13/06/2026
নওমুসলিম আবদুল্লাহ (প্রণব) কে গুম করে রেখেছে হি ন্দু রা
==============================
আদালতের নিজ জিম্মায় যাওয়ার আদেশ থাকা সত্ত্বেও অপহ’রণ, জুলুম-নির্যাতন, অত্যা’চারের শিকার ও প্রা’ণনা’শের আশংকায় নওমুসলিম আব্দুল্লাহ ইবনে আবির (প্রণব কুমার মন্ডল)
নওমুসলিম আব্দুল্লাহ ইবনে আবির (প্রণব কুমার মন্ডল) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট- এ ‘ইলেক্ট্রো মেডিকেল টেকনোলজি’ বিষয়ে ষষ্ঠ সেমিস্টার- এ অধ্যয়নরত ছিল (যাহার রেজি নং ১৫০২১৭৮৮৩৩; বোর্ড রোল ৬২১৪৭২)। এরপরেও একজন সুস্থ মানুষকে মানসিক রোগী হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তার মা পূর্নিমা রানী মন্ডল।
প্রণব কুমার মন্ডল হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও হি’ন্দু ধর্মের অসারতায় হতাশা-অনাগ্রহ ও ই’সলাম ধর্মের ধর্মীয় নীতির প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। এর-ই প্রেক্ষিতে গত ১১/০৮/২৫ ইং তারিখে রেজি নংঃ ০০০০৪৬২৪ মূলে কারো প্ররোচনা ব্যতীত স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনে আবির’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
গত ২৬/০৮/২৫ইং তারিখে নিজ জিম্মায় যাওয়ার বিজ্ঞ আদালত আদেশ প্রদান করলেও তা অমান্য করে জোরপূর্বক আটক রাখিয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছে। নামাজ, মুসলিমদের সাথে সাক্ষাত, কথা-বার্তা, লেখাপড়া বা ক্যাম্পাসে যাতায়াত সহ সব বন্ধ করে দিয়েছে পরিবার।
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ বিবেকসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষকে ইসলাম পালন করার জন্য গত ১৩/০৫/২০২৫ইং হতে সুদীর্ঘ ৮৫ (পঁচাশি) দিন নির্মম দমন নিপীড়ন সহ্য করার পরে গত ০৮/০৮/২৫ইং তারিখে ‘বাপ-মায়ের কথা মতো পরাধীন হয়ে চলাফেরা করবে’- এই শর্ত দিয়ে ভিক্টিমকে অত্যাচার-দমন-পীড়ন থেকে নিবৃত করে বাসায় রাখে। অত্যাচার দমন নিপীড়ন বন্ধ না হলে ভিকটিম প্রণব কুমার গত ১১/০৮/২৫ ইং তারিখে ০০০০৪৬২৪ কারো প্ররোচনা ব্যতীত স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনে আবির’ হিসেবে ঘোষণা দেন। পাশাপাশি, সুদীর্ঘকাল যাবত বাবা-মা কর্তৃক জুলুম-নির্যাতনের বর্ণনা ও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকরণের বিষয়টি উল্লেখ করতঃ স্বেচ্ছায় তার সিদ্ধান্তের বিষয়টি বাবা-মাকে মুখে ও পত্রে জানান।
বোয়ালিয়া থানার জিডি নং-১৪৬৫ ; তারিখঃ ২০/০৮/২০২৫ইং মূলে ‘ধর্ম পরিবর্তন করায় তার পিতা-মাতা ও আত্মীয় নির্যাতন করেন বলে ভিক্টিম নিজে থানায় আসিয়া জানান’- এটি কোর্ট আদেশে উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রকারীরা অতি গোপণে ভিক্টিমকে গত ২৬/০৮/২০২৫ইং তারিখে কোর্টে তোলে। ভুক্তোভোগী নওমুসলিম নিজেকে সুস্থ ও স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি বলে; নিজ জিম্মায় যেতে চায়। কোর্ট তা অনুমোদন দেয়। ভিক্টিমের বিরূদ্ধে আরোপিত সকল অসুস্থতা/মানসিক ভারসাম্যহীনতা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের মত ঘৃণ্য অসত্য অপবাদসমূহ অপনোদন ও ধ্বংস হওয়ার মাধ্যমে ভিক্টিমের সুস্থতা ও স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে মুসলিম হবার বিষয়টি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হয়। কিন্তু, সেখানে মুসলিমদের পক্ষে কোন প্রতিনিধি ছিল না। নিরাপত্তার স্বার্থে বাপ-মায়ের সাথে চলে যায়।
