Battle field '71

Battle field '71 বিজয় অর্জনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে কিন্তু রণক্ষেত্র থেকে এখনো ঘরে ফিরতে পারিনি আমরা। কেন পারিনি? Why haven't we?

The great liberation war ended with victory, but we still haven't been able to return home from the battlefield. রাষ্ট্র পাকি*স্তান হইতে, সেই রেজিমের নির্যাতন, বৈশম্য হতে মুক্তির যে যুদ্ধ, স্বাধীকার ও মানুষ হিসেবে অধীকার আদায়ের যে যুদ্ধ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমঅধিকার আদায়ের যে যুদ্ধ; সেই যুদ্ধে বিজয় শেষে আমরা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, পতাকা পেয়েছি, সংগীত পেয়েছি, জাতি হিসাবে আলাদা পরিচয় পেয়েছি। কিন্তু রণক্ষেত্রে এখনও পরাজিত শক্তির দোশররা চলমান। তাই আমাদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরার উপায় নেই।

একাত্তরের চিঠি : ইন্দিরা গান্ধীকে মওলানা ভাসানীপ্রচলিত গুজব, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভার...
17/04/2026

একাত্তরের চিঠি : ইন্দিরা গান্ধীকে মওলানা ভাসানী

প্রচলিত গুজব, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভারতে বন্দী ছিলেন। গুজবটা যারই সৃষ্টি হোক, বা যারাই (পড়ুন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি) এর ফায়দা লুটুক, খোদ ভাসানীও কখনই এই দাবী করেননি।

বরং এই প্রসঙ্গে জাতিসংঘে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে লেখা চিঠিতে লিখেছেন : আমার শেষ জীবনের শেষ কাজ স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠাকল্পে যতদূর পারি ক্ষুদ্রশক্তিতে কাজ করিতেছি। হিন্দুস্তান সরকার আমাকে কারাগারে বা অন্তরীণ রাখিয়াছে ইহা মোটেই সত্য নহে। আমি যখন যেখানে থাকি খুব গোপনে অবস্থান করি। প্রকাশ্য ঘোরাফেরা বা সাক্ষাত করা আমার পক্ষে এই অবস্থায় মোটেই সম্ভব নহে।

তবে এই পোস্টের আলোচ্য বিষয় ঠিক এই চিঠি নিয়ে নয়। আর সেই প্রসঙ্গে আসার আগে মুক্তিযুদ্ধকালে ভাসানীর অবস্থান নিয়ে কিছু তথ্য অবশ্যই প্রাসঙ্গিক। স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিটি দাবি এবং কর্মসূচীর প্রতি আকণ্ঠ সমর্থন জুগিয়ে গেছেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রধান যার আরেক নাম রেড মাওলানা (সমাজতান্ত্রিক অর্থে)।

যুদ্ধের শুরুতে তিনি নিরাপদ থাকলেও এপ্রিলে বাধ্য হন শরণার্থী হতে। ৪ এপ্রিল ‘কাফের ভাসানী’র খোঁজে সন্তোষে হামলা চালায় পাক বাহিনী। ভাসানী পালান এবং নানা কৌশলে পাকিদের নজর এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত একটি কোষা নৌকায় করে ১০ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ পৌঁছান। ১৫ এপ্রিল সীমান্ত পাড়ি দেন তিনি এবং আসামের গোয়ালপাড়া জেলার শিশুমারীতে আশ্রয় নেন। আসামের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মইনুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে তার আসার এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সাহায্য চান।

১৭ এপ্রিল একটি বিমানে করে ভাসানী কলকাতায় যান। শুরুতে পার্ক সার্কাসের পার্ক স্ট্রিটের কোহিনুর প্যালেসের পাঁচ তালায় ভাসানী ও তার সহকর্মীদের থাকতে দেওয়া হয়। একই ভবনে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের পরিবারও থাকতেন। ২১ এপ্রিল চীনের চেয়ারম্যান মাও সেতুং, প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কাছে ভাসানী চিঠি লেখেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এসব চিঠিতে বাংলাদেশে ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি পাকিস্তানকে সব ধরণের সহায়তা থেকে বিরত থাকার আবেদন ছিল।

৯ সেপ্টেম্বর গঠিত মুজিব নগর সরকারের ৮ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ছিলেন ভাসানী। কলকাতায় কিছুদিন থাকার পর তিনি আসামে যাওয়ার ইচ্ছে জানান। সেখানে চর ভাসানে তার অনেক মুরীদান। আসামে যাওয়ার আগে কুচবিহারের পুন্ডিবাড়ি এবং রাণীক্ষেতে কিছুদিন থাকেন। এরপর দেরাদুনে থাকতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে দিল্লীর অল ইন্ডিয়া ইনস্টটিউট অব মেডিকেল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেরে ওঠার পর যমুনা নদীর তীরে এক বাংলোয় বিশ্রামে থাকেন ভাসানী। ২২ জানুয়ারি দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত এখানেই ছিলেন।

এবার আসা যাক আলোচ্য চিঠিতে। চিঠি এখানে একটি নয় দুটি। একটি ভাসানীর নিজের মুসাবিদা, অন্যটি তার ডিকটেশনে লিখেছেন ব্যক্তিগত সচিব সাইফুল ইসলাম। প্রথমটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এবং অন্যটি অক্টোবরের শুরুতে। দুটো চিঠিই পুরো পড়ার পর পাঠকের মনে নানা প্রশ্ন জাগতে বাধ্য। মওলানার জন্ম সিরাজগঞ্জ হলেও তারুণ্য আর যৌবন কেটেছে আসামে, তিনি ইন্দিরার অনুগ্রহে শেষ জীবনটা সেখানে কাটানোর ইচ্ছে জানাতেই পারেন। কিন্তু ভারতের সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের কনফেডারেশন গঠনের ব্যাপারটা আমার মাথায় একদমই ঢোকেনি।

প্রবাসী মুজিব নগর সরকারের তরফে এমন কোন প্রস্তাবনার কথা কখনোই শোনা যায়নি। বরং স্বাধীনতার পর মওলানার ‘হক কথা’, জাসদের ‘গণমুক্তি’ কিংবা এনায়েতুল্লাহ খানের ‘হলিডে’ পত্রিকায় ভারতের কাছে দেশ বিক্রি এবং তাজউদ্দিন সরকারের ৭ দফা চুক্তির অপপ্রচার ছিল। এ প্রসঙ্গে তাজউদ্দিন বলেছিলেন ‘কেউ প্রমাণ দিতে পারলে আমি ফাঁসিতে চড়বো’ আর মুজিবের উক্তি ছিল ‘আমার দেশের মানুষ খেতে পায় না, ব্যাংকে কোন টাকা নাই, কিন্তু আপনাদের পত্রিকা বের করার খরচটা কে জোগায় এটা যদি সাহস করে বলতেন। আমরা জানি কিন্তু আপনাদের মুখে শুনতে চাই।’

দ্বিতীয় চিঠিতে এটা অবশ্য পরিষ্কার যুদ্ধাকালীন পরিকল্পনাদিতে আওয়ামী লীগ তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় রুষ্ট ছিলেন তিনি। পুরা ব্যাপারটায় ইন্দিরার হস্তক্ষেপের আকুতিও স্পষ্ট। প্রসঙ্গত বলতে হয় ৩০ ও ৩১ মে কলকাতার বেলেঘাটায় প্রবাসী বামপন্থীদের দু’দিনব্যাপী সম্মেলন হয় কমরেড বরদা চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে। আটটি বাম দলের এই সম্মেলনে ১ জুন ‘বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হয় যার সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয় মওলানা ভাসানীর নাম। কিন্তু এই কমিটির কোন বৈঠক কিংবা কার্যক্রমে ভাসানী অংশ নেননি, সমর্থনও জানাননি।

