01/03/2025
বেশ কয়েক বছর আগের কথা।
মহেশখালীতে আওয়ামীলীগের এমপি, স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে মিলে কন্ট্রাক্টর শাহাদাত হোসেন গরীবের ভূমি অধিগ্রহণের ৫২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। সেটা নিয়ে আমি আমার পেইজে লিখি৷ পরে প্রথমআলো সেটা নিয়ে রিপোর্ট করলে প্রোফাইলে শেয়ার দিই।
আমাকে বলা হয় পোস্ট ডিলিট করে ক্ষমা চাইতে হবে। আমি বলেছিলাম, কোনো দূর্নীতিবাজের কাছে ক্ষমা আমি চাইবো না। পোস্ট ডিলিট করার তো প্রশ্নই আসে না।
সেই থেকে শুরু। আমার বিরুদ্ধে র্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা লাগিয়ে দেয়া সহ হেন কোনো কাজ নাই সে করে নাই।
আমাকে মারার জন্য সন্ত্রাসী নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল আমাদের বাড়ীর সামনে।
সেই থেকে নানাভাবে নানা চেষ্টা করেছে। আমাদের বাড়ীর পাশে লাগো জমি কিনে তখনই হুমকি দিয়েছিল, পুরা বাড়ী সে দখল করে নেবে। কারণ সে এমপির পার্টনার। সালমান এফ রহমানের কাছের লোক।
আমাকে স্যরি বলানোর জন্য সবাই মিলে বৈঠক করেছিল বাড়ীতে। যেহেতু তার দুর্দান্ত প্রতাপ। কিন্তু আমি স্যরি বলি নাই। বলেছিলাম, কোনো দূর্নীতিবাজের কাছে তার দূর্নীতির জন্য আমি স্যরি বলবো না।
৫ আগস্টের পর সে পালিয়ে যায়। বেশ কয়েক মাস পলাতক ছিল।
পরে শোনা গেল আওয়ামীলীগ বিরোধী কোনো একটা (অথবা দুইটা) রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক ঠিক করে সে ফিরে এসেছে।
এই কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা।
হঠাত করে ভোরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে এসে বাড়ীর সামনের জায়গা দখল করে নিল।
ব্যাপারটাকে এমনভাবে সাজাতে চাইছে, যেন জমি সংক্রান্ত বিরোধ। (যেহেতু সে কুখ্যাত ভূমিদস্যু। হাজার হাজার একর ভূমি সে দখল করেছে)।
প্রথমে ভেবেছিলাম ডাকাতি করতে এসেছে। তাই দা নিয়ে বের হলাম। দেখি পিঁপড়া মত লোক। সবার হাতে দেশীয় অস্ত্র।
এরপর দেখলাম আমাদের ঘিরা বেড়া কেটে, গাছপালা কেটে ফেলে চলে গেল।
এর কয়দিন পর আবার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে ভোরে বাড়ীর একপাশে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে নিল। আমরা হতভম্ব!
আমরা নেভীর কাছে গেলাম, নেভী বললো পুলিশের কাছে যেতে। পুলিশ বললো এইটা আমার কাজ না। এগুলা জায়গাজমির বিষয়।
ইউএনওর কাছে দরখাস্ত করলে ইউএনও সাহেব ওসিকে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে বলে।
ওসি বলে, এগুলা আমাদের বিষয় না। জমিজমার ব্যাপার।
আমি বললাম, সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে এসে বাড়ী দখল করে নিচ্ছে, এইটা জমির বিষয় হয় কী করে?
পুলিশ বলে- মারামারি না হলে তো আমরা যেতে পারি না।
পরে নামকা ওয়াস্তে এলো। চলে গেলো।
তারপর তার বড় ভাই এসে বললো, বাড়াবাড়ি করলে পুরা বাড়ী দখল করে নেব।
কোর্টে মামলা করায় কোর্ট নিষেধাজ্ঞা দিল। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সে এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী ব্রিক ওয়াল তুলে ফেললো রাতারাতি।
কোর্ট থেকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে গেল। মায়েদের হুমকি দিল।
বললো, তার লোকেরা এসে বলে গেল, তোদের ছেলে ৩২ ভাঙছে, তার নামে দেশের থানায় থানায় মামলা দেব।
সব আমাদের লোক, কোথাও বিচার পাবি না।
ফ্যামিলীর সবাই ভয় পেয়ে গেল।
হাসনাত আব্দুল্লাহ এসপিকে কল দিয়ে বিষয়টা দেখতে বললো। এবার পুলিশ একটু নড়েচড়ে বসলো।
কিন্তু যে লাউ, সে কদু। পুলিশ বলে, কোর্ট আমাদের নিষেধাজ্ঞা দেয় নাই। আপনাদের দিছে। আমরা কোনো আদেশ পাইনাই।
