11/02/2025
🚨আপনি কি জানেন- অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধ সেবন হতে পারে আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ?
গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা- চিকিৎসা ক্ষেত্রে অতি সাধারণ একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা,যার প্রতিষেধক হিসেবে প্রায়ই আমরা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ সেবন করে থাকি।গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা বলতে মূলত অ্যাসিডিটি এবং আলসার কে বোঝানো হয়। এই সমস্যা দূরীকরণে কখনো ডাক্তার এর পরামর্শে,কখনো বা ডাক্তার এর শরণাপন্ন না হয়ে ঔষধ বিক্রেতার পরামর্শেই অনেকে ওমিপ্রাজল,ইসোমিপ্রাজল, পেন্টোপ্রাজল ইত্যাদি গ্রুপের ঔষধ সেবন করে থাকেন। কিন্তু এসব ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষ ই সচেতন নয়।
বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদে উক্ত গ্রুপের ঔষধ সেবনে অস্টিওপোরোটিক ফ্র্যাকচার বা হাড় ভঙ্গুর হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ওমিপ্রাজল বা উক্ত অন্যান্য গ্রুপের ঔষধ গুলো এক ধরনের প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর(পিপিআই) জাতীয় ঔষধ এবং গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একটানা দীর্ঘদিন ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া এ জাতীয় ঔষধ সেবন করা মোটেই উচিত নয়। একটানা ৫ থেকে ৭ বছর যদি কেউ এ জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করে তাহলে তার হাড় ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এক্ষেত্রে মেরুদণ্ড, কোমর ও উরুর উপরের অংশের হাড় বেশি ক্ষয় হতে পারে এমনকি ভেঙে ও যেতে পারে।
এছাড়াও একটানা ৩ মাসের বেশি এ জাতীয় ঔষধ সেবনে দেহে ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যার ফলে ক্লান্তি ও অবসাদ,মাথা ঘোরা,হাত পা ঝিঝি করা ও মাংসপেশি তে টান লাগা,মুখে ও জিহ্বায় ঘা ইত্যাদি সমস্যার উদ্রেক হতে পারে। তবে বয়স ও মানুষভেদে এসব লক্ষণে ভিন্নতা দেখা যায়।
বেশিরভাগই ৫০ বছর বা তার উর্ধ্ববয়সী ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায়।
গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধ এরও যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে এই বিষয়টিই এখনো অনেকের অজানা বিধায় উক্ত সমস্যার সম্মুখীন হলেও তা যে গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধ এর কারণে হতে পারে সেটি কেউ বিশেষ আমলে নেন না।
• তাহলে গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধ এর বিকল্প কী??
বিকল্প অবশ্যই রয়েছে।গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যার উপশমে কিছু ঘরোয়া টোটকা এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই এনে দিতে পারে স্বস্তি। যেমন:-
👉অতিরিক্ত তেল ও মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা।
👉যদি আগে থেকেই কারও গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া,যাতে পাকস্থলী তে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন না হয়।
👉সমস্যা অনুভব করলে আদা পানি বা সরাসরি আদার রস খাওয়া।
👉লবঙ্গ খাওয়া।
👉নিয়ম মেনে সময়মতো এবং পরিমিত পরিমাণে খাবার খাওয়া।
👉ঘুমের সময় বুক ও কোমরের চেয়ে মাথা সামান্য উঁচু অবস্থানে রাখা, ইত্যাদি।
পরিশেষে সকলেরই উচিত যে ঔষধ সেবন করছি তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা এবং এ বিষয়ে সচেতন থাকা।আর সবচেয়ে জরুরি যা তা হলো কোনো ঔষধই নির্ধারিত মাত্রার অধিক সেবন না করা। তাই নিজে সচেতন হোন, সকলকে সচেতন করুন।
Writer : Fariya oishi
Content Writer
Nutrition For Change