এবার চিঠিতে আসা যাক। সাধুভাষায় লিখিত এই চিঠিটির মূল খসড়া মওলানার নিজের।

"প্রিয় শ্রীমতী ইন্দিরা দেবী, প্রধানমন্ত্রী আমার আন্তরিক আশীর্বাদ ও ভালবাসা জানিবেন। আমার পত্রের উত্তর মি. কাউলের মেসেজে বিস্তারিত অবগত হইয়া যারপরনাই খুশি হইলাম। আমার বাল্যজীবনের আদর্শ ৮৯ বছর যাবত অটুট রাখিয়াছিলাম। স্বৈরাচার এহিয়া সরকারের অমানুষিক অত্যাচারে উহা লঙ্ঘন করিতে হইল। বর্তমানের রাজনীতিবিদ কংগ্রেসের কর্মীদেরকে যে যাহাই বলুক কিন্তু তাহাদের মত বিলাসিতাশূন্য জীবনযাপন ও নির্মল চরিত্র অনেকেরই নাই। আমি চিরদিন সাধারণ গৃহে সাধারণভাবে নির্জন পল্লীতে থাকিয়া দেশের সেবা করিয়াছি। কিন্তু এবারই তাহার ব্যতিক্রম হইল। গত ৭ মাস শহরে প্যালেসেস সার্কিট হাউস বাস-আহারাদি বিলাসপূর্ণ। তাই আমার মৃত্যুকাল পর্যন্ত যাহাতে বাল্যজীবনের আদর্শ বহাল থাকে তাহারই জন্য ৫ একর জমি ও সাধারণ ধরনের ৪ খানা ঘরের ব্যবস্থা করিয়া দিবেন। আমার প্রথম পুত্রের মৃত্যু হয় ধুবড়ীর গ্রামে। তাই আমার বৃদ্ধা স্ত্রীর আশা তাহার শেষ দাফন ধুবড়ীর কোন গ্রামে হয়। আমার শেষ সংগ্রাম বাংলাদেশকে স্বাধীন করা, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভারতের সহিত কনফেডারেশন। এই তিন কাজের সাধন ইনশাল্লাহ আমার জীবিতকালে দেখার প্রবল ইচ্ছা অন্তরে পোষন করি। বাধা যতই আসুক, আমার আন্তরিক আশা ও বিশ্বাস আপনাদের আশীর্বাদে অবশ্যই পূর্ণ হইবে। আমার আন্তরিক আশীর্বাদ আপনার আদর্শানুযায়ী সমাজতন্ত্র শুধু ভারতে নহে এশিয়া আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকায় অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হইবে। যখন দরকার মনে করেন দিল্লীতে ডাকাইলেই হাজির হইব।
আপনার বিশ্বস্ত মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

৩ অক্টোবর দেরাদুন থেকে যে চিঠিটি মওলানা লিখেছেন তার মুসাবিদা সাইফুল ইসলামের। হুবহু তা তুলে ধরা হলো :

আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নিকট হতে: ক্যাম্প দেরাদুন বরাবর মিসেস ইন্দিরা গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী, ভারত সরকার, নতুন দিল্লী। তারিখ ৩ অক্টোবর ১৯৭১

সম্মানীয়া মহাদয়া, আপনার জন্য আমার অশেষ ভালোবাসা ও আশীর্বাদ গ্রহন করবেন। পুনরায় আপনার অমূল্য সময় হতে কয়েক মিনিট অপচয় করার কারণে আশা করি আপনি নিজ গুণে ক্ষমা করবেন। আপনার সরকার সাধ্যমতো উত্তম চিকিৎসা করা স্বত্বেও পুরানো জ্বালাটা অনুভব করছি। কয়মাস পেরিয়ে গেছে আমি আমার স্ত্রী এবং নাতনিদের কোন সংবাদ জানি না। তাদের কোন প্রকার খবরাখবর না জানায় আমার বেদনাদায়ক অনুভব আপনি বুঝতে পারছেন- এ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত। বাংলাদেশের প্রথম কাতারের নেতারা যারা স্বাধীনতার জন্য কাজ করছেন তাদেরও সততা সম্পর্কে আল্লাহই জানেন। আমি পুনরায় ওয়াদা দিচ্ছি আওয়ামী লীগ যতক্ষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়বে আমি তাদের সমর্থন দিয়ে যাব।
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমি যখন কলকাতায় ছিলাম তখন কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা আপনার বরাবরে একটি লেখা টাইপ করে নিয়ে এসেছিলেন যে, অসুস্থতার দরুন আমি আপনার সাথে দেখা করতে সক্ষম হব না। চিঠির পুঙ্খানুপুঙ্খ না পড়ে কেবলমাত্র বিশ্বাসে তাতে সই দিয়েছিলাম। ওর পিছনে কি মতলব আছে আমি তা জানি না। তারা ওয়াদা করেছিলেন যে, ঐ চিঠির কপি আমাকে দেবেন। কিন্তু তারা কথা রক্ষা করেননি। আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি ১১ বছর যাবত আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলাম এবং স্বাধীনতাউত্তরকালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে ৮ বছর যাবত তার সভাপতি ছিলাম এবং আমি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও কৃষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
এই পদে গত ১২ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘকাল এই রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতির কাজে আমার পরিচালনায় কম করে হলেও ১৬ জন সেক্রেটারি কাজ করেছেন। কিন্তু আমি গ্রামেই বাস করি। ফলে জরুরী রাজনৈতিক চাহিদা মোকাবেলা করার জন্য আমার সাদা প্যাডে বহু সই তাদেরকে দিয়েছি। এসব আমি ভালোভাবে উপলব্ধি করছি তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে আমার সরল বিশ্বাসের বহু মওকা গ্রহণ করেছে। ফলে আমার রাজনৈতিক সহযোগিতার উপর আমার বিশ্বাস চলে গেছে।
এই কারণে আমার মানবিক বেদনার জন্যই এইসব অবান্তর কথা আপনাকে লিখছি। বিশ্বশান্তি, নিপীড়িত মানুষের মুক্তি এবং আল্লায় বিশ্বাসীসহ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপনার মহৎ সংগ্রাম আপনি অব্যহত রাখবেন বলে আমি আশা ও বিশ্বাস করি। এবং আমি খোলামনে আপনার প্রতি সকল বিশ্বাসের স্বীকারোক্তি করছি। যদি কোন বিষয়ে আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করি তবে ব্যক্তিগতভাবে আপনার সাথে সাক্ষাত করে সেই পয়েন্ট আলোচনা করব।
আপনার মূল্যবান উপদেশ ব্যতীত আমি কোন সিদ্ধান্ত নেব না কোন কাজ করব না। যদি আমার বিরুদ্ধে আপনার কাছে কোন রিপোর্ট পেশ হয়ে থাকে তবে বিশ্বাস করুন আমি জীবনে কাউকে ঠকাইনি। এবং শেষ জীবনেও ঠকাব না। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি সক্রিয়ভাবে কাজের সাথে জড়িত আছি। আপনি যদি আমাকে সক্রিয়ভাবে কাজের সাথে জড়িত রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন তবে আমি সুখী ও আনন্দিত হব।
বৃদ্ধ বয়সের জন্য অনুগ্রহ করে আমাকে অবহেলা করবেন না। যদি কাজ করার এই আজীবন অভ্যাস হতে দূরে রাখা হয় তবে আশঙ্কা করছি তা আমার স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্বপক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য কিছুদিন পূর্বে মি. ডিপি ধরের নিকট কিছু লেখা পাঠিয়ে তা ইংরেজি, বাংলায়, চীনা, আরবি, উর্দু, ফরাসি, রাশিয়ান, জার্মান প্রভৃতি ভাষায় ছাপিয়ে এ সকল দেশে বিতরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। অনুরোধ মোতাবেক কাজ হলে আমি সুখি হব।
রমজান মাসে আমি পশ্চিমবঙ্গ অথবা আসামের কোন স্থানে থাকতে চাই। পবিত্র মাস শেষে আমি আবার এখানে ফিরে আসতে চাই। আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জন এবং ভারতের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের কনফেডারেশন গঠন করার লক্ষ্যে আমি আমার সংগ্রাম অক্ষুন্ন রাখব।
এই বুড়ো বয়সে স্ত্রী ও নাতনিদেরকে নিয়ে আসামের ধুবড়ী মহকুমার যে কোন স্থানে বাস করার জন্য যদি আপনি পাঁচ একর জমিসহ ক’টি টিনের ঘরের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে এই বদান্যতার জন্য আমি আপনার নিকট কৃতজ্ঞ থাকব। আসামের আভ্যন্তরীন রাজনীতিতে আমি কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করব না। আপনার এবং আসাম সরকারের নিকট আমি এই প্রতিজ্ঞা করছি।
ছয়মাস যাবত আমার থাকা, খাওয়া, পরার জন্য আপনার উপর নির্ভরশীলতার দরুন অত্যন্ত লজ্জাবোধ করছি। যদি ধুবড়ী থাকতে আমাকে অনুমতি দেয়া হয় তাহলে সরকারী তহবিল হতে আমার জন্য অর্থ খরচের দরকার পড়বে না। যেই আমাকে প্রো-চাইনিজ বলে আপনার কাছে চিহ্নিত করতে অপচেষ্টা করুন, ইনশাল্লাহ আমি ভারত ও আপনার অবাধ্য হবো না। সর্বাধিক সম্মান সহকারে,
আপনার বিশ্বস্ত মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

