23/09/2025
"চার্লির সাথে পরিচয় স্কুল জীবনে। বলছিলাম চার্লি চ্যাপলিনের কথা। কোন সূদুরের স্মৃতি, কিন্তু এখনো ধুলো জমেনি। সিটি লাইটস দেখেই তাঁর সাথে পরিচয়। সেখান থেকে মনে মনে বন্ধুত্ব যা এখনো অক্ষুন্ন। দেখ হয়না, কথা হয়না, এমনই বিরল বন্ধু সে।
নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের আমন্ত্রণে, তাদেরই মাধ্যমে ঠিক হওয়া নেত্রকোনার কোন এক পাড়াগাঁয়ের কোন এক বিদ্যালয়ে চ্যাপলিনকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার অনুষ্টানে যোগ দেয়ার সুযোগ ঘটে। শহর থেকে কিছুটা দূরে বন্ধু ইউসুফ আলীর স্কুলে। সেখানকার সে প্রধান শিক্ষক। নির্দিষ্ট দিন- সময়ে, ক্লাসরুম অন্ধকার করে স্কুল ছুটির ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে শুরু হয়ে যায় THE KID. সাদাকালো, ৪/৩ ফ্রেমের নির্বাক সিনেমা। সবাই চুপচাপ। কয়েক মিনিট পর সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে হাসির ফোয়ারা ছোটে পুরো ক্লাস জুড়ে। সিনেমার পর্দায় প্রথমবারের মত দেখা গেল চ্যাপলিনকে। শৈশব, কৈশোর পেড়িয়ে চুলে পাক ধরেছে আমার, কিন্তু বন্ধুর বয়স এতটুকুও বাড়েনি। কমেনি সমসাময়িকতা। সেই চিরচেনা চ্যাপলিন। ঢিলেঢালা পাতলুন, আঁটসাঁট জড়ানো ময়লা কোট, বিখ্যাত সেই বৌলার হ্যাট, বাঁশের লাঠিটি হাতে কসরতরত, অভার সাইজড জুতোয় পরিচিত ভঙ্গিতে হেটে এগিয়ে আসতে থাকলে পর্দায় তাঁর অবয়ব বাড়ে। একেবারে সামনে এসে দাঁড়াতেই, ছোট্ট গোঁফখানা নিয়ে নির্বিকার চ্যাপলিন। কুড়িয়ে পাওয়া আধখানা সিগারেটটা ধরিয়েই এগিয়ে যায়, সেই সাথে সিনেমাও। একটু পরপর হাসির উৎসব, মাঝখানে মন খারাপের নিস্তব্ধতা। সিনেমাটা যদিও বহুবার দেখা, তারপরও পিছনের বেঞ্চে বসে ছেলে মেয়েদের সাথে মিশে যাই ঘন্টাখানেকের জন্য। ভুলে যাই চারপাশ, নিজের অস্তিত্ব আর সমাজের বানানো নিজের চরিত্রটা। পর্দায় THE END লেখা দিয়ে ঘোর কাটে, বাস্তবে ফিরে আসতে হয়। ছেলে মেয়েদের বায়নায় আবারো সিনেমা দেখানোর আশ্বাসে শেষ হয় এইবারের পর্ব।
নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের যে উদ্দেশ্য নিয়ে পথচলা শুরু তার জন্য শুভকামনা। টেংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে, ২১/৯/২৫।"
-- ওয়ালীউল্লাহ পারভেজ।