Md. Atikur Rahman

Md. Atikur Rahman "There is no Planet B"
"Go Green, Live Green"

জেন্ডার, বৈচিত্র্য ও মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালারাজশাহীতে দুই দিনব্যাপী জেন্ডার, বৈচিত্র্য ও মানবাধিবার বিষয়ে কর্মশালা অনু...
20/10/2026

জেন্ডার, বৈচিত্র্য ও মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা

রাজশাহীতে দুই দিনব্যাপী জেন্ডার, বৈচিত্র্য ও মানবাধিবার বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ-বারসিক এর আয়োজনে বারসিক, রাজশাহী আঞ্চলিক রিসোর্স সেন্টারের সেমিনার রুমে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার প্রথম দিনে জেন্ডার ও বৈচিত্র্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বারসিক এর এগ্রোইকোলজি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস। সমাপনী দিনে আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী রবিউল আলম এবং বারসিক বরেন্দ্র অঞলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, নৃবিজ্ঞানী ও পরিবেশ আইন গবেষক শহিদুল ইসলাম।

কর্মশালায় জেন্ডার, জেন্ডারভিত্তিক ভূমিকা ও বৈষম্য, মানবাধিকার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, জেন্ডার নিড, জেন্ডার মূলধারায়ন, জেন্ডার পলিসি, জেন্ডার লেন্স এবং অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মানবাধিকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা দৈনন্দিন জীবন, পরিবার, সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে বিদ্যমান বৈষম্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

কর্মশালায় জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সকল মানুষের সমান মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নারী-পুরুষসহ সকল মানুষের অধিকার, সক্ষমতা ও অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কর্মসূচিতে নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং তাঁদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদ বণ্টন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বয়স, প্রতিবন্ধিতা, জাতিগত পরিচয়, আর্থসামাজিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে যেন কেউ অধিকার ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

কৃষি, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ ও এগ্রোইকোলজি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নারী কৃষকদের অবদান ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি, কৃষি উপকরণ ও প্রশিক্ষণে সমান সুযোগ, ন্যায্য বাজারব্যবস্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, নারীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা টেকসই খাদ্যব্যবস্থা ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জেন্ডার-সংবেদনশীল পরিকল্পনা প্রণয়ন, বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ তৈরি, অধিকারবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিয়মিত পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়।

কর্মশালায় অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, মানবাধিকার কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। তাই জেন্ডার সমতা, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, বৈষম্যহীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিস্তারিত কমেন্টে:

পরিবেশ অধিদপ্তর-Department of Environment-DOE জেলা প্রশাসন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রাজশাহী Ministry of Environment, Forest and Climate Change, Bangladesh PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

19/10/2026

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীর প্রস্তুতি...!
ফুটপাত দখলমুক্ত ও সড়ক বিভাজনে নতুন রং, রাস্তার ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে ঝকঝকে করা হয়েছে। বেশ ভালো, ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।
ফুটপাত ব্যবসার উপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬দেশি বীজ ও প্রকৃতিবান্ধব কৃষিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ আগামীর আহ্বানবিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘দেশি বীজ, ...
16/10/2026

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬
দেশি বীজ ও প্রকৃতিবান্ধব কৃষিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ আগামীর আহ্বান

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘দেশি বীজ, প্রকৃতিবান্ধব কৃষি - পুষ্টিসমৃদ্ধ আগামীর’ প্রত্যয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলার তালুকধর্মপুরে তালুকধর্মপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে আয়োজন করা হয়েছে ‘নিরাপদ খাদ্য ও এগ্রোইকোলজি মেলা’। আজ ১৬ অক্টোবর বিকেল ৪টায় মিনিটে তালুকধর্মপুর নারী উন্নয়ন সংগঠন, উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

মেলায় নিরাপদ খাদ্য, দেশি বীজ ও কৃষিবৈচিত্র্য এবং জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণ, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, কৃষকের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আয়োজকদের মতে, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কৃষকের উদ্ভাবনী উদ্যোগ, গ্রামীণ নারীর জ্ঞান, স্থানীয় বীজের সংরক্ষণ এবং প্রকৃতিনির্ভর কৃষিচর্চাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আজকের এই উদ্যোগ কৃষক, যুবসমাজ ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’ এর আলোকে আয়োজকেরা নিরাপদ খাদ্য, কৃষিবৈচিত্র্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষি বা এগ্রোইকোলজি চর্চাকে ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক ভিত্তিক স্থানীয় বীজ সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাষ্ট্রকে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