প্রায় একই বক্তব্য নিয়ে আরেকটি চিঠি সেপ্টেম্বরে লিখেছিলেন ভাসানী যা ইংরেজী অনুবাদ করে ইন্দিরাকে পাঠানো হয়েছিল। কাজটি করেছিলেন তার ব্যক্তিগত সচিব সাইফুল ইসলাম এবং মূল খসড়াও তার কাছে রয়েছে। তথ্যসূত্র : সাইফুল ইসলাম : স্বাধীনতা-ভাসানী-ভারত

লিখেছেন Omi Rahman Pial

২৫শে মার্চ রাতে তরুণীদের ধরে এনে ২৬শে মার্চ জীবন্ত অবস্থায় স্তন কেটে আলাদা করা হয়েছিলো। উপুড় করে শুইয়ে পশ্চাৎদেশের ম...
26/03/2026

২৫শে মার্চ রাতে তরুণীদের ধরে এনে ২৬শে মার্চ জীবন্ত অবস্থায় স্তন কেটে আলাদা করা হয়েছিলো। উপুড় করে শুইয়ে পশ্চাৎদেশের মাংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে!
যে সমস্ত মহিলারা আত্মরক্ষার জন্য জোরাজুরি করে তাদের কয়েকজন কে জোর করে রাস্তায় চিৎ করে শুইয়ে দুদিকে পা টেনে ধরে যো'নিপথে লোহার রড ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়! কারো কারো হাত পিছনে বেঁধে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়!
মায়েদের কোল থেকে শিশুদের কেড়ে নিয়ে টেনে হেঁচড়ে ছুড়ে মেরে চোখের সামনে দ্বিখন্ডিত করা হয়! সেই নির্মম মুহূর্তে বাঙালি যারা প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছে তখন বিহারিরা অধিক উল্লাসে হাসিতে তাদের নির্মমতা দ্বিগুন করেছে!
সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায় "একটি বাড়ি থেকে পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা সবাইকে ধরে আনা হয়! তারপর সবাইকে সবার সামনে কাপড় খুলতে বলা হয়! এতে তারা আপত্তি জানালে তাদের পরনের কাপড় খোলা হয়! এবং ছেলেকে মায়ের সাথে, মেয়েকে পিতার সাথে ধ'র্ষণে লিপ্ত করা হয়! তারা অস্বীকৃতি জানালে সবার সামনে পিতাকে এবং পুত্র কে টুকরো টুকরো করে কেটে মা এবং মেয়ে দুজনের চুলের সাথে উলঙ্গ অবস্থায় বেঁধে বিহারীরা ধরে নিয়ে যায়!
২৬শে মার্চ বুড়িগঙ্গার তীরে যতোদূর চোখ যায় শুধুই লাশ! রাস্তা ঘাটে পড়ে আছে যত্রতত্র শিশু, কিশোর, যুবক, যুবতী, বৃদ্ধ নানা বয়সের সারি সারি বিকৃত লাশ! একই স্থানে দেখা যাচ্ছিলো মেয়েদের উলঙ্গ অবস্থায় লাশের স্রোত! এমন ও চোখে পড়েছে, "যাদের স্তন, যো'নিপথ, উরু প্রভৃতি স্থান ছিন্ন ভিন্ন! বর্বর পশুরা হত্যা করার আগে কুরেকুরে খেয়েছে! যথেচ্ছ ভাবে ধ'র্ষণ করে গুলিতে ঝাঁঝরা করেছে!
লক্ষ্মীবাজার মোড়ে এমন অনেক যুবকের লাশ পড়েছিলো যাদের বুক চিড়ে হৃদপিন্ড বের করে পায়ের গিট আর হাতের কবজি ভাঙা! মিশনারী স্কুল, জজ কোর্ট, পোগোজ হাইস্কুল, ঠাটারি বাজার, গোপিবাগ নয়াবাজার, তাহেরবাগ, টিপু সুলতান রোড, গুলিস্তান প্রভৃতি স্থানে শুধুই মৃতদেহ!
রায়সাহেব বাজার ব্রিজ পার হয়ে দেখেন উৎসব মুখর বিহারীদের! সেকি বিভৎস নৃত্য, লাফালাফি!
কয়েকজন বাঙালি কে ধরে এনেছে এরা! যাদের পিছন থেকে হাত বাঁধা! কারো শরীরে কোনো কাপড় নেই! এদেরকে কেউ চড় মারছে কেউ লাথি মারছে!
একজনের পুরু'ষাঙ্গে ইট বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে! দাঁড়িয়ে থাকা একজনে বুকে হঠাৎই ছোরা বসালো একজন!
রাজারবাগ পুলিশ লাইনে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫ যে মার্চ রাত থেকেই স্কুল কলেজের মেয়েদের ধরে এনেছিলো তারা! ট্রাকে তুলে এনে পছন্দ মত মেয়েদের টেনে হিঁচড়ে নামাতো! প্রকাশ্যে এদের পোশাক খুলে গাছের আড়ালে, দেয়ালের পাশে ধর্ষণ করতো!
ধর্ষণ করার পরে হেড কোয়ার্টারের চার তলায় নিয়ে উলঙ্গ অবস্থায় লোহার রডের সাথে চুল শক্ত করে বেঁধে পুনরায় শুরু করলো নির্যাতন!
শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেলেদের ধরে আনলো। কারো পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হতো, কারো মুখে গরম পানি ঢালা হতো!
কারো হাত পায়ে গিট মেরে গুড়িয়ে ফেলা হতো!
পরাদেশী নামে একজন ডোম শাঁখারী পট্টির এক বাড়িতে যান। ঐ বাড়ি থেকে অপরূপ সুন্দরী একটি মেয়ের লাশ তুলে আনেন! মেয়েটির স্তন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে! যৌ'নাঙ্গ সম্পূর্ণ রূপে থেতলানো!
.
মুখ বাহু উরুতে জমাট বাঁধা রক্ত! সমস্ত শরীরে কামড়ের চিহ্ন! তিনি আরো বলেন, আরমানিটোলার এক বাড়িতে দশ এগারো বছরের এক ফুটফুটে মেয়ের কথা! মেয়েটির সম্পূর্ণ শরীর ক্ষতবিক্ষত! নরপশুরা মেয়েটিকে ধর্ষণ শেষে দুদিক থেকে পা ধরে নাভি পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলেছে!
.
মিটফোর্ড হাসপাতালের বর্ণনা দিতে গিয়ে পরদেশী ডোম বলেন, “আমাদের ট্রাক সকাল ন’টার সময় মিটফোর্ড হাসপাতালের লাশ ঘরের সামনে উপস্থিত হলে আমরা ট্রাক থেকে নেমে লাশ ঘরে ঢুকি। লাশ ঘরে লাশের উপর লাশের পাহাড় দেখে ভড়কে যাই। সব লাশের বুক এবং পিঠ মেশিন গানের গুলিতে ঝাঁঝরা। প্রায় এক/ দেড়শ’ যুবক-যুবতী ও ছাত্র-ছাত্রীর বীভৎস লাশ দেখে গা ছমছম করে উঠল।
আমার সুপারভাইজারের নির্দেশে আমি লাশ ঘরের ভিতরে গিয়ে প্রতি লাশের পা ধরে টেনে বের করি। বাইরে দাঁড়ানো অন্যান্য সুইপার লাশগুলো দাঁড়ানো ট্রাকে উঠিয়েছে। আমি ও আমার সঙ্গীরা দেখলাম যে, প্রতি লাশের বুক ও পিঠ মেশিন গানের শত শত গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। বহু মা, বোন ও শিশুর লাশ এভাবে তোলার পর একটি উলঙ্গ লাশ তুলতে গিয়ে কেঁদে ফেললাম।”
পরদেশী ডোম আরেক বর্ণনায় শাঁখারিবাজারের বর্ণনায় আরও লিখেছেন '২৯ মার্চ সকালে পৌরসভা অফিসে ডিউটিতে গেলাম। আমাকে ট্রাক দিয়ে লাশ তোলার জন্য আরও কয়েকজন সুইপারের সঙ্গে যেতে বলা হল শাঁখারী বাজারে। জজ কোর্টের সামনে আগুনের শিখা তখনও দাউ দাউ করে জ্বলছিল। তার চারদিকে পাক সেনারা টহলে মোতায়েন ছিল।
সে জন্য ট্রাক নিয়ে সে পথ দিয়ে শাঁখারী বাজারে যেতে পারিনি। পাটুয়াটুলী ঘুরে আমরা শাঁখারী বাজারের পশ্চিম দিক দিয়ে পাটুয়াটুলী পুলিশ ফাঁড়ি পার হয়ে শাঁখারী বাজারের ভিতরে যেতে পারি। সেখানে ট্রাক থেকে নেমে আমরা শাঁখারী বাজারের ঘরে ঘরে গেলাম।
প্রতিটি ঘরে দেখলাম মানুষের লাশ। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বালক-বালিকা, শিশু-কিশোরের গুলীবিদ্ধ বীভৎস পচা লাশ। মেয়েদের অধিকাংশ লাশ সম্পূর্ণ উলঙ্গ পড়ে আছে দেখলাম। অন্যান্য স্থানের মত এখানেও দেখলাম তাদের বুক থেকে স্তন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে তুলে নেয়া। আমরা উলঙ্গ সুন্দরী তরুণীদের পাছার ও উরুর মাংসও খাবলা খাবলা করে কেটে নেয়া অবস্থায় দেখলাম।
ফুলের মত সুন্দরী কিশোরী ও তরুণীদের মুখ ও ঠোঁট পশুর মত দাঁত দিয়ে কামড়ানো দেখলাম। কারও কারও যোনিপথে লাঠি ঢুকানো দেখলাম। বহু পোড়া, ভস্ম লাশ সেখানে দেখলাম।
২৫শে মার্চের কদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খবর আসে, এক মেজরের কাছে! মৃত মানুষের গন্ধে থাকা যাচ্ছেনা! অবিলম্বে লাশ তুলে ফেলা হোক! এ পর্যন্ত তারা শুধু শহরেই লাশ তোলার কাজ করে যাচ্ছিলো!
এ সংবাদ পাওয়ার পর চুন্নু, পরদেশী, রনজিৎ, মধুরাম, দুখিরাম সহ আরো কয়েকজন ডোম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়! প্রথমে তারা রোকেয়া হলে প্রবেশ করে!
কিন্তু হলের কোনো কক্ষেই লাশ ছিলোনা! কেননা ২৫শে মার্চ রাতেই হলে অবস্থানরত ছাত্রীদের পাকিরা তুলে নিয়ে যায়!
.
তিনি বলেন, এসময় তারা হলের চারতলার ছাদে গিয়ে দেখতে পান সেখানে অনেকগুলো ছাত্রীর লাশ ছড়ানো ছিটানো! তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই! অথচ এরা মরলো কিভাবে?
এই প্রশ্নের জবাবে এক সৈন্য বলে, এদেরকে আমরা উপভোগ করেছি! তারপর যৌনা'ঙ্গে বেয়নেট ঢুকিয়ে হত্যা করেছি!
এদের কারো পরনে কোনো কাপড় ছিলোনা! তাদের আশেপাশে দুএকটা সেলোয়ার কামিজ ছিলো!
রাবেয়া খাতুন কাজ করতেন রাজারবাগ ক্যান্টিনে! তিনি বলেন, তিনি দেখতে পান ট্রাকে এবং জিপে করে প্রায় পঞ্চাশ জন মেয়েকে আনা হয়েছে! এদেরকে একটি কক্ষে রাখা হলো! প্রায় প্রত্যেকের হাতে বই খাতা ছিলো!
একদল সেনা কুকুরের মতো হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়লো তাদের উপর! প্রথমে জানোয়ার গুলো সমস্ত মেয়েদের পরনের কাপড় খুলে উলঙ্গ অবস্থায় সবাইকে মাটিতে শুয়ে পড়তে নির্দেশ দিলো! নির্দেশ অমান্য করলে লাথি মেরে ফেলে ধর্ষণ করেছিলো!
তিনি বলেন প্রতিটি মেয়ের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিলো! যোনিপথে বেয়নেট ঢুকিয়ে তাদের হত্যা করা হয়!
২৫শে মার্চ রাত যদি হয় গণহত্যার রাত তবে ২৬শে মার্চ দিনটি ছিলো মুক্তিযুদ্ধে ধ'র্ষণের ভয়ংকর নিকৃষ্ট অধ্যায়ের সূচনা।

