04/07/2024
তিন বছরেও ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা করতে পারেনি সরকার! কী আছে নীতিমালার খসড়ায়?
দুই পক্ষেই যুক্তি ‘প্রবল’
রিকশাগুলোকে চলতে দেওয়ার পক্ষে যারা যুক্তি দেখান, তারা বলেন, এগুলো কায়িক পরিশ্রম থেকে চালকদের মুক্তি দিয়েছে। সারা দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ এসব রিকশা চালিয়ে আয় করেন। মফস্বলে এবং ঢাকা শহরেরও অলি গলি বা শহরতলীতে গণপরিবহনের বিকল্প হয়ে উঠেছে সেগুলো। পায়ে টানা রিকশার তুলনায় এগুলোর চালকরা ভাড়াও তুলনামূলক কম হাঁকেন বলেই জানাচ্ছেন যাত্রীরা।
মান নির্ধারণ চায় সরকার!
দেশে লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছেও এর মান নির্ধারিত নয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা সরকারি মাননিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট-বিএসটিআইকে এই মান নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২০ মে বিএসটিআইয়ের এক আলোচনায় তিনি বলেন, “সারাদেশে প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলে। এখন আমরা কি এদের রুটি-রোজগারকে প্রতিহত করব? সেটি আমাদের উদ্দেশ্য নয় কিন্তু। এটার একটা স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দেওয়া যেতে পারে।”
নিরাপদ করা কি সম্ভব?
বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান এই প্রশ্নে বলেন, “খুবই সম্ভব।” তার যুক্তি, বর্তমানের ব্যাটারি রিকশাগুলো ‘ইউ’ ব্রেকে চলে। এতে দুটো ব্রেক-প্যাড থাকে যারা চাকার রিম চেপে ধরে। এই ব্রেক রিকশা বা সাইকেলের জন্য প্রযোজ্য। ব্যাটারি সংযোজন করার পর রিকশাগুলো ৩০-৩৫ কিলোমিটার গতিতে চলে। “রিকশার গতির সঙ্গে এই ব্রেকিং সিস্টেম খুব একটা কার্যকর নয়। এগুলোকে হাইড্রোলিক ব্রেকিংয়ে পরিবর্তন করতে হবে।”অটোরিকশা মোটরের সাহায্যে চলে, ব্রেক চাপার পরও মোটর ঘুরতে থাকে। এতে রিকশাটিও চলতে থাকে। ‘পাওয়ার কাট’ সুইচ সংযোজন করে এই সমস্যার সমাধান করা যায় বলে জানান এ বিশেষজ্ঞ।
নীতিমালার উদ্যোগ আটকা তিন বছর
দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার আইনগত বৈধতা কখনো ছিল না। এই রিকশাগুলো সড়কে নামলে প্রতিদিনের হিসেবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আর গোপন কিছু নেই। ক্ষমতাসীন দলের শ্রমিক সংগঠনের নামে এই চাঁদা তোলা হয়। পুলিশেরও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও পুরনো। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো এই অভিযোগ স্বীকার করে না। গত ১৫ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএর উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় গত ২০ মে মিরপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় রিকশা চালকেরা। পরের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানান, এই রিকশাগুলো চলবে। তিনি কোন কোন সড়কে চলবে, সেটির বিষয়ে নীতিমালা করে দেওয়ার কথা বলেন।
খসড়ায় বলা হয়েছে ইজিবাইক নিবন্ধন ও সিলিং নির্ধারণের আগে এ ধরনের বাহনের যাত্রী সুরক্ষা সম্বলিত অনুমোদিত ডিজাইন করতে হবে। এই ডিজাইন যে কোনো সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ সাপেক্ষে বিআরটিএ কর্তৃক টাইপ অনুমোদিত হতে হবে।
বিস্তারিত পড়ুন...........
রিকশায় ব্যাটারি সংযোজনে পরিশ্রম কমে চালকের, বাড়ে গতি, সেই সঙ্গে বাড়ে আয়; তবে এগুলো নিয়ে প্রশ্নে