Khulna Institute

Khulna Institute Khulna Institute is a non-profit & research-based organization in Bangladesh.

নতুন বছর পৃথিবীর সবার জন্য মঙ্গল ও আনন্দ বারতা বয়ে আনুক...
01/01/2026

নতুন বছর পৃথিবীর সবার জন্য মঙ্গল ও আনন্দ বারতা বয়ে আনুক...

আগামীকাল লাল বাউল খেলাঘর আসর -র 'বৃহত্তর খুলনার মনীষী স্মরণ' কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দ...
22/05/2025

আগামীকাল লাল বাউল খেলাঘর আসর -র 'বৃহত্তর খুলনার মনীষী স্মরণ' কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী ইন্দুভূষণ রায়, উনসত্তরের ফেব্রুয়ারি মাসে শহিদ শেখ হাদিসুর রহমান এবং দানবীর রায়সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুকে

সকলকে আমন্ত্রণ
01/05/2024

সকলকে আমন্ত্রণ

খুলনা ভ্রমণ... শেখ রাসেল ইকো পার্ক...
21/04/2024

খুলনা ভ্রমণ... শেখ রাসেল ইকো পার্ক...

Rasel Eco Park, located in Khulna, Bangladesh, is a beautiful and serene destination that offers visitors a chance to connect wit...

16/02/2024

বাংলাদেশের ২৫টা জি.আই পণ্য-র তালিকা এইটা। একটু ভালো করে দেখলে বুঝবেন, প্রায় বিভিন্ন জায়গাতে অঞ্চলের নাম পণ্যের সাথে যুক্ত। যেমন: বিজয়পুরের সাদামাটি, রাজশাহী সিল্ক, যশোরের খেজুর গুড় - অথচ বাগদা চিংড়ি'র জায়গায় আগেপিছে অঞ্চলের নাম নেই৷ অথচ বাগদা যে চিংড়ির একটা প্রজাতির নাম, সেটা খুলনাঞ্চল আর দক্ষিণবঙ্গের বাইরে আর কোন অঞ্চলের মানুষ জানে কিনা - তা নিয়ে সন্দেহ আছে! দেশের ৮০% বাগদা চিংড়ি উৎপাদিত হয় খুলনায়, অথচ বাগদা চিংড়ির জি আই ট্যাগ খুলনার নামে নাই।

১০ বছর আগেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চুঁইঝালের নামগন্ধ-ও জানতো না কেউ। অথচ আজকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এমনকি কলকাতার রেস্টুরেন্টেও চুঁইগোশ পাওয়া যাচ্ছে। আগামী বছর দেখবেন হয়তো চুইঝালের জি.আই ট্যাগ যশোর, চট্টগ্রাম এমনকি কলকাতাও নিয়ে নেবে। তাতে আর কিছু হবে না! শুধু আমার ডুমুরিয়া-বটিয়াঘাটার হাজারো কৃষক চুঁইঝালের উৎপাদক হওয়ার স্বীকৃতিটা পাবে না। একটু ভেবে দেখবেন। আমার এই অঞ্চলে এমন অনেক কিছুই আছে যা জি.আই পণ্য হবার যোগ্যতা রাখে। শুধু প্রয়োজন শুভ উদ্যোগ আর পৃষ্ঠপোষকতা। তাহলে হয়তো আমরাও 'শিল্পনগরী??' খুলনার গৌরব কিছুটা হলেও ধরে রাখতে পারব।

খুলনা জেলার জি.আই পণ্য হতে পারে, এমন কিছু পণ্য-সামগ্রীর তালিকা আমি দিলাম। এ বাদেও যদি কিছু বাদ যায়, আপনারা কমেন্ট সেকশনে অবশ্যই লিখবেন। খুলনার সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি-ই আমাদের কাম্য। জয়তু খুলনা!