তালুকধর্মপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক শিল্পী খাতুন বলেন, “আমরা দেশি বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিবৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখছি। দেশি বীজ আমাদের সম্পদ ও অধিকার; এর সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের স্বনির্ভরতা নিশ্চিতে জরুরী। নারী কৃষকদের আইনত স্বীকৃতি ও এগ্রোইকোলজি ভিত্তিক কৃষি নীতি অত্যন্ত জরুরী।”

এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষাণী মোসা. রাকিবা খাতুন বলেন, “আমরা জৈব বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় শাকসবজি চাষের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের চেষ্টা করি। এ ধরনের কৃষিচর্চা পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমানো, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।”

বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, “এগ্রোইকোলজি চর্চা প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন, স্থানীয় জ্ঞানের বিকাশ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সমন্বিত ভিত্তি। টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষকের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সম্পদভিত্তিক কৃষিচর্চার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রয়োজন।”

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষিবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং ন্যায্য খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এগ্রোইকোলজি চর্চার প্রসারে তরুণদের নেতৃত্ব কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দায়িত্বশীল সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন, তালুকধর্মপুরের এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষাণী শায়লা বেগম, বিলনেপালপাড়া এগ্রোইকোলজি সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক মোসা. সুলতানা খাতুন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইসলামসহ প্রমূখ।


দখল-দূষণে বিপর্যস্ত রাজশাহীর নদ-নদী, সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বানদখল, দূষণ, ভরাট ও পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণে স...
15/10/2026

দখল-দূষণে বিপর্যস্ত রাজশাহীর নদ-নদী, সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

দখল, দূষণ, ভরাট ও পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণে সংকটে পড়েছে রাজশাহীর নদ-নদী। কমছে নাব্যতা, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক প্রবাহ। হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, প্রাণবৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা। এর মধ্যে বারনই নদীতে দেশীয় মাছের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনায় পানিদূষণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ‘রাজশাহী জেলার নদ-নদীর সামগ্রিক অবস্থা’ শীর্ষক উপস্থাপনায় এসব চিত্র তুলে ধরা হয়। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), রুলফাও, বস্তি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থা, উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, মাসাউস, ঠিকানা ও সামাজিক কল্যাণ সংস্থা’র যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। উপস্থাপনা করেন বেলার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রুলফাওয়ের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, রাজশাহী জেলা মৎস্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোসা. আয়েশা খাতুন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রিংকু প্রামানিক, দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত এবং এএলআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানজিদা খান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বস্তি উন্নয়ন ও কর্ম সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাসিনুর রহমান এবং এএলআরডির বিজয় শংকর বড়ুয়া। সভায় সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, যুব সংগঠক, কৃষক ও জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

উপস্থাপনায় পদ্মা, মহানন্দা, বড়াল, বারনই, শিব, ফকিরনী, মুসাখান, হোজা, নারদ, স্বরমঙ্গলা, বারাহী, দয়া ও সন্ধ্যাসহ ১৩টি নদীর সংকট তুলে ধরা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, রাজশাহী মহানগর এলাকায় পদ্মা নদীসংলগ্ন সহস্রাধিক অবৈধ দখলদারের তথ্য রয়েছে। ২০২২ সালে মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতে ১ হাজার ৭৭১টি দখলস্থল এবং ৫৭ জন দখলদারের তথ্যও উপস্থাপিত হয়েছিল।

নাটোরের বড়াইগ্রাম এলাকায় ২০২২ সালে বড়াল নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে ১ হাজার ১৭৮টি অবৈধ স্থাপনা শনাক্তের তথ্য তুলে ধরা হয়। স্লুইসগেট, ক্রস-ড্যাম, পলি ও কচুরিপানার কারণে নদীটির বিভিন্ন অংশে পানিপ্রবাহ ও নাব্যতা ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

এদিকে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাগমারা ও নলডাঙ্গা এলাকায় বারনই নদীতে দেশীয় মাছের ব্যাপক মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। রাজশাহী জেলা মৎস্য কার্যালয়ের সূত্রে উপস্থাপনায় পানিতে অ্যামোনিয়ার আধিক্য ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতিকে মাছের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

শিব নদীর ওপর ১০টি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ৭৮৫টি জেলে পরিবারের নির্ভরতার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, নদী ভরাট, দূষণ ও সংযোগে প্রতিবন্ধকতা তাঁদের জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নারদ নদীতে প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী ৩৬টি স্থাপনা এবং নাটোর সদর উপজেলায় ৪৭১ জন দখলদার চিহ্নিত হওয়ার তথ্যও উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বারাহী, স্বরমঙ্গলা ও দয়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ দখল, ভরাট ও নগর সম্প্রসারণের কারণে সংকুচিত হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়।

