17/06/2026
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি হলো নেস্কো (NESCO)। এই নেস্কোতে গত ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ইং তারিখে সার্কুলার প্রকাশিত হয়, যেখানে সহকারী প্রকৌশলী পদসংখ্যা থাকে ২০ টি।
যদিও নেস্কোতে বর্তমানে ৮০ এর অধিক সহকারী প্রকৌশলী পদ ফাঁকা আছে, তবুও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদেরকে ঐখানে নিয়োগ না দিয়ে ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের প্রমোশনের চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি সহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (গ্রেড-৬) পদে ২৭ জন ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান এবং ১৬ জন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারকে প্রমোশন দেওয়া হচ্ছে। এই ফাঁকা হওয়া ৪৩ টি সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রমোশনের জন্য অলরেডি ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানরা ম্যানেজমেন্টকে ব্যাপক প্রেশার দিচ্ছে।
শুধু তাই নয়, তাদেরকে প্রমোশন না দিলে, তারা কোনোভাবেই নতুন সার্কুলারের এক্সাম হতে দিবে না, কোনো সহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ হতে দিবে না। একারণে গত ৭ মাস যাবত নেস্কোর সার্কুলার প্রকাশিত হওয়ার পরও এক্সাম বন্ধ।
সমস্যা হলো, যদি এই বিশাল পোস্ট গুলোতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগের পূর্বে ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানরা প্রমোশন নিয়ে ফেলে, তবে সারাজীবন ঐ টেকনিশিয়ানরাই সিনিয়র হয়ে থাকবে এবং প্রমোশনের সময় সর্বদা তারাই আগে থাকবে। এতে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় যেটা হবে, সেটা হলো - নতুন যে ব্যাচ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাবে, ওদের অনেকেই জীবনে কোনো প্রকার প্রমোশন ব্যতিত সহকারী প্রকৌশলী হিসেবেই রিটায়ারমেন্টে চলে যেতে হবে এবং সারাজীবন ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের স্যার স্যার বলে মাথা নিচু করে থাকতে হবে। (তা সে বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট, ঢাবি, সাস্ট ইত্যাদি যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হোক না কেন!)
যদিও এসব বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের এবং নেস্কো সার্কুলারে এপ্লাইকারী হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। আশা করি, দুনিয়া কিয়ামত হয়ে গেলেও, উনাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেলেও, উনারা সবসময় চুপ করে থাকবেন!
Md. Sakibul Haque Lipu