"গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ" একটি মানবিক, অরাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সংগঠন। এই পেইজ গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর রাজশাহী মহানগর শাখা, রাজশাহীর একমাত্র অফিসিয়াল পেইজ। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ২ টা অর্থবোধক দিক হতে এই কমিটির নামকরণ করা হয়েছে। ১. গাউসুল আযম হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) নামের/উপাধির দিকে নিসবত (সংযুক্ত) করে। ২. গাউস হতে গাউসিয়া- যার অর্থ সাহায্যকারী অর্থাৎ গাউসিয়া কম
িটি বাংলাদেশ মানে বাংলাদেশের সাহায্যকারী কমিটি- এই অর্থের দিকে নিসবত করে। এভাবেই এই কমিটি মূলত দুই ভাগের কাজ করে থাকে। (এক) হাদীস শরীফের পবিত্র ভাষ্য অনুসারে মুসলমানরা ৭৩ দলে বিভক্ত হয়েছে বা হয়ে থাকবে। এর মধ্যে ৭২ দলই জাহান্নামী। শুধুমাত্র একটি দলই জান্নাতি। ইসলামের একমাত্র নাজাতপ্রাপ্ত দল তথা জান্নাতি দল তথা মূলধারার নাম আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত সংক্ষেপে যা সুন্নী নামে পরিচিত। হযরত বড়পীর গাউসুল আযম আবদুল ক্বাদের জীলানী (রা.) সুন্নী জামাত’র পরিচয়ের সাথে সাথে পাশাপাশি ৭২ দলের পরিচয়সহ একটি তালিকা প্রদান করেন। এই বাতিল ৭২ দলের পথ বর্জন করে সঠিক ১টি পথে নিজে চলা এবং অপরকেও সত্য পথে চলার ব্যবস্থা করাই বা আহবান করাই এই কমিটির কাজ। তাই ১. ইসলামী শিক্ষার বিকাশ, ২. ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশ, ৩. কোরআন শিক্ষা ও ইসলামী আক্কিদা-আমলের শিক্ষা প্রদানের জন্য আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের অধীনে সারাদেশে পরিচালিত হচ্ছে ৩০০ এর অধিক মাদ্রাসা কমপ্লেক্স (মসজিদ, হিফজখানা, এতিমখানা, খানকাহ, ইসলামিক রিচার্স সেন্টার) এবং দাওয়াত-এ খায়র (কল্যানে পথে আহবান) মাহফিল। (দুই) বাংলাদেশের সাহায্যকারী কমিটি হিসেবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য মানবিক সেবা প্রদান। তাই সারাদেশে এর শতশত শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ১.দাফন-কাফন কাজে সহায়তা, ২.অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার কাজে সহায়তা, ৩.ফ্রী চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান, ৪.শীতার্ত, বন্যার্তদের সহায়তা, ৫.পথশিশু, এতিম, অসহায়দের সহায়তা, ৬.রোযাদারদের ইফতার সামগ্রী বিতরণ ইত্যাদি মানবিক কার্যক্রম।
রসূল (স.) এর ৩৮ তম বংশধর আল্লামা হাফেয ক্বারী সৈয়্যদ আহমদ শাহ (রহ.) মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে দ্বীনের মশাল হাতে নিয়ে প্রথমে হিজরত করেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। তিনি নবদীক্ষিত মুসলমানদের ইবাদতের জন্য ১৯১১ সনে সেখানকার প্রথম জামে মসজিদ নির্মাণ করেন (Dr. Ibrahim M Mahdi, A Short History to the Muslims in Sounth Africa). এরপরই তিনি ১৯২০ সনে যান সুদূর রেঙ্গুনে (বর্তমান বার্মায়)। এক পর্যায়ে তিনি আসেন চট্টগ্রামে (বর্তমান বাংলাদেশে, উল্লেখ্য ১৯৩৫ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত নামে কোনো আলাদা দেশ ছিল না, পুরোটায় ছিল একটি ভূখণ্ড)। চট্টগ্রামের ষোলশহরে ১৯৫৪ সনে প্রথমে ‘মাদরাসা-এ আহমদিয়া সুন্নিয়া’ স্থাপন করেন ও পরবর্তীতে ১৯৫৬ সনে উক্ত নামের সাথে যুক্ত করেন ‘জামেয়া’ (অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং পুনর্গঠন করেন-‘আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া’ ট্রাস্ট।
এরপর ঊনারই সুযোগ্য সন্তান আল্লামা হাফেয সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ এই প্রতিষ্ঠানকে এবং এর কর্মসূচীকে দিয়েছেন আরো বেশি ব্যাপকতা। তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকার মুহাম্মদপুরের ক্বাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলীয়া এবং চট্টগ্রামের হালিশহরে তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া’ সহ অনেকগুলো মসজিদ, মাদরাসা কমপ্লেক্স। ১৯৭৫ সন থেকে তাঁরই নির্দেশে শুরু হয়েছে চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশে ‘জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) এর মতো একটি শরীয়ত সম্মত বর্ণাঢ্য মিছিলের/র্যালীর কর্মসূচী; যাতে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ শামিল হচ্ছে। ১৯৭৭ সাল হতে ‘তরজুমান’ নামে একটি মাসিক সাময়িকী চালু করেন। ১৯৮৬ সালে নির্দেশ দিলেন ‘গাউসিয়া কমিটি’ প্রতিষ্ঠা করতে। এরই বাস্তবায়নে ‘গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হলো।
বর্তমানে এসকল কাজ পরিচালনার নেতৃত্বে আছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ( স.) এর ৪০তম বংশধর হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মা.জি.আ.) এবং হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মা.জি.আ.)।