এতদসত্ত্বেও, শিক্ষক-বন্ধুদের দ্বারা বহু অনুনয়-বিনয়ের পরেও চলমান সেমিস্টারের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে বাপ-মা তাকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয় নি। পুনঃপরীক্ষার সুযোগ আসা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তাকে পরীক্ষায় বসার কোন ধরনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এতে তার শিক্ষা কার্যক্রম ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আদালতের আদেশ ‘নিজ জিম্মায় স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করা’র বিন্দু মাত্র সুযোগ না পাওয়া প্রণব আব্দুল্লাহ গত ২৬/০৮/২৫ইং তারিখ অপরাহ্ণে আদালত প্রাঙ্গন হতে অদ্যাবধি প্রায় ০১ (এক) মাস যাবত বন্ধু-বান্ধব-শুভাকাঙ্ক্ষী কারো সাথেই যোগাযোগ করতে পারেন নি। তার মোবাইল বন্ধ রেখে তাকে দিনের পর দিন আটক রেখে ধর্মীয় ও শিক্ষার স্বাধীনতা হরণ করে ভিক্টিমের ওপর নির্মম জুলুম-অপরাধ করা হয়েছে। বন্ধু-বান্ধব-সজ্জন-প্রতিবেশী তার জীবন নাশের আশংকায় বারংবার ভিক্টিম ও বিবাদীগণের ফোনকলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও, সর্ব শক্তি ব্যবহার করে ভিক্টিমের সাথে সকলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে আসছেন। ভিক্টিমের ব্যক্তিগত নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফোন দেয়া হলে অধিকাংশ সময় ফোন ধরেন না; কদাচিৎ ফোন ধরলেও ও বারংবার পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করা হলেও কস্মিনকালেও যোগাযোগ করিয়ে দেন নাই। ভিক্টিম কি জীবিত আছে কিনা এ নিয়ে তার বন্ধু-শিক্ষক-শুভাকাঙ্ক্ষী মহল অশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী ভিক্টিম প্রণব কুমার (আব্দুল্লাহ ইবনে আবির) কে নিজ জিম্মায় স্বাধীন ভাবে চলাচলে বাধা দিয়ে আদালতের আদেশ অমান্য ও অবমাননা করে অপরাধীগণ বিরাট শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে। পাশপাশি, আদালতের আদেশ অমান্যকারী ও অবমাননাকারী অপরাধীগণ দ্বারা ভিক্টিম প্রণব কুমার মন্ডল ওরফে আব্দুল্লাহ ইবনে আবির অশেষ অন্যায় ও জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে উনার প্রা’ণনা’শের আশংকা করা হচ্ছে।
উ'কিল মামলা করতে আর পু'লিশ আইনি পদক্ষেপ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। দৌড়াচ্ছেন হাতে গোণা কিছু স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম আর বন্ধুমহল।
আমাদের কি উচিত ছিল না এই নওমুসলিম ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর?
কোন ডকুমেন্ট বা কোর্ট আদেশের অভাব এই নওমুসলিম ভাইয়ের?
এভাবেই অভিভাবকহীন হয়ে আছে একজন নওমুসলিম- যে কিনা ইসলামের স্বাদ পেয়ে সব কিছু ছেড়ে ইসলামে এসেছে; অন্য কোন উদ্দ্যেশ্যে না।
মুসলিম-দের এরূপ অনাকাংক্ষিত অসহযোগিতামূলক বিরূপ আচরণে সামনের দিনগুলিতে নওমুসলিমরা কীভাবে ইসলামের ওপর টিকে থাকবে?
সব ডকুমেন্ট-কোর্ট আদেশ থাকার পরেও ১ মাস ধরে আমার ভাই কেন তার নিরাপত্তার স্বার্থে মুসলিম হয়েও জালেমদের ঘরের মধ্যে নির্যাতিত হতে আগ্রহী হয়েছিলেন?
কারণ, আমরা তার পাশে ছিলাম না; এখনো পাশে নেই।
সে যে আমার ভাই- তা কেউ বলিনি। এটা কেমন মুসলিম দেশ যে দেশের ১৬ কোটি+ মুসলিম- রা তার একজন অসহায় সাহায্যপ্রত্যাশী নওমুসলিমের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিনি !
বরং, নিজেদের Safe Zone নিশ্চিত করার জন্য আমোদ প্রমোদে মগ্ন আছি !
কেন একজন নওমুসলিম সকল আইনি আদেশ ও ডকুমেন্ট হাতে নিয়ে অমু’সলি’মদের হাতে মার খাচ্ছে প্রা’ণনা’শের আশংকায় ?