دراسة القران দিরাসাতুল কুরআন Dirasatul quran

دراسة القران দিরাসাতুল কুরআন Dirasatul quran A Educational Development page

কওমি সনদের স্বীকৃতি: পাকিস্তানে পূর্ণ বাস্তবায়ন, বাংলাদেশে কতদূর ?বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার স্বীকৃতি (Recognition) একটি অত্...
03/05/2026

কওমি সনদের স্বীকৃতি: পাকিস্তানে পূর্ণ বাস্তবায়ন, বাংলাদেশে কতদূর ?

বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার স্বীকৃতি (Recognition) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল। পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর মডেল দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে দ্বীনি শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রেখেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিলো মুফতী তাকী উসমানী হাফি র। অন্যদিকে, বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া আংশিকভাবে শুরু হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।

🔹 পাকিস্তানের মডেল: স্তরভিত্তিক স্বীকৃতি
পাকিস্তানে Wifaq ul Madaris Al Arabia সহ বিভিন্ন বোর্ডের অধীনে কওমি শিক্ষার প্রতিটি স্তরের সাথে সাধারণ শিক্ষার সমমান নির্ধারণ করা হয়েছে।

الثانوية العامة (হেদায়াতুন নাহু স্তর):
➤ সমমান: ম্যাট্রিক (SSC)
الثانوية الخاصة (শারহে বেকায়া স্তর):
➤ সমমান: FA / IA (ইন্টারমিডিয়েট)
الدرجة العالية (জালালাইন স্তর):
➤ সমমান: ডিগ্রি (Bachelor)
الدرجة العالمية (দাওরায়ে হাদিস):
➤ সমমান: মাস্টার্স (MA in Islamic Studies/Arabic)
➤ স্বীকৃতি প্রদান করে Higher Education Commission

এছাড়া, শিক্ষার্থীরা চাইলে সরকারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সনদ ইংরেজিতে attestation করাতে পারে, যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।

🔹 আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় সুযোগ
এই স্বীকৃতির ফলে পাকিস্তানের মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে, যেমন—
Islamic University of Madinah
Umm al-Qura University
Al-Azhar University
এমনকি তারা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হয়ে গবেষণা ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করছে।

🔹 বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশে কওমি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর (দাওরায়ে হাদিস) সরকারিভাবে স্বীকৃতি পেলেও, নিচের স্তরগুলো—SSC, HSC বা ডিগ্রি পর্যায়ের সমমান—এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ধারিত হয়নি। ফলে:
শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষেত্রে আলাদা করে সাধারণ শিক্ষার সার্টিফিকেট অর্জন করতে হয়
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় যেতে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হয়

🔹 কেন এই স্বীকৃতি প্রয়োজন?
১. শিক্ষার সমতা নিশ্চিত করা
২. উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি
৩. রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ
৪. দ্বীনি ও দুনিয়াবি জ্ঞানের সমন্বয়
একজন আলেম যদি রাষ্ট্রের বিচারক, প্রশাসক বা নীতিনির্ধারক হতে চান, তবে তার জন্য এই স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

🔹 ভবিষ্যৎ ভাবনা: বাস্তবতা ও দৃষ্টিভঙ্গি
এটি সত্য যে ইসলামের শিক্ষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে এবং মুসলিম সমাজের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে একটি কার্যকর সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজন—
বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা
শিক্ষার মান উন্নয়ন
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য
শুধু স্বপ্ন নয়, বরং পরিকল্পিত উদ্যোগই এই পরিবর্তনকে সম্ভব করতে পারে।

কওমী শিক্ষা মুভমেন্ট 👈ফলো দিন

14/04/2026

আলোচ্য বিষয় : শিয়া, কাদিয়ানী, আওয়ামী লীগ BNP — কারা নিকৃষ্ট কাফের? কারা আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত?

এই প্রশ্নের উত্তর জানার পূর্বে জানতে হবে আসলে তারা কেন কাফের।

লেখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাসম্ভব সহজভাবে লেখার চেষ্টা করেছি, তবুও দয়া করে মনোযোগ সহকারে পড়ুন⬇️

🔹শিয়া : তারা ইসলামের সব মানে, কিন্তু কতিপয় সাহাবীদের কাফের মনে করে। অর্থাৎ তাদের আকিদায় বড় ত্রুটি আছে, তাই তারা কাফের।

🔹কাদিয়ানী : তারা ইসলামের সব মানে, নবী (সা.) এবং তার শরীয়তকেও মানে, জাস্ট শুধু গোলাম আহমদ নামের এক পথভ্রষ্টকে ‘রূপক নবী’ হিসেবে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ মুহাম্মদ (সা.) এর ‘খাতামুন নাবিয়্যিন’ উপাধিকে অস্বীকার করে, তাই তারা কাফের।

🔹আওয়ামী লীগ BNP : তারা সেক্যুলার, তারা শরীয়তকেই মানেনা। তারা আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে, তারা আল্লাহকে বিধানদাতা মানে না। তারা কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর আইন গুলোকে বাতিল করে, অর্থাৎ তারা আল্লাহকেই বাতিল করে, তারা নাস্তিকের মতো, তারা সাধারণ অমুসলিম বা কাফের নয়, তারা তাগুত, অর্থাৎ মিথ্যা ইলাহ, মিথ্যা বিধানদাতা, নিকৃষ্ট পর্যায়ের কাফের, শয়তানের সমপর্যায়ের।

◽মূল ব্যাখ্যা : শিয়া এবং কাদিয়ানীরা কোরআন সুন্নাহ প্রায় সব মানে, কিন্তু আকিদাগত বিচ্যুতির কারণে তাদেরকে কাফের বলে গণ্য করা হয়।

হ্যাঁ, এত জঘন্য আকিদা লালন করে, তাই নিঃসন্দেহে তারা কাফের, ঠিক আছে।

কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু, আওয়ামী লীগ BNP শিয়া-কাদিয়ানীদের থেকে অনেক বড় কাফের, নিকৃষ্ট কাফের।

আমাদের আলেম সমাজ কাদিয়ানী এবং শিয়াদের কাফের বলতে বলতে মুখে ফেনা তুললেও আওয়ামী লীগ, বিএনপি নিয়ে তারা কোনো কথা বলেনা। কেন বলে না? জান মালের ভয়ে।

1) শিয়া-কাদিয়ানীরা ইসলাম মেনে, শরীয়তকে মেনে, তারপর আকিদার ক্ষেত্রে খারাপ আকিদা পোষণ করে বিধায় তারা কাফের।