সূত্র - বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র অষ্টম খন্ড।

স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খণ্ডটি যতবারই পড়ি, ততোবারই যেন কাঁদতে থাকি। একী নৃশংসতা, একই বর্বরতা।

ছবিটি - শিল্পী হামিদুর রহমানের আঁকা 'বীরাঙ্গনা ১৯৭১' চিত্রকর্ম।

শুভ জন্মদিন হে জাতির পিতা 🇧🇩
16/03/2026

শুভ জন্মদিন হে জাতির পিতা 🇧🇩

৭১ এর আলবদর,  ২৪ এর লালবদর মুক্তিযুদ্ধের ১৪ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রামে কুখ্যাত আল বদর বাহিনী নিয়ে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘ...
28/02/2026

৭১ এর আলবদর, ২৪ এর লালবদর

মুক্তিযুদ্ধের ১৪ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রামে কুখ্যাত আল বদর বাহিনী নিয়ে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও আল বদরের প্রতিষ্ঠাতা মতিউর রহমান নিজামীর একটি লেখা।
(উল্লেখ্য বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রেখেছিল আল বদরের সদস্যরা।)

সূত্রঃ ১৪ নভেম্বর ১৯৭১। দৈনিক সংগ্রাম।

📍পৃথিবীতে ' মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই গণতন্ত্র' এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হচ্ছে ১৯৪৭ এ জন্ম নেওয়া পাকিস্তান। পাকিস্তান তার নিজ দে...
17/01/2026

📍
পৃথিবীতে ' মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই গণতন্ত্র' এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হচ্ছে ১৯৪৭ এ জন্ম নেওয়া পাকিস্তান। পাকিস্তান তার নিজ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে গুলি করে হত্যা করে। লিয়াকত আলী খানকে গুলি করা সাদ আকবর নিজেও একজন মুসলমান ছিলেন। লিয়াকত আলী খানের মেয়াদ ছিল ৪ বছর ৬১ দিন। মুসলিম মুসলিম ভাই বলে ভারত থেকে আলাদা হওয়া প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান নিজের স্বাধীন দেশেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ করতে পারেননি।অথচ এই লিয়াকত আলী খান লন্ডন থেকে পাকিস্তানের জাতির পিতা জিন্নাহকে উড়িয়ে আনা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথমসারির ছিলেন। লিয়াকত আলী খানরা না হলে পাকিস্তান আজ স্বাধীন হতো না।
📍
পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান একজন ভারতীয় ছিলেন। ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের লিয়াকত আলী খান কাশ্মীর সমস্যাকে প্রথম জাতিসংঘে উপস্থাপন করেছেন।স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার মাত্র দুই বছরের মধ্যে পাকিস্তান ভারতের সাথে যুদ্ধ শুরু করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তারিক আকবর খান ও জেনারেল আইয়ুব খানরা পাকিস্তানের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে। লিয়াকত আলী খানকে হত্যা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন খাজা নাজিমুদ্দিন। মাত্র ১ বছর ১৮২ দিন এর মাথায় তার আরেক মুসলমান ভাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গভর্নর জেনারেল মালিক গোলাম মোহাম্মদ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ১৯৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন মোহাম্মদ আলী বগুড়া। মাত্র দুই বছর ১১৭ দিনের মাথায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কর্তৃক তাকে বরখাস্ত করা হয়।তাকে সরিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন চৌধুরী মোহাম্মদ আলী। মাত্র ১ বছর ৩১ দিনের মাথায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজ দল।

👉১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ১ বছর ৫ দিনের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।দ্য গ্রেট কলকাতা কিলিংস এর অন্যতম নায়ক বলা হতো সোহরাওয়ার্দীকে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সোহরাওয়ার্দীকে ভারতের ' র' এজেন্ট ও পাকিস্তানের শত্রু হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে তার রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য কিভাবে ভারতের " র' এজেন্ট বানিয়ে দেয় , ইসলামের শত্রু ও পাকিস্তানের শত্রু বানিয়ে দেয় তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হতে পারে পৃথিবীতে পাকিস্তান।

👉 ১৯৫৭ সালে মাত্র ৫৫ দিনের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইব্রাহিম ইসমাইল চুন্দ্রিগড়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্যার ফিরোজ খান নুনকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বানায়।তার ক্ষমতার মেয়াদ মাত্র ২৯৫ দিন! তাকে হটিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন মার্শাল ল জারি করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা।নিজে প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন নুরুল আমিনকে।

👉 মাত্র ১৩ দিনের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।এরপর ১৪ ই আগষ্ট ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন জুলফিকার আলী ভুট্টো।৩ বছর ৩২৫ দিন পর তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান জিয়াউল হক। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেন।২০০৭ সালে পাকিস্তানের আরেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা বেনজির ভূট্রোকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।

