14/01/2026
ত্যাগ, সততা ও সংগ্রামের প্রতীক — জননেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার
রাজনীতিতে কতজন নেতা আছেন, যাঁরা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ত্যাগ, সততা ও আদর্শকে নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলেন?
ঢাকা-১২ আসনের তেজগাঁও, মহাখালী, কাওরান বাজার, রাজাবাজার, নাখালপাড়া, তেজকুনী পাড়াসহ আশপাশের মানুষের মুখে একটাই নাম—
জননেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার।
আজ তাঁর শুভ জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানেই ত্যাগ, সংগ্রাম, নির্যাতন, সততা, মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং দলের প্রতি অটল আনুগত্যকে সম্মান জানানো।
শৈশব, শিক্ষা ও ফুটবলে উত্থান
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার।
তাঁর পিতা আলহাজ্ব আবদুল হক—আলিগড় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী এবং ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক।
শৈশব কেটেছে পূর্ব রাজাবাজারে।
শিক্ষার পাশাপাশি ফুটবলে প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। মাঠের খেলা থেকেই জন্ম নেয় নেতৃত্বগুণ—যা পরে রাজনীতির মাঠে তাঁকে সমান দৃঢ় করে তোলে।
সবুজ মাঠ ছেড়ে রাজনীতির মাঠে যাত্রা
২০০২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ও আব্দুস সালাম তাঁর নেতৃত্বগুণ চিনে বুঝে তাঁকে রাজনীতির মূলধারায় আনে।
সেই থেকেই ফুটবলের মাঠ ছেড়ে রাজনীতির মাঠে তাঁর দৌড়—যা এখনো অব্যাহত।
রাজপথের লড়াকু সৈনিক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে এমন নেতার সংখ্যা খুব কম—যাঁরা একইসঙ্গে নির্যাতিত, ত্যাগী, কিন্তু কখনো আপস না করা।
আনোয়ার ভাই ঠিক সেই শ্রেণির নেতা—
বৃহত্তর তেজগাঁও থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর এর সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক,
বর্তমান এক নম্বর সম্মানিত সদস্য
সাবেক সফল কমিশনার
তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন—একজন সমাজসেবক, ক্রীড়াবিদ এবং শিক্ষানুরাগী।
রাজপথ ও কোর্টের বারান্দায় কাটানো জীবন
দুই দশকেরও বেশি সময় জুড়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন মিছিল, মামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
নির্ভীক মনোভাবের একটাই ঘোষণা—
“আমি রাজনীতি করি মানুষের অধিকার ফেরাতে, ব্যক্তিস্বার্থে নয়।”
দলের ভেতরে-বাইরে ষড়যন্ত্রের শিকার
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়েও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হন তিনি।
তবুও দলত্যাগ করেননি।
কখনো নতি স্বীকার করেননি।
নির্যাতনের ভেতরেও অবিচল
একটার পর একটা মামলা, গ্রেফতার, রিমান্ড, কারা নির্যাতন—সবই সহ্য করেছেন।
রিমান্ডে ঝুলিয়ে রাখা, ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো, মানসিক যন্ত্রণা—সবই তিনি পেরিয়েছেন হাসিমুখে।
তিনি নিজেই বলেছেন—
“হাসতে হাসতে কারাগারে গেছি, কিন্তু নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাইনি।”
ব্যক্তিজীবনের হৃদয়বিদারক ত্যাগ
রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়েই স্ত্রীকে অকালে হারান তিনি।
মানুষ ও দলের স্বার্থে জীবনের বড় অংশই পরিবার থেকে separations মধ্যে কাটিয়েছেন।
স্ত্রীর সেই অনুপ্রেরণামূলক কথা আজও তাঁকে চালিত করে,
“দলের পাশে থেকো, মানুষের পাশে থেকো।”
ঢাকা-১২ আসনের ত্যাগ-নির্যাতন-গুমের করুণ ইতিহাস
ঢাকা-১২ আসন বিএনপি নেতাকর্মীদের এক রক্তাক্ত অধ্যায়।
এখানে গুম হয়েছেন—
সাজেদুল ইসলাম সুমন
ছাত্রনেতা জাকির হোসেন
আদনান
কাওসার
আসাদুজ্জামান
এবং আরও ১৫ জন এখনো নিখোঁজ।
নিহত হয়েছেন—
কাজী আব্দুর রহমান
মামা খোকন
যুবনেতা ফারুক
ছাত্রনেতা মাসুদ
বিপ্লব
এবং অনেকেই।
স্বজনরা বলেন—
“আনোয়ার ভাই-ই আমাদের পাশে ছিলেন, আজও আছেন।”
জনগণের আশ্রয়, মানবিকতার প্রতীক
কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার উন্নয়ন, রাস্তা, ড্রেন, স্কুল-মসজিদ-মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে মিথষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অসহায় পরিবারকে চিকিৎসা ও খাবার—সবই করেছেন ব্যক্তিগত দায়িত্বে।
একজন দোকানদার বলেন—
“কমিশনার থাকার সময় আমাদের এলাকায় উন্নয়ন প্রথম দেখা যায়। তিনি সবার কাছে সমান।”
নির্বাচনী ত্যাগ — বড় নেতা হওয়ার দুর্লভ উদাহরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা ভাবছিলেন—ঢাকা-১২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন আনোয়ার ভাই,
ঠিক সেই মুহূর্তে দলের প্রয়োজনে তিনি নিজের দীর্ঘ প্রস্তুত রাজনীতি উৎসর্গ করে দেন।
বিএনপি ও জোটের সিদ্ধান্তে জনপ্রিয় জাতীয় নেতা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনোনয়ন পাওয়ার পর—
আনোয়ার ভাই এক মুহূর্ত দেরি না করে—
নিজের সকল প্রস্তুতি দলীয় সিদ্ধান্তে সমর্পণ করেন
কোদাল মার্কা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন
প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব নেন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন নিঃস্বার্থ উদাহরণ খুব কম পাওয়া যায়।
জন্মদিনেও কোনো উদযাপন নয়—কারণ রয়েছে গভীর শোক
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশকে শোকে নিমজ্জিত করেছে।
তার ৪০ দিনও শেষ হয়নি।
তারপরই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাঁর প্রিয় রাজনৈতিক ছোট ভাই আজিজুর রহমান মুসাব্বির।
এই শোকের সময়ে তিনি জন্মদিনে কোনো অনুষ্ঠান, কেক বা ফুল গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
তিনি বলেন—
“এই সময় আনন্দ নয়, দোয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি কাটাতে চাই।”
নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বার্তা
তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন—
জননেতা সাইফুল হক
‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা হাজেরা খাতুন
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা
এবং ঢাকা-১২ আসনের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ।
তাঁরা বলেন—
“আনোয়ার ভাই আমাদের গর্ব। তিনি সুস্থ থাকুন, দীর্ঘায়ু লাভ করুন—এই কামনা।”
আনোয়ার ভাই মানেই ত্যাগ, সততা ও সাহস
ঢাকা-১২ আসনের প্রতিটি মানুষের মনে একটাই বিশ্বাস—
“রাজপথে ছিলেন, জনগণের ভোটও তাঁর হবে।”
তিনি প্রমাণ করেছেন—
“রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, রাজনীতি মানে মানুষের সেবা।”
যতদিন বাংলাদেশে ন্যায়-অন্যায়ের লড়াই থাকবে,
ততদিন জননেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার থাকবেন মানুষের ভালোবাসার প্রতীক।