17/04/2026
আপনারা যারা হিজবুত তাওহীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় মব তৈরি করার চেষ্টা করতেছেন, তাদের অবগতির জন্য কয়েকটা কথা বলতেই হচ্ছে। আরে ভাই, আপনারা তো দেখি হেযবুত তওহীদকে চিনতেই পারেননি এখনও। যার বিরুদ্ধে কোমর বাইন্ধা নামছেন তার সম্পর্কে আগে তো একটু স্টাডি করে নিবেন। বুঝে নিবেন তারা কেমন, তাদের কর্মপদ্ধতি কেমন!
১.
প্রথমত- আপনারা যদি হিজবুত তওহীদকে বিভিন্ন আউল-বাউল, পীর, মাজার, দরবারের মতো মনে করেন তাইলে কিন্তু চরম ভুল করবেন। যেভাবে পীরের দরবারে হামলা কইরা উৎখাত কইরা দিতে পারেন, হিজবুত তাওহীদের বেলায় সেটা খাটবে না। কারণ হিজবুত তাওহীদের ইমাম কোনো পীরসাহেব না কিংবা বাউলশিল্পি না, আর অনুসারীরাও কোনো দরবারের মুরিদদের মতো না। তারা সত্য ইসলামের ধারক-বাহক; তারা মো’মেন মোজাহেদ।
২.
দ্বিতীয়ত- হিজবুত তাওহীদ একটা কঠোর নিয়মতান্ত্রিক ডিসিপ্লিনড আন্দোলন। যার একটা পাড়া-মহল্লার কমিটি থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত শক্তিশালী চেইন অফ কমান্ডে বাধা। সেজন্য দেখবেন আপনারা যতই লাফালাফি করেন না কেন, হেযবুত তওহীদ খুব সহজে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। একজন সদস্যও হুজুগের বশে কোনো কাজ করে না। আপনারা পুরা সপ্তাহজুড়ে চিল্লাইয়া গলা ফাটায়ে ফেলবেন, দৌড়াইতে দৌড়াইতে জুতার তলা ক্ষয় করে ফেলবেন, চামড়া কালো করে ফেলবেন, কিন্তু হিজবুত তাওহীদ একটা টু শব্দও করবে না। অতঃপর হেযবুত তওহীদের সুপরিকল্পিত মাত্র এক ঘণ্টার একটা মেডিসিনই আপনাদের সমস্ত চুলকানি ও জ্বালা-যন্ত্রণা মিটায়া দিবে।
এই যে আপনারা মাঝে মাঝেই হিজবুত তাওহীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের নামে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন, হুমকি দেন—হিজবুত তওহীদকে কখনও এ ধরনের হঠকারি কাজ-কর্ম করতে দেখছেন? দেখেননি। কারণ, এই সংগঠনের একটা স্ট্র্যাটেজি আছে। হিজবুত তওহীদ কী করে শোনেন। আগে পুরা ব্যাপারটা রেইকি (Reconnaissance) করে। আপনাদের যদি ৫০ জন লোক মাঠে নামে, তাইলে হিজবুত তাওহীদের দ্বিগুণ লোক ওখানে স্তরে স্তরে ঘেরাও দিয়ে থাকে। তাদের সামনেই আপনারা ব্যাক্কলের মতো হিজবুত তাওহীদ নিয়া কত কিছু বলেন, কত হুমকি দেন, কত বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করেন, তারা শুধু দেখে ও শোনে। মাঝে মাঝে আপনাদের সাথে সেলফিও তোলে। কিন্তু কোনো একশনে যায় না, যতক্ষণ না আমিরের কমান্ড আসে।
৩.
