17/04/2026
🔖 দ্বীনি ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে 'নিয়তের গুরুত্ব
দুনিয়ামুখী বনাম আখিরাতমুখী নিয়ত:
মহান আল্লাহ বলেন, যে দুনিয়া চায় আমি সেখানে তাকে দ্রুত দিয়ে দেই, যা আমি চাই, যার জন্য চাই। তারপর তার জন্য নির্ধারণ করি জাহান্নাম, সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, বিতাড়িত অবস্থায়। আর যে আখিরাত চায় এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে মুমিন অবস্থায়, তাদের চেষ্টা হবে পুরস্কারযোগ্য। (সূরা ইসরা:18-19)
ইসলামে দুনিয়া ও আখিরাত পরস্পরবিরোধী নয়। তবে সমস্যা তখনই হয় যখন কেউ পরকালকে বাদ দিয়ে কেবল দুনিয়া লাভের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে যায়। যেমন, দুনিয়াকামী ব্যক্তি ইলম শেখে সার্টিফিকেট, পদমর্যাদা, মানুষের প্রশংসা, চাকরী বা অর্থের জন্য। এটা এক প্রকার মুনাফিকী চরিত্র।
অন্যদিকে, আখিরাতকামী ব্যক্তি ইলম শেখে নিজের ও সমাজের মূর্খতা দূর করতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এটা হলো ইখলাস। ইলম শেখঅ দিয়ে উদাহরণ দেয়া হলো, অন্য কিছুও হতে পারে। দাওয়াত, ইমামতি, শিক্ষকতা, খুতবা, ওয়াজ মাহফিল, ইত্যাদি।
এই নিয়তের পবিত্রতার ভিত্তিতে কর্মতৎপরতাও হয় ভিন্ন ভিন্ন: দুনিয়াকামী মুসিলমের ইবাদতে উৎসাহ নির্ভর করে মানুষের উপস্থিতি বা সম্মানী বেতন-ভাতার ওপর। কিন্তু যার উদ্দেশ্য আল্লাহ, তিনি লোকসংখ্যা কম হোক বা বেশি, বেতন ভাতা কম হোক বা বেশী, পরীক্ষায় পাশ করুক বা ফেল, সর্বদা দ্বীনের ওপর অবিচল থাকেন, তাকওয়া ধরে রাখেন।
ফলাফল: দুনিয়াকামী ব্যক্তি হয়তো দুনিয়াতে কিছু যশ-খ্যাতি পায়, টাকা পয়সা, বাড়ি গাড়ি অর্জন করে, কিন্তু তার ইলমে কোনো বরকত বা নূর থাকে না। সে তার সার্টিফিকেট, বেতন সুনাম ইত্যাদি নিয়ে খুব সন্তুষ্ট থাকলেও নিজেই হেদায়াত থেকে বঞ্চত থেকে যায়। বিপরীতে, পরকালমুখী ব্যক্তির ইলমে আল্লাহ বরকত দান করেন, সে আল্লাহ সন্তুষ্টির সন্ধান পায় এবং তা মানুষের হৃদয়ে প্রভাব ফেলে ।
এর চেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো:
যারা কেবল দুনিয়ার চাকচিক্য ও স্বার্থে দ্বীনি কাজ করে, তাদের আমল কিয়ামতের দিন বাতিল (নিষ্ফল) হয়ে যাবে। তাদের জন্য পরকালে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই থাকবে না ।
দ্বীনি ইলম অর্জন করা অন্যান্য ইবাদতের মতো একটি ইবাদত। তাই এটি শুরু করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে বা ইখলাসের সাথে। মনে রাখবেন, প্রকৃত ইলম সেটিই যা মানুষের মনে আল্লাহর ভয় (খাশিয়াত) তৈরি করে এবং মৃত্যুর পরেও সদকায়ে জারিয়া হিসেবে জারি থাকে ।
একজন শিক্ষার্থীকে তার অন্তরের নিয়ত বারবার পরীক্ষা করা এবং কেবল দুনিয়াবি স্বার্থে দ্বীনি জ্ঞানকে ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক থাকা উচিৎ।
[শেয়ার করুন]