১.চুঁইঝাল
২.সরপুরিয়া সন্দেশ
৩.গলদা চিংড়ি
৪.কেওড়া ফল
৫.ডুমুর
৬.দয়াকলার মোচা
৭.গোলপাতার ছাউনি
৮.শেয়োই পিঠা
৯.গুলে মাছ
১০.ভাইটেল চাল
১১.পাইকগাছার কাঁকড়া
১২. পারশে মাছ

লেখনী: Sushmit Saif Ahmed

আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত'র ২০০ তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর জন্মতিথিতেই আমাদের অন্যতম কার্যক্রম 'খুলনার কথকতা' এর সূচনা কর...
25/01/2024

আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত'র ২০০ তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর জন্মতিথিতেই আমাদের অন্যতম কার্যক্রম 'খুলনার কথকতা' এর সূচনা করেছিলেন আমাদের নবীন গবেষক Sushmit Saif Ahmed. আজ কবির জন্মজয়ন্তীতে এই লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা...

প্রয়াত হলেন নড়াইলের ভাষাসৈনিক রিজিয়া খাতুন (১৯৩৬-২০২৪)১৯৩৬ সাল। ঔপনিবেশিক শাসনে অতিষ্ঠ বাংলা। এই বিপন্ন পৃথিবী থেকে সবাই...
18/01/2024

প্রয়াত হলেন নড়াইলের ভাষাসৈনিক রিজিয়া খাতুন (১৯৩৬-২০২৪)

১৯৩৬ সাল। ঔপনিবেশিক শাসনে অতিষ্ঠ বাংলা। এই বিপন্ন পৃথিবী থেকে সবাই পরিত্রাণ চায়। আর পরিত্রাণের উপায় 'তেভাগা আন্দোলন'-র সময়ে একটি শিশুর জন্ম। নড়াইল জেলার ডুমুরতলা গ্রামে ৫ই কার্তিক ১৯৩৬ সালে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করে, তিনিই পরবর্তীকালের ভাষাসৈনিক রিজিয়া খাতুন। হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে বেড়ে উঠতে থাকে নড়াইলের প্রত্যন্ত গ্রামের ধূলি ধূসরে। শিশুটি এক বুক প্রত্যয় নিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিল পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে মুক্তির আলোয় উদ্ভাসিত হবে একদিন। বাবা কমরেড নুরজালাল ছিলেন নড়াইলের তেভাগা আন্দোলনের একজন অবিসাংবাদিত নেতা। মা জিন্নাতুন্নেসা। মা বাবার হাত ধরেই পারিবারিক পরিবেশে লেখাপড়ায় হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। ১৯৪৬ সাল। চারিদিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ডামাডোল। এদিকে তাকে নিয়ে মা বাবার অনেক বেশি আশা। আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখনই কিশোরী রিজিয়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

