদের কাজ, যাতে আমরা পৃথিবীতে তাঁকে চিনতে পারি।
সুরাহ আয-যারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ পাক বলেন –
وَمَا خَلَقْتُ ٱلْجِنَّ وَٱلْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।
কুরআনের প্রখ্যাত ব্যাখ্যাকারী ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন যে—আল্লাহর ইবাদত করার অর্থ হলো মূলত আল্লাহকে চেনা বা তাঁর 'মারিফাত' লাভ করা।
সুতরাং ধর্মীয় বিশ্বদর্শনে ব্যবসাকে দেখা হয় আল্লাহর পথে চলার একটি রাস্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে।
ইমাম মুহাম্মদ শায়বানী তাঁর 'কিতাবুল কাসব'-এ বলেছেন যে, আমরা সবাই একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
আমাদের সবাইকে একে অপরের সাথে সহযোগিতা করতে হয়। যেমন, আমাদের মোবাইল ফোনটি তৈরি করতে হলে কাউকে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয়েছে, কাউকে সেটা জোড়া দিতে হয়েছে, আবার কাউকে সেটা পরিবহন করতে হয়েছে।
সবাইকে একসাথে কাজ করতে হয়। ইমাম আল-গাজ্জালীও তাঁর 'এহয়াউ উলুমিদ্দীন'-এর ১৩তম খণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ব্যবসার মাধ্যমে একে অপরকে জানার এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সবকিছুর শুরু হয় আমাদের ভেতর থেকে।
আমরা যখন ব্যবসা করি, তখন আমাদের অধিকাংশেরই চিন্তা থাকে বাইরের জগৎ এবং লেনদেন নিয়ে। কিন্তু আসলে এটি শুরু হয় আমাদের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা থেকে।
আমরা কী করছি এবং কেন করছি, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। যান্ত্রিকভাবে কেবল ব্যবসা করা বা টাকা উপার্জনের পেছনে না ছুটে চিন্তা করুন আপনার ব্যবসার উদ্দেশ্য কী? আপনি কী অর্জন করতে চাচ্ছেন? আপনার লক্ষ্য বা 'মিশন' কী?
আমাদের যে সংস্কার বা পরিবর্তনের প্রয়োজন, তা সিস্টেম বা ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু হয় না।
এটি শুরু হয় নিজেকে সংশোধনের মাধ্যমে।
প্রথম ধাপ হলো আত্ম-উন্নয়ন বা 'তাজকিয়া'—অর্থাৎ নিজেকে পরিশুদ্ধ করা এবং নিজের প্রবৃদ্ধি ঘটানো। আমাদের নিয়তকে বিশুদ্ধ করতে হবে এবং আমাদের উপার্জনকে আমাদের নৈতিকতার সাথে মেলাতে হবে।
আর এটি করার জন্য আমাদের ছোট ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে। একবারে অনেক বেশি কিছু করার চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই।
শুধু মনে রাখবেন যে, ব্যবসা কেবল পার্থিব লাভের জন্য নয়; এটি আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর একটি পথ।
____
মূল - Omar DaCosta-Shahid (লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে)

ইতিহাস সাক্ষী, মুসলিমদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অতি চমৎকার যা 'রিবা' (সুদ) ভিত্তিক শোষণের ওপর নয়, বরং ...
08/03/2026

ইতিহাস সাক্ষী, মুসলিমদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অতি চমৎকার যা 'রিবা' (সুদ) ভিত্তিক শোষণের ওপর নয়, বরং অংশীদারিত্ব ও ইনসাফের (ন্যায়বিচার) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

ইসলামের সোনালী যুগে যখন বিশ্ব অন্ধকারে, তখন মুসলিমরাই 'হাওয়ালা', 'ওয়াকফ' ও 'চেক' এর মতো আধুনিক ব্যাংকিং ধারণার জন্ম দেয়। খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজের শাসনামলে যাকাত-ভিত্তিক অর্থনীতি এতটাই সফল হয়েছিল যে, রাষ্ট্রে যাকাত গ্রহণ করার মতো কোনো দরিদ্র মানুষ অবশিষ্ট ছিল না!

আধুনিক যুগেও এই সুদমুক্ত ব্যবস্থা সমানভাবে কার্যকর। ২০০৮ সালের ভয়ংকর বিশ্বমন্দায় যখন পুঁজিবাদী ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হচ্ছিল, তখন ইসলামি ব্যাংকগুলো তাদের 'মুনাফা ও ক্ষতি বন্টন' (Profit-Loss Sharing) নীতির কারণে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। বর্তমানে সুকুক (ইসলামি বন্ড) এবং ফিনটেক (Fintech) প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বজুড়ে এই সুদমুক্ত ব্যবস্থা ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজারে পরিণত হয়েছে।

সম্পদ গুটি কয়েক মানুষের হাতে কুক্ষিগত করে নয়, বরং যাকাত ও মুরাবাহার মতো জনকল্যাণমূলক কাঠামোর মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন সম্ভব। সুদমুক্ত অর্থনীতি কেবল একটি ধর্মীয় আদর্শ নয়, এটি একটি পরীক্ষিত, আধুনিক ও টেকসই বৈশ্বিক সমাধান।

সুদ কে যথা সম্ভব প্রতিহত করুন, যাকাত ও সাদাকাহ ভিত্তিক সামাজিক ব্যাবস্থা জাগ্রত করুন।

04/03/2026
03/03/2026

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট মিসকের সুগন্ধির চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৮৯৪
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ

Address

Rajshahi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dawah Rajshahi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share