Salafi Halal Rujir Foundation

Salafi Halal Rujir Foundation

আমরা কাজ করি, তৃণমূল অসহায় মানুষদের জীবনের মান উন্নয়নে।

আপনাকে বলছি!📢পরকালে আপনার সঙ্গী কে হবে? অন্তরের ভালোবাসাকে পুনর্মূল্যায়ন করুন।📢 ভালোবাসা কার জন্য এবং কেন?মানুষের হৃদয় ...
25/07/2026

আপনাকে বলছি!📢
পরকালে আপনার সঙ্গী কে হবে? অন্তরের ভালোবাসাকে পুনর্মূল্যায়ন করুন।

📢 ভালোবাসা কার জন্য এবং কেন?
মানুষের হৃদয় কখনোই শূন্য থাকে না; সে কাউকে না কাউকে ভালোবাসবেই এবং কারও না কারও পদাঙ্ক অনুসরণ করবেই—এটি মানুষের ফিতরাত বা সহজাত স্বভাব।

তবে প্রশ্ন হলো, আধুনিক যুগে আমাদের হৃদয়ের স্থানটি দখল করে আছে কে?
আজকের সমাজে আমরা যদি চোখ মেলে তাকাই, দেখতে পাই এক গভীর আত্মিক দেউলিয়া। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ যাদের আদর্শ বানাচ্ছে, যাদের ভালোবাসায় নিজেদের রঙিন করছে, তারা বেশিরভাগই দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ, বিনোদন কিংবা অসার প্রথার কাণ্ডারী। কারো পোশাক, কারো চালচলন কিংবা অনুকরণীয় চরিত্র নির্ধারিত হচ্ছে এমন সব দুনিয়াদার মানুষের দ্বারা, যাদের সাথে পরকালে আল্লাহর রহমতের কোনো সম্পর্ক নেই।
এর ফলে আমাদের সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে নেমে এসেছে এক গভীর মানসিক ও নৈতিক সংকট।

আমরা ভুলে গিয়েছি যে, কাল কেয়ামতের কঠিন ময়দানে মানুষের হাশর-নশর এবং জান্নাতের অবস্থান নির্ধারিত হবে তার অন্তরের মহব্বত ও অনুকরণের ওপর ভিত্তি করে।

ঠিক এই জায়গাতেই উঠে আসে প্রথম যুগের সেই মহান মানুষগুলোর গল্প—সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কথা। যাঁদের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন কেবলই আল্লাহর প্রিয় হাবীব, মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তাঁদের ভালোবাসা কেবল মুখে উচ্চারিত কোনো ভালোবাসার বুলি ছিল না; বরং তা ছিল আত্মত্যাগে উদ্ভাসিত এক সুগভীর অনুভূতির নাম। রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর বিরহ চিন্তা তাঁদের রাতের ঘুম হারাম করে দিত, চেহারার উজ্জ্বলতা কেড়ে নিত।
⏬
রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন,

"তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, সন্তান ও সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"
📚সহীহ বুখারী হাদিস নং ১৫
📚সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৪

ইতিহাসের পাতায় এক অপূর্ব ইমানী ভালোবাসার উপাখ্যান সংরক্ষিত আছে। একদা সাইয়্যেদুনা ছাওবান (রা.)

অন্য বর্ণনামতে অন্য এক আনসারী সাহাবী—নবীজী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে হাযির হলেন। তাঁর চেহারা ছিল বিবর্ণ, চোখে ভাসছিল জল আর পুরো অবয়বে চেপে বসেছিল গভীর বিষাদের ছায়া।

দয়ার নবী (ছা.) তাঁর এই করুণ অবস্থা দেখে স্নেহের সুর কেটে জিজ্ঞেস করলেন, "কী হয়েছে তোমার? মন এত খারাপ কেন?"

