04/07/2026
#আমি হাসিমুখে ক্লাস নিতে ভালোবাসি… কিন্তু এখন আর পারছি না
দীর্ঘ অনেক বছরের শিক্ষকতা জীবনে আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি—ভালোবাসা দিয়েই শেখানো যায়।
গল্প করতে করতে, হাসতে হাসতে, ছোট ছোট আনন্দের ভেতর দিয়ে বাচ্চাদের নতুন কিছু শেখানো—এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
কিন্তু আজকাল ক্লাসে দাঁড়িয়ে নিজেকে চিনতে পারি না…
#ওদের ক্লাসে মনোযোগ নেই।নিয়মিত ক্লাসে আসে না।ঠিকমত ড্রেস,পানির বোতল,খাবার নিয়ে আসে না।শাসন করলেও পরের দিনের চেহারা একই।বাড়িতে গিয়ে পড়ে না।স্কুলে আসা যাওয়াই কাজ।বাড়িতে পড়া দিলে পড়া শিখে আসে না।
🔵একটা অদ্ভুত পরিবর্তন চোখের সামনে ঘটছে
একটা ক্লাস শেষ করে আরেকটা ক্লাসে যেতে মাত্র ২–৩ মিনিট সময় লাগে।
এই সামান্য সময়ের মধ্যেই পুরো বারান্দা ভরে যায় অস্থিরতা, চিৎকার, দৌড়াদৌড়িতে।
ধাক্কাধাক্কি, মারামারি—কেউ কাউকে শুনছে না।
যে বাচ্চারা আগে চুপচাপ বসে থাকত, ক্লাস ক্যাপ্টেন সবাইকে সামলে রাখত—
আজ তারা চোখের দিকে তাকায় না, ডাকে সাড়া দেয় না।
🔵সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা কোথায় জানেন?
ওদের মধ্যে যেন “সংযোগ” নেই।
না চোখের ভাষা বোঝে, না আদর বোঝে, না ধমক কাজ করে।
মোবাইলের গেম, স্ক্রিনের জগৎ—ওদের মনটাকে এমনভাবে নিয়ে গেছে,
বাস্তব মানুষ, বাস্তব সম্পর্ক—সব যেন দূরের কিছু।
🔵শাসন করবো? সেটাও আজ আর সহজ না
আমরা ছোটবেলায় শুনতাম—
“শিক্ষক যা ঠিক মনে করেন, সেটাই করবেন।”
আর এখন?
সামান্য কিছু বললেই অভিভাবকরা প্রশ্ন তোলেন, বিচার করেন, চাপ তৈরি করেন।
শিক্ষক যেন পড়ানোর আগে হাজারবার ভাবেন—“এটা বলা ঠিক হবে তো?”
🔵তাই এখন ক্লাসে কী করি জানেন?
হাসিমুখে ঢুকি,
আর কিছুক্ষণ পর নিজেকে দেখি কপাল কুঁচকে, দাঁতে দাঁত চেপে কথা বলছি…
এটা আমি না।
এটা আমি হতে চাইনি।
🔵একটা কথা বলতে চাই—অভিভাবকদের কাছে
আপনার সন্তান শুধু বইয়ের পড়া শিখলেই মানুষ হবে না।
শিখতে হবে—
• শ্রদ্ধা
• শোনার অভ্যাস
• নিয়ম মেনে চলা
• অন্যকে বুঝতে পারা
এই জিনিসগুলো বাড়ি থেকে শুরু হয়। স্কুল শুধু সেটাকে গড়ে তোলে।
🔵আর আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য
তোমরা খারাপ না…
কিন্তু তোমাদের মনটা খুব অস্থির হয়ে গেছে।
একটু থামতে শিখো,
একটু শুনতে শিখো,
একটু চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখো।
🔵শেষ কথা
শিক্ষকতা শুধু পেশা না—এটা একটা অনুভূতি।
কিন্তু সেই অনুভূতিটা যদি প্রতিদিন ভেঙে যায়,
তাহলে একসময় দাঁড়িয়ে ভাবতেই হয়—
“আমি কি সত্য