2) অন্যদিকে আওয়ামী লীগ BNP তো শরীয়তকেই মানে না, তো তাদের আকিদা আসবে কোত্থেকে!? তারা কোরআনের আয়াতগুলোকে বাতিল করে দেয়, তারা ইসলামকেই মানে না, আল্লাহকেই বাতিল করে দেয়। নাউজুবিল্লাহ।

3) শিয়া-কাদিয়ানীরা ‘কালিমা মেনে’ তারপরে ‘আকিদাগত কারণে’ কাফের, তারা সাধারণ কাফের।

4) কিন্তু আওয়ামী লীগ BNP তো কালিমা-ই মানে না। ‘লা ইলাহা’ মানে কোনো ইলাহ / বিধানদাতা নাই, ‘ইল্লা আল্লাহ’ মানে হচ্ছে আল্লাহ ব্যতীত। অর্থাৎ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র সাক্ষ্য দেয়া মানে হচ্ছে— আমি আগে সকল মিথ্যা ইলাহ কে পরিত্যাগ করে দেন একমাত্র সত্য ইলাহ আল্লাহকে গ্রহণ করলাম।

5) তো এখানে আওয়ামী লীগ BNP তো আল্লাহকে ইলাহ / বিধানদাতা মানলোই না, বরং নিজেরা বিধানদাতা তথা মিথ্যা ইলাহ হয়ে গেল (সংসদে তারা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী আইন বানায়)।

6) ঈমান আনার পূর্বশর্ত হচ্ছে সকল তাগুত তথা মিথ্যা ইলাহকে পরিত্যাগ করা। তো আওয়ামী লীগ BNP আল্লাহকে একমাত্র সত্য ইলাহ হিসেবে স্বীকৃতি তো দিলই না বরং নিজেরা আল্লাহর জায়গা দখল করলো।

7) আওয়ামী লীগ BNP তাগুত শয়তান হয়ে গেল। তারা তো সাধারণ কাফের মুশরিক বা অমুসলিম নয়, বরং কখনো কখনো ইহুদি খ্রিস্টানদের চাইতেও নিকৃষ্ট কাফের, নিকৃষ্টতম তাগুত কাফের, আল্লাহর জায়গা দখলকারী।

8) আওয়ামী লীগ BNP আল্লাহর বিপরীত। মুসলিম এর বিপরীত অমুসলিম। কিন্তু আল্লাহর (সত্য ইলাহের) বিপরীত তাগুত (মিথ্যা ইলাহ : শয়তান ও শয়তানের বাহিনী)। তো আওয়ামী লীগ BNP হচ্ছে শয়তানের বাহিনী। যেমন : নমরুদ, ফেরাউন ছিল তাগুত, শয়তানের বাহিনী।

9) আল্লাহকে অস্বীকার করা, আর আল্লাহর বিরোধিতা করা আল্লাহর জায়গা দখল করা এক নয়। ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দুরা আল্লাহকে অস্বীকার করে, আর আওয়ামী লীগ BNP নিজেরা আল্লাহর জায়গা দখল করে। তারা আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত।

10) কুরআনের অসংখ্য আয়াত অস্বীকারকারী, আল্লাহকে একমাত্র বিধানদাতা / আইন প্রণয়নকারী হিসেবে অস্বীকারকারী সমস্ত সেক্যুলার কাফের তাগুতদের বর্জন করুন। আফগানিস্তান ব্যতীত বাকি ৫৬ টি মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক এবং সেক্যুলার দলগুলো সব তাগুত কাফের। মুসলিমদের সব থেকে বড় শত্রু এই সেক্যুলার তাগুত কাফেররা। আলেম সমাজের উচিত ভয় না পেয়ে মাথা উঁচু করে হক কথা বলা।

💮আমার আলোচনাগুলো মধ্যে এটা হয়তো সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ লেখা। আর এই বিষয়গুলো ০.০০০১% মানুষও জানে না, দুই একজন যারা জানে তারা ভয়ে মুখ খুলে না। তাই অনুরোধ থাকবে পোস্টটি শেয়ার করে সবার মাঝে বার্তাগুলো পৌঁছে দিন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান❤️‍🔥

১. সৌদিতে আলাদা করে কোনো হিফজ বিভাগ নেই। তারা আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত মসজিদ ভিত্তিক কুরআনের হালাকা করে থাকে। এটাই তাদের ...
07/04/2026

১. সৌদিতে আলাদা করে কোনো হিফজ বিভাগ নেই। তারা আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত মসজিদ ভিত্তিক কুরআনের হালাকা করে থাকে। এটাই তাদের হিফজখানা। সকালে স্কুল/মারাসায় যায়, দুপুরে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে যায় হালাকায়। সোয়া ঘণ্টা/দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। এরপর ছুটি। এভাবে হিফজ শেষ করতে কয়েক (৬/৭/৮) বছর পর্যন্ত লেগে যায়। অধিকাংশ ছাত্রই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে না। আর আমাদের দেশে আবাসিক এবং সারাদিনব্যাপী চলতে থাকে।

২. হালাকায় কুরআন মুখস্থ করানো হয় না। বাসা থেকে অভিভাবকরা মুখস্থ করিয়ে দেন। মসজিদে এসে কেবল শোনানো হয়। এতে তাজবিদ, তারতিল কিছুই ঠিক থাকে না। বরং নিয়ম করা থাকে প্রতি পৃষ্ঠা এক মিনিট বিশ সেকেন্ড বা দেড় মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। নতুবা রাসিব (ফেল) হিসেবে ধরা হবে। স্বভাবতই ছাত্রের পড়া কমবেশি হওয়া বা তাজবিদ ঠিক থাকা/না থাকা নিয়ে অভিভাবকের অভিযোগেরও কোনো সুযোগ নেই। আর বাংলাদেশে ছাত্রের পড়া কেন আগায় না, তিলাওয়াতের মান কেন ভালো না, এসবের জবাবদিহি উস্তাদকে করতে হয়।

৩. বাংলাদেশে যেমন সবক, সাথ-সবক, আমুখতা আছে, এখানেও আছে। সবকের নাম কিরাআতুন জাদিদাহ/হিফজ, সাথ-সবকের নাম রবত (ربط) আর আমুখতাকে বলা হয় ইতকান। তবে এই সবগুলোই উস্তাদ শুধু শুনবেন, মুখস্থ করবে বাড়িতে। আর আমাদের দেশে অধিকাংশ অভিভাবক সহিহ-শুদ্ধ করে কুরআন পড়তেই পারে না। তাজবিদ-তারতিল উস্তাদকে শেখাতে হয়। এজন্য উস্তাদের ট্রেনিং বা সার্টিফিকেটও থাকতে হয়।