সাহাবী অত্যন্ত আবেগপ্লুত কণ্ঠে উত্তর দিলেন,

"ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি যখন ঘরে থাকি, তখনো আমার অন্তরে আপনার ইয়াদ জাগ্রত থাকে। আপনার কথা মনে হলেই আমি আর স্থির থাকতে পারি না, সবকিছু ফেলে আপনার কাছে ছুটে আসি—শুধু এক নজর আপনাকে দেখার জন্য। আপনাকে দেখলে আমার ব্যাকুল হৃদয় শান্ত হয়, চোখ জুড়িয়ে যায়।

কিন্তু আজ একটি দুশ্চিন্তা আমার অন্তরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে! আমি ভাবছিলাম—আমরা তো একদিন মৃত্যুবরণ করব, আর আপনিও ওফাত লাভ করবেন। পরকালে আল্লাহ তাআলা আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান 'মাকামে মাহমুদে' সকল নবী-রাসূলদের সাথে সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন করবেন। আর আমি যদি আল্লাহর দয়ায় কোনোমতে জান্নাতে চলেও যাই, তবে তো আমার অবস্থান হবে অনেক নিচে। সেখানে তো আর আপনাকে চোখের সামনে দেখতে পাব না! আর যদি জান্নাতে গিয়ে আপনাকে দেখেই না পাই, তবে সেই জান্নাতের কী আনন্দ আমি উপভোগ করব?"

সাহাবীর এই নিঃস্বার্থ, পবিত্র এবং গভীর অনুভূতির কথা শুনে রাহমাতুললিল আলামীন কিছুক্ষণ নীরব হয়ে গেলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন, এই বিচ্ছেদ-বেদনা কতখানি সুগভীর আর ভালোবাসার মাত্রা কতটা নিখাদ।
⏬
পৃথিবীর কোনো শিক্ষক বা নেতা তাঁর অনুসারীকে এমন বিচ্ছেদের আশঙ্কায় শান্ত করার ক্ষমতা রাখতেন না। তাই মালিকুল মুলক, পরম করুণাময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং আসমান থেকে জিবরাঈল (আ.)-কে ওহী দিয়ে পাঠালেন। সাহাবীর সেই ব্যথিত হৃদয়ে শান্তিজল ঢেলে দিয়ে এবং পৃথিবীর সকল ইমানদারের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিয়ে নাজিল হলো পবিত্র কুরআনের এই অমর আয়াত...
وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالصُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا

"আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সাথে থাকবে যাদের ওপর আল্লাহ নিয়ামত দান করেছেন—নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীলগণ। আর সঙ্গী হিসেবে এরা কতই না উত্তম!"
(সূরা আন-নিসা, আয়াত ৬৯)

আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ঘোষণা দিলেন যে, জান্নাতের স্তর যত ওপরেই হোক না কেন, যারা দুনিয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রকৃত অনুগত থাকবে এবং সত্য অন্তরে ভালোবাসবে, পরকালে তাদের স্থান ভিন্ন হলেও তারা নবীদের সান্নিধ্য ও সহচর্যে একত্রিত হতে পারবে।

এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর, নবীজী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুচকি হেসে সাহাবীকে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়গ্রাহী সুসংবাদটি শুনালেন। তিনি বললেন,
الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ
"মানুষ (পরকালে) তার সাথেই থাকবে, যাকে সে (দুনিয়ায়) ভালোবাসে।"
📚সহীহ বুখারী হাদিস নং ৬১৬৮
📚সহীহ মুসলিম হাদিস নং ২৬৩৯)

এই একটি বাক্য কেবল তৎকালীন সাহাবীদের জন্যই সান্ত্বনা ছিল না; বরং কেয়ামত পর্যন্ত আগত কোটি কোটি উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য এক মহামূল্যবান প্রতিশ্রুতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল।

রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর মুখ থেকে এই কথাটি শোনার পর সাহাবায়ে কেরামের হৃদয়ে আনন্দের যে হিল্লোল বয়ে গিয়েছিল, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রখ্যাত সাহাবী আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন,

"আমরা ইসলাম গ্রহণের পর নবীজী (ছা.)-এর এই উক্তি—'তুমি যাকে ভালোবাসো পরকালে তার সাথেই থাকবে'—শুনে যতটা আনন্দিত হয়েছিলাম, জীবনে আর কোনো খবরে এত বেশি খুশি হইনি।

⏬
আনাস (রা.) বলেন: আমি নবীজী (ছা.), আবু বকর এবং ওমর (রা.)-কে ভালোবাসি; আশা করি তাঁদের প্রতি আমার এই ভালোবাসার উসিলায় আমি তাঁদের সাথেই জান্নাতে থাকব, যদিও আমি তাঁদের মতো আমল করতে পারিনি।"
📚সহীহ বুখারী হাদিস নং ৩৬৮৮
📚সহীহ মুসলিম হাদিস নং ২৬৩৯)