👉 গত ৭৮ বছরে ১৯৪৭ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে পাকিস্তান ২২ জন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে। ১৩ দিনের জন্যও প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির পাকিস্তানে। এই পর্যন্ত পাকিস্তানের কোন সরকার তার ক্ষমতার পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেন নাই। বাংলাদেশের ছাগু আবু সাঈদ ,হাদী , আবরার ফাহাদ ও ঘেউ ঘেউ হাসনাতরা যখন তাই কথায় পাকিস্তান জিন্দাবাদ প্রসঙ্গ টেনে আনে তখন খুব হাসি পায়।দেশটা পাকিস্তান থাকলেই ভালো হতো বলে তখন দেখি এসব শুনে কাঁদতে কাঁদতে অনেক বাংলাদেশের মুসলমানদের লুঙ্গি খুলে পাকিস্তান জিন্দাবাদ হয়ে যায়।পাকিস্তানে এমনি হয়েছে । এক মুসলমান ভাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে স্বর্গে যেতে চাইলে আরেক মুসলমান ভাই টেনে নামিয়ে ফেলেছে।এক মুসলমান স্বর্গের রাস্তা ধরলে আরেক মুসলমান তার পা টেনে ধরে পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিয়ে ভারত বিরোধিতা করে। নিজেরা নিজেদের পটুতে গত ৭৮ বছর ধরে এইভাবে আঙ্গুল দিয়ে ভারতের উপর দোষ চাপিয়েছে।

👉 পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পর্যন্ত তার পাঁচ বছর ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। মাত্র ৩ বছর ২৩৫ দিনের মাথায় আমেরিকার ইশারায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে কারাগারে প্রেরণ করে পাকিস্তান সরকার।এমন এক আজব চিড়িয়া দেশ হচ্ছে পাকিস্তানীরা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে তো পাকিস্তান থেকেই পালিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২ বছর সাত মাস ক্ষমতায় থেকে তাকে পাকিস্তান ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আবার নির্বাচিত হয়ে নওয়াজ শরীফ ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ২ বছর ২৩৭ দিন। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তার আরেক মুসলমান ভাই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েও তার পূর্ণ মেয়াদ একবারও পূরণ করতে পারেননি।নওয়াজকে ক্ষমতাচ্যুত করা জেনারেল পারভেজ মোশাররফ এখন নিজেই পাকিস্তান ছেড়ে পালিয়ে আছেন।

🔴 পাকিস্তানের ইতিহাসে ৪ বছর ৮৬ দিন তথা সর্বোচ্চ ক্ষমতায় ছিলেন ইউসুফ রাজা গিলানি।তাকেও ক্ষমতাচ্যুত করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পাকিস্তানে কে ক্ষমতায় থাকবে , কে কারাগারে যাবে , কাকে গুলি করে হত্যা করা হবে , কে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যাবে এই সব সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এজন্য পাকিস্তানের ৭৮ বছরের স্বাধীন রাষ্ট্রে ৩৪ বছর শাসন করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রায় ২০ বছর বন্দুক দিয়ে শাসন করেছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। রাজনীতি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর হাতের পুতুল ছাড়া আর কিছুই নয়।

👉১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম নেওয়ায় মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বিচারপতি সায়েমের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মেজর জিয়া নিজেই নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে।এই জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশে ২২ টি সামরিক অভ্যুত্থান ও হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তা হত্যা হয়েছে।
পাকিস্তান যদি পৃথিবীর বুকে অন্যতম জ-ঙ্গী রাষ্ট্র হয় তবে বাংলাদেশের পরিণতি হচ্ছে মিনি পাকিস্তান।
" এটাই হচ্ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই তত্ত্ব।" ছাগুদের দল এটাকে আইনস্টাইনের ' থিওরি অফ রিলেটিভিটি ' মনে করে মরুভূমিতে উটের পাখনা লাগিয়ে মহাকাশ জয় করার স্বপ্ন থেকেই " পাকিস্তান জিন্দাবাদ" দেয়।।

🔴১৯৪৭ সালে পাকিস্তানে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশ একটি কৃষি ও ব্যবসা প্রধান সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর ছিল ব্রিটিশ ও ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দর।পাট, চা , চাল ও তুলার প্রধান রপ্তানিকারক দেশ ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তখন শুধু ভারতের কলকাতা বন্দরের সাথেই ব্যবসা করতো না, বার্মা তথা মায়ানমারের বন্দর পর্যন্ত ব্যবহার করতো।পূর্ব বাংলা আসাম ও বার্মার বাণিজ্যর কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশ। সেসময় বাংলাদেশকে শোষণ করতো ব্রিটিশরা।এরপর পাকিস্তানীরা ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের পাট , চা , চিনি , তুলা ও কাপড় শিল্প সব নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে নেয়। বাংলাদেশের মানুষকে গোলাম বানিয়ে বাংলাদেশের কলকারখানা সহ সবকিছুর মালিক বন যায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা পাঞ্জাবিরা। মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই বলে পাকিস্তানের মোট বাজেটের মাত্র ১৯ শতাংশ বরাদ্দ করা হতো বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ রপ্তানি আয় পাকিস্তানীরা লুটে নিয়ে যেতো পাকিস্তানে। দীর্ঘ ২৩ বছর বাংলাদেশের ৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার লুট করার পরও পাকিস্তান আজও পৃথিবীর বুকে একটা ভিখারী রাষ্ট্র। ভারতকে শত্রু সাজিয়ে আমেরিকার দালালি করতে গিয়ে পাকিস্তান শুধু বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেনি , তাদের আরেক প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ পর্যন্ত ধ্বংস করে দিয়েছে।এক সময়ের উন্নত ও আধুনিক আফগানিস্তান আজ এক জ-ঙ্গী রাষ্ট্র ছাড়া আর কিছুই নয়। ইসলাম জিন্দাবাদ পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে তাদের জনগণের সাথে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।এসব রাষ্ট্রে এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে হত্যা করে গদি দখলের নাম হচ্ছে " গণতন্ত্র ও ভোটের রাজনীতি" ।

সত্য সবসময় সুন্দর
লুসিড ড্রিম
১৭-০১-২০২৬

তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবশালী পত্রিকা 'প্রাভদা'র বরাত দিয়ে 'দৈনিক পূর্বদেশ' ১৯৭১ সালের ২২শে ডিসেম্বর খবর প্রকাশ কর...
06/01/2026

তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবশালী পত্রিকা 'প্রাভদা'র বরাত দিয়ে 'দৈনিক পূর্বদেশ' ১৯৭১ সালের ২২শে ডিসেম্বর খবর প্রকাশ করে- "দখলদার বাহিনী বাংলাদেশের ত্রিশ লক্ষাধিক লোককে হত্যা করেছে।"

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১৯৭২ সালের ১০শে জানুয়ারি। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ১৯ দিন আগের খবর। অথচ স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রচার করে বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এসে শহীদের সংখ্যা ৩ লক্ষকে বাড়িয়ে ৩ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩০ লক্ষ বলেছিলেন!

22/12/2025

22 শে ডিসেম্বর ফিরে এলেন আমাদের নেতারা। এসে উচ্চারন করলেন...
আমার নেতা, তোমার নেতা.......

🇧🇩 বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহায়তা (১৯৭১) 🌍একটি ন্যায়সংগ্রামে বিশ্ব মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস১৯৭১ স...
21/12/2025

🇧🇩 বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহায়তা (১৯৭১) 🌍
একটি ন্যায়সংগ্রামে বিশ্ব মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার লড়াই ছিল না—এটি ছিল গণহত্যা, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ব মানবতার সম্মিলিত প্রতিবাদ। এই যুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা দেশ ও জনগোষ্ঠীর সহায়তা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।

🇮🇳 ভারত: মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় বন্ধু
🤝 প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা
🪖 মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও লজিস্টিক সাপোর্ট
📅 ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১—বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান
⚔️ ডিসেম্বরের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ

🇷🇺 সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)
🕊️ জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক অবস্থান
📜 ভারত–সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি (আগস্ট ১৯৭১)
🚢 মার্কিন সপ্তম নৌবহরের চাপ মোকাবিলায় কৌশলগত সমর্থন

🌍 সমাজতান্ত্রিক ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহ
🇵🇱 পোল্যান্ড | 🇨🇿 চেকোস্লোভাকিয়া | 🇭🇺 হাঙ্গেরি
✊ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন

🎶 বিশ্ব জনমত ও মানবিক সহায়তা
📰 আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা উন্মোচন
🎸 George Harrison ও Ravi Shankar-এর “Concert for Bangladesh”
❤️ বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থার ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা

✈️ বিশ্ব বিবেকের প্রতিবাদ
🇫🇷 ফরাসি যুবক জ্যঁ ক্যুঁয়ে—পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিমান হাইজ্যাক
🌐 ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়াজুড়ে ছাত্র–বুদ্ধিজীবী আন্দোলন