তৃতীয়ত- আপনারা যখন মাইক্রোফোনে হুমকি ধামকি দেন, একটা বিষয় বেমালুম ভুলে যান যে, লড়াই করেই কিন্তু হিজবুত তওহীদ এই পর্যন্ত আসছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত শত শত ষড়যন্ত্র, হুমকি-ধামকি, অপপ্রচার, হামলা-মামলা-হয়রানি মোকাবেলা করে হিজবুত তাওহীদ মাঠে ময়দানে টিকে আছে। শুধু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই অন্তত হাজারখানেক মামলা-হামলা-হয়রানি মোকাবেলা করছে এই সংগঠন। আপনারা তো সামান্য একটা জিডির কথা শুনলেই ভয়ে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, মাথা খারাপ হয়ে যায়, অথচ হিজবুত তাওহীদের সদস্যরা এইগুলা হাসিমুখে হজম করেই এ পর্যন্ত আসছে। যদি এত সহজে হেযবুত তওহীদকে ঘায়েল করা সম্ভবই হইত, তাইলে তো বহুবছর আগেই এই আন্দোলন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার কথা। বরং হইছে উল্টোটা। আপনারা যত ষড়যন্ত্র করছেন, হিজবুত তাওহীদ ততই শক্তিশালী হইছে। কাজেই এই সংগঠনের ব্যাপারে খুব চিন্তাভাবনা করে স্টেপ নিয়েন। যতটা সহজ মনে করতেছেন বিষয়টা কিন্তু অত সহজ না।
৪.
চতুর্থত- হিজবুত তাওহীদের প্রত্যেকটা কর্মী রিক্রুট হয় জেহাদ করার জন্য, শহীদ হবার জন্য। আপনারা যখন মুনাজাতে আল্লাহর কাছে দীর্ঘ হায়াতের দোয়া করেন, এরা তখন শহীদী মৃত্যুর দোয়া করে। আদর্শিকভাবে হেযবুত তওহীদ কিন্তু ওয়াজ-নসিহতমুখী দল না, কিংবা ইলেকশনমুখী দল না। এটা একটা সংগ্রামমুখী (Battle-oriented) দল যেমনটা রসুল (সা.) এর সাহাবীগণ ছিলেন। তবে রসুল (সা.) এর মক্কাজীবনের সুন্নাহ মোতাবেক এই সংগঠন এখন তওহীদের দাওয়াত প্রচার করাকেই একমাত্র কর্তত্ব মনে করছে, আর আপনাদের অন্যায়-অত্যাচার নীরবে সহ্য করছে। সেই কারণেই আপনারা তাদের সাথে যাচ্ছেতাই আচরণ করেও রক্ষা পেয়ে যাচ্ছেন। সুতরাং এমন কিছু করা আপনাদের উচিত হবে না, যার ফলে তারা রসুলাল্লাহর মাক্কী জীবনের বদলে মাদানী জীবনের নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। নীতি বদলাইলে কিন্তু আপনাদেরই বিপদ আছে। মনে রাখতে হবে- কোন নীতি প্রয়োগ হবে সেটা নির্ধারণের জন্য এই সংগঠনের শীর্ষ নেতা আছে, কেন্দ্রীয় কমিটি আছে, শুরা কমিটি আছে। যেহেতু দেশে সরকার আছে, আইন-আদালত আছে, তাই হেযবুত তওহীদের সদস্যরা প্রচলিত আইন-আদালতের মাধ্যমেই আত্মরক্ষার নীতি গ্রহণ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আত্মরক্ষা সম্ভব না হলে ও নীতি বদলাইতে বাধ্য হলে, আপনাদের কারো গায়েই কিন্তু কোর্তা থাকবে না।
আমার কথা যাদের বিশ্বাস হবে না, তারা কষ্ট কইরা রংপুরের ঘটনা খোঁজ নিয়ে দেখেন। সেদিন পীরগাছায় হাজার হাজার উগ্রবাদী লোকজন আমাদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা চালাইছিল। যতবার ওরা হামলা চালাইছে, ততবার উল্টা নিজেরাই মার খেয়ে ভাগছে। হিজবুত তাওহীদের অল্প কয়েকজন সদস্যই হাজারও শত্রুর বিরুদ্ধে ফাইট দিছে। যখন দেখা গেল সেনাবাহিনী যেয়ে উল্টা হিজবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিছে তখন পরিকল্পিতভাবে আমিরের কমান্ডের মাধ্যমে তারা কিন্তু ডিফেন্সে সরে গেছে। এই যে অফেন্স ও ডিফেন্সের খেলাটা আপনারা জীবনেও খেলতে পারবেন না। কাজেই মুহতারাম হুজুরদেরকে বলতেছি, আপনারা একটা উন্মাদনা সৃষ্টি কইরা মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে সামনে আগাইয়া দিয়া বিপদে ফেলবেন না।