⏬
সাহাবাগণ বুঝতেন, আমলের পাল্লায় হয়তো তাঁরা নবীদের সমকক্ষ হতে পারবেন না, কিন্তু 'মহব্বত বা নিখাদ ভালোবাসা'-এর এমন এক চাবি, যা জান্নাতের বন্ধ দরজাগুলোকে অনায়াসে খুলে দেয় এবং দূরত্বের ব্যবধানকে ঘুচিয়ে দেয়।

আমাদের করণীয়...
সাহাবীর এই কান্না এবং আল-কুরআনের আয়াতটি আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গভীর চিন্তার খোরাক জোগায়। আজকের এই ফিতনার যুগে আমাদের নিজেদের পুনর্মূল্যায়ন করা দরকারঃ-

📌হৃদয়ের ভালোবাসাকে খাঁটি করা,
আমাদের দেখতে হবে আমাদের হৃদয়ে কার রেখাপাত সবচেয়ে বেশি। আমরা কি গান-বাজনা, খেলাধুলা কিংবা ফাহেশা কালচারের অনুসারীদের ভালোবাসছি, নাকি জান্নাতের সরদার নবীজী (ছা.) ও তাঁর প্রিয় সাহাবিদের ভালোবাসছি? কারণ হাদিসের স্পষ্ট বার্তা—আপনি যাকে ভালোবাসবেন, কাল কেয়ামতে তার সাথেই আপনার হাশর হবে।

📌ভালোবাসার সত্যতা প্রমাণে আনুগত্য (ইত্তেবা) ভালোবাসা কেবল মুখে 'নবী প্রেম'-এর স্লোগান দেওয়ার নাম নয়। আল্লাহ তাআলা আয়াতটিতে পূর্বশর্ত দিয়েছেন "যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে"। অর্থাৎ, সুন্নাহর অনুকরণ, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, হালাল রুজি এবং আখলাকের মাধ্যমে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে।

📌নফল ইবাদতের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা অর্জন, এক সাহাবী (রাবিআ ইবনে কা'ব আল-আসলামী) যখন রাসূল (সা.)-এর কাছে জান্নাতে তাঁর সঙ্গ চেয়েছিলেন, তখন রাসূল (ছা.) তাঁকে বলেছিলেন,
"তাহলে তুমি অধিক পরিমাণ সিজদার (নফল সালাতের) মাধ্যমে আমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করো।"
📚সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৮৯

আসুন, আমরা আমাদের হৃদয়কে দুনিয়ার অসার মোহ থেকে মুক্ত করি। আমাদের পরিবার, সমাজ এবং আমাদের সন্তানদের রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনী ও সুন্নাহর ওপর গড়ে তুলি। চোখের জল ফেলে প্রভুর দরবারে আকুতি জানাই...

হে আল্লাহ! আমাদের আমল হয়তো জান্নাতের উচ্চ মাকামে পৌঁছানোর মতো নয়, কিন্তু আমাদের হৃদয়ে তোমার হাবীবের জন্য যে মহব্বত রয়েছে, তার উসিলায় তুমি আমাদের হাশর তোমার প্রিয় নবীর সাথেই করো। আমীন।

উপরোক্ত লিখিত আলোচনায় যা কিছু সঠিক ও কল্যাণকর তা একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি।

✍️ সাগর হারুন রশিদ সালাফী
#পরিচালক
একটি হালাল রুজির ফান্ড

'তাওহীদ' মুক্তির একমাত্র সনদ​মানুষের দাসত্ব নয়, এক আল্লাহর দাসত্বই মুক্তি...বর্তমান বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম শিখরে...
01/06/2026

'তাওহীদ' মুক্তির একমাত্র সনদ
​মানুষের দাসত্ব নয়, এক আল্লাহর দাসত্বই মুক্তি...