আমরা কোর্টের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নিষেধাজ্ঞা আদেশ অ্যাটাচ করে ওসি বরাবর অ্যাপ্লিকেশন দিলাম।
কিন্তু এবার সে আমাদের কঠিন থ্রেট দিতে থাকে। বুঝতে পারলো এই জায়গা দখল করে খেতে পারবে না। এবার থ্রেট দেয়া শুরু করলো তার দখল করা জমি আমাদের বিক্রি করতে হবে। তাকে রেজিস্ট্রি দিতে হবে।
আমরা রাজী না হলে সে গানপয়েন্টে জমি লিখে নেয়ার হুমকি দিল।
নাহয় আমাদের পুরা বাড়ী দখল করে নেবে। আমাদেরকে ঘরবাড়ী ছাড়া করবে।
আমার নামে অস্ত্র মামলা দেবে, ইয়াবা মামলা দেবে। ফ্যামিলী মেম্বারদের রাস্তায় ধরে মারবে।
ইনফ্যাক্ট মসজিদে জুমার পরে আব্বু আর মেজ আব্বুর উপর হামলা করতে চাইলো।
মুসল্লীদের কারণে হামলা করতে না পারলেও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করলো।
ফেইসবুকে পোস্ট ডিলিট করার জন্য প্রেশার দিল। অথচ তেমন কিছুই করি নাই।
আব্বু, চাচ্চুদের বয়স হইছে। এমন সন্ত্রাস তারা দেখেও অভ্যস্ত না, এমন কিছুর মুখোমুখিও আগে হয়নি। তারা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়।
কিন্তু আমি বলি যে, প্রশাসন কাজ করবে। সে কিছুই করতে পারবে না।
কিন্তু সত্যি বলতে, প্রশাসনের প্রচণ্ড নিষ্ক্রিয়তা আমাকে রীতিমতো অবাক এবং হতাশ করছে।
সে বললো, তোমরা কোনোদিকেই আমার কাছ থেকে বাঁচতে পারবা না।
সজল ভাই আর সাদিকের পোস্ট দেখে সে বলেছে, এগুলা যেন আমি ডিলিট করাই।
নাহয় আমরা নাকি পার পাবো না।
সে দরকার হলে সব সাংবাদিক কিনে নেবে, সব মিডিয়া কিনে নেবে, সব পুলিশ কিনে নেবে এই হুমকি দিয়ে গেল।
একটু আগে কয়েক ট্রাক ইট এনে আমাদের সীমানার ভেতর ফেলে গেল।
বলেছে, পোস্ট ডিলিট না করলে সে আমাদের ঘর ছাড়া করে পুরা ভিটেবাড়ী দখল করে নেবে।
তার বিরুদ্ধে আমরা কিছুই করতে পারবো না।
তার ভাষায় 'কোর্ট-কাচারী সব তার পকেটে।'
একসময় একটি বেসরকারী কলেজের দফতরী থেকে আওয়ামীলীগের আমলে কোটি কোটি টাকা কামানোর সুফল সে পাচ্ছে। স্থানীয় পলিটিশিয়ান যারা থানা কন্ট্রোল করে, এরা সব তার পকেটে। তার হয়ে হুমকি দেয়।
আওয়ামীলীগের জন্য সরাসরি ভোট কেটে নিয়ে, আওয়ামীলীগের এমপির জন্য সমস্ত নির্বাচনী খরচ করেও সে আছে বহাল তবিয়তে।
সে হয়তো আসলেই ঘরবাড়ী ছাড়া করবে, গানপয়েন্টে জমি জমা লিখে নেবে, স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ডকুমেন্টস ফেইক করবে (ইভেন সে কোর্টেও ফেইক ডকুমেন্টস সাবমিট করছে)।
সে হয়তো আমার নামে নানা জায়গায় নানা রকম মামলা দেবে। যা বলেছে, সব হয়তো করবে।
কারণ সে এখনো পর্যন্ত যা করবে বলেছে, সব করে দেখিয়েছে। এটাই টাকার ক্ষমতা।
তার আওয়ামীলীগের আমলে কামানো কালো টাকা ছাড়াও, WPFর প্রজেক্ট থেকে প্রতিদিনই হুহু করে টাকা ঢুকছে।
হাসিনা পালালো, অথচ তার পাণ্ডারা এখনো টাকার পাওয়ারে সব কিছু আগের চেয়েও দুর্দান্ত প্রতাপে চালিয়ে যাচ্ছে।
আমি জানিনা সে টাকা খরচ করে কীভাবে সব কিছু ফ্রেইম করবে। অলরেডি ছোট চাচার উমরাহ আটকে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওনাকে পুরোপুরি কাবু করে ফেলেছে।
প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে সবাই পুরোপুরি হতাশ। এই ভয় নিতে না পেরে হয়তো কেউ কেউ কম্প্রোমাইজ করবে তার সাথে।
কিন্তু আমি এখানে জানিয়ে রাখছি, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তার সাথে কম্প্রোমাইজ করবো না।
তার প্রতিটা কানাকড়ি খরচ করেও যদি সে ফ্রেমিং করে, তার সব পাওয়ার দিয়েও যদি চেষ্টা করে, তাও আমি তাহমিদুল ইসলাম ইনশাআল্লাহ নত হবো না।
ফেইসবুক পোস্ট ডিলিট করা তো দূর কী বাত!
যদিও জানিনা, এই ঘটনা লেখার পর আমার কী হবে!
Tahmidul Islam