৪. এখানে বেতন অনেক বেশি। আমি প্রথম মাসে যেখানে হালাকা করেছি, সেখানে সৌদি নাগরিকের বেতন ছিল ২ হাজার, মিসরি নাগরিকের ১,২০০, আর আমি বাঙালির জন্য ৬০০ রিয়াল। অবশ্য পরে আমাকে ১,০০০ দেওয়া হয়েছিল। মেয়াদকাল ছিল ২০দিন। তার মানে দৈনিক ৫০ রিয়াল করে পেয়েছি। এখন অবশ্য এত বেশি দেওয়া হয় না। সর্বোচ্চ ৪০ আর সর্বনিম্ন ২০ রিয়াল দেওয়া হয়। বাংলা টাকায় হিসাব করলে দৈনিক (১:৩০ ঘণ্টায়) ৬,০০+ টাকা। স্বভাবতই এই পুরো খরচটা আসে সরকারের থেকে। প্রত্যেক শিক্ষকেরই অন্য কোনো পেশা/ইনকাম সোর্স থাকে। আর বাংলাদেশে একজন শিক্ষকের বেতন ১০/১৫ হাজার টাকা। এর বাইরে তো অন্য কোনো কাজ করার তো সুযোগই নেই।

৫. সৌদিতে যেহেতু সারাদিনব্যাপী ডিউটি করতে হয় না, তাই মাথা গরম হওয়ারও যথেষ্ট কারণ নাই। বাংলাদেশে ভোর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করার কারণে এবং একসাথে ১৫/২০জন (ক্ষেত্রবিশেষে ৪০/৫০জন) সামলানোর কারণে উস্তাদের মাথা গরম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে তিনি রেগে যান, মারপিট করেন, অতিরিক্ত শাসন করেন। এভাবে অন্য মানুষের ১০/১৫জন বাচ্চাকে সারাদিন খাওয়ানো, পরানো, ঘুম পাড়ানো ও পড়ানো আসলেই যথেষ্ট মুশকিলের কাজ।

এজন্য উন্নতমানের হিফজখানা করতে হলে অনেক বেশি টাকার প্রয়োজন। আমাদের দেশের অভিভাবকরাও এত বেশি টাকা দিতে রাজি নয়, মুহতামিমরাও যথাযথ বেতনভাতা দিতে প্রস্তুত নয়। টাকা ছাড়া সার্ভিসও আশা করা ঠিক নয়।

তাহলে প্রশ্ন হলো, আরবরা তাজবিদ, তারতিল শিখে কীভাবে?
তারা বড় হওয়ার পর বিভিন্ন কোর্স করে। তাছাড়া এমনিতেও শুনতে শুনতে ঠিক করে ফেলে অনেকে। বিরাট একটা অংশই বড় হওয়ার পর নিজে নিজে হাফেজ হয়।

07/04/2026

মানবতার আলোকবর্তিকা: নবুওয়াতের মহিমান্বিত ইতিহাস ও নবীগণের দাওয়াত

​সৃষ্টির উষালগ্ন থেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীতে সত্যের মশাল হাতে আগমন ঘটেছে একদল মহামানবের। তাঁরা আল্লাহর মনোনীত প্রতিনিধি—যাঁদের আমরা ‘নবী ও রাসূল’ হিসেবে জানি। যখনই মানবতা তার নৈতিক পথ হারিয়েছে, তখনই খোদায়ী হিদায়াতের আলোকবর্তিকা নিয়ে তাঁরা আবির্ভূত হয়েছেন। নবুওয়াতের এই সুদীর্ঘ পরিক্রমা কেবল ইসলামের ইতিহাস নয়, বরং এটি পৃথিবীর বিবর্তিত সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

​১.নবুওয়াতের ব্যাপ্তি ও সংখ্যার রহস্য
​পৃথিবীতে কতজন নবী ও রাসূল এসেছিলেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা পবিত্র কুরআনে দেওয়া হয়নি। এর কারণ সম্ভবত আল্লাহ তা’আলা আমাদের এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, হিদায়াতের এই ধারা ছিল সর্বব্যাপী এবং অবিরাম। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
​“আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।” — (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬)

​বিখ্যাত সাহাবী আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, নবী করীম (সা.)-কে নবী ও রাসূলের সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "নবীর সংখ্যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার এবং তাঁদের মধ্যে রাসূলের সংখ্যা ৩১৩ জন।" — (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ২২২৮৮)।

কুরআনে মাত্র ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ থাকলেও তাঁদের জীবন ও দাওয়াতের কাহিনী কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল মানুষের জন্য পাথেয়।

​২. নবী ও রাসূল: আধ্যাত্মিক মর্যাদার পার্থক্য
​ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় নবী ও রাসূলের মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান:

​রাসূল: যাঁকে আল্লাহ তায়ালা নতুন শরীয়ত বা কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছেন। যেমন: দাঊদ (আ.)-কে যাবুর, মূসা (আ.)-কে তাওরাত, ঈসা (আ.)-কে ইঞ্জিল এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে কুরআন প্রদান করা হয়েছে।
​নবী:তিনি পূর্ববর্তী রাসূলের শরীয়ত অনুসরণ ও প্রচার করেন। অর্থাৎ প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন।

​৩.নবীগণের বৈচিত্র্যময় প্রচারক্ষেত্র ও লকব (উপাধি)
​নবীগণ কেবল নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। আরবের মরুপান্তর থেকে শুরু করে মিশরের নীল নদ, মেসোপটেমিয়ার উর্বর ভূমি থেকে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম পর্যন্ত তাঁদের পদচারণা ছিল।

নিচে তাঁদের প্রভাব ও বিচরণক্ষেত্রের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:নবীর নাম লকব / পরিচিতি প্রধান প্রচার ক্ষেত্র (বর্তমান দেশ)