সভায় রাজশাহী জেলা ও বিভাগের নদীর সংখ্যা ও নাম স্পষ্ট করণ, নদীর সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণের উৎস বন্ধ, বর্জ্য শোধন নিশ্চিত করা, নদী-খাল-বিলের সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পুনঃখননের সুপারিশ করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নদীকে শুধু খনন বা পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামো নয়, জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পানির গুণগত মান ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় দখল-দূষণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

তাঁরা নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নদী-খালের সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও ধারাবাহিক কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই নদী রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সম্ভব। এছাড়াও রাজশাহী শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বারাহী, নবগঙ্গা, স্বরমঙ্গলা নদীগুলোর দখল-দূষণমুক্ত করতে এবং প্রবাহ ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

বিস্তারিত কমেন্টে:

Ministry of Environment, Forest and Climate Change, Bangladesh PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তর-Department of Environment-DOE

রাজশাহীতে এগ্রোইকোলজি চর্চা ও কৃষি-প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদানের জন্য সম্মানিত ২২ গ্রামীণ নারীরাজশাহী, বাংলাদেশ | ১৪ অ...
14/10/2026

রাজশাহীতে এগ্রোইকোলজি চর্চা ও কৃষি-প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদানের জন্য সম্মানিত ২২ গ্রামীণ নারী

রাজশাহী, বাংলাদেশ | ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃষিবেশতত্ত্ব চর্চা, কৃষি-প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং টেকসই গ্রামীণ জীবিকায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২২ জন গ্রামীণ নারীকে ‘গ্রামীণ নারী সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলনেপালপাড়া কৃষিবেশতত্ত্ব শিক্ষণকেন্দ্রে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (BARCIK) ও গ্রিন কোয়ালিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার প্রসার, কৃষিবিষয়ক জ্ঞান বিনিময় এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গ্রামীণ নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

স্থানীয় ফসলের জাত সংরক্ষণ, বীজ বিনিময়, জৈবিক পদ্ধতিতে বালাই ব্যবস্থাপনা, কেঁচো সার উৎপাদন, পানিসাশ্রয়ী কৃষিচর্চা এবং ঐতিহ্যগত কৃষিজ্ঞান সংরক্ষণে অবদানের জন্য নারীদের সম্মানিত করা হয়। তাঁদের উদ্যোগ প্রমাণ করে, নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত স্থানীয় উদ্যোগ টেকসই খাদ্যব্যবস্থা, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজশাহী জেলা গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, “গ্রামীণ নারীরা আমাদের কৃষিকে সুরক্ষিত রাখছেন। তাঁরা ঐতিহ্যগত কৃষিচর্চার ধারক ও বাহক।”

খরাপ্রবণ এলাকায় নারী কৃষকদের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তানোরের আদিবাসী নারী কৃষক চিচিলিয়া হেমব্রম বলেন, পানির সীমিত প্রাপ্যতা এখনো কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, খরা সহনশীল ফসলের চাষ এবং অন্য নারীদের সঙ্গে বীজ বিনিময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার দুয়ারী গ্রামের জেসমিন বেগমকে বসতবাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ এবং কেঁচো সার উৎপাদন, ব্যবহার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষিবেশতত্ত্ব চর্চা ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।

নৃবিজ্ঞানী ও বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ নারীদের অবদান শুধু কৃষি উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বীজ বিনিময়, স্থানীয় জ্ঞানের আদান-প্রদান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক সংগঠন প্রাকৃতিক সম্পদের যৌথ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই জীবিকা শক্তিশালী করে।

অনুষ্ঠানে কৃষিতে নারীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কীটনাশকমুক্ত কৃষিচর্চা এবং স্থানীয় কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণে আরও কার্যকর সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার দায়িত্ব নারী ও পুরুষ উভয়ের।

সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীদের তালিকা ও অবদানের ক্ষেত্র:

১. বসতবাড়িতে বৈচিত্র্যময় কৃষি, এগ্রোইকোলজি চর্চা ও বৈচিত্র্যময় প্রাণী সম্পদ পালনে অবদানের জন্য মোসা. শিল্পী বেগম, তালুক ধর্মপুর, পবা, রাজশাহী।

২. বরেন্দ্র অঞ্চল উপযোগী করা বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বিনিময়ে অবদানের জন্য মোসা. আয়েশা বেগম, দীঘিপাড়া, পবা, রাজশাহী।