তারপর ১৯৪৭ সাল ব্রিটিশদের শাসন-শোষনের অবসান ঘটলেও এ দেশে এ জাতির ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় নতুন করে দূর্যোগের ঘনঘটা। এ জাতি যেন হিংস্র বাঘের থাবা থেকে কোনোমতে রক্ষা পেয়ে দানবীয় কুমিরের গ্রাসে এসে পড়ে! আমাদের প্রাণের ভাষা মায়ের ভাষাকে নিয়ে চক্রান্ত শুরু হয়। মাতৃভাষাকে নিয়ে নানামুখি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে তিনি হয়ে পড়েন উৎকণ্ঠিত। চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশার মধ্য দিয়েও তিনি পড়াশুনা চালিয়ে যেতে থাকেন।
১৯৪৮ সালের তেভাগা আন্দোলন বানচালকারী ব্রিটিশ সরকারের দালাল নুরুল হুদাকে হত্যার দায়ে, ১৯৪৯ সালে পিতা কমরেড নুরজালাল গ্রেফতার হন। এ অবস্থায় তিনি ভেঙে না পড়ে পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে সামনের দিকে অগ্রসর হন। অতঃপর ১৯৫২ সাল এলো। মায়ের ভাষাকে রক্ষার মরণপণ লড়াইয়ে নেমে পড়েন তিনি। মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পেলেও তার অশ্রুধারায় বয় সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারের তাজা রক্ত। সে রক্তের শপথ নিয়ে দেশকে স্বাধীন করার যে বীজ ১৯৫২ তে রিজিয়া খাতুনেরা রোপণ করে ছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় তাঁরা বারবার গর্জে উঠেছেন ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালে।
১৯৫৭ সালে দিলরুবা গার্লস স্কুল (বর্তমান নড়াইল সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়) থেকে কৃতিত্বের সাথে এস, এস, সি পাস করেন। ১৯৫৮ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানির প্রস্তাবে যশোর জেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের এ্যাড.আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামীর বাড়িতে গিয়েও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। ১৯৬৩ সালে নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচ. এস. সি পাশ করেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন ছিল এলাকার মানুষকে তিনি শিক্ষিত করবেন। ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌছে দিবেন। ১৯৭০ সালে তার সে স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো। তিনি নিজ গ্রামের একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। মা-বাবার আদরের রিজিয়া খাতুন হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয় রিজিয়া মাস্টার। অবশেষে ১৯৭১ সাল। ৭-ই মার্চ, রেসকোর্সের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক। মুক্তির আহবানে যা কিছু ছিলো তাই নিয়ে রিজিয়া খাতুনেরা প্রস্তুত হলেন। প্রস্তুত করলেন অনেককে। ২৫-এ মার্চের কালরাত্রীর আঁধারে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার পর শোককে শক্তিতে পরিণত করে হাজারও স্বাধীনতাকামী টগবগে তরুণ-তরুণী একাত্ম হয়ে ছিলেন রিজিয়া খাতুনের মতো দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে দেশকে রক্ষা করবেন বলে। ২৫-শে মার্চ থেকে ১৬-ই ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ মাস তাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা ছাড়াও দেশের বাইরে (কলকাতা) থেকে আসা গোপন চিঠি তাঁদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন রিজিয়া খাতুনেরা। মাতৃভূমিকে রক্ষা করার অতন্দ্র প্রহরি হিসাবে কাজ করেছেন রিজিয়া খাতুন। তারপর আবার সেই স্বপ্ন। মানুষকে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করবেন বলে তিনি শিক্ষকতার সাথে সাথে নিজ অর্থব্যয়ে একটি পাঠাগার স্থাপন করেন। বর্তমানে এটি 'নুরজালাল স্মৃতি পাঠগার' নামে পরিচিত। এছাড়া নড়াইলে ডুমুরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি শহীদ মিনার-ও তিনি স্থাপন করেন নিজ অর্থব্যয়ে। দীর্ঘ সময় পাড়ি দিয়ে ১৯৯৭ সালে তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। দেশপ্রেমের যে অনন্য নজির তিনি রেখেছেন তা আজ চিরস্মরণীয় তাঁর অনুজ, সহচর, সন্তান সকলের কাছে। জ্ঞানের যে আলো তিনি প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন, তা দীপ্যমান রেখেছেন তাঁরই হাতেগড়া স্বনামধন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও তাঁর ৬ সন্তান বর্তমানে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর জীবনদ্দশায় বিভিন্ন সমাজসংস্কার মুলক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করেন। জীবনের শেষ দিনগুলিতে তিনি বসবাস করছেন নড়াইল শহরের মহিষখোলাতে।

জয়তু ভাষা সৈনিক, জয়তু দেশপ্রেমিক, জয়তু রিজিয়া খাতুন।

লেখনী: রাজ কুমার, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগীতশিল্পী, নড়াইল।

ভাষাসৈনিক রিজিয়া খাতুন-র প্রয়াণ জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা

আজ পহেলা মাঘ। সুন্দরবনের স্থানে স্থানে আজ উদযাপিত হচ্ছে বাৎসরিক বনবিবি পুজো। সেইসাথে পঠিত এবং প্রচারিত হচ্ছে বনবিবিকেন্দ...
16/01/2024