🕊️ উপসংহার
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল ন্যায় ও মানবতার পক্ষে একটি ঐতিহাসিক সংগ্রাম। আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রমাণ করে—সত্য ও ন্যায়ের লড়াইয়ে বিশ্ব কখনো নীরব থাকে না।

🔖 হ্যাশট্যাগ

#বাংলাদেশ #মুক্তিযুদ্ধ




Mofijul Islam Milan

বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও রাষ্ট্রগঠনকালে প্রতিবেশী ভারতের ভূমিকা-----বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক রক্তের আখরে লেখা। এ কথা আ...
21/12/2025

বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও রাষ্ট্রগঠনকালে প্রতিবেশী ভারতের ভূমিকা
-----
বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক রক্তের আখরে লেখা। এ কথা আমরা সবাই জানি, ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছিল। ১ কোটিরও বেশি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় দেয়া সেই সময়ের ভারতের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রায় ১৪ হাজারের অধিক ভারতীয় জওয়ান বাংলাদেশের মুক্তি-সংগ্রামে জীবন দিয়েছে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং শেষ দিকে বাংলাদেশ-ভারত মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল। ইতিহাসে যার যতটুকু ভূমিকা স্বীকার করা ও স্মরণে রাখা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোর্ট মার্শাল বিচারের আয়োজন করেছিল। সেক্ষেত্রে তৎকালীন ভারত যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল তা ইতিহাসে বিরল।
ভারত সরকার কোর্ট মার্শাল নিয়ে ১০ আগস্ট ১৯৭১ জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্টকে যে বার্তা প্রেরণ করে তা ভাষান্তরিত হলো : “আগামীকাল থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের শুরু হতে যাচ্ছে রাওয়ালপিন্ডি থেকে এই ঘোষণা আমরা বিপন্ন ও বিস্মিতবোধ করছি। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বিবৃতির প্রাক্কালে ‘শেখ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছেন’ এই অজুহাতে বিচার করতে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের অবিসংবাদিত নেতা, তাদের অত্যন্ত প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয়। ১৯৭০-এর ডিসেম্বরে নির্বাচনে এমন অভূতপূর্ণ বিজয় সম্প্রতি পৃথিবীর আর কোথায় ঘটেনি। পূর্ববাংলায় পাকিস্তান সরকারের অভিযানে আমাদের জন্য যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও ব্যক্তির ওপর চূড়ান্ত কিছু ঘটলে এই সংকটের তীব্রতা ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আমাদের জনগণ, গণমাধ্যম, পার্লামেন্ট এবং সরকার মনে করে। আপনার মহানুভবতার কাছে আমাদের আবেদন, অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করে পাকিস্তান সরকারকে বলুন তারা যেন এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ না করেন, যা তাদের ও আমাদের সংকটকে আরও তীব্র করে তুলবে। যদি তারা মুজিবের কিছু করে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর ও দুর্বিষহ।”
আরেকটি বিষয় এখানে ইতিহাসের পাদটীকা হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মুক্তি ও বাংলাদেশের জনযুদ্ধের বিজয়ে যে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন তা একটু বিস্তারিত জানানো দরকার। ভারতীয় পার্লামেন্টে ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, পাকিস্তানের মিত্রদের প্রস্তাবিত কিছু প্রান্তিক উদ্যোগ যে সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হতে বাধ্য তা সাধারণভাবে পশ্চিমা বিশ্বের সিভিল সোসাইটি এবং জনমত বুঝতে পেরেছে। ইন্দিরা গান্ধী বলেন, “ঐসব দেশের নেতৃবৃন্দের অনেকেই অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন যে, বাংলাদেশের নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক উদ্যোগ কেবল ঐ সংকট সমাধানের একমাত্র পথ এবং এ জন্যে The Release of Sheikh Mujib is essential.” তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা বিশে^র কাছে এটা এখন স্পষ্ট যে, বিষয়টি আর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় কিংবা ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ইস্যুও নয়। কারণ : ÒPakistan efforts to side-track and could the basic issue by seeking to involve the United Nation and to transform the struggle of the people of Bangladesh into an Indo-Pakistan confrontation and conflict have been exposed.”
তিনি বলেছিলেন, আমরা আন্তর্জাতিক বিশ্বে সহানুভূতি ও সমর্থন পেতে পারি তবে সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের তাদের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না; বরং বাংলাদেশকে নিজের শক্তিতে স্বাধীনতার অর্জন করতে হবে এবং ভারত পূর্ণ শক্তি নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর এই বিশ্লেষণ যথার্থ ছিল। কারণ ১৯৭১-এর বাংলাদেশের বাঙালিদের সামাজিক ঐক্য পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা সম্মিলিত স্রোতের চেয়ে বেগবান এবং এই জনযুদ্ধের বিজয় তাই অনিবার্য। ১৫ নভেম্বর ১৯৭১, Newsweek-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের জনযুদ্ধ যে ন্যায়সংগত, গণতান্ত্রিক এবং একটি পরিপূর্ণ সংগ্রাম তারই একটি সংক্ষিপ্ত অথচ চিত্তাকর্ষক বিবরণ দিয়েছিলেন। এই পরিসরে সেটার কিছুটা উল্লেখ করা প্রয়োজন।
“As you know, the majority of the guerillas are the para-military force of East Bengal. ... And they are the ones who are training new people... the Pakistani Army will have to kill all the 75 million people in East Bengal Before they can have control over them. ... And I have absolutely no hesitation in saying that if I were placed in a situation like the Bengalis, I certainly would fight.”
ইন্দিরা গান্ধী সর্বশেষ পশ্চিম জার্মানির বনস্থ বিথোভেন হলে এই বক্তৃতায় বাংলাদেশের ওপর আমরা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেই না কিংবা তাদের কোনো পরামর্শও দিতে পারি না। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষে তিনি যদি ইয়াহিয়ার সাথে বাংলাদেশকে আপস করার পরামর্শও দেই, তারা তা কেন গ্রহণ করবে? সর্বোপরি ইতিহাসের পরিবর্তনের মুহূর্তে ইন্দিরা গান্ধী দলমত নির্বিশেষে তার দেশের সমগ্র জনতার সমর্থন পেয়েছিলেন। বামপন্থী, মধ্যপন্থী ও দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্য একযোগে তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। যেমন- গোয়ালিয়র থেকে নির্বাচিত জনসংঘ (বর্তমানে বিজেপি)-এর সংসদ সদস্য অটল বিহারী বাজপেয়ী ৬ ডিসেম্বর লোকসভায় তার ভাষণে যা উল্লেখ করেছিলেন সেটির জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে দ্বিধান্বিত হয়নি। ২০১৫ সালের ৭ জুন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতার লড়াইয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য ভূমিকার কথা স্মরণ করে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিজেপি নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ দিয়েছিল। আমাদের স্মরণে রাখা দরকার, ভারতের লোকসভায় অটল বিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন, “স্পিকার মহাশয়, দেরিতেই হোক না কেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিয়তি এই সংসদ, এই দেশকে এমন গুরুত্বপূর্ণ কালপর্যায়ে এনে উপস্থিত করেছে যখন আমরা মুক্তিসংগ্রামে আত্মহুতি দানকারী লোকদের সমভিব্যাহারে যুদ্ধ করছি, আমরা কিন্তু ইতিহাসের গতির নতুন দিকনির্দেশের জন্যও সচেষ্ট রয়েছি।... আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সত্যি ধন্যবাদের পাত্রী।”
ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রশ্নে যৌথভাবে অধিবেশনে বসেছে। এটা প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা বাংলাদেশকে সমর্থন প্রদানে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, যেমন- ৩১ মার্চ ১৯৭১, রাজ্যসভা ও লোকসভায় ‘Recent Development in East Bengal’ শিরোনামে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন ইন্দিরা গান্ধী এবং উভয় সভায় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। একইভাবে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, রাজ্যসভা ও লোকসভার আরেকটি যৌথসভা বসে, সেখানে “Statement by Prime Minister Re : Recognition of Bangladesh.” ৩ ডিসেম্বর লোকসভায় জরুরি অবস্থা ঘোষণাবিষয়ক প্রস্তাব পাস করে। এই প্রস্তাব উত্থাপনকালে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তার বক্তৃতায় বলেন, “We have stood for peace, but peace itself has to be defended.” আগেই বলা হয়েছে যে, ভারতীয় রাজ্যসভা ও লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধীর প্রদত্ত বক্তৃতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ ঘোষণা ছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান। তিনি ৬ ডিসেম্বর তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে নিম্নোক্ত ঘোষণা প্রদান করেন :
“I am glad to inform the House that in light of the existing situation and in response to the repeated requests of the Government of Bangladesh the Government of India have after the most careful consideration, decided to grant recognition to the GANA PRAJATANTRI BANGLADESH.”
সেদিনকার বক্তৃতায় তিনি আরও বলেছিলেন, আমাদের চিন্তা এবং যাবতীয় কর্মকাণ্ড এ-মুহূর্তে বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্রের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের (Father of New State) সাথে রয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় যে, ৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির পিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ভারতে ঐ উপাধি তার পিতা জওহরলাল নেহরুরও ছিল না। কারণ ভারতের জাতির পিতা হচ্ছে মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী। ৬ নভেম্বর ইন্দিরা গান্ধী যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তার নিজের চেয়ে, বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছে বিশাল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, “I am congratulated on my great majority. But it was nothing compared to the majority which Sheikh Mujibur Rahman gained in the election in Pakistan. It was a tremendous victory for him. And he is not an extremist. He was a moderate person.”