৩. পরিবেশ বান্ধব চুলা তৈরি ও ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ এবং ভেষজ চিকিৎসা প্রদানে অবদানের জন্য মোসা. মিনারা বেগম, বিলনেপালপাড়া, পবা, রাজশাহী।

৪. বসতবাড়িতে বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ, এগ্রোইকোলজি চর্চা ও প্রসারে অবদানের জন্য মোসা. পান্না বেগম, তেঁতুলিয়াডাঙ্গা, পবা, রাজশাহী।

৫. বসতবাড়িতে বৈচিত্র্যময় মৌসুমী সবজি চাষ এগ্রোইকোলজি চর্চা ও প্রসারে অবদানের জন্য মোসা. মাহমুদা বেগম, বিলধর্মপুর, পবা, রাজশাহী।

৬. গ্রামে ছাদবাগানে বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ ও বৈচিত্র্যময় বীজ সংরক্ষণে অবদানের জন্য মোসা. মার্জিনা বেগম, দীঘিপাড়া, পবা, রাজশাহী।

৭. দেশি বীজ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বীজ বিনিময়, এগ্রোইকোলজি চর্চা ও প্রসারে অবদানের জন্য মোসা. সেতারা বেগম, জগদীশপুর, তানোর, রাজশাহী।

৮. বসতবাড়িতে বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ, নারী সংগঠন তৈরি এগ্রোইকোলজি চর্চা ও প্রসারে অবদানের জন্য মিস পানি মার্ডি, থানাতলা, তানোর, রাজশাহী।

৯. কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য মোসা: সুমি বেগম, সেলামপুর, তানোর, রাজশাহী।

১০. প্লাস্টিকের পুনঃ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প জমিতে বৈচিত্র্যময় খাদ্য উৎপাদন ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষে অবদানের জন্য পরি টুডু, সিন্দুকাই, তানোর, রাজশাহী।

১১. পানি সাশ্রয়ী রবি শস্য চাষ, বীজ সংরক্ষণ ও পানি সাশ্রয়ী ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণে অবদানের জন্য চিচিলিয়া হেমব্রম, মিশনপাড়া, তানোর, রাজশাহী।

১২. বাড়িতে বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ, বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময় এগ্রোইকোলজি চর্চায় অবদানের জন্য অঞ্জলী রানী, গোকুল-মথুরা, তানোর, রাজশাহী।

১৩. বৈচিত্র্যময় দেশি বীজ সংরক্ষণ, ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব পদ্ধতিতে চাষ ও এগ্রোইকোলজি চর্চার প্রসারে অবদানের জন্য তিথি সরেন, তত্ত্বাবধায়ক, যোগীশো এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার, যোগীশো, তানোর, রাজশাহী।

১৪. শামুক ও ঝিনুক সংরক্ষণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে অবদানের জন্য মাইনো বাসকি, সিন্দুকাই, তানোর, রাজশাহী।

১৫. অল্প জমিতে বৈচিত্র্যময় সবজি চাষের মাধ্যমে সংসারের চাহিদা পূরণ এবং এগ্রোইকোলজি চর্চায় অবদানের জন্য সাগরী রানী, গোকুল-মথুরা, তানোর, রাজশাহী।

১৬. দেশি মাছ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বৈচিত্র্যময় সবজি ও দেশি ফল চাষে অবদানের জন্য সেলিনা বেগম, চাপড়া, তানোর, রাজশাহী।

১৭. বৈচিত্র্যময় দেশি বীজ সংরক্ষণ ও বীজ বিনিময়, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার ও প্রসারে অবদানের জন্য মোসা. তাহমিনা বেগম, আঝইর, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

১৮. বৈচিত্র্যময় দেশি বীজ সংরক্ষণ ও বীজ বিনিময়, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার ও প্রসারে অবদানের জন্য মোসা. শাহানা বেগম, আঝইর, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

১৯. ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির মাধ্যমে আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য মোসা. বিলকিস বেগম, কারিগরপাড়া, পবা, রাজশাহী।

২০. বসতবাড়িতে বৈচিত্র্যময় মৌসুমী সবজি চাষ, প্রাণী সম্পদ পালন, এগ্রোইকোলজি চর্চা ও প্রসারে অবদানের জন্য মোসা. রুবিনা খাতুন, তত্ত্বাবধায়ক, মাধবপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার, মাধবপুর, পবা, রাজশাহী।

২১. বসতবাড়িতে বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ, ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি, ব্যবহার ও প্রসারে অবদানের জন্য মোসা. জেসমিন বেগম, দুয়ারী, পবা, রাজশাহী।

