11/07/2025
মিডফোর্ড হত্যাকাণ্ড ও গণমাধ্যমের নীরবতা..!
গত পরশু ঘটে যাওয়া মিডফোর্ডের নির্মম হত্যাকাণ্ড এখন গোটা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এটা কি তাৎক্ষণিক ভাইরাল কোনো ঘটনা? না! ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে। অথচ এই নির্মমতা নিয়ে তখন কোনো আলোচনা হয়নি, কোনো প্রতিবাদ হয়নি, মিডিয়া নীরব ছিল। কেন?
বাংলাদেশের মূলধারার প্রায় সব মিডিয়া হাউজই ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানতো। এমনকি ভিডিও ফুটেজও তাদের হাতে ছিল। কিন্তু তবুও ৪৮ ঘণ্টা ধরে তারা একটি টুঁ শব্দও করেনি। কেউ নিউজ ব্রেক করেনি, কেউ প্রতিবাদ করেনি, কেউ রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করেনি।
প্রশ্ন আসে—তাহলে এই মিডিয়া কার নির্দেশে, কার ইশারায় নীরব ছিল?
এই মিডিয়া কি এখন আর জনগণের হয়ে কথা বলে না?
তারা কি এখন “হাসিনার কোল” ছেড়ে নতুন কোনো কোলের খোঁজে রয়েছে?
তাদের নীরবতা কি নতুন কোন সুবিধার প্রতীক্ষা?
মিডিয়ার এই পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা আজ জনগণের কাছে আর গোপন নেই।
এক সময় যারা “গণতন্ত্রের প্রহরী” বলে নিজেদের পরিচয় দিত, আজ তারা হয়ে গেছে শাসকের পদলেহী বা নতুন ক্ষমতার দালাল।
যে মিডিয়া জনগণের কণ্ঠ ছিল, আজ তারা হয়ে গেছে এক নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মুখপাত্র।
আমরা বলি গণমাধ্যম যদি সত্য লুকায়, তবে সেটা গণমাধ্যম নয়, সেটা জনগণের শত্রু।
মিডফোর্ডের হত্যাকাণ্ড আজ ভাইরাল হওয়ার পর, গণমাধ্যমগুলোর ‘ভুয়া জাগরণ’ আর ‘সাহসী প্রতিবেদন’ যেন প্রহসনের মতোই ঠেকে।
এই প্রশ্নের জবাব জনগণ চায়, ইতিহাস চায়।
কারা এই হত্যাকাণ্ডকে ৪৮ ঘণ্টা চেপে রেখেছে?
কার ইশারায় সত্য চাপা পড়ে গেল?
গণমাধ্যম কি এখন সত্যের পাহারাদার, না কোনো গোষ্ঠীর মালিকানাধীন ‘ব্যবসা’?
আমরা ন্যায়বিচার চাই, স্বচ্ছতা চাই, এবং এমন গণমাধ্যম চাই যারা সত্যকে সময়মতো সামনে আনবে।
বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলন