11/06/2023
শাখাওয়াতের চিকিৎসা সহায়তা-
সালটা ২০২২ মার্চ মাস, সি এস ই ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের লেভেল ১ টার্ম ১ এর স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস নিচ্ছি। প্রথম বর্ষে আমার ক্লাস গুলা একটু লম্বা হয়, দেড় থেকে দুই ঘন্টার মত। গরমের শুরুটা বেশ তীব্র। ক্লাসে হঠাৎ একছাত্র দাড়িয়ে পড়ল- আমি বললাম, কিছু বলবে, ও বলল, স্যার, একটা অনুরোধ আছে, আমি বললাম, বল। ও যা বলল তা শোনার ও বিশ্বাস করার জন্য আমি প্রস্তত ছিলাম না। বলল, স্যার আমি কি আপনার ক্লাস দাড়িয়ে করতে পারি, এরকম অনুরোধে অবাক হলাম ,জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে বাবা। বলল স্যার আমার লিভারে ব্যাথা, এক টানা বসে থাকতে পারি না। ক্লাসটা কোনরকম শেষ করে, আমি ওকে আমার অফিস রুমে ডেকে নিলাম।
পুরা বিষয় জিজ্ঞাসা করলাম। ও যা বলল তা শুনে আমার চক্ষু চড়কগাছ। এমন মানুষও আছে- চিকিৎসার কাগজ পত্র নিয়ে আসতে বললাম, যা শুনলাম ও বুঝলাম তাতে ওর লিভার ক্যান্সার, ওকে দিনে মাঝে মাঝে ২০ এর অধিক ঔষুধ খেতে হয়, পায়ে ব্যাথা, হাটতে পারে না, খেতে পারে না, মুখ দিয়ে রক্ত বের হয় দুর্বলতা সহ আরো অনেক কিছু।
আমি বললাম এ তো জটিল রোগ তোমার এখানে সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না, এক এক ডাক্তার এক এক ধরনের চিকিৎসা দিচ্ছে তুমি দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসার চেস্টা কর, এবার ওর আর্থিক অবস্থা জানলাম ওর বাবা নেই, মায়ের সামান্য একটা কোয়েল পাখির ফার্মের আয়ে সংসার চলে ওর দ্বারা দক্ষিণ ভারত তো দূরে থাক চিকিৎসা চালানোই সম্ভব না।
আমি অভয় দিলাম। শুরু হল সংগ্রাম –টাকার অভাবে এমন এক জন মেধাবী ছাত্র একপ্রকার ভুল চিকিৎসায় তিলে তিলে শেষ হবে তা মানা যাই না। ডাক্তারের খোজ, পাসপোর্ট, ভিসা টাকা তুলে পাঠানো হল ভারতে হাইদ্রাবাদের এ আই জি হসপিটালে ডাঃ মিথুন শর্মার অধীনে, জানা গেল ওর বিলিয়ারি সিরোসিস ও গিলবার্ড ডিজিজ হয়েছে, সাথে সাথে বাংলাদেশের ভুল চিকিৎসা ওর পায়ের ও পাকস্থলির প্রভূত ক্ষতি সাধন করেছে।
ডাক্তার ঔযুধ দিয়ে বলেছেন ছয় মাস পরে যেতে, থেরাপি ও প্রয়োজনে অপারেশন লাগতে পারে। এ বছরের জুলাই মাসে ও আবার যাবে, এ পর্বে চিকিৎসার জন্য প্রায় সাড়ে এগার লক্ষ ভারতীয় রুপি বা ্ষ বাংলাদেশী টাকার প্রয়োজন হতে পারে।
এমন একজনের সাহায্যে সবাই এগিয়ে আসি যার আসলেই সাহায্য প্রয়োজন।
#কপিঃ সুবীর স্যার (সিএসই বিভাগ, পাবিপ্রবি)