২২. বৈচিত্র্যময় বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়, ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি, ব্যবহার ও প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য মোসা. মার্জিনা টুডু, জগদীশপুর, তানোর, রাজশাহী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন কোয়ালিশনের পবা উপজেলা শাখার সভাপতি মোসাম্মৎ রহিমা বেগম। এতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষক, নারী সংগঠক, পরিবেশকর্মী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

গ্রামীণ নারীদের জ্ঞান, নেতৃত্ব ও অবদানকে দৃশ্যমান করা এবং কৃষিবেশতত্ত্ব চর্চা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ সম্প্রসারণে উৎসাহিত করাই এ সম্মাননা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

বিস্তারিত কমেন্টে:

শিমলা পার্কের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ পাখির আবাসস্থল রক্ষার দাবিরাজশাহী, ১০ অক্টোবর ২০২৬বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প...
10/10/2026

শিমলা পার্কের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ পাখির আবাসস্থল রক্ষার দাবি

রাজশাহী, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ, জলাভূমি রক্ষা এবং রাজশাহীর শিমলা পার্কের বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার মর্যাদা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী ও যুব সংগঠনসমূহ। শনিবার বিকেল ৪.৩০টায় শিমলা পার্কে পথসভা থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সারাদেশে পাখিবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এবারের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য “প্রতিটি পাখিই গুরুত্বপূর্ণ-আপনার পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ” যা পাখি সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা ও তথ্যভিত্তিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস), বারসিক, গ্রিন কোয়ালিশন এবং সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচারের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, পরিযায়ী পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, পরাগায়ন ও বীজ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু জলাভূমি ভরাট, পুকুর ও বিল দখল, নদীদূষণ, গাছ কাটা, আবাসস্থল ধ্বংস এবং পাখি শিকারের কারণে তাদের বিচরণ ও টিকে থাকার পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পাখি সংরক্ষণ তাই জলাভূমি, প্রাণবৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, “পাখি সংরক্ষণ শুধু পাখি রক্ষার বিষয় নয়; এটি আমাদের পুকুর-নদী-জলাশয়-জলাভূমি, গাছপালা ও সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে যুক্ত। শিমলা পার্কের বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার মর্যাদা কার্যকর করে পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে হবে।”

সেভ দি নেচার এন্ড লাইফ এর চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের পুকুর, বিল, নদী, জলাভূমি ও বৃক্ষভিত্তিক আবাসস্থল পাখির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রাকৃতিক সম্পদ দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে হবে এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

সেভ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচারের সভাপতি ইমরুল কায়েস বলেন, “পাখি পর্যবেক্ষণ, প্রজাতি শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তরুণেরা সংরক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাখি দেখুন, তথ্য রাখুন, আবাসস্থল বাঁচান-এই চর্চা ছড়িয়ে দিতে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।”

গ্রিন কোয়ালিশনের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জুয়েল কিবরিয়া বলেন, “প্রতিটি পাখিই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশে যেভাবে পাখি শিকার পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনা ঘটছে এগুলো অবিলম্বেই বন্ধ করতে হবে। সকলের জন্য বাসযোগ্য ও পাখিবান্ধব একটি শহর হিসেবে আমরা রাজশাহীকে চাই।”

কর্মসূচি থেকে শিমলা পার্কের সংরক্ষণ এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন, নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পুকুর, বিল, জলাভূমি, নদী ও চরকে পাখির আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত ও সংরক্ষণ; রাজশাহী নগরের জলাশয় ও সবুজ এলাকাকে নগর প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণের আওতায় আনা; পাখি শিকার, আবাসস্থল ধ্বংস ও দূষণ বন্ধ; এবং যুব, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পাখি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

কর্মসূচী থেকে ৮ দফা নীতিগত দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-

১. বরেন্দ্র অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পুকুর, বিল, জলাভূমি, নদী, সমগ্র পদ্মাপাড় ও চরাঞ্চলকে পাখি ও পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করতে হবে;

২. রাজশাহী নগরের পুকুর, জলাশয়, উদ্যান ও সবুজ এলাকাকে নগর প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে;

৩. শিমলা পার্কের বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার ঘোষণাকে অবিলম্বে কার্যকর করে এর সীমানা, ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, নজরদারি ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে;

৪. শিমলা পার্কসহ সংরক্ষণ এলাকা দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে। সাউন্ড বক্সের ব্যবহার, আলোর ব্যবহার, পাখি শিকার, বন্যপ্রাণী হয়রানি, আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ, বর্জ্য ফেলা ও ক্ষতিকর কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;

৫. রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পাখির আবাসস্থলের একটি “স্থানীয় প্রাণবৈচিত্র্য ও পাখি মানচিত্র” এবং যুব, শিক্ষার্থী, পাখি পর্যবেক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে নিয়ে নাগরিক পাখি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করতে হবে;

৬. পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণকে নগর পরিকল্পনা, জলাভূমি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে;

৭. রাজশাহীর চলমান বৃক্ষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। শহরের অবশিষ্ঠ গাছগুলোকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ এর ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী বিভিন্ন পাখির আবাসস্থল হিসেবে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করতে হবে;

৮. পাখি ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণ, পরিবেশবাদী যুব ও নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, “দেশে এত আইন রয়েছে কিন্তু নেই তার প্রয়োগ। সারাদেশে সর্বত্রই পরিবেশ হত্যার ঘটনা ঘটছে কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি হচ্ছে না। মানুষ হত্যা যদি অপরাধ হয় হত্যাকারীর বিচার হয় তাহলে এই গাছ হত্যাকারী, পুকুর হত্যাকারী, পাখি হত্যাকারী, পরিবেশ হত্যাকারীর বিচার কেন হবে না?

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিদ কুমার ওরাও, আদিবাসী যুব নেতা উপেন রবিদাস, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী ওয়ালিউর রহমান বাবু, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক পলি রানীসহ প্রমুখ।

আয়োজকদের মতে, পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও যুবসমাজের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। তাঁদের আহ্বান, আমাদের শহর, আমাদের সমাজ, আমাদের দেশকে পাখিবান্ধব এবং প্রাণ-প্রকৃতি বান্ধব করে গড়ে তুলি। “বরেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ-পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করি।”

পরিবেশ অধিদপ্তর-Department of Environment-DOE Ministry of Environment, Forest and Climate Change, Bangladesh PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় Ministry of Agriculture, Bangladesh - কৃষি মন্ত্রণালয়


নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষক-ভোক্তার ঐক্য ও যুব নেতৃত্বের আহ্বান‘খেত থেকে থালা-নিরাপদ খাদ্য হোক সবার অধিকার’ এই স্লোগা...
06/10/2026

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষক-ভোক্তার ঐক্য ও যুব নেতৃত্বের আহ্বান

‘খেত থেকে থালা-নিরাপদ খাদ্য হোক সবার অধিকার’ এই স্লোগানে ‘গ্রাম থেকে শহর- কৃষক থেকে ভোক্তা, নিরাপদ খাদ্যের যুব আন্দোলন’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের কারিগরপাড়ায় গ্রিন কোয়ালিশন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও বারসিকের যৌথ আয়োজনে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, এগ্রোইকোলজি চর্চা, কৃষিবৈচিত্র্য, পরিবেশবান্ধব কৃষি, কৃষকের ন্যায্য মূল্য, ভোক্তার অধিকার এবং টেকসই খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু ভোক্তার দায়িত্ব নয়; এটি উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও ভোগ- পুরো খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি যৌথ দায়িত্ব। কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, মাটি ও পানিদূষণ, খাদ্য সংরক্ষণ ও বাজারব্যবস্থার দুর্বলতা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

কর্মসূচিতে কৃষক, যুবসমাজ, ভোক্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপদ খাদ্য, কৃষিবৈচিত্র্য, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থা ও ভোক্তার অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সংযোগ এবং নিরাপদ খাদ্যের জন্য দায়িত্বশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষক আব্দুল জব্বার খান বলেন, “আমি আমার ১০ কাঠা জমিতে বিষমুক্ত উপায়ে পেঁপে চাষ করছি। কিন্তু বাজারে গেলে বিষমুক্ত পেঁপের আলাদা দাম পাচ্ছি না। বিষমুক্ত ফসলের জন্য আলাদা বাজার তৈরি করতে হবে, যেখানে আমরা আমাদের ফসলের ন্যায্য দাম পাব।”

এগ্রোইকোলজি ও শত বাড়ি পরিচালনাকারী কৃষাণি রেনুকা বেগম বলেন, “ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও বিপণনে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশক বন্ধ করে ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব বালাই তৈরিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে হবে।”

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, “নিরাপদ খাদ্য মানুষের পছন্দের বিষয় নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কৃষকের উৎপাদন থেকে ভোক্তার থালা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বরেন্দ্রের জলবায়ু ও পানিসংকট মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব, বৈচিত্র্যময় ও স্থানীয় সম্পদনির্ভর কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “যুবসমাজকে শুধু ভোক্তা নয়, নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিতে হবে। কৃষক ও ভোক্তার সরাসরি সংযোগই হতে পারে সেই পরিবর্তনের শক্তি।”