আদম (আঃ) আবুল বাশার (মানবজাতির পিতা) মক্কা / শ্রীলঙ্কা (প্রচলিত মত)
নূহ (আঃ) নূহুল্লাহ (আল্লাহর নবী) প্রাচীন মেসোপটেমিয়া (ইরাক)
ইবরাহীম (আঃ) খালীলুল্লাহ (আল্লাহর বন্ধু) ইরাক, ফিলিস্তিন ও সৌদি আরব
ইসমাঈল (আঃ) জবীহুল্লাহ (আল্লাহর রাহে উৎসর্গীকৃত) মক্কা (সৌদি আরব)
ইউসুফ (আঃ) সিদ্দীক (সত্যবাদী) মিশর (শাসনভার পরিচালনা করেন)
হুদ (আঃ) - আহকাফ (ইয়েমেন ও ওমান সীমান্ত)
সালেহ (আঃ) - আল-হিজর (সৌদি আরব)
শুয়াইব (আঃ) খাতীবুল আম্বিয়া (নবীদের বক্তা) মাদইয়ান (জর্ডান ও সৌদি সীমান্ত)
মূসা (আঃ) কালীমুল্লাহ (কথোপকথনকারী) মিশর ও সিনাই পর্বত এলাকা
দাউদ (আঃ) খলীফাতুল্লাহ বায়তুল মুকাদ্দাস (ফিলিস্তিন)
ইউনূস (আঃ) যুন-নূন (মাছওয়ালা) নিনাওয়া (ইরাক)
ঈসা (আঃ) রুহুল্লাহ (আল্লাহর আত্মা/কুদরত) ফিলিস্তিন (জেরুজালেম)
মুহাম্মদ (সাঃ) সায়্যিদুল মুরসালীন ও রহমত মক্কা ও মদীনা (সৌদি আরব)

৪.চারিত্রিক মাহাত্ম্য ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য

​প্রত্যেক নবী তাঁর বিশেষ গুণের কারণে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর ছিলেন। হযরত আইয়ূব (আ.) ধৈর্য্যের জন্য, হযরত সুলায়মান (আ.) মহিমান্বিত রাজত্বের জন্য এবং হযরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর বংশধর বা 'বনী ইসরাঈল' ধারার জন্য পরিচিত। তবে নবুওয়াতের এই মহিমান্বিত মিছিলে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ সেনাপতি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। মরুভূমি আরবের মক্কা ও মদীনা থেকে তাঁর দেওয়া জীবনবিধান আজ সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত।

​৫.নবুওয়াতের সমাপ্তি ও আমাদের দায়বদ্ধতা
​নবুওয়াতের এই দীর্ঘ শেকল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন:
​“মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী।” — (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪০)

​সীরাতগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি শুধু নির্দিষ্ট কোনো জাতি বা সময়ের জন্য নন, বরং কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল মানুষের জন্য হেদায়েতের আলো (রহমাতুল্লিল আলামীন) নিয়ে এসেছেন। আজকের অশান্ত পৃথিবীতে সেই নবীগণের আদর্শ—বিশেষ করে তাঁদের ধৈর্য, ক্ষমা এবং ইনসাফ কায়েমের সংগ্রাম—অনুসরণ করাই হতে পারে বিশ্বশান্তির একমাত্র পথ।

​তথ্যসূত্র:
১. পবিত্র আল-কুরআন।
২. আর-রাহীকুল মাখতূম (সীরাত গবেষণা), আল্লামা শফিউর রহমান মোবারকপুরী।
৩. কাসাসুল আম্বিয়া, হাফেজ ইবনে কাসীর (রহ.)।
৪. সহীহ আল-বুখারী, সহীহ মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদ।

​সম্পাদনায়:মুন্সী মোখলেস উদ্দিন আশিক
তারিখ: ৭ এপ্রিল,২০২৬

14/03/2026
মাদানী নেসাবের বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়, পঞ্চম বর্ষে SSC/দাখিল পরীক্ষার ব্যবস্থা।ই...
14/03/2026

মাদানী নেসাবের বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।
জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়, পঞ্চম বর্ষে SSC/দাখিল পরীক্ষার ব্যবস্থা।
ইলম, আমল, আখলাক ও আফকারের সমন্বিত প্রয়াসই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

⭐ মাদ্রাসার বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য:-
▫️দক্ষ-অভিজ্ঞ আবাসিক শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা পাঠদান।
▫️পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত যুগোপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম।
▫️ফনভিত্তিক/শাস্ত্রকেন্দ্রিক পড়াশোনার সুব্যবস্থা।
▫️দেশি-বিদেশি কিতাব সমৃদ্ধ লাইব্রেরি।
▫️আমল ও তারবিয়াতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
▫️প্রথম বর্ষে আরবির পাশাপাশি জেনারেল বিষয়ে পাঠদান।
▫️পঞ্চম বর্ষে দাখিল/ssc পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা।
▫️আরবি কথোপকথনের বিশেষ প্রশিক্ষণ।
▫️ইংরেজি ও কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগ।
▫️বাংলা-আরবী হাতের লেখা শিখার বিশেষ ক্লাস।
▫️নিরিবিলি ও প্রশস্ত ক্লাসরুম।
▫️স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।

📌 ভর্তি তথ্য :
ভর্তি চলবে- ৯ই শাওয়াল / ২৯শে মার্চ পর্যন্ত (কোটা পূরণ হওয়া সাপেক্ষে)
ভর্তি যোগ্যতা :
প্রথম বর্ষ : - হাফেজ হলে ইয়াদ মজবুত থাকা অন্যথায় নাজেরা বিশুদ্ধ হওয়া। নির্ভুলভাবে বাংলা পড়তে ও লিখতে পারা। তুলনামূলক বয়স কম হওয়া।
দ্বিতীয় বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ : - নিয়মতান্ত্রিক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।

🏫 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি_____________________________________
নাম : মাদরাসাতুল হিকমাহ লিদ্দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ
ঠিকানা: ইসলামবাগ ব্রীজ সংলগ্ন, জাপানী বাজার, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
বিভাগ: মাদানী নেসাব (১ম বর্ষ- ৫ম বর্ষ)
ইফতা বিভাগ (এক বছর মেয়াদি)
নাযেরা, হিফজ, শুনানি।
একাডেমী (প্লে-তৃতীয় শ্রেণি)
প্রতিষ্ঠাতা : মাওঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ফারেগ : জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া ঢাকা
ছাত্র সংখ্যা : 500+
আসাতেযায়ে কেরাম : 25+
খাদেমগন : 6+

📞 যোগাযোগ: 01638510216, 01886033661, 01626880895

📍 যাতায়াত: শনির আখড়া/জুরাইন/রায়েরবাগ থেকে জাপানি বাজার সংলগ্ন ইসলামবাগ ব্রিজের বিপরীতে ইউ এস টাওয়ার (মাদ্রাসা ভবন)

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খমিনির মৃত্যুতে আহলে হাদিসের অনেক ভাইয়েরা "আলহামদুলিল্লাহ" পড়ছেন। যখনই ইরানের উপরে আক্রম...
05/03/2026

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খমিনির মৃত্যুতে আহলে হাদিসের অনেক ভাইয়েরা "আলহামদুলিল্লাহ" পড়ছেন।