দুই
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর এটা সবারই প্রত্যাশা ছিল যে দুদেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দুটো দেশই এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শান্তির পথে। সত্যি সত্যি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল। একটা পরিসংখ্যান দিলে বিষয়টা বেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে, ১৯৭২-৭৩ সালে শুধু খাদ্য বা ভোগ্যপণ্য নয়, পরিবহন যোগাযোগ-ব্যবস্থার মেরামত ও পুনর্গঠনের জন্য এবং শিল্প-কারখানায় কাঁচামাল সরবরাহেও ভারত ব্যাপক সহায়তা প্রদান করে। ভারত নিজে তেলের আমদানিকারক হয়েও বাংলাদেশের জ্বালানি তেল শোধনাগারের (রিফাইনারি) জন্য অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে জরুরি সহায়তা করেছিল। ভারত বেসামরিক বিমান ও জাহাজ সরবরাহ করে। নতুন দেশটির জন্য সবচেয়ে জরুরি ছিল খাদ্য। ১৯৭২-এর শুরুতে বাংলাদেশ একদিকে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতি এবং আরেক দিকে পরপর দুবার শস্যহানির কবলে পড়ে। ভারতে সহায়তা হিসেবে শুধু ৪ লাখ টন খাদ্যশস্যই দেয়নি, খাদ্যশস্য পরিবহনেও সহায়তা করে। প্রথম ছয় মাসে মোট প্রাপ্ত খাদ্য সহায়তার ৭৪ শতাংশই ভারত দিয়েছিল। ১৯৭১-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৭২-এর জুনের মধ্যে ২০ কোটি মার্কিন ডলার দান হিসেবে এবং পণ্য আমদানি ও প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত সহজ শর্তে ৪.২ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করে। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৪-৭৫ সময়ে ভারত ৩০.৮ কোটি মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭.৭ কোটি মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পর দাতাদের মধ্যে এটাই ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সহায়তা।

তিন
মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের সময়ে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, ক্ষেতের ফসল, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সমস্ত ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ লুট- সবই নীলনকশা অনুযায়ী করেছিল। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ২১-২৩ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে অবকাঠামোগত পুঁজি দাঁড়ায় ২০ বিলিয়ন ডলার এবং মানবপুঁজি ৩ বিলিয়ন ডলার। এসএ চৌধুরী ও এসএ বাশার, ‘দি এনডিওরিং সিগনিফিক্যান্স অব বাংলাদেশ’স ওয়ার অব ইনডিপেনডেন্টস; অ্যান অ্যানালাইসিস অব ইকনমিক কস্টস অ্যান্ড কপিকোয়েন্সেস’, ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি, কানাডা (অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি), ২০০১। (তথ্য সূত্র : কামাল হোসেন, ‘দি মেকিং অব বাংলাদেশ, চ্যাপ্টার টেন-বাংলাদেশ অ্যান্ড রিলেসন্স উইথ পাকিস্তান’, অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি, ঢাকা)। বঙ্গবন্ধু সরকার পাকিস্তান সরকারের কাছে পাওনা ন্যায্য অর্থের বারবার দাবি জানিয়েছে। ১৯৭৪ সালের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় পাকিস্তান সরকার অর্থ ফেরতের কথা স্বীকার করেছিল। এমনকি কীভাবে কিস্তিতে পরিশোধ করবে তারও চূড়ান্ত আলোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে পাকিস্তানতন্ত্র কায়েম করেছিল। অতএব সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের কাছ থেকে পাওনা আদায় দূরে থাক, পারলে পুরো দেশটাই পাকিস্তানের কাছে বন্ধক দেয়ার বন্দোবস্ত করে ফেলেছিল।

আমরা ভালোভাবে জানি, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাদখলকারী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি কর্তৃক ভারতকে বাংলাদেশের রাজনীতির গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর আস্থার বদলে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয় অবিশ্বাস আর বিশ্বাসভঙ্গের কূটকৌশল। ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধী স্লোগানের আড়ালে রয়েছে কুৎসিত রাজনীতি। ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করা হলেও বাংলাদেশের দাবি-দাওয়া ভারতের কাছে উত্থাপন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে তা আদায়ের প্রশ্নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অথচ এটাই বাংলাদেশের জন্য ছিল সবচেয়ে মঙ্গলজনক। উপমহাদেশের জন্য ছিল সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ। ভারত নিয়ে এই রাজনীতির গূঢ় রহস্য বুঝতে হলে আমাদের পেছনে ফিরে দেখতে হবে। তথ্যগুলো তুলে ধরতে হবে মানুষের সামনে; বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা দরকার।

জে এন দীক্ষিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের প্রথম কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং ডেপুটি হাইকমিশনার। পরবর্তীকালে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব নিযুক্ত হন। আমি তখন ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম ৩টি বছর ঢাকা থাকাকালীন তিনি বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর ‘Liberation and Beyond’ শীর্ষক একটি বই রচনা করেছেন, যাতে তিনি বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর আগ্রহ-উদ্দীপক কিছু মন্তব্য করেছেন, যাতে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্বন্ধে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ও মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। দীক্ষিত তার বইয়ে লিখেছেন, “ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠার পরপরই ভারত বাংলাদেশকে দুটি সমুদ্রগামী জাহাজ এবং দুটি ফকার ফ্রেন্ডশিপ উড়োজাহাজ অনুদান হিসেবে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশকে নিয়ে শেখ মুজিবের আত্মসম্মান এতই প্রবল ছিল যে তিনি এই বাহনগুলো অনুদান হিসেবে গ্রহণ না করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিয়ে ক্রয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।” দীক্ষিত লিখেছেন, “বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সূচনাতেই শেখ মুজিব গঙ্গার পানি বণ্টন এবং ছিটমহল হস্তান্তরের প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেন এবং ভারতের দখলিকৃত পাকিস্তানি সমরাস্ত্র এবং গোলাবারুদ বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার কথাটি তোলেন এই যুক্তিতে যে সেগুলো বাংলাদেশের প্রাপ্য। তাছাড়া মুজিব এই যুক্তিও তুলে ধরেন যে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী পাকিস্তানি অস্ত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত এবং তাই সেগুলো বাংলাদেশের সেই সময়কার অনিশ্চিত অভ্যন্তরীণ অবস্থা মোকাবিলায় সহায়ক হবে।” দীক্ষিতের কথায়, যদিও শেখ মুজিব জানতেন যে বাংলাদেশের অস্তিত্বের সূচনার সেই দিনগুলোতে বাংলাদেশের ভারতীয় সাহায্য-সহায়তার প্রয়োজন, তবু তিনি চাইতেন না যে বাংলাদেশ ভারতের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হোক। ইতিহাসের পাঠকরা ভালো করেই জানেন বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি লন্ডনে আসার আগে জুলফিকার আলী ভুট্টো নানারকম আপস ফর্মুলা নিয়ে বৈঠকে করার চেষ্টা করেছিলেন। কোনোরকম একটা সম্পর্ক রাখা যায় কি না সেই চেষ্টাও করেছিল।
বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইয়াহিয়া খানের কাছে তিনি ধরা দিলেন কেন? অনেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন... অজ্ঞাতবাসে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমি তাও অস্বীকার করেছি।” তিনি বলেছিলেন, “যখন তাঁর দেশবাসীরা বুলেটের আঘাতে প্রাণ দিচ্ছে তখন ভারতে পালিয়ে যাওয়াও তাঁর পক্ষে কাপুরুষতা বলে মনে হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রখ্যাত লোকগবেষক বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের বই ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ এবং প্রাসঙ্গিক কথকতা’ থেকে জানতে পারি। ১৯৭৪ সালের দিকে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক ড. মযহারুল ইসলাম, লেখক সাংবাদিক রাহাত খান, শামসুজ্জামান খান এবং বাংলা একাডেমির তৎকালীন সংস্কৃতি বিভাগের ম. জিল্লুর রহমান বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু যা বলেছিলেন তা খুবই প্রণিধানযোগ্য। “২৫শে মার্চ (১৯৭১) রাতে আমি গ্রেফতার হবার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেই। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে ওয়্যারলেসে সে ঘোষণা সব জেলা সদরে পাঠানো হয়। আমি বিভিন্ন চ্যানেলে ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগ করে যাই। তা না হলে তোমরা অত সহজে অস্ত্র ও সাহায্য সহযোগিতা পেতে না।”