গ্রিন কোয়ালিশন পবা উপজেলার সভাপতি ও জয়িতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষাণি মোসা. রহিমা বেগম বলেন, “নারীরা ঐতিহাসিকভাবেই সবজি চাষ ও বীজ সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত। নারীদের কাজকে স্বীকৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

এতে গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মাহমুদ জামাল কাদেরী, পবা গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য রায়হান আলী জুয়েল, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সাধারন সম্পাদক পলি রানী, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক তামিম তুলি, জয়িতা পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষাণী বিলকিস আরাসহ নিরাপদ কৃষির সঙ্গে যুক্ত কৃষক-কৃষাণী ও স্থানীয় যুবরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তরুণদের নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও পরিবেশবান্ধব খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সামাজিক উদ্যোগ সৃষ্টি হবে।

Ministry of Environment, Forest and Climate Change, Bangladesh PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিবেশ অধিদপ্তর-Department of Environment-DOE Ministry of Food Ministry of Agriculture, Bangladesh - কৃষি মন্ত্রণালয়

বরেন্দ্রের জলবায়ু ঝুঁকিতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসনের আহ্বানরাজশাহী, বাংলাদেশ || ৫ অক...
06/10/2026

বরেন্দ্রের জলবায়ু ঝুঁকিতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসনের আহ্বান

রাজশাহী, বাংলাদেশ || ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরেন্দ্র অঞ্চলের নিম্নআয়ের ও বস্তিবাসী মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন এবং মৌলিক নগরসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য “সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ” সামনে রেখে বক্তারা বলেন, বরেন্দ্রের তীব্র তাপ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও পানির সংকটের প্রেক্ষাপটে আবাসন পরিকল্পনাকে জলবায়ু অভিযোজন ও সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে সমন্বিত করা জরুরি।

আজ সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ৫টায় নামোভদ্রা লেকপাড়ে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক আয়োজিত নীতি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, নিরাপদ আবাসন শুধু একটি বাসস্থানের নিশ্চয়তা নয়; এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জীবিকা ও সামাজিক সুরক্ষার অধিকারও যুক্ত। রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে উচ্চ তাপমাত্রা, খরা ও পানির সংকট নিম্নআয়ের মানুষের জীবন ও আবাসন নিরাপত্তায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী উচ্ছেদ, অপর্যাপ্ত নগরসেবা ও দুর্যোগের তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভদ্রা লেকপাড় বস্তিবাসী ও ভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, “আমরা নদী ভাঙ্গনের ফলে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছি। এই শহরের নোংরা বোতল, পলিথিন, ময়লা ইত্যাদি আমরা সংগ্রহ করি। শহরকে পরিস্কার-পরিছন্ন করি আমরা কিন্তু আমাদের থাকার জায়গা নেই।” আরেক বস্তিবাসী নিলুফা বেগম বলেন, “আমরা এখানে ভোট দেই। আমরা অনেকের ঘরে কাজ না করলে বা খাবার রান্না না করলে আপনারা খেতে পারেন না। কিন্তু আমাদের সবসময় ঘরবাড়ি ভাঙ্গার আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা নাগরিক হিসেবে আমাদের বাসস্থান, পানি, স্যানিটেশন ও আমাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষার অধিকার চাই।”

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি বলেন, “উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজনের নামে নিম্নআয়ের মানুষকে উচ্ছেদ নয়, তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। নগর পরিকল্পনায় স্থানীয় জলবায়ু বাস্তবতা, তাপঝুঁকি, আবাসন, নাগরিকসেবা, জীবিকা ও পরিবেশগত নিরাপত্তাকে সমন্বিত করার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।”

বারসিকের সহযোগী কর্মসূচী কর্মকর্তা অমিত সরকার বলেন, “ নগরের যেসব মানুষ প্রতিদিন নিজেদের শ্রমের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন সেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখেন, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয় এটি একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় শর্ত।”

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কমিউনিটি উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান আজিজ বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নিরাপদ আবাসন, মৌলিক নাগরিকসেবা, সবুজায়ন ও জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিকল্পনাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।”

নীতি সংলাপ থেকে ৯ দফা অগ্রাধিকারমূলক দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো-

১. বস্তিবাসীর উচ্ছেদ নয়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। উচ্ছেদের পূর্বে পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে;

২. নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে;

৩. বস্তি এলাকায় নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে ;

৪. বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে;

৫. নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে;

৬. নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সহজ ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে;

৭. নগর উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় নিম্ন আয়ের মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে;

৮. বস্তি এলাকায় সবুজায়ন, খোলা জায়গা ও নগর কৃষির সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে;

৯. নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধক কার্যক্রমে সহায়তা দিতে হবে।

বিশ্ব বসতি দিবসে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, নগর পরিকল্পনাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের প্রতি নিম্নআয়ের মানুষের আবাসন অধিকারকে টেকসই নগরায়ণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জলবায়ু অভিযোজনের অন্যতম প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

লিংক কমেন্টে:

রাজশাহীর পবা উপজেলার বিল নেপালপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির উঠান। সেখানে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০০ জাতের দেশীয় বীজের ভাণ্ডার। কৃষাণী...
06/10/2026

রাজশাহীর পবা উপজেলার বিল নেপালপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির উঠান। সেখানে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০০ জাতের দেশীয় বীজের ভাণ্ডার। কৃষাণী মোসাম্মদ সুলতানা খাতুন বছরের পর বছর এসব বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছেন। তার উদ্যোগে সেই বীজ এখন ছড়িয়ে পড়েছে দর্শনপাড়া ইউনিয়নের ১৩ গ্রামে। কৃষাণ-কৃষাণীরা প্রয়োজনমতো ফসলের বীজ নিচ্ছেন, আবার নিজেদের বীজও বিনিময় করছেন। পাশাপাশি শিখছেন নিরাপদ সবজি চাষ ও জৈব কৃষির নানা পদ্ধতি। কৃষির সঙ্গে সুলতানার পরিচয় ২০১২ সালে বিয়ের পর। ২০১৪ সালে ডিগ্রি পাস করেন। সুলতানা বলেছেন, ‘২০১৬ সাল থেকে বসতবাড়ির আঙিনায় নিরাপদ সবজি চাষ শুরু করি। শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখে কৃষিকাজ শিখেছি। পরে পাড়া-প্রতিবেশীদেরও নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করি।’

তার চাষাবাদ দেখে আশপাশের নারীরাও আগ্রহী হন। তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে শুরু করেন সুলতানা। ২০১৮ সালে শুরু করেন ফসলের দেশীয় বীজ সংগ্রহ। বিভিন্ন জায়গা থেকে স্থানীয় জাতের বীজ সংগ্রহ করে যত্নে সংরক্ষণ করতে থাকেন। এখন তার কমিউনিটি বীজ ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ২০০ ধরনের দেশীয় বীজ।

উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণীরা এই বীজব্যাংক থেকে বীজ নেন। কেউ প্রয়োজনমতো বীজ নেন, কেউ নিজের বীজ দিয়ে অন্য বীজ নেন। এভাবে একটি বাড়ির উঠানের বীজ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন গ্রামের জমিতে। চলতি বছর আড়াই হাজার জনসহ এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৫০০ জনের সঙ্গে বীজ বিতরণ করেছেন সুলতানা।

বীজের পাশাপাশি নিরাপদ ফসল উৎপাদনের চর্চাও ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন উপায়ে জৈব সার তৈরি করছেন এবং রাসায়নিক সার ছাড়াই ফসল উৎপাদন করছেন। তার উদ্যোগে আরও আটটি পরিবার জৈব সার তৈরি ও ব্যবহারে যুক্ত হয়েছে। ফসলের বালাই দমনে তার বাড়িতে তৈরি হয় প্রায় ১৫ ধরনের জৈব বালাইনাশক। নিমপাতা, মেহগনি ফল, বাসি ধুতরা ফলসহ বিভিন্ন স্থানীয় উপাদান মাটির পাত্রে প্রক্রিয়াজাত করে এসব তৈরি করা হয়। তৈরির পদ্ধতিও অন্য কৃষাণীদের শেখান তিনি। বারসিকের সহযোগিতায় তার বাড়িটি এখন ‘কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা শিক্ষণ কেন্দ্র’। বিভিন্ন গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণীরা এখানে এসে বীজ নেন, বিনিময় করেন এবং নিরাপদ কৃষি নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

সুলতানা বললেন, ‘কৃষিতে আমরা সার ও কীটনাশকের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এর বিকল্প হিসেবে আমি জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করি। নারী কৃষাণীরা এলে তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বললেন, ‘কোনো ফসলের বীজের প্রয়োজন হলে আমরা এখানে আসি। এখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের বীজ পাই। আমরা ফসলে কোনো ধরনের বিষ দিই না।’

বিস্তারিত কমেন্টে:

Address

Rajshahi
6000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md. Atikur Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share