বর্তমান বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম শিখরে আরোহণ করলেও মানুষের আত্মিক প্রশান্তির পারদ ক্রমশ নিম্নমুখী।

আধুনিক বস্তুবাদী সভ্যতা আমাদের দিয়েছে অঢেল আরাম-আয়েশ আর বিলাসিতার উপকরণ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে মনের গভীরের সুখ ও স্থিতি।

মানুষ আজ অর্থের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে হতাশা, অস্থিরতা আর অন্তহীন চাহিদার অতল গহবরে।

বাহ্যিক চাকচিক্যের এই মরিচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে মানুষ ভুলে যাচ্ছে তার সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্য।

এই সংকটময় মুহূর্তে ‘তাওহীদী চেতনা’ বা মহান আল্লাহর একত্বের বিশ্বাস কেবল একটি ধর্মীয় অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি মানবজীবনের দিশারী ও মুক্তির একমাত্র সনদ।

তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ব ইসলামের মূল ভিত্তি। আদি পিতা আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূল এই মহাসত্যের দিকেই মানুষকে আহবান জানিয়েছেন। তাওহীদ মানুষকে হাজারো মিথ্যা প্রভুর দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক মহান সত্তার কাছে সমর্পিত করে। এটি এমন এক বিপ্লবী চেতনা, যা ভোগবাদী সমাজের মোহ কাটিয়ে মানুষকে শেখায় আত্মমর্যাদা, পরিমিতিবোধ এবং প্রকৃত সাফল্যের সংজ্ঞা।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আমি তোমার পূর্বে যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তার প্রতি এ ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা আমারই ইবাদত করো।" (সূরা আম্বিয়া আয়াত ২৫)

কেন আজকের সমাজে তাওহীদী চেতনা অপরিহার্য?

আজকের যান্ত্রিক ও সংঘাতময় জীবনে মানুষ কেবল পার্থিব সমৃদ্ধিকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করছে। ফলে বাড়ছে একাকীত্ব ও মানসিক অস্থিরতা। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে তার জীবনের রিজিক, সম্মান এবং মরণ—সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ, তখন তার অন্তরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বিরাজ করে।

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর পেছনে আরোহী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছা.) ডাক দিলেন, "হে মু‘আয ইবনু জাবাল!" মু‘আয (রাঃ) উত্তর দিলেন, "আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল! "অতঃপর রাসূল (ছা.) বললেন, "যে কেউ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন।

"মু‘আয (রাঃ) বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি লোকদের এই সুসংবাদটি দেব না, যাতে তারা আনন্দিত হতে পারে?" নবীজি (ছা.) বললেন, "তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে"।
(সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১২৮)

এই হাদিসটি থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, নেক আমলের ওপর ভরসা করে মানুষ যেন কর্মহীন বা উদাসীন হয়ে না পড়ে। তাই মু‘আয (রাঃ) মৃত্যুর আগে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছিলেন, যাতে মানুষ শুধুমাত্র এই সুসংবাদ শুনে আমল ছেড়ে না দেয়।

তাওহীদের অমোঘ শক্তি!
"আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" এই সাক্ষ্য দেওয়া শুধুমাত্র মুখে উচ্চারিত বাক্য নয়, বরং এটি হৃদয়ের দৃঢ় বিশ্বাস। এই বিশ্বাস মানুষকে সকল প্রকার শিরক ও কুফর থেকে মুক্ত করে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তাওহীদের স্বীকৃতিই জাহান্নাম থেকে মুক্তির চাবিকাঠি। অর্থাৎ, তাওহীদের ওপর অটল থাকা একজন মুমিনের জান্নাত লাভের প্রধান শর্ত।

মু‘আয (রাঃ)-এর সুসংবাদ দেওয়ার আগ্রহ এবং নবীজি (ছা.)-এর তা বারণ করার বিষয়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

মু‘আয (রাঃ) চেয়েছিলেন উম্মতকে এই বড় সুখবরটি শুনিয়ে আশান্বিত করতে। কিন্তু নবীজি (ছা.) বুঝতে পেরেছিলেন, সাধারণ মানুষ এই সুসংবাদ শুনে আমল করা ছেড়ে দিয়ে কেবল বিশ্বাসের ওপরই নিশ্চিন্ত (নির্ভরশীল) হয়ে বসে থাকতে পারে।

তাওহীদ মানুষকে শিখায় যে, মানুষের দাসত্ব বা বস্তুর পূজা কখনো মানুষের মর্যাদা বাড়াতে পারে না; বরং এক আল্লাহর দাসত্বই মানুষের প্রকৃত মুক্তি ও সম্মান নিশ্চিত করে।

আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর আগে মক্কার ঘুণেধরা ও পুঁতিগন্ধময় সমাজে বিশ্বনবী (ছা.) যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর মশাল নিয়ে আবির্ভূত হলেন, তখন সেই জাহেলী সমাজ আমূল পরিবর্তিত হয়ে এক শান্তিময় জনপদে পরিণত হয়েছিল। মানুষ মানুষের গোলামী ছেড়ে এক আল্লাহর দাসত্বের অধীনে খুঁজে পেয়েছিল প্রকৃত মানবাধিকার ও ন্যায়পরায়ণতা।

একজন মুমিনের জীবনে তাওহীদের প্রতিফলন ঘটবে তার আচার-আচরণে। পার্থিব মোহে পড়ে যে ব্যক্তি নিজের বিবেক ও ঈমান বিক্রি করে না, সে-ই প্রকৃত সফল। আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুলই হলো একজন মুমিনের জীবনের মূল চালিকাশক্তি।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।"
(সূরা তালাক আয়াত ৩)

আজকের অস্থির সমাজ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের পুনরায় তাওহীদী চেতনায় ফিরে আসতে হবে। আমাদের দৈনন্দিন প্রতিটি কর্মকাণ্ডে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

বিলাসিতার পেছনে না ছুটে স্রষ্টার সন্তুষ্টির সন্ধানে সময় ব্যয় করাই হোক জীবনের পরম ব্রত।

আসুন, আমরা আমাদের চিন্তাধারাকে পরিশুদ্ধ করি এবং মহান আল্লাহর একত্বের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করি। তিনিই আমাদের অন্তরে প্রশান্তি দেবেন এবং পরকালীন মুক্তি দান করবেন ইনশা-আল্লাহ।
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।

✍️ সাগর হারুন রশিদ সালাফী
বিদ'আতের অন্ধকারে সুন্নাহর মশাল।

আল্লাহ যাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন,তাদের নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে নিজের ঈমান হারাবেন না।আলহামদুলিল্লাহইসলামের ভিত্তি কেবল কু...
29/05/2026

আল্লাহ যাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন,
তাদের নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে নিজের ঈমান হারাবেন না।

আলহামদুলিল্লাহ
ইসলামের ভিত্তি কেবল কুরআন এবং সুন্নাহর ওপরই প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং সেই ভিত্তি আমাদের কাছে পৌঁছানোর যে মাধ্যম 'সিলসিলা', তা তৈরি হয়েছে রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মাধ্যমে।

রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈনঃ-
সাহাবায়ে কেরাম হলেন সেই সোনালী প্রজন্ম, যারা সরাসরি ওহী নাজিল হতে দেখেছেন, রাসুল (ছা.)-এর পবিত্র সংস্পর্শে থেকে দ্বীন শিক্ষা করেছেন এবং নিজেদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে ইসলামের ঝান্ডা উড্ডীন রেখেছেন।

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে
কবরপূজারী পীরপূজারীরা না জেনে, না বুঝে মহান সাহাবীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বসে, যা চরম অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার লক্ষণ।

সাহাবীদের প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করা কেবল ইতিহাসের বিকৃতি নয়, বরং এটি সরাসরি ইসলামের মূল কাঠামোর ওপর আঘাত। কারণ, সাহাবীদের চরিত্র ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা মানে প্রকারান্তরে ইসলামের প্রচারক ও বাহকদের অস্বীকার করা। সমাজ ও আমাদের ব্যক্তিগত ইমানের সুরক্ষার জন্য সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা বোঝা এবং তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা একজন মুমিনের অপরিহার্য দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সাহাবায়ে কেরামকে 'মুমিন' ও 'সফলকাম' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের প্রতি সন্তুষ্টির কথা সরাসরি ঘোষিত হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, "আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা অগ্রগামী, প্রথম সারির এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তারা স্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।"
(সুরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১০০)

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ স্বয়ং সাহাবীদের ঈমান ও তাদের জান্নাতি হওয়ার সনদ দিয়েছেন। যারা তাদের নিয়ে কটুক্তি করে, তারা কার্যত আল্লাহর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচারণ করে।

রাসুলুল্লাহ (ছা.) সাহাবীদের মর্যাদা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি স্পষ্টভাষায় তাঁদের সম্মান রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। যদি তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও (আল্লাহর রাস্তায়) দান করে, তবুও তাদের কারও এক মুদ (অল্প পরিমাণ) বা অর্ধেক মুদ দানের সওয়াবের সমকক্ষ হতে পারবে না।"
📚সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৭৩
📚সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৪০