আমরা প্রশ্ন করলাম কিন্তু আপনি কেন ওদের হাতে ধরা দিলেন। তিনি বললেন, “এ ব্যাপারে আমার বেশ ক’টি চিন্তা কাজ করেছে। এক. আমাকে ধরতে না পারলে ওরা আরও বেশি লোককে খুন করত; দুই. আন্তর্জাতিকভাবে আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ভারতের ক্রীড়নক বলে প্রমাণিত হতাম এবং এতে আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা কমতো এবং আরও বেশি দেশ আমাদের আন্দোলন সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতো। আর একটা কথা বলি, তোমরা কীভাবে নেবে জানি না, প্রফেসর সাহেব আমার সঙ্গে একমত হবেন কি না তাও বলতে পারি না- তবে আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস আমি পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি থাকায় আমার দুঃখী বাঙালিদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ যেমন বেড়েছে তেমনি মানুষ আমার অনুপস্থিতিতে আমার একটা বিশাল প্রতীক মনে মনে তৈরি করে নিয়েছে। এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের খুব বড় একটা শক্তি। আমি প্রবাসী সরকারে থাকলে শুধু প্রমাণ সাইজের মুজিবই থাকতাম। ওদের হাতে বন্দি থাকায় আমি এক মহাশক্তিধর ও বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতার ভূমিকায় স্থান পাই। মানুষ আমার নাম নিয়ে হেলায় হেসে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। কী অমোঘ অস্ত্র ছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। ওরা যদি আমাকে মেরে ফেলতো, তাহলে আমি আরও বড় প্রতীকে পরিণত হতাম। বাংলার মানুষ আরও লড়াকু হয়ে যুদ্ধ করত।”

চার
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন বাঙালির ওপর হামলে পড়ে, তখন ভাসানী ভারতে পাড়ি জমান। তার দলের একজন শীর্ষ নেতা তাকে পূর্ব বাংলায় ফিরিয়ে আনতে গেলেও, ভাসানীর এতটুকু রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল যে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন পূর্ব বাংলা দখলদার বাহিনীর অধীনে থাকা অবস্থায় সেখানে ফিরে যাওয়াটা নিরাপদ হবে না। ভারতে থাকা অবস্থায় ভাসানীকে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের জন্য প্রাপ্য উপযুক্ত সম্মান দিয়ে রাখা হয়েছিল। সেখানে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের জন্য ভারত সরকার যা করছিল তার জন্য ভারত সরকারকে তিনি একাধিকবার ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। দেশে ফেরার অল্প পরেই তিনি ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলেন। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করে ২৪ মার্চ ১৯৭২ এ তিনি বলেছিলেন, “স্বাধীনতার সংগ্রামের সময় প্রমাণিত হয়েছে ভারত বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু। আমি এটি কোনোদিন ভুলব না।” ভাসানী দেশের সংকটগুলো সমাধান করা জন্য মুজিব সরকারকে দুই থেকে তিন বছর সময় দেয়ার জন্য জনগণকে অনুরোধ করেছিলেন। অথচ, অল্প সময়ের মধ্যেই ভাসানী বলতে শুরু করেন যে, ভারতে থাকা অবস্থায় তিনি কার্যত বন্দী ছিলেন। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধির জন্য তিনি প্রতিদিন ভারত থেকে যে হাজার হাজার হিন্দু তাদের পূর্বপুরুষের ঘরবাড়ি দেখবার জন্য বাংলাদেশে আসছিলেন তাদের দায়ী করেছিলেন।

তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, “এদেশ যদি তাদের এত ভালোই লাগে তবে কেন তারা এদেশের অংশ হয়নি?” মূলত ভারত ও বাংলাদেশকে বিব্রত করার জন্যই তিনি বাংলাদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরাকে নিয়ে বৃহত্তর বাংলার পুরোনো ধারণাটি আবার সামনে নিয়ে আসেন। এর আগে আসামকে পাকিস্তানের অংশ করে নেয়ার দাবিতে কেউ কান দেয়নি। কিন্তু বৃহত্তর বাংলা গঠনের চিন্তাটি ভয়ঙ্কর। ভুট্টো ১৯৭৫ সালের ১৮ এপ্রিল কাবুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে তার ভাষণে বলেন, “১৯৭২ সালে আমি সিমলায় গিয়েছিলাম কারণ তখন আমাদের শান্তি দরকার ছিল। কিন্তু এখন পাকিস্তানের চেয়ে ভারতেরই বেশি শান্তি দরকার। পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা এখন ভারত ও বাংলাদেশের নিজেদের স্বার্থের জন্যই দরকার।” তিনি আরও বলেন, “শিগগিরই এ অঞ্চলে কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।” ভুট্টো ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত এখানে দিয়েছিলেন ভাবলে সেটা হয়তো একটু বেশিই দূরদর্শিতা হয়ে যাবে, তবুও অনেকেই এমন দাবি করেছেন। যা হোক তিনি শুধু মোশতাক সরকারকে খুব দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং এ সরকারকে শক্তিশালী করতে তার পক্ষে যা করা সম্ভব তার সবই করেছেন।

আমরা একসময় স্লোগান দিতাম ‘ শান্তির দূত শেখ মুজিব, জুলিও কুরি শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন সারাবিশ্বের শান্তির জন্য লড়াই করেছেন। যদি আমরা ৪৮-৪৯ বছর আগে ফ্লাশ ব্যাকে যাই তাহলে স্পষ্ট করে অনেক কিছুই জানতে পারব। ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে কলকাতায় তাঁর সম্মানে প্রদত্ত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি পাকিস্তানের প্রতি দৃষ্টি রেখে বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না প্রতিশোধ গ্রহণে কোনো মহৎ কর্তব্য পালন করা যায়।’ ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালের সন্ধ্যায় কলকাতার রাজভবনে তাঁর সম্মানে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রদত্ত ভোজসভায় তিনি একটি ঐতিহাসিক উক্তি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার একান্ত কামনা, উপমহাদেশে অবশেষে শান্তি ও সুস্থিরতা আসবে। প্রতিবেশীদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধিতার বন্ধ্যানীতির অবসান হোক। আমাদের জাতীয় সম্পদের অপচয় না করে আমরা যেন তা আমাদের দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যবহার করি। দক্ষিণ এশিয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করায় আমরা সচেষ্ট রইব, যেখানে আমরা সুপ্রতিবেশী হিসেবে পাশাপাশি বাস করতে পারি এবং যেখানে আমাদের মানুষের মঙ্গলার্থে আমরা গঠনমূলক নীতিমালা অনুসরণ করতে পারি। যদি আমরা সেই দায়িত্বে ব্যর্থ হই, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।’

উপমহাদেশের উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে, যখন রণাঙ্গণ থেকে রক্তের দাগও মুছে যায়নি, আঞ্চলিক সহযোগিতা বিকাশের এই উদাত্ত আহ্বান, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের একজন রাষ্ট্রনায়কের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর পরিপক্কতার পরিচায়ক। দেশে বঙ্গবন্ধু করেছিলেন এঁকই কথার পুনরাবৃত্তি। ১৯৭৪ সালের মার্চের ৪ তারিখে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘এই উপমহাদেশে আমরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল আর শ্রীলঙ্কা মিলে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমরা কারও সঙ্গে বিবাদ চাই না। আমরা স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে, আত্মমর্যাদার সঙ্গে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে বাস করতে চাই। আমি চাই না যে আমাদের বিষয়াদিতে কেউ হস্তক্ষেপ করুক। আমরাও অন্যের বিষয়াদিতে হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নই।’ বাংলাদেশ ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আরও ব্যাপ্তি দিয়ে আমরা সমৃদ্ধ হতে পারতাম। (অথচ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর অআওয়ামী লীগ সরকারগুলো বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করতে গিয়ে বাংলাদেশের বিশাল ক্ষতি করেছে।

লেখক : সুভাষ সিংহ রায়, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

#মুক্তিযুদ্ধ #বিজয়েরমাস #বাংলাদেশ #ভারত #স্বাধীনতা

Address

House 1791, Road 9, Mirpur 10, Dhaka
Mirpur
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Battle field '71 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Battle field '71:

Share