যখনই ইরানের উপরে আক্রমণ হয় তখনই এ ভাইয়েরা ইরানের আক্বীদা নিয়ে ঝড় তুলন।

ইরান একটা স্বাধীন দেশ তার নিরিহ মানুষের উপরে আক্রমণ, তাদের হ/ত্যার পক্ষে কিভাবে একজন মুসলিম কথা বলতে পারেন? হোক তারা মুসলিম বা অমুসলিম।

আল্লাহ সূরা মায়েদার ৮ নং আয়াতে বলেছেন-

"হে মু’মিনগণ! তোমরা ন্যায়ের সাক্ষ্যদাতা হিসেবে আল্লাহর পথে দৃঢ়ভাবে দন্ডায়মান থাক, কোন সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা তোমাদেরকে যেন এতটা উত্তেজিত না করে যে তোমরা ইনসাফ করা ত্যাগ করবে, সুবিচার কর, এটা তাক্বওয়ার নিকটবর্তী, তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্পূর্ণ ওয়াকিফহাল।"

আল্লাহ এবং রাসুল সা. আমাদেরকে শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে বলেছেন।

ইরানের উপরে জুলুমের পক্ষে কথা বলা কোন ধরণের ইনসাফ?

আল্লাহ আমাদের ইনসাফের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকার তৌফিক দিন। আমিন।

যাকাতের কিছু জরুরী মাসায়েলঃ১. যদি কোন সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন বালেগ মুসলমানের কাছে নিজের প্রয়োজনীয় আসবাব সামগ্রী, ব্যবহার...
05/03/2026