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, সাহাবীদের মর্যাদার ধারেকাছে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারে না। তাঁদের নিয়ে কটুক্তি করা মানে নবী মুহাম্মদ (ছা.)-এর নির্দেশ অমান্য করা এবং নিজের ঈমানকে হুমকির মুখে ফেলা।

ইসলামী আকিদাহ অনুযায়ী, সাহাবীদের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ পোষণ করা নিফাক বা মুনাফেকির লক্ষণ। সালাফে সালেহীন বা পূর্বসূরী বিদ্বানগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি সাহাবীদের নিয়ে কটুক্তি করে, সে ইসলাম থেকে খারিজ হওয়ার পথে পা বাড়ায়। কারণ, তারা ছিলেন কুরআনের জীবন্ত ব্যাখ্যাতা। তাদের দোষারোপ করা মানে কুরআন ও সুন্নাহর উৎসকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।

সাহাবীদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলোঃ-

১. বিদ্বেষমুক্ত থাকাঃ-
সাহাবীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক মতভেদ বা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করার সময় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা। আল্লাহ তাআলা তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন, আমাদের সেই অধিকার নেই তাদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ বা কটুক্তি করার।

২. সম্মান ও ভালোবাসাঃ-
আমাদের প্রতিটি কাজে, কথায় এবং চিন্তায় সাহাবীদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা রাখা। তাদের অনুসরণ করাই হচ্ছে সিরাতে মুস্তাকিম।

৩. সতর্কতা! অনলাইনে বা ব্যক্তিগত আড্ডায় কেউ যদি সাহাবীদের নিয়ে কটুক্তি করে, তবে কঠোরভাবে তা প্রতিহত করা এবং তাকে বুঝিয়ে বলা যে, এটি কত বড় জঘন্য কাজ।

পরিশেষে, সাহাবায়ে কেরাম হলেন ইসলামের নক্ষত্র। তারা না থাকলে আজ আমরা ইসলামের সুশীতল ছায়া পেতাম না। তাদের সম্মান রক্ষা করা মানে ইসলামের সম্মান রক্ষা করা।

আসুন, আমরা আমাদের জবানকে হেফাজত করি এবং সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমাদের অন্তরকে পরিপূর্ণ রাখি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করে জান্নাতের পথ সুগম করতে পেরেছে।
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।

✍️ সাগর হারুন রশিদ সালাফী
বিদ'আতের অন্ধকারে সুন্নাহর মশাল।

ইয়া আল্লাহ!আমার উম্মত! আমার উম্মত!যে কান্নার শব্দে নেমে এসেছিলেন জিবরীল  (আলাইহিস সালাম)।আমরা কি জানি, আমাদের প্রিয় নবী ...
12/05/2026

ইয়া আল্লাহ!
আমার উম্মত! আমার উম্মত!
যে কান্নার শব্দে নেমে এসেছিলেন জিবরীল (আলাইহিস সালাম)।

আমরা কি জানি, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জন্য কতটা ব্যাকুল ছিলেন?

আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে এক নিঝুম রাতে তিনি আপনার আর আমার জন্য দু’হাত তুলে অঝোরে কেঁদেছিলেন। সেই কান্নার শব্দ আর আরশের মালিকের পক্ষ থেকে আসা অভয়বাণী নিয়ে আজকের এই বিশেষ হাদিস।

📖 সেই মহিমান্বিত ঘটনা...
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
কুরআনের দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন।

১. ইবরাহীম (আ.)-এর সেই দুআ...
"হে আমার প্রতিপালক! এই প্রতিমাগুলো বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে, সে আমার দলভুক্ত; আর কেউ অবাধ্য হলে আপনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা ইবরাহীম: ৩৬)

২. ঈসা (আ.)-এর সেই আরজি...
"আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা; আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(সূরা মায়িদা: ১১৮)

এরপর যা ঘটল...
পূর্ববর্তী নবীদের এই আর্তিগুলো পড়ার পর আমাদের প্রিয় নবীজীর (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হৃদয় তাঁর উম্মতের মায়ায় অস্থির হয়ে উঠল! তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না।

তিনি তাঁর উভয় হাত আকাশের দিকে উঠালেন এবং রোনাজারি করে বলতে লাগলেন,

"ইয়া আল্লাহ! উম্মাতি... উম্মাতি... (হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত!)"