আজ পহেলা মাঘ। সুন্দরবনের স্থানে স্থানে আজ উদযাপিত হচ্ছে বাৎসরিক বনবিবি পুজো। সেইসাথে পঠিত এবং প্রচারিত হচ্ছে বনবিবিকেন্দ্রীক বিভিন্ন কাহিনী-কিংবদন্তি। সুন্দরবনের লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বনবিবির কথা। তাই, আজ বনবিবির পরবে খুলনা ইন্সটিটিউটের এই পেজে আমাদের নবীন গবেষক Sushmit Saif Ahmed পয়ার ছন্দে রচিত 'বনবিবি বন্দনা' প্রকাশিত হচ্ছে। মূলতঃ মহম্মদ খান রচিত 'বনবিবির জহুরানামা' গ্রন্থ এবং জ্ঞাতসারে জানা লোককাহিনীর সমন্বয়ে বনবিবির মাহাত্ম্য বর্ণনার এটি একটি প্রয়াস।

উল্লেখ্য, দুঃখের প্রার্থনা অংশে 'কহ মা বনবিবি...' শীর্ষক চারটি চরণ সরাসরি বনবিবির জহুরানামা গ্রন্থ থেকে প্রাপ্তিস্বীকারের প্রতীকী রূপে ব্যবহৃত হয়েছে এই বন্দনা গানে...
.....
জঙ্গলেশ্বরী মা বনবিবি
সঙ্কটনাশিনী মা বনবিবি।

বেরাহিম-গুলাল বিবির কইন্যা তুমি
শাজঙ্গলি ভাইডি তোমার, নয়ন চুমি।
আদিশক্তির এক রূপ মা অরণ্যানী
বনদুর্গা তোরই নাম, তাও তো জানি।
সমানে ভজে তোরে হিন্দু-মুসলমান
সুন্দরবনে তোমার লীলা তাই সুমহান!
(তাই সুমহান...মাই রে তাই সুমহান)

জঙ্গলেশ্বরী মা বনবিবি
সঙ্কটনাশিনী মা বনবিবি।

সতীন পোয়াতি হবার খবর শোনার পর
হিংসায় কূটবুদ্ধি জাগে ফুল বিবির ভিতর।
বেরাহিমে কহিল সে, গুলালিরে টানি
লাথি দিয়া খালপার তুমি করহ এখনি।
(ওরে করহ এখনি...হায় হায় করহ এখনি)
ফুলবিবির চক্রান্ত সফল হইল
গুলালিরে প্রাণনাথ জঙ্গলে ত্যাজিল।
গহীন জঙ্গলায় ছটফট করি বেদনায়
যমজ দুই সন্তান প্রসব হইল অবেলায়।
বনের সব পশু-পাখি দেখিতে আসিল
সুন্দরী কন্যার নাম তারা বনবিবি রাখিল।
জঙ্গলেই লালন-পালন বনবিবি মাই'র
গাছ-পালা-পশু-পাখির মাঝে বাস যার।।

জঙ্গলেশ্বরী মা বনবিবি
সঙ্কটনাশিনী মা বনবিবি।

আঠারো ভাঁটি সুন্দরবনের রাজা দক্ষিণরায়
তার ভয়ে বাঘে-মোষে এক ঘাটে জল খায়।
সুন্দরবনের লোকসকলে, বাহিরে কি ঘরে
দক্ষিণরায়ের অত্যাচারে ত্রাহি ত্রাহি করে।
ঐশী আদেশ পেয়ে সোদর ভাই-বোন
ভাটির দেশে যাত্রা করে, দক্ষিণের ভুবন।
শিবাদহ, চাঁদখালি, রায়মঙ্গলের লোক
বনবিবির বাধ্য হইল, ভক্তিরসে ভোর।
(ওরে ভক্তিরসে ভোর...মাই রে ভক্তিরসে ভোর)
এই খবর শুনে রাজা তিড়িং বিড়িং জ্বলি
যুদ্ধ করতে পাঠাইল মা নারায়ণী।
যুদ্ধশেষে নারায়ণী পরাজিত হল
অতঃপরে দু'পক্ষে সন্ধি পাতিল।
বনবিবি নারায়ণীর পুত্রসমেত -
ফিরাইলা অর্ধেক রাজ্য করুণার ফের।

