31/03/2026
হাম (Measles) মোকাবিলায় একটি ছোট ক্যাপসুল অমেক জরুরি
হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য কখনো কখনো মারাত্মক হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য একটি ভিটামিন এ (Vitamin A) ক্যাপসুল হামের ঝুঁকি এবং মৃত্যুহার প্রায় ৫০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে? একজন পুষ্টিবিদ হিসেবে আমি আপনাদের এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে চাই:
চলুন জেনে নিই কেন হাম নিরাময়ে ভিটামিন এ-র কোনো বিকল্প নেই:
🛡️ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:
হামের ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ভিটামিন এ আমাদের শরীরের 'শ্বেত রক্তকণিকা' তৈরি ও সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করে।
🫁 ফুসফুসের সুরক্ষা (নিউমোনিয়া প্রতিরোধ):
হামের সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো নিউমোনিয়া। ভিটামিন এ ফুসফুসের ভেতরের আস্তরণ বা টিস্যুকে সুস্থ রাখে, ফলে ভাইরাসের আক্রমণে ফুসফুস সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
👁️ অন্ধত্ব থেকে মুক্তি:
হামের কারণে শিশুদের চোখের কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভিটামিন এ চোখের রেটিনা ও কর্নিয়াকে সতেজ রাখে এবং হামজনিত স্থায়ী অন্ধত্বের ঝুঁকি দূর করে।
🚽 ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ:
হামের সময় অনেক শিশুর তীব্র ডায়রিয়া হয়। ভিটামিন এ অন্ত্রের (Intestine) ভেতরের সুরক্ষা স্তর মজবুত করে, যা শরীরকে পানি শূন্যতা ও সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়।
✅ মনে রাখার মতো কিছু তথ্য:
হাম আক্রান্ত শিশুকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ২টি ডোজে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়া হয়।
প্রথম ডোজ শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে এবং দ্বিতীয় ডোজ তার ২৪ ঘণ্টা পর।
শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজের পরিমাণ (IU) ভিন্ন হতে পারে, তাই স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।
💡 আমাদের করণীয়:
হামের লক্ষণ (জ্বর, শরীরে লালচে দানা, চোখ লাল হওয়া) দেখা দিলেই শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান এবং ভিটামিন এ নিশ্চিত করুন। সঠিক সময়ে সঠিক পুষ্টিই পারে একটি শিশুকে সুস্থ রাখতে।
আপনার পরিচিতদের সচেতন করতে পোস্টটি শেয়ার করুন।
সুস্থ থাকুক প্রতিটি শিশু! ❤️
পুষ্টিবিদ মফিজুর রহমান
কনসালটেন্ট ডায়েটিশিয়ান, BNWA (বাংলাদেশ নিউট্রিশন অ্যান্ড ওয়েলনেস একাডেমি)
ইন্সট্রাক্টর, রূপসা নার্সিং ইনস্টিটিউট
#হাম_সচেতনতা #ভিটামিন_এ #স্বাস্থ্য_টিপস #পুষ্টিবিদ_মফিজুর_রহমান