উম্মতের চিন্তায় তিনি শিশুর মতো কেঁদে ফেললেন। তাঁর কান্নার শব্দে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠল। তখন মহান আল্লাহ জিবরীল (আ.)-কে পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তিনি কাঁদছেন? (অথচ আল্লাহ সব জানেন)।

নবীজী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরীল (আ.)-এর কাছে উম্মতের বিপথগামিতা আর নাজাতের আশঙ্কায় নিজের ব্যাকুলতার কথা জানালেন। তখন আল্লাহ তা’আলা জিবরীলকে পাঠালেন এক অভাবনীয় সুসংবাদ দিয়ে,

"হে জিবরীল! তুমি মুহাম্মাদের কাছে যাও এবং বলো— আপনার উম্মতের ব্যাপারে আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করে দেব, আপনাকে আমি অসন্তুষ্ট করব না।"
📚সহীহ মুসলিম হাদিস নং ২০২

একবার ভেবে দেখুন! যে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়ামতের কঠিন দিনে আমাদের জন্য সুপারিশ করার ওয়াদা পেয়েছেন, যিনি দুনিয়াতে থাকাকালীন আমাদের জন্য কেঁদে দাড়ি ভিজিয়ে ফেলতেন— আমরা কি সেই নবীর সুন্নাহ মেনে চলছি?

আমরা কি তাঁর সেই ভালোবাসার মূল্য দিচ্ছি?

উপরোক্ত অশ্রুসজল ঘটনা কি আমাদের হৃদয়ে কোনো কম্পন সৃষ্টি করে না?

যে মহামানব আমাদের না দেখেই ভালোবাসায় মগ্ন ছিলেন, যাঁর প্রতিটি সিজদাহ ছিল আমাদের মাগফিরাতের আর্তিতে ভেজা, আজ তাঁর উম্মত হয়ে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

দুনিয়ার মোহে মত্ত হয়ে আমরা কি সেই পরম হিতৈষী বন্ধুর আদর্শকে বিসর্জন দিচ্ছি না?

​আসুন, আজ থেকেই নিজেদের নতুন করে গড়ি। তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরি। আমাদের প্রতিটি কাজ যেন এমন হয়, যাতে কিয়ামতের ময়দানে যখন প্রিয় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের দিকে তাকাবেন, তাঁর চোখ দুটি খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে; লজ্জায় যেন তাঁকে মাথা নিচু করতে না হয়।

হে দয়াময় আল্লাহ! আমাদের সেই সৌভাগ্য দান করুন, যেন জান্নাতে আমরা আমাদের সেই ক্রন্দনরত প্রিয় নবীর হাসিমুখের সাথী হতে পারি। আমীন।

আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় হাবীবের (সা.) শাফায়াত নসীব করেন। আমীন।
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।

✍️ সাগর হারুন রশিদ সালাফী
বিদ'আতের অন্ধকারে সুন্নাহর মশাল।

কেন Eহুদি নারী! নবীজিকে (ﷺ) বিষ পান করাতে চেয়েছিল?ইসলামের ইতিহাসে সপ্তম হিজরির 'খায়বার যু*দ্ধ' একটি মাইলফলক। দীর্ঘ প্রচে...
09/05/2026

কেন Eহুদি নারী! নবীজিকে (ﷺ) বিষ পান করাতে চেয়েছিল?

ইসলামের ইতিহাসে সপ্তম হিজরির 'খায়বার যু*দ্ধ' একটি মাইলফলক। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর যখন মুসলিম বাহিনী খায়বার বিজয় সম্পন্ন করল, তখন চারদিকে শান্তির সুবাতাস বইছিল। কিন্তু পরাজয়ের গ্লানি সইতে না পেরে পর্দার আড়ালে এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এক ইπহুদি নারী— জয়নব বিনতে আল-হারিস।

সে জানত যে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)
বকরির সামনের পায়ের মাংস (দস্ত) পছন্দ করেন। তাই সে একটি বকরি জবাই করে তার প্রতিটি অংশে, বিশেষ করে দস্তর মাংসে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী বিষ মিশিয