জঙ্গলেশ্বরী মা বনবিবি
সঙ্কটনাশিনী মা বনবিবি।

সন্ধি হইল, ভালো কথা ভালো থাকার চায়
কিন্তু বনবিবির পালা এখনি শেষ নয়।
বরিজহাটির মৌয়ালি ধোনাই-মোনাই পীর
পটচিত্রে এরাই গাজী কালু'র মুরিদ।
মধুর খোঁজে হন্যে হয়ে হতাশ দুই মন
স্বপ্নাদেশ পাইয়ে যাত্রা কইল্ল বাঁদাবন।
সপ্তডিঙা সাজায়ে লোক-লস্কর ভরি
দুঃখেও উঠিল তায়, হাতে পায়ে ধরি।
অন্ধ দুখিনী মায়ের জোয়ান ছুয়াল দুঃখে
ভাগ্যের ফেরে সেও যায় সমুন্দরের দিকে।
যাবার কালে দুঃখের মা খাইয়ে চুম্বন -
কহিল 'বিপদে করিস বনবিবি স্মরণ'।
(বিপদ হরণ...বনবিবির স্মরণ)

আপদ ছাড়াই জঙ্গলযাত্রা যাচ্ছিল ভালো
গড়খালি গাঙে আইসে বাঁধলো গণ্ডগোল।
গড়খালির ওধারে দক্ষিণরায়ের তালুক
পারানির তরে চাই নরবলি শুলুক।
মাঝি-মাল্লার মাঝে তারা দুঃখেরে বাছিল
বাঘের রূপ ধরি দক্ষিণ খাইতে আসিল।
মায়ের কথা দুঃখের সদা স্মরণে আছিল
একমনে সে বনবিবি নাম জপিতে লাগিল --

'কহ, মা বনবিবি, কোথায় রইলে এই সময়
জলদি করে এসে দেখ তোমার দুঃখে মরা যায়।
কারার দিয়েছ মাগো যদি না পালিবে,
ভাটি মধ্যে তোমার কলঙ্ক রয়ে যাবে।'

ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে বনবিবি আসিলেন
দক্ষিণরায়ের সাথে ভীষণ জঙ্গ করিলেন।
যতো যা-ই করে দক্ষিণ, জিততে নাহি পারে
বনবিবির তেজের কাছে টেকা যায় না রে।
নাকানি-চুবানি খাইয়ে পড়িমরি করে --
চোরের মত পালায় দক্ষিণ বরখান গাজীর দোরে।
গাজী পীর দক্ষিণরায়ের মিনতি শুনে
বনবিবির ধারে যায় ফরিয়াদ লয়ে।
গাজীসাব দক্ষিণের গুনা মাফ কত্তে কয়
সাধু হবার শপথ নেবে, বলে দক্ষিণরায়।
এতক্ষণে দক্ষিণরায়ের সুমতি ফিরিল
করজোড়ে বনবিবিরে প্রণাম করিল।
বনবিবির আশিষ ল'য়ে ফিরি আপন দেশে
দক্ষিণরায় ভালো রাজা হইল অবশেষে।

(বল) সঙ্কটনাশিনী মা বনবিবি
জঙ্গলেশ্বরী মা বনবিবি।

মাঘের প্রথমদিনে সারাবেলা ধরে
বনবিবির পুজো হয় প্রতি ঘরে ঘরে।
মাইজির গায়ের রঙ হলুদ বরণ
মুকুট-কণ্ঠহার, বনফুলে গড়ন।
বাঁদাবনের রাজামশাই বাঘ তার বাহন
শিশু দুঃখে সদা করে ক্রোড়েতে খেলন।
এক হাতে দণ্ড লয়ে আরেক হাতে মুদ্রা
বনবিবি রাজ করেন শিবসা-মাতলা-ভদ্রা।
সন্তানপ্রাপ্তি-প্রাণভয়-জলডুবি-শ্বাপদ
বনবিবি মা দূর করে সব বিপদ আপদ।
ফল-বাতাসা, নৈবেদ্য-শিন্নি সাজায়ে রাখিয়ে
ভক্তিভরে বনবিবি নাম নাও সকলে গিয়ে।

(বল) জঙ্গলেশ্বরী মা বনবিবি
সঙ্কটনাশিনী মা বনবিবি।...

