23/05/2026
শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে নাটোরে যুব ও শিশু সংগঠনের মানববন্ধন
ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নাটোরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৩ মে ২০২৬, শনিবার সকালে নাটোর প্রেস ক্লাবের সামনে দেশব্যাপী একযোগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শিশু সংগঠন ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) এবং যুব সংগঠন হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে শিশু, তরুণ, অভিভাবক, শিক্ষক, এনজিও কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিয়ে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নাটোর ইউনিক প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ বুলবুল আহমেদ, নাটোর এনএস সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অলক কুমার মৈত্র এবং দিঘাপতিয়া এমকে কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাহাবুব হোসেন।
আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এনসিটিএফ নাটোরের সভাপতি সানজিলা রহমান তটিনী, হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক সুষ্ময় দাস এবং হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন এর সভাপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
সমাবেশে বক্তারা দেশের শিশু সুরক্ষার ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই চার মাসেই দেশে ১৯৯ জন শিশু সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৯৪ জন ধর্ষণের শিকার। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড, মুরাদনগর, দৌলতখানায় শিশু ধর্ষণ এবং হালুয়াঘাটে শিশু ইমনের নির্মম মৃত্যু প্রমাণ করে আজ শিশুরা কোথাও নিরাপদ নয়। সমাজজুড়ে মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এই বর্বরতা চলছে, যা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বক্তারা অবিলম্বে এই মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
আয়োজক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, "ঘটনাটির পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতা প্রশংসনীয়। মূল অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের অতি দ্রুততম সময়ে এবং পলাতক আসামিকে অন্য জেলা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।" প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ জনমনে স্বস্তি এনেছে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে রাষ্ট্রপক্ষকে শতভাগ জোরালো ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তাঁরা।