22/03/2026
মাইগ্রেন নেই কিন্তু হঠাৎ হালকা মাথা ব্যথা, অস্বস্তি অনুভব করেন.?
আমরা ভাবি হয়তো বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কারণটি হতে পারে খুব সাধারণ- ডিহাইড্রেশন (শরীরে পানির ঘাটতি)।
আমাদের শরীরের প্রায় ৬০% পানি দিয়ে গঠিত। শরীরের প্রতিটি কোষ, অঙ্গ এবং সিস্টেম সঠিকভাবে ফাংশন করার জন্য পর্যাপ্ত পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিনের জীবনে হাইড্রেশন বজায় রাখা সুস্থ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
অনেকেই খাবার খেলেন কিন্তু ঠিক মতো পানি খেতে ভুলে যান, হয়তো অফিসে বা রাস্তায় আছেন কাজের ফাকে পানিটাইই খাওয়া হয়ে উঠে না।
আসছে গরমের দিনে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে যাবে। তাই ঐ সময় শরীরকে হাইড্রেট রাখা আরও বেশি জরুরি। তবে একবারে অনেক পানি খাওয়ার বদলে কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে (sip করে) পানি পান করাই সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর ধীরে ধীরে পানি শোষণ ধারন করে রাখে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।
পানি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না
এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, কিডনির কার্যক্রমকে সহায়তা করে, হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে অনেক সময় ডিহাইড্রেশনজনিত মাথাব্যথা কমে, ক্লান্তি দূর হয় এবং ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও বজায় থাকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স। শরীরে পানি সঠিকভাবে ধরে রাখতে ও কোষের কার্যক্রম ঠিক রাখতে সোডিয়ামসহ কিছু ইলেক্ট্রোলাইটের ভূমিকা রয়েছে। সোডিয়াম মাসল ও সেলের ভেতরে-বাইরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে যারা লং টাইম ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেন বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন, তারা মাঝে মাঝে পানির সাথে এক চিমটি পরিমাণ লবণ মিশিয়ে পান করতে পারেন। এতে শরীরের সোডিয়াম ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীর পানি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে অবশ্যই পরিমাণ খুব অল্প হওয়া উচিত এবং রান্নায় এবং খাবারের সময় লবন পরিমাণের ভিতর রাখতে হবে।
অনেকেই নিয়মিত চা বা কফি পান করেন। এগুলোর মধ্যে থাকা ক্যাফেইন ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ শরীর থেকে পানি বের হয়ে যেতে পারে। তাই যারা বেশি চা বা কফি পান করেন, তাদের তুলনামূলকভাবে আরও বেশি পানি পান করা প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে অনেক সময় UTI (মূত্রনালীর সংক্রমণ) হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই শরীরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নিয়মিত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি
একসাথে অতিরিক্ত পানি পান করাও ঠিক নয়। এতে সাময়িক পিপাসা মিটলেও কিডনি দ্রুততার সাথেইই সেগুলো আবার ছেকে শরীর থেকে বের করে দেয়। অতিরক্ত পানি একসাথে পান করলে এতে অনেক সময় ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই দিনের মধ্যে ভাগ করে ধীরে ধীরে পানি পান করাই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি।
আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে আপনি স্টুডেন্ট হন, চাকরিজীবী হন কিংবা একজন হোমমেকার সবাইয়েরই উচিত নিজের সাথে একটি পানির বোতল রাখা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু করে পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করা। তার জন্য ইন্টারেস্টিং এবং সুন্দর দেখতে কাঁচে তৈরী,টাইট্রান্ট অথবা SS 316 এর ওয়াটার বোতল গুলো ভালো অপশন হতে পারে।
এছাড়া যাদের কিডনি রোগ বা হার্টের সমস্যার কারণে চিকিৎসক পানির পরিমাণ সীমিত রাখতে বলেছেন, তারা অবশ্যই সেই নির্দেশনা অনুসরণ করবেন।
তাছাড়া সকল সুস্থ এবং
GERD/GORD, IBS,IBD,Peptic, Ulcer ,Constipation,GIT, MetS, Diabetes,DKA (Diabetic Ketoacidosis)NAFLD (Non-Alcoholic Fatty Liver Disease),UTI সমস্যায় আক্রান্ত মানুষদের জন্য ডেইলি নুন্যতম ৩-৩.৫ লিটার বা তার বেশি পানি পান করার চেষ্টা করা উচিৎ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি পান করা। কারণ দূষিত পানি শুধু শরীরকে ডিহাইড্রেটই করে না, বরং নানা সংক্রমণ ও রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।
তাই ছোট একটি অভ্যাস গড়ে তুলুন
তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে কিছুক্ষন পর পর পানি পান করুন, পরিষ্কার পানি পান করুন, শরীরকে হাইড্রেট রাখুন।
সুস্থ থাকার অনেক বড় একটি অংশ লুকিয়ে আছে এই ছোট্ট অভ্যাসের মধ্যেই
এক গ্লাস পরিষ্কার পানিতে।
A.S.M Nur-A-Safi Niloy
NFS-12