পুরনো খুলনার শহীদ হাদিস পার্ক...গান্ধী চত্ত্বর। এই মঞ্চে গান্ধী জী বক্তৃতা দিয়েছিলেন....
27/12/2023

পুরনো খুলনার শহীদ হাদিস পার্ক...গান্ধী চত্ত্বর। এই মঞ্চে গান্ধী জী বক্তৃতা দিয়েছিলেন....

খুলনার কথকতা - পর্ব ৪৭। ১৫ জুন ২০২৩'নবাব আলীবর্দি খাঁ-র আমলের ২৭৫ বছর পুরনো মহেশ্বরপাশা জোড়বাংলা মন্দির' [বৃহত্তর খুলনার...
15/06/2023

খুলনার কথকতা - পর্ব ৪৭। ১৫ জুন ২০২৩
'নবাব আলীবর্দি খাঁ-র আমলের ২৭৫ বছর পুরনো মহেশ্বরপাশা জোড়বাংলা মন্দির'

[বৃহত্তর খুলনার অলিতে-গলিতে, প্রান্তরে-নদীতে, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে, ঐতিহ্য-কিংবদন্তীতে, মনীষীদের জীবনকথায় ছড়িয়ে রয়েছে অনেক অজানা গল্প। সেই গল্প হলেও সত্যি ঘটনাগুলোকে সক্কলকে জানাবার উদ্দেশ্যে আমাদের এই সাপ্তাহিক ব্লগ - খুলনার কথকতা। লিখছেন সুস্মিত সাইফ আহমেদ]

'এসেছি বাঙালী পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে
এসেছি বাঙালী জোড়বাংলার মন্দির বেদী থেকে'
(আমার পরিচয়, সৈয়দ শামসুল হক)

ছোটবেলায় যখন এই কবিতাটি পড়েছি, তখন ভাবতাম জোড়বাংলা বলতে কবি দুই বাংলার সব মন্দিরকে বুঝিয়েছেন। কিন্তু যখন বড় হলাম আর ইতিহাস নিয়ে লেখাপড়া শুরু করলাম, তখন বুঝলাম জোড়বাংলা মূলত নবরত্ন, পঞ্চরত্ন, একচালা, মঠ ইত্যাদি-র মতো একটি মন্দির নির্মাণরীতি। দুটো একচালা ঘরকে পাশাপাশি যুক্ত করে দিলে যেমনটা দেখায়, জোড়বাংলা মন্দির ঠিক সেরকম। মধ্যযুগের শেষভাগে এই স্থাপত্যরীতির মন্দির নির্মাণ লোকপ্রিয়তা পায়। পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর কিংবা পাবনাতে শতাব্দীপ্রাচীন অনন্যসুন্দর জোড়বাংলা মন্দির এখনো স্বমহিমায় রয়েছে। আর রাজবাড়ি জেলার নলিয়া জোড়বাংলা মন্দিরগুলো মৃত্যুর প্রহর গুণছে। খুলনা শহরের বুকেও একটি ঐতিহ্যবাহী জোড়বাংলা মন্দির এখনো টিকে আছে। নবাব আলীবর্দি খাঁ-র রাজত্বকালে ১৭৪৯ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত। আজকের লেখা এই ২৭৫ বছর পুরনো জোড়বাংলা মন্দিরটি নিয়ে।

