07/02/2026
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নামে ডিপ্লোমাধারীদের দায়েরকৃত মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগনামার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বাংলাদেশের সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী প্রকৌশলীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন–এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ সাকিবুল হক লিপু -সহ আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তথাকথিত কিছু ডিপ্লোমাধারী নেতাদের উত্থাপিত ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগের প্রতি প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলার থানাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে প্রকৌশলী সাকিবুল হক লিপুর নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযোগে তাঁকে হত্যার হুমকি ও সহিংসতা উস্কে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে, তা সরাসরি সত্যের বিকৃতি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার জঘন্য ষড়যন্ত্র। বাস্তবে তিনি সারাদেশে ডিপ্লোমাধারীদের দ্বারা সংঘটিত ব্যাপক অরাজকতা, নৈরাজ্য, সহিংসতা, অবরোধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার, পুলিশ-প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর, ২০২৫ এবং ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে স্বয়ং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় কমিশনারগণ প্রকাশ্যে নৈরাজ্যকারী ও সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ প্রদান করেন, যা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। [সূত্র: (১) দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ নভেম্বর ২০২৫ — “দেখামাত্র সন্ত্রাসীদের গুলির নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের” এবং (২) দৈনিক যুগান্তর, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ — “নৈরাজ্যকারীদের গুলির নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের”]
এই তথাকথিত অভিযোগনামা একদিকে যেমন হাস্যকর, অন্যদিকে তেমনই তা ভয়ংকর; কারণ এর মাধ্যমে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে। প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এসব বানোয়াট অভিযোগে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন, বরং প্রকৌশল সমাজে তা হাসির খোরাক যোগাচ্ছে।
আর এটি প্রমাণ করে যে, একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল ২০১৩ সালের মতোই আবারও বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নির্লজ্জ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। যারা আজ সাধু সেজে অভিযোগ উত্থাপন করছে, তাদের প্রকৃত চেহারা ইতোমধ্যেই দেশবাসীর কাছে উন্মোচিত হয়েছে। এরা কেবল শান্তি-শৃঙ্খলার বিরোধী নয়, বরং এরা দেশ ও জাতির শত্রু। সারা দেশে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা, জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ডিপ্লোমাধারীরা ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে নিরীহ যাত্রীদের জীবন বিপন্ন করা, সারা দেশের রেলপথ ও সড়কপথ সর্বাত্মক অবরোধ করে রাষ্ট্রকে অচল করে দেওয়া, মবসন্ত্রাসের কায়েম করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর গঠিত সরকারের মাননীয় উপদেষ্টাদের ওপর হামলার উস্কানি দেওয়া এবং চাঁদপুরের কচুয়া থানা ঘেরাও করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটানো—এসবই তাদের সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী ব্লু-প্রিন্টের অংশ। ডিপ্লোমাধারীরা সারাদেশে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ত্রাসের রাজত্ব চালিয়েছে, তা কোনোভাবেই দেশের সাধারণ মানুষ মেনে নিবে না।
আমরা দেখেছি, গত ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ইং তারিখে রাষ্ট্রীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নেস্কোতে কর্মরত বুয়েটের মেধাবী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকনকে অন ডিউটি অফিসে ডিপ্লোমাধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার মতো পৈশাচিক ও নৃশংস হুমকি দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিলো। তাদের এই সন্ত্রাসী তৎপরতা কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাদের নিকৃষ্ট বিষদাঁত বের করেছে। তারা ধারাবাহিকভাবে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং, নোংরা অশালীন ও জঘন্য কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ, এমনকি সরাসরি শারীরিক আক্রমণ ও জবাই করে হত্যার হুমকি প্রদানের মাধ্যমে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই ধরনের উগ্রবাদী, নৈরাজ্যকারী ও সন্ত্রাসবাদী আগ্রাসী আচরণ প্রমাণ করে যে, ডিপ্লোমা গোষ্ঠী কোনো নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী নয়; বরং তারা যথারীতি সন্ত্রাসবাদ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করতে চায়।
আমরা সতর্ক করে দিতে চাই—যারা সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে, সাইবার বুলিং করছে এবং বিভ্রান্তিকর অপতথ্য, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও গুজব ছড়িয়ে ব্যাপক উস্কানি দিয়ে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে, তাদের দিন ঘনিয়ে এসেছে। সরাসরি সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে যারা রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত— তাদের প্রত্যেককে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তদুপরি, যারা মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে ফাঁস করে সারাদেশে অরাজকতা সৃষ্টির ইন্ধনের যোগান দিয়েছে, তারা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধে লিপ্ত।
আমরা প্রশাসনের প্রতি সুস্পষ্ট আহ্বান জানাচ্ছি—এই নথিপত্র ফাঁস করে সারাদেশে অরাজকতার ইন্ধনদাতা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রেল অবরোধ করে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপকারী, জনমানুষকে জিম্মি করে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী এবং হত্যার হুমকিদাতা সন্ত্রাসীদের দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন।
আমরা আরো দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছি—প্রকৌশলী মোঃ সাকিবুল হক লিপু সহ প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ একটি শক্তিশালী ও অটল ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁদের পেছনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, ঢাবি, সাস্ট সহ দেশের সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল ডিগ্রি প্রদানকারী সকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, পেশাজীবী প্রকৌশলীসহ লাখ লাখ সচেতন ছাত্র-জনতা। এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপশক্তি টিকতে পারবে না। প্রকৌশলী সমাজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। কোনো মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি, ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার এই ন্যায্য আন্দোলনকে কোনোভাবেই দমাতে পারবে না।
- রুয়েট ২০ সিরিজ