12/07/2026
ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে বিএসএমএমইউসহ সারাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলিম চিকিৎসকদের সংখ্যালঘুকরণের জনক আখ্যা দিয়েছেন ‘পদবঞ্চিত’ চিকিৎসকরা। জানা গেছে, ডা. প্রাণ গোপাল মুসলিম ও ভালো চিকিৎসকদের কোণঠাসা করার জন্য যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সব করেছে। পরবর্তী ভিসিরা এ অনিয়ম বহাল রাখে। তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে ও নিজেকে সুশীল হিসেবে প্রমাণ করতে বেশি বেশি হিন্দু ও কট্টর আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের নিয়োগ দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গুরুত্বপূর্ণ পদে বসায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হিন্দু প্রার্থী থাকলে আওয়ামীপন্থীদেরও বাদ দিয়ে দেয় তারা। সেইসঙ্গে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে হিন্দু চিকিৎসকদের সাথে রাখে।”
প্রাণ গোপালের আমলে বিএসএমএমইউতে মুসলিম চিকিৎসকদের গুরুত্বহীন করে রাখার বর্ণনা পাওয়া যায় ডা. সহিদুল ইসলামের বয়ানে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধারাটা বাতিল করা হয়েছে শুধুমাত্র যোগ্য সাধারণ মুসলিম ও ভিন্নমতের চিকিৎসকদের নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ করার জন্য। ভাইভাতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল নিজ পছন্দ অনুযায়ী হিন্দু ও নিজ দলের চিকিৎসকদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছেন। সাধারণ যোগ্য কোনো মুসলিম চিকিৎসক নিয়োগ পাননি। আমরা একেকজন পাঁচ-সাতবার করে ভাইবা দিয়েছি পদোন্নতি দেয়নি। আমাদের প্রত্যেকের দুই-তিনটা করে ডিগ্রি, তারপরও পদোন্নতি দেয়নি।’
‘আমার বিভাগে আমার ছাত্র কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের ডা. কৃষ্ণ পদ সাহা, আমার অধীনে কাজ করেছে, আমার ১০ থেকে ১২ বছরের জুনিয়র। সার্কুলার দেওয়ার পর সেও আবেদন করেছেন, আমিও করেছি। আমাকে এডমিট কার্ডই দেয়নি, তাঁকে ছয়-সাত মাস আগে বিএসএমএমইউর সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দিয়েছেন’, যোগ করেন ডা. সহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগে আমার দুই ব্যাচ জুনিয়র ডা. কৃষ্ণপ্রিয় সাহা। সে যখন পোস্ট গ্রাজুয়েশন করেছে, আমিও একই সময়ে করেছি। সে তিন-চার বছর আগে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে অর্থোপেডিক্স বিভাগে। সেইসঙ্গে ল্যাবরেটরি মেডিসিনে আছে ডা. দেবতোষ পাল, আমার চেয়ে দুই বছরের জুনিয়র। এখানে নিয়োগ পেয়ে পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হয়েছে, এরপর বিভাগীয় চেয়ারম্যান হয়েছে, এখন চেয়ারম্যান পদে মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।”