মধ্যযুগের কোন এক সময়ে টেরাকোটার স্বর্ণখনি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় বাস করতেন ঈশান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ছেলে নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণবঙ্গ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন এবং খুলনার মহেশ্বরপাশায় থিতু হন। তৎকালীন শাসকবর্গের কাছ থেকে তিনি 'মল্লিক' উপাধী লাভ করেন। মল্লিক বংশ মহেশ্বরপাশা-র আদি বাসিন্দা। নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় তথা মল্লিকের অধস্তন প্রজন্ম গোপীনাথ মল্লিক। তিনি ছিলেন চাঁচড়ার (পরবর্তীতে অভয়ানগরের) রাজা নীলকণ্ঠ রায়ের সামসময়িক। গোপীনাথ মল্লিক কৃষ্ণভক্ত ছিলেন। তাই নিজ বাসভবনের পাশে গোবিন্দের নামে আলঙ্করিক টেরাকোটা সমৃদ্ধ একটি মন্দির নির্মাণ করেন তিনি। এটিই মহেশ্বরপাশা জোড়বাংলা মন্দির।

গোপীনাথ মল্লিক-ই মহেশ্বরপাশা জোড় বাংলা মন্দিরের নির্মাতা, এই বিষয়ে নিঃশংসয় হওয়া যায় মন্দিরের পূর্ব দেয়ালের উপরিভাগে স্থিতিত লিপিফলক দেখে। যদিও এই লিপিফলকের অর্ধাংশ খুঁজে পাওয়া যায় না, তবুও অবশিষ্টাংশের পাঠোদ্ধার - 'প্রশস্তি। শ্রী গোপীনাথোনামা ক্ষিতিসুর সুতকে বৃষ্ণিরাশৌ দিনেশে শ্রীহরি'।

মহেশ্বরপাশা জোড়বাংলা মন্দিরটি দক্ষিণামুখী। যদিও বর্তমানে দক্ষিণ বারান্দার প্রবেশপথে পিলারের ভগ্নাবশেষ ছাড়া কিছু নেই, তবু ধারণা করা যায় এককালে মন্দিরে তিন ভাঁজবিশিষ্ট খিলান প্রবেশপথ ছিল। এই খিলান তৈরীর জন্য দুটি কলাম-ও ব্যবহৃত হয়েছিল যা খাঁজকাটা নকশাবিশিষ্ট এবং চৌকেন্দ্রিক সূচালু। মূল মন্দিরের বাইরের অংশের পরিমাপ বর্গাকার। এর মধ্যবর্তী স্থানবরাবর দেয়ালের সাহায্যে কক্ষটিকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মূল গর্ভগৃহের দক্ষিণাংশে রয়েছে বারান্দা। দক্ষিণের বারান্দা পেরিয়ে উত্তরাংশে আছে মূর্তিকোঠা। মন্দিরের জানলার খিলানগুলোতে আছে খাঁজকাটা নকশা। মন্দিরের বাইরের পূর্ব-পশ্চিম দিকের কার্নিশ পেডিমেন্ট আকৃতির আর উত্তর-দক্ষিণ দিকের ধনুক বক্রাকার। এছাড়া মন্দিরের চারপাশের দেয়ালের কার্নিশের নিচে একাধিক পরতবিশিষ্ট অলংকৃত পট্টিধাপ আছে। পূর্ব,পশ্চিম ও উত্তরের দেয়ালে প্রলেপের আস্তরণের উপর এ অলংকৃত পট্টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর দক্ষিণদিকে এমন বৈশিষ্ট্য থাকলেও এ অংশ প্রলেপমুক্ত।

জোড়বাংলা মন্দিরের গর্ভগৃহের উত্তরের দেয়াল বরাবর কেন্দ্রে আছে বিগ্রহ বেদী। এই বেদীতেই গোপীনাথ গোস্বামী ১৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। গোবিন্দ দেবের বিগ্রহটি ছিল কষ্টিপাথরের আর রাধারাণীর বিগ্রহটি ছিল পিতল নির্মিত। কিন্তু ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী এই মন্দিরের বিপুল ক্ষতিসাধন করে এবং বিগ্রহ দুটি ভেঙে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। যুদ্ধশেষে গ্রামবাসীরা আদি বিগ্রহের ভাঙা টুকরোগুলো পুকুর থেকে তুলে এনে বিগ্রহ বেদীতে স্থাপন করেন। সেই আদি বিগ্রহের ভাঙা অংশ আজো সেবা পাচ্ছে এই মন্দিরে।

