25/07/2025
গতকাল, ২৪শে জুলাই ২০২৫, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক আয়োজিত
'জুলাই বিপ্লব ও আমাদের করণীয়' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় NSTU Youth Circle -এর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মুহাম্মাদ সানোয়ার অংশ গ্রহণ করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ের উন্নতির জন্য একটি স্বাধীন, স্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের গুরুত্ব অপরিহার্য।
এ পর্যন্ত ১১টি সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও, একটি দেশের মস্তিষ্কস্বরূপ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কমিশন বা কার্যকর পরিকল্পনা দেখা যায়নি। শিক্ষাব্যবস্থা যেন তার নিজের মতো করেই চলছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ব্রিটিশ আমলে ২০০ বছরে ২টি, পাকিস্তান আমলে ২৩ বছরে ৪টি এবং স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে ৮টি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব কমিশনের কোনো কার্যকরিতা আমরা লক্ষ করিনি।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দর্শনের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসে। চীন ও তুরস্ক এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে বিশ্বের কোথাও রাজনৈতিক দল বা সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের নজির নেই। অথচ আমাদের বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষা ব্যবস্থায় সূক্ষ্মভাবে নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের আদর্শ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
এই প্রেক্ষাপটে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে একটি কার্যকর শিক্ষা সংস্কার কমিশনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত:
i) স্বাধীন: কমিশনকে সকল প্রকার রাজনৈতিক চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে।
ii) স্থায়ী: কমিশন তাদের প্রস্তাবনা দেবে, মাঠে তা বাস্তবায়ন করবে এবং প্রয়োজনে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যাগুলো সমাধান করবে।
iii) অন্তর্ভুক্তিমূলক: সকল দল, মত ও ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ এই কমিশনের জন্য অত্যাবশ্যক।
একটি স্বাধীন, স্থায়ী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা সংস্কার কমিশনই পারে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং একটি উন্নত ও প্রগতিশীল জাতি গঠনে সহায়তা করতে।