যাকাতের কিছু জরুরী মাসায়েলঃ
১. যদি কোন সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন বালেগ মুসলমানের কাছে নিজের প্রয়োজনীয় আসবাব সামগ্রী, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ও বাসগৃহ ইত্যাদি ব্যতীত ঋণমুক্তভাবে যাকাতের নেসাব পরিমান সম্পদ থাকে অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ (৮৭.৪৮ গ্রাম) বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য (৬১২.৩৬ গ্রাম) কিংবা সমপরিমাণ টাকা বা ব্যবসার মাল থাকে এবং তার উপর বছর অতিক্রান্ত হয় তাহলে উক্ত সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শতকরা আড়াই পার্সেন্ট হারে যাকাত আদায় করা তার উপর ফরয। (আলমগীরী ১/১৭০-১৭৬, শামী ৩/১৭৩-১৭৯)
২. যদি কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা ও কিছু নগদ টাকা থাকে কিন্তু পৃথক পৃথকভাবে কোনটার নেসাবই পূর্ণ হয় না, তবে সবগুলোর মূল্য একত্রে যোগ করলে যে কোন একটির নেসাব পুরা হয়ে যায়, তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবে। - তাতারখানিয়া ২/১৭৪, আলমগীরী ১/১৭৯, শামী ৩/২৩৪
৩. যদি কারো কাছে বছরের শুরু ও শেষে নেসাব পরিমাণ মাল থাকে কিন্তু বছরের মাঝে ১/২ মাস নেসাব থেকে কম থাকে তাহলে তার উপর যাকাত দেয়া ফরয। হ্যাঁ, যদি বছরের মাঝে সম্পদ সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে পূর্বের হিসাব বাদ যাবে। পুনরায় যখন নেসাবের মালিক হবে তখন থেকে নতুন হিসাব ধরা হবে। এবং তখন থেকে এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে।- আলমগীরী ১/১৭৫, শামী ৩/১৮৩ ও ২৩৩
৪. অর্থ-সম্পদের প্রত্যেকটা অংশের উপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। কাজেই কারো কাছে যদি বছরের শুরুতে ৪০,০০০/- টাকা থাকে আর তা বাড়তে বাড়তে বছরের শেষে এক লক্ষ টাকা হয়ে যায় তাহলে বছরের শেষে তাকে এক লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে।- তাতারখানিয়া ২/১৯৩, আলমগীরী ১/১৭৫
৫. ব্যবসার উপকরণের উপর যাকাত আসে না। যেমনঃ মিল, কারখানা, দোকান, উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, মেশিন, ভাড়ায় খাটানো হয় এমন বাড়ি-গাড়ি, রিক্সা, সিএনজি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, স্টিমার ইত্যাদি। তবে এগুলো দ্বারা উৎপাদিত পণ্য ও উপার্জিত টাকা নেসাব পরিমাণ হলে তার যাকাত দিতে হবে।- শামী ৩/১৮৩, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৩/৫৩
৬. ব্যবসার মাল যার যাকাত আদায় করা শরীয়ত ফরয করেছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐ মাল যা মানুষ ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয় করেছে। যেমনঃ কেউ প্লট-ফ্ল্যাট, গাড়ি ইত্যাদি ভবিষ্যতে বিক্রি করে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ক্রয় করল, এ সমস্ত মালের যাকাত আদায় করা ফরয। পক্ষান্তরে কারো যদি ক্রয় করার সময় দোদুল্যমানতা থাকে যে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারও করতে পারে, আর লাভ পাইলে বিক্রিও করতে পারে; তাহলে তা ব্যবসার মাল হিসাবে গণ্য হবে না এবং এর যাকাতও ওয়াজিব হবে না। হ্যাঁ, পরবর্তীতে তা বিক্রি করলে বিক্রয়লব্ধ টাকার যাকাত দিতে হবে। যদি সে পূর্ব থেকেই নেসাবের মালিক হয়ে থাকে তাহলে ঐ নেসাবের সাথে এ টাকারও যাকাত আদায় করবে। অন্যথায় এই টাকা নেসাব পরিমাণ হলে বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এর যাকাত ওয়াজিব হবে।- আদদুররুল মুখতার ৩/১৯৪-৯৫, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/২৪০, ফাতাওয়ায়ে বাযযাজিয়া ৪/৮৪, বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৬৭, ফিকহী মাকালাত ৩/১৫১
৭. দোকান ও ব্যবসার মালের হিসাব তিন প্রকারে করা যায়। (১) খুচরা মূল্য (২) পাইকারী মূল্য (৩) সমস্ত মাল একত্রে বিক্রি করলে যে দাম হয়। যাকাতের হিসাবের সময় তৃতীয় প্রকারের মূল্যের হিসাবে যাকাত দিলেও চলবে। তবে সতর্কতামূলক দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ পাইকারী মূল্যের হিসাবে যাকাত দেয়া উত্তম। -ফিকহী মাকালাত ৩/১৫০, ফাতাওয়ায়ে ওসমানী ২/৬৭
৮. বিক্রিত পণ্যের বকেয়া টাকা হস্তগত হওয়ার পর পেছনের বছর গুলোর যাকাতও একত্রে আদায় করতে হবে। আর যদি বকেয়া টাকা বা ঋণ ফেরত পাওয়ার আশা না থাকে, তাহলে যাকাত দিতে হবে না। তবে পেলে বিগত সকল বছরের যাকাত দিতে হবে।- আলমগীরী ১/১৭৫, শামী ৩/২৩৬-২৩৭
৯. স্বর্ণ ও রূপার উপর সর্বাবস্থায় যাকাত আসে, চাই তা অলংকার আকারে থাকুক কিংবা কাঁচা টুকরা আকারে। ব্যবহৃত হোক কিংবা বাক্সে সংরক্ষিত থাকুক বা কাপড়ে, টুপিতে চশমা ও ঘড়িতে কারূকার্যরূপে থাকুক সর্বাবস্থায় যাকাত আদায় করা ফরয।- আল-বাহরুর রায়ক ২/৩৯৪, শামী ৩/২২৭
১০. মহিলাদের মালিকানায় যে স্বর্ণ বা রূপার অলংকার থাকে এগুলো নেসাব পরিমাণ হলে এগুলোর যাকাত দেয়া তাদের উপর ফরয। নগদ টাকা না থাকলে এগুলো বিক্রি করে হলেও যাকাত আদায় করতে হবে। আর স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে যাকাত আদায় করে দেয় তাহলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, অলংকার যদি স্বামীর মালিকানায় থাকে আর স্ত্রীকে ব্যবহারের জন্য দেয় তাহলে সে অলংকারের যাকাত স্বামীকে আদায় করতে হবে।- আহকামুল কুরআন ৩/১৩৯, শামী ৩/২২৭, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৩/১০৮
১১. স্বর্ণের সাথে যে পরিমাণ খাদ থাকে, খাদের অংশ বাদ দিয়ে শুধু স্বর্ণের অংশের যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট। শামী ৩/২৩০, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৭০
১২. প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকা হাতে আসার পর বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে। কিন্তু যে টাকাটা চাকরীজীবীর হাতে আসার পর স্বেচ্ছায় ঐ ফান্ডে বা অন্য কোন কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করে, তার যাকাত প্রতি বছর আদায় করতে হবে।- শামী ৩/২৩৬, আহসানুল ফাতওয়া ৪/২৬০, মাহমূদিয়া ১৭/১১১
১৩. বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানীর শেয়ার যদি দাম বাড়লে বিক্রি করে দিবে এ উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয় তাহলে তার পূর্ণ বাজার দরের উপর যাকাত আসবে। আর যদি কোম্পানী হতে বাৎসরিক লাভ কামানোর উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়, তাহলে কোম্পানীর যে পরিমাণ সম্পদ যাকাত যোগ্য (যা ব্যালেন্সশীটের সাহায্যে বেরা করা যাবে।) শেয়ার প্রতি তার আনুপাতিক হার যা হয় শুধুমাত্র রমাণের যাকাত দিতে হবে। তবে যদি যাকাতযোগ্য সম্পদের পরিমাণ জানা সম্ভব না হয় তাহলে সতর্কতামূলক শেয়ারের পূর্ণ বাজার মূল্যের যাকাত দেয়া চাই।- আল-বাহরুর রায়েক ২/৪০০, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৮৭, ইসলাম আওর জাদীদ মায়িশাত ওয়া তিজারত, পৃ. ৯২-৯৪, ফাতাওয়ায়ে উসমানি ২/৭১
১৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোতে যদি কেউ ১০/১৫ বছরের জন্য F.D.R করে এককালীন বা মাসে মাসে টাকা জমা করতে থাকে এগুলোর যাকাত হিসাব করার নিয়ম হলো যাকাতের বছর শেষে ঐ একাউন্ট ক্লোজড করলে মূল টাকাসহ যত টাকা লাভ পাওয়া যাবে পুরা টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। উল্লেখ্য, সুদী ব্যাংকে F.D.R করলে প্রতি বছর মূল জমাকৃত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। যদি প্রতি বছর যাকাত আদায় না করে তাহলে মেয়াদ শেষে টাকা উত্তোলন করলে একসাথে পিছনের সকল বছরের মূল টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। আর সূদের অংশ পুরাটাই সাদাকা করে দিবে।- জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/২১৬
১৫. জীবন বীমা কোম্পানীর নিকট জমাকৃত প্রিমিয়ামের যাকাত আদায় করতে হবে।- ফাতাওয়ায়ে উসমানী ২/৭১
১৬. ব্যাংকে ব্যক্তি মালিকানাধীন সকল প্রকার একাউন্টে গচ্ছিত টাকার যাকাত আদায় করা জরুরী। তদ্রুপ বিভিন্ন সমিতি, সমবায় ও সোসাইটির মধ্যে সদস্যগণ মুযারাবা হিসাবে যে টাকা বিনিয়োগ করে থাকে, সেগুলো নেসাব পরিমাণ হলে বা অন্য মালের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা জরুরী।- ফাতাওয়া রহীমীয়া ২/১৪, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল ৩/৩৭৫
১৭. ব্যাংকের একাউন্টে বা অন্য কোথাও গচ্ছিত টাকা তেমনিভাবে যেকোন যাকাতযোগ্য সম্পদ যদি বন্ধক রাখা হয় তাহলে তার যাকাত আদায় করা লাগবে না।- বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৮, আল-বাহরুর রায়েক ২/৩৫৫
১৮. সিকিউরিটি মানি হিসাবে যে টাকা দোকান ও বাড়ির মালিকগণ গ্রহণ করে থাকে; যদি চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে তা ভাড়া বাবদ কর্তন করা হয়, তাহলে মালিকদেরকে ঐ টাকার যাকাত দিতে হবে। আর যদি তা ফেরতযোগ্য হয় অর্থাৎ দোকান বা বাড়ি ছেড়ে দিলে তা ফেরত দেয়া হয় ও মালিকগণ ঐ টাকা খরচ না করে আমানত হিসাবে রাখেন তাহলে ভাড়াটিয়াকে ঐ টাকার যাকাত দিতে হবে।- ফাতহুল কাদীর ২/১২১, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/২১৭-১৯
১৯. জমি, প্ল্যাট বা অন্য কিছু কিনে প্রাথমিক যে টাকা দিয়ে বায়না করা হয় সে টাকার মালিক বিক্রেতা। অতএব বিক্রেতাকে এর যাকাত দিতে হবে।- ফাতাওয়ায়ে উসমানী ২/৭২
২০. ঋণ দুই প্রকার (১) ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে মানুষ যে ঋণ নেয়। যাকাতের নেসাব থেকে এ ধরনের ঋণের টাকা বিয়োগ করে বাকী মালের যাকাত দিতে হবে। (২) বাণিজ্যিক ঋণ যা বাণিজ্যিক স্বার্থে যেমন মিল-কারখানা করা, কাঁচা মাল ক্রয় করা ইত্যাদি এগুলোর জন্য যে ঋণ নেয়া হয় যদি তা দ্বারা যাকাতযোগ্য সম্পদ যেমন কাঁচা মাল ইত্যাদি ক্রয় করে, তাহলে এই ঋণও যাকাতের নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে। আর যদি এর দ্বারা এমন সম্পদ ক্রয় করা হয় যা যাকাতযোগ্য নয় যেমন মেশিনারী জিনিস ইত্যাদি। তাহলে এ ঋণ যাকাতের মূল নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে না। উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক ঋণ দ্বারা যদি যাকাতযোগ্য মাল ক্রয় করা হয় তাহলে যাকাতের হিসাবের সময় আগামী এক বছরে পরিশোধযোগ্য পরিমাণ ঋণই শুধু বিয়োগ করা যাবে। এর অতিরিক্তটা এই বছরে বিয়োগ করা যাবে না। যে বছর পরিশোধ করবে ঐ বছর বিয়োগ করতে পারবে।- ফাতাওয়ায়ে ওসমানী ২/৮৩, ফিকহী মাকালাত ৩/১৫৫-৫৬, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ২/৬৭, ইসলাম আওর জাদীদ মাঈশাত ওয়া তিজারত, ৯৪
২১. কাউকে ঋণ দেয়ার পর আদায়ে গড়িমসি করলে তা যাকাত হিসাবে কর্তন করা যাবে না। হঁ্যা, যাকাতের টাকা তার হাতে দিয়ে পূর্বের পাওনা বাবদ তা উসূল করে নিতে পারবে। তাতারখানিয়া ২/১৯৯, তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৭১৫
২২. যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর যদি যাকাত অনাদায়ী থাকে আর ইত্যবসরে সমস্ত মাল বরবারদ হয়ে যায় তাহলে আর যাকাত আদায় করা লাগবে না। আর যদি কিছু মাল বরবাদ হয় তাহলে ঐ অংশের যাকাত দেয়া লাগবে না। তবে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করে তাহলে যাকাত আদায় করা আবশ্যক।- আদদুররুল মুখতার ও শামী ৩/২০৭-২০৮
২৩. স্ত্রীর মহর অনাদায়ী থাকলে যদি তা পরিশোধ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে যাকাতের নেসাব থেকে এই ঋণ বিয়োগ করে বাকী অংশের যাকাত দিলে চলবে। আর যদি পরিশোধ করার ইচ্ছা না থাকে তাহলে এটাকে এই বছরের নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে না।- আলমগীরী ১/১৭৩
২৪. কেউ যদি হজের জন্য টাকা জমা করে তাহলে ঐ টাকার যাকাত আদায় করাও ফরয। হজের কাজে টাকা খরচ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর ঐ টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। আলমগীরী ১/১৭৩
২৫. কেউ যদি বাড়ি করার উদ্দেশ্যে টাকা জমা করে তাহলে বাড়ির কাজে ঐ টাকা খরচ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর ঐ টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। -নায়াদিদুরুল ফিকহ ১/৩৭৮-৩৮৪
২৬. যে মাল ক্রয় করার পর এখনো হস্তগত হয়নি তার যাকাত দেয়া লাগবে না। হ্যাঁ, হস্তগত হওয়ার পর যাকাত আদায় করা জরুরী।- আল বাহরুর রায়েক ২/৩৫৫ জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/২১৯
২৭. হালাল ও হারাম মাল একত্রে মিশ্রিত হলে যদি হারাম মালের পরিমাণ ও মালিক জানা থাকে তাহলে তা মালিককে ফেরত দেয়া জরুরী। আর যদি পরিমাণ জানা থাকে; কিন্তু মালিক জানা নেই বা তাকে পৌছানো সম্ভব নয়; তাহলে এক্ষেত্রে ঐ টাকাগুলো মালিকের পক্ষ থেকে সাদাকা করে দিবে। পক্ষান্তরে যদি হারাম মালের পরিমান ও মালিক জানা না থাকে; আর হালাল মালের পরিমাণ হারামের চেয়ে বেশি হয় ও হারাম মাল চিহ্নিত করা না যায় এ ক্ষেত্রে সকল মাল একত্রে হিসাব করে পুরাটার যাকাত আদায় করা জরুরী।- শামী ৩/২১৭-২১৮, েইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/২১৬-২১৭
২৮. স্বর্ণ-অলংকার ছাড়া অন্য কোন ধাতুর অলংকার বা মুক্ত কিংবা অন্য কোন মূল্যবান পাথরের অলংকার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত না হলে এগুলোর যাকাত দেয়া লাগবে না।- আরুরুল মুখতা-১৯৪