ঢাকার উত্তরায় ২০২০ সালের ঘটনাটাও মনে আছে নিশ্চয়ই? হিজবুত তাওহীদের রজতজয়ন্ত্রী অনুষ্ঠান পণ্ড করার জন্য কয়েকটা মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়া আপনারা অর্বাচীনের মতো অনুষ্ঠানের বাসে হামলা কইরা বসলেন, মব তৈরি করলেন। অথচ সেখানে হিজবুত তাওহীদের দশ হাজার মোজাহেদ তখন প্রস্তুত ছিল। শুধু একটা কমান্ডের অপেক্ষায়। কিন্তু মাননীয় ইমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম কমান্ড দিলেন না, বরং প্রোগ্রাম স্থগিত করলেন। কেন করছেন জানেন? না রে ভাই, হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে বাঁচানোর জন্য নয়, বরং আপনাদেরকে বাঁচানোর জন্য। কারণ উনার একটা কমান্ডের সঙ্গে সঙ্গে যে আজাবুন আলিমা নেমে আসত আপনাদের উপর, তা সামাল দেয়ার মুরোদ আপনাদের ছিল না। আসলে তিনি মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাগুলার জীবন বাঁচাই দিছেন। যদিও আপনারা সেটা টের পান নাই, মদনের মতো উল্লম্ফন করছেন আর এলাকাবাসীর ধিক্কার কুড়াইছেন! মানুষ নিজের চোখে দেখছে আপনারা কত উগ্র, কত অসভ্য! আর হেযবুত তওহীদ কত সহনশীল! সুশৃঙ্খল!
অনেক সময় দেখবেন পুলিশ, র্যাব, বিজিবি বা সেনাবাহিনীর সদস্যদের সামনে দাঁড়াইয়া বিক্ষোভকারীরা গালমন্দ করে, উত্তেজিত করার চেষ্টা করে! কিন্তু বাহিনীর সদস্যরা নির্লিপ্তভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়ে থাকে। যেন কিছুই দেখতেছে না। কিছুই শুনতেছে না। এরপর কমান্ডারের একটা বাঁশির হুইসেলের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্বিকার সৈনিকরাই তাণ্ডব ঘটায়ে দেয়। তখন সেই গালমন্দ করা গলাবাজরা জুতা ফেলে জামা-কাপড় ফেলে দৌড় দিয়ে পালায়। হেযবুত তওহীদ ওই সুশৃঙ্খল বাহিনীর মতো- যাদেরকে উত্তেজিত করা অনেক কঠিন, আর মোকাবেলা করা আরও কঠিন। কাজেই উগ্রবাদী মবসন্ত্রাসীদের উচিত হবে নিজেদের স্বার্থেই হেযবুত তওহীদ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা। মনে রাখতে হবে হিজবুত তাওহীদের অভিধানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বইলা কোনো শব্দ নাই। তাদের অভিধানে আছে জেহাদ ও কেতাল। যার অভিঘাত সামাল দেয়ার সক্ষমতা উগ্রবাদীদের নাই।
সবচাইতে বড় কথা হলো- হেযবুত তওহীদ তো আপনাদের শত্রু না। হিজবুত তাওহীদ ইসলাম নিয়া দাঁড়াইছে, আল্লাহর বিধানের পক্ষে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করতেছে। তো আপনারা যারা ইসলাম চান, তারা কেন এই আন্দোলনের পেছনে লাগবেন? হ্যা, একটা ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী হেযবুত তওহীদকে পছন্দ করে না, তার কারণ হেযবুত তওহীদ তাদের ধর্মব্যবসার গোমর ফাঁস করে দিছে। আল্লাহ কোর’আনে দ্বীনের বিনিময় নেওয়া হারাম করছেন এই সত্যটা হেযবুত তওহীদ জোরালোভাবে প্রচার করার কারণেই তারা হেযবুত তওহীদকে শত্রু হিসেবে নিছে। কিন্তু যারা ধর্মব্যবসা করেন না, যারা ইসলামকে রাষ্ট্রীয়/জাতীয় জীবনে দেখতে চান, তাদের উচিত হবে ওই গোষ্ঠীর ফাঁদে পা না দিয়ে হেযবুত তওহীদকে সমর্থন দেওয়া, নতুবা নিরপেক্ষ থাকা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হবার তওফিক দান করুন।