মহেশ্বরপাশা জোড়বাংলা মন্দিরটি নান্দনিক কারুকার্যে সজ্জিত ছিল এককালে। মন্দিরের নির্মাণকাজে জাফরি ইট এবং চুন ও ইটের গুঁড়োর মিশ্রণে তৈরী মশলা ব্যবহৃত হয়েছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত জাফরি ইটগুলো ছিল ক্ষুদ্রাকৃতির এবং বহুমাপবিশিষ্ট। মন্দিরের টেরাকোটা নকশায় নিও ক্ল্যাসিক ত্রয়ী খিলানরীতি অনুসৃত হয়েছে। তবে এই টেরাকোটার নকশার অধিকাংশ আজ লুপ্ত। তবু এখনো সেখানে গেলে দেখা পাওয়া যাবে, মন্দিরের প্রবেশদ্বারে অঙ্কিত মুখোমুখি দুটি ঘোড়ার মুখাকৃতি যা ধুলগ্রাম মন্দিরের প্রবেশদ্বারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া উল্লেখযোগ্য আরেকটি টেরাকোটা নকশা হলো রাম-রাবণের যুদ্ধ। এছাড়া অলংকৃত নকশার মধ্যে রয়েছে অভিজাত রাজপুরুষ ও রাজবালা, নানা পশু, ময়ূর, লতা-পাতা আর সর্বাধিক রয়েছে ফুটন্ত গাঁদাফুলের চিত্র। এছাড়া খোপযুক্ত ফালির মধ্যে প্রতিটি খোপে রয়েছেন একজন দেবতা।

এককালে জোড়বাংলা মন্দিরের যশখ্যাতি ছিল ভূয়সী। কিন্তু সেবাইতদের অবহেলা, স্থানান্তরে গমন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ইত্যাদি কারণে মন্দিরটি আজ মৃত্যুর প্রহর গুণছে। মন্দিরের প্রথম দিককার সংস্কারক হিসেবে রাখালরাজ মল্লিক, ঠাকুররাজ মল্লিক, মনোরঞ্জন মল্লিক এবং সতীশচন্দ্র মিত্রের নাম পাওয়া যায়। বর্তমানে এই মন্দিরটি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের মহেশ্বরপাশা মৌজার দাগ নম্বর ৬২৮২ খতিয়ান নম্বর ১৪৫২ মোতাবেক হারাধন মল্লিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে রেজিস্ট্রিকৃত। তিনি মল্লিক বংশের উত্তরপুরুষ। কিন্তু আজ কুঁড়েঘরে থাকা মল্লিকদের তেমন সামর্থ্য নেই এই মন্দিরের বিশাল সংস্কার সম্পাদন করার। তাই অবিলম্বে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি - এই মন্দিরটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি স্বীকৃতি এবং সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হউক!

বিপন্ন, মুমূর্ষু হলেও আজো খুলনার বুকে টিকে আছে ২৭৫ বছর পুরনো ভজনালয়। খুলনার রেলিগেট মোড় কিংবা মানিকতলা মোড় থেকে শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের সন্নিকটে রিকশা দূরত্বে এই মন্দিরটি অবস্থিত। সকলের কাছে আহ্বান রইল এই মন্দির ঘুরে আসার। পুরাকীর্তি আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এঁর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতের দায়ও তাই আমাদের-ই।

তথ্যসূত্র:
১.খুলনার পুরাকীর্তি, ড.মিজানুর রহমান, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, প্রকাশকাল: ২০১৭, পৃষ্ঠা ১০৩-১০৮
২.যশোহর খুলনার ইতিহাস (২য় খণ্ড), সতীশচন্দ্র মিত্র

বি:দ্র: এই মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে আমাদের বন্ধু প্লাটফর্ম KK Khulna একটি বিস্তৃত তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে। ভিডিওটি দেখার অনুরোধ রইলো সকলের কাছে। https://youtu.be/HABuM8x4_rE

#খুলনার_কথকতা
#খুলনা_ইন্সটিটিউট

Address

18, Farazi Para Lane
Khulna
9100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Khulna Institute posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Khulna Institute:

Share