সম্পাদনায়ঃ
#মুফতী_দিলাওয়ার_হুসাইন
প্রকাশনায়ঃ মারকাযুল বুহুস আল ইসলামিয়া
উচ্চতর ইসলামি গবেষনা কেন্দ্র

05/02/2026

বন্ধু হিসেবে বেছে নেবেন যাদের
মানুষ তার বন্ধুর দ্বারাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়। আমাদের চিন্তা, অভ্যাস, এমনকি ঈমানের শক্তি–দুর্বলতার পেছনেও বন্ধুত্বের বড় ভূমিকা থাকে। তাই ইসলাম আমাদের শুধু বন্ধু বানাতে বলেনি, বরং কেমন বন্ধু হওয়া উচিত এবং কেমন বন্ধু বেছে নেওয়া উচিত—সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

১। যে পাপ থেকে দূরে রাখে:
একজন উত্তম বন্ধু সেই, যে আপনাকে পাপ থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করে। সে আপনাকে ভুল পথে ঠেলে দেয় না, বরং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে সাবধান করে দেয়। এমন বন্ধু আপনার ভুলকে উপভোগ করে না, বরং আপনাকে সংশোধনের সুযোগ দেয়—নরম ভাষায়, ভালোবাসা দিয়ে।

২। যে ইবাদাতে আগ্রহী করে তোলে:
ভালো বন্ধু আপনাকে ইবাদতের দিকে আগ্রহী করে তোলে। তার সাথে সময় কাটালে নামাজ, দোয়া, কুরআন—এই বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে। সে আপনাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে, দুনিয়ার মোহ নয়—আখিরাতের কথা মনে করিয়ে দেয়।

৩। যে কঠিন বিপদে পাশে থাকে:
কঠিন সময়ে যে বন্ধু পাশে দাঁড়ায়, সে-ই আসল বন্ধু। বিপদে, দুশ্চিন্তায় বা দুর্বল মুহূর্তে যে আপনাকে শোনে, বোঝে এবং সাহস দেয়—সে আপনার জন্য আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। সে শুধু কথা শোনে না, বরং আন্তরিকভাবে আপনার মঙ্গল কামনা করে।

৪। যে গীবত করে না:
একজন ভালো বন্ধু গিবত থেকে বিরত থাকে, অন্যের দোষচর্চায় অংশ নেয় না। সে নিজের আচরণের মাধ্যমে আপনার সামনে ভালো উদাহরণ স্থাপন করে। তার জীবন আপনাকে অনুপ্রাণিত করে—আরও ভালো মুসলিম হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে।

৫। যে আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দেয়:
সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো, একজন প্রকৃত বন্ধু আপনাকে আল্লাহ ও আখিরাতের কথা মনে করিয়ে দেয়। দুনিয়ার ব্যস্ততা, সফলতা বা কষ্ট—সব কিছুর মাঝেও সে আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, আমাদের আসল গন্তব্য কোথায়।
আজকের সমাজে বন্ধু অনেক, কিন্তু এমন বন্ধু অল্প। তাই সংখ্যার পেছনে না ছুটে, গুণের দিকে তাকান। নিজেও এমন বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন, যে অন্যকে আল্লাহর দিকে ডাকে। কারণ দুনিয়ায় যেমন বন্ধুত্ব কাজে আসে, আখিরাতেও তেমন বন্ধুত্বই সবচেয়ে মূল্যবান হবে।

একাধিক বিবাহের বিরোধিতা করতে গিয়েযারা এই দলিল পেশ করে—মা খাদীজা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার জীবদ্দশায়রাসূলুল্লাহ ﷺ অন্য কো...
01/02/2026

একাধিক বিবাহের বিরোধিতা করতে গিয়ে
যারা এই দলিল পেশ করে—
মা খাদীজা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার জীবদ্দশায়
রাসূলুল্লাহ ﷺ অন্য কোনো বিবাহ করেননি
মা ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার জীবদ্দশায়
আলী রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু
অন্য কোনো বিবাহ করেননি
তারা আসলে কী প্রমাণ করতে চান!

তারা প্রমাণ করতে চান
মা খাদীজা ও মা ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা
একাধিক বিবাহবিরোধী ছিলেন
সতীন বিদ্বেষী ছিলেন

এটা শুধু মিথ্যা নয়
এটা ইতিহাস বিকৃতি

ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার
সতীন থাকার বিষয়ে কোনো আপত্তি ছিল না
আলী রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর
একাধিক বিবাহের ধারণার বিরুদ্ধেও
তার কোনো আপত্তি ছিল না

এখানে আসল আপত্তির জায়গা ছিল
কার সাথে বিবাহ হচ্ছে—সেটা নিয়ে
আলীর কাছে যে বিবাহের প্রস্তাব এসেছিল
সেটা ছিল
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ–এর দুশমনের মেয়ের সাথে

এই কারণেই আপত্তি উঠেছিল
একাধিক বিবাহের কারণে নয়
এর স্পষ্ট প্রমাণ
রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর হাদিসেই আছে

فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي
ফাতেমা আমার দেহেরই একটি অংশ
যে তাকে কষ্ট দেয়
সে আমাকে কষ্ট দেয়

আরেক বর্ণনায় এসেছে
وَإِنِّي لَا أُحِلُّ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَلَا أُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ
وَلَكِنْ وَاللَّهِ لَا تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ
وَبِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ عِنْدَ رَجُلٍ وَاحِدٍ
অর্থ স্পষ্ট
নবী ﷺ হারামকে হালাল বলেননি
হালালকে হারাম করেননি
কিন্তু
রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর মেয়ের সাথে
আল্লাহর দুশমনের মেয়েকে
এক ঘরে সহাবস্থান করতে দেননি

অতএব
আপত্তি ছিল পরিচয়ের উপর
আকিদার উপর
দুশমনির উপর
একাধিক বিবাহের উপর নয়
এই পার্থক্যটা যারা বোঝে না
তারা ইতিহাসও বোঝে না
ফিকহও বোঝে না

আর যারা আজ
দ্বিতীয় বিবাহের বিরোধিতা করতে গিয়ে
বারবার ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার উদাহরণ দেন
তাদের আগে একটা কথা ভেবে দেখা দরকার
ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলার মতো
যদি কোনো স্ত্রীর
চরিত্র
তাকওয়া
আখলাক
ত্যাগ
ও আল্লাহভীতি
কারো ঘরে সত্যিই থাকে
তাহলে তার জীবনে
কখনোই দ্বিতীয় বিবাহের প্রয়োজন নাও হতে পারে

কারণ
ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার মতো স্ত্রী
নিজেই একটি পূর্ণ জগত

ইতিহাসকে ঢাল বানিয়ে
নিজের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করবেন না
ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার নাম
একাধিক বিবাহের বিরোধিতার হাতিয়ার নয়
বরং
আদর্শ স্ত্রীর মানদণ্ড

15/01/2026

হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)
নয় শত পঞ্চাশ বছর—
দিনে, রাতে, গোপনে, প্রকাশ্যে
মানুষকে এক আল্লাহর দিকে ডাকলেন।
ফল কী?
মাত্র আশি–বিরাশি জন ঈমান আনলো।
তবু তিনি থামেননি।
সংখ্যা কম দেখে হতাশ হননি।
কারণ তিনি জানতেন—
দাওয়াতের দায়িত্ব তাঁর,
হিদায়াত দেওয়া আল্লাহর কাজ।
আজ আমরা অল্প সময়ে ফল না পেয়ে
হাল ছেড়ে দিতে চাই।
অল্প লোক দেখে নিরাশ হয়ে যাই।
নূহ (আ.) আমাদের শিখিয়ে গেলেন—
হক্বের পথে চলা মানে একা চলতেও প্রস্তুত থাকা।
মানুষ নয়, আল্লাহকে রাজি করাই সাফল্য।
আপনি হক্বে থাকুন,
ডেকে যান,
ফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন।

Address

ময়মনসিংহ বিভাগের ধোবাউডা হালুয়াঘাট
Mymensingh
DHAKA

Telephone

+8801811583925

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when دراسة القران দিরাসাতুল কুরআন Dirasatul quran posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to دراسة القران দিরাসাতুল কুরআন Dirasatul quran:

Share