18/05/2026
গত পরশু থেকে চোখের সামনে কালের কণ্ঠের একটি নিউজ ঘুরছে বারবার। নিউজটির শিরোনাম “১২২ বছরের গ্রন্থাগারে বই ৪০ হাজার, পাঠক ‘শূন্য’।” নিউজটি করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাহবুব উল আলম চৌধুরী পাবলিক লাইব্রেরি নিয়ে। এ নিয়ে নানা জনের নানা মত থাকতে পারে। অনেক অনেকভাবে পরিস্থিটির ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। আমি অত কিছু ভাবছি না। আমি ভাবছি আপনাদেরকে নিয়ে। লাইব্রেরি নিওলিথকে নিয়ে। আমাদের শত বছরের গৌরব নেই। সহস্রাধিক বইও নেই। উপযুক্ত আয়োজন ও লোকবলের অভাব নিয়মিত খোলাও রাখতে পারি না মাঝে মাঝে। তবুও কিছু মানুষ আছেন, বই পড়তে নিয়মিত নিওলিথে আসেন। নিখাদ উৎসাহ নিয়ে আসেন। জাগতিক ভিন্ন কোনো লাভের আশায় নয়, বরং নিরেট বই পড়ার আনন্দের জন্যই আসেন। নিজেরা উদ্যোগী হয়ে নিওলিথ নিয়ে ভাবেন। পরামর্শ দেন। আমাদের খোঁজ-খবর রাখেন। হেল্প করেন। এইতো ইদানিং নিওলিথের ডালা ঠিক করতে হবে বলে নিওলিথের নিয়মিত কয়েকজন পাঠক নিজে থেকে অর্থকড়ি নিয়ে প্রস্তুত হয়ে আছেন। আমরা কাউকে কিছু বলিনি। তবু নিজে থেকেই এসেছেন। এমন বেশ কয়েকজন মানুষ আছেন বলেই কিন্তু আমরা শত বছর না হোক অন্তত আগামী বছরগুলোতে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পাই মনে।
খবরটি যখন পড়ছিলাম তখন একটি কথাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল আমরা হয়তো শত বছর টিকে থাকব না, তবু এই অল্প কিছুদিনেই কিছু কিছু মানুষের কাছে বই নিয়ে পৌঁছাতে পেরেছি বলে কিঞ্চিত আত্মশ্লাঘা অনুভব করতে ইচ্ছে করে। এ আত্মশ্লাঘাতে অবশ্য দেখনদারি নেই। কেননা নিওলিথ তৈরি করার সময় আমাদের কারো মনেই মহৎ কিছু করার কোনো ভাবনা ছিল না। আমরা নিজেরা আড্ডা দিই। বই, দেশ, দুনিয়া, টেকনোলজি, মুভি, সংগীত, মানুষ, জীবন, পরিবেশ ইত্যাকার বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি। বই পড়ি, তবে ফ্যাশনের জন্য নয়। নিজেদের মনোজগতের নিরন্তর পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক অনুরণন জারি রাখতে বই পড়ি। নিজেদের মধ্যে আইডিয়া শেয়ার করি। ভালো কোনো একটা বই পড়লে অন্যজনকে বলেকয়ে পড়াতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করি। যে বইটা বেশি ভালো লাগে দুয়েকজনে একসাথে পড়া শুরু করি। একটু একটু পড়ে পড়ে এসে কথা বলি। সে কী ভাবছে, আমি কী ভাবছি। এসবই। এসব করতে গিয়েই তখন মাথায় এসেছিল তাহলে একটা প্ল্যাটফর্ম বানাই যেখানে আমরা এখন যেমন আছি তেমনই থাকব। কোনো লাভ থাকবে না জানতাম, বরং যেটুকু কষ্ট কবুল করতে হতো তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম সকলেই। নিতান্ত এ সাধারণ ভাবনাটি থেকেই নিওলিথ গড়া। নিওলিথ গড়ে দেখলাম আপনারা কি দারুণ উৎসাহ, উদ্দীপনা নিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে মিশে গেলেন। পাশে দাঁড়ালেন। আমাদের কি যে আনন্দ এতে বলে বুঝাতে পারব না। কত দারুণ দারুণ মানুষের সঙ্গে যে পরিচয় হলো। নিওলিথ না হলে এসব কখনই হতো না। যা পাওয়ার আশাও কখনো আমাদের মনে ছিল না তার থেকে অনেক বেশি এরমধ্যেই আমরা পেয়ে গেছি। নিওলিথের জন্য। আপনাদের জন্য। শুধু চার অক্ষরের একটা ধন্যবাদ দিয়ে যে কীভাবে কৃতজ্ঞতা জানাব ভেবে পাই না।
একটা কথাই শুধু বলতে চাই, আপনারা নিওলিথে আসুন আর না-ই আসুন। নিওলিথ থাকুক আর না-ই থাকুক। প্লিজ বই পড়া কখনো থামাবেন না। প্রতিদিন পড়ুন। একটু একটু করে পড়ুন। জানি তো এখন সবাই ব্যস্ত। জীবন অনেক জটিল। তবু এক পৃষ্ঠা। দুই পৃষ্ঠা। যতটুকু পারা যায়। বই পড়া তো এক প্রকার মেডিটেশনই। জীবন আনন্দময় হবে। ভালো ভালো বই পড়ুন। বেশি বেশি পড়ুন। উপকার ছাড়া অপকার কখনো হবে না এটা বাজি ধরে বলতে পারি।