27/08/2026
কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) রাবি শাখার তদারকিমূলক অভিযান অনুষ্ঠিত
সিওয়াইবির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর এলাকায় কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে একটি তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে টুকিটাকি চত্বরের বিভিন্ন খাবারের দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা পরিদর্শন করে বেশ কিছু অনিয়ম ও অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন, নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্য আদায়, বাসি খাবার সংরক্ষণ, পোড়া তেল ব্যবহার, স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন টেস্টি সল্টের ব্যবহার, খাবার পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় স্টেইনলেস স্টিলের টেবিলের অনুপস্থিতি এবং অস্বাস্থ্যকর পাত্রে খাবার পানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়ম।
অভিযান চলাকালে তাৎক্ষণিকভাবে এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো দ্রুত সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংরক্ষিত বাসি খাবার পৃথক করে রাখা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় বিক্রি বা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা না যায়। এছাড়া পোড়া তেল জব্দ করা হয়।
পরিদর্শনকালে চিহ্নিত অন্যান্য অনিয়ম ও অসঙ্গতি সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পাশাপাশি অভিযানে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত, ছবি ও ভিডিও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা চিহ্নিত অনিয়মসমূহ দ্রুত সংশোধন করে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন করার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শাখার অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যরা।
উল্লেখ্য, কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) হলো বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)-এর যুব সংগঠন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে দেশের ৩৫০টি থানা, ৬৪টি জেলা এবং ৭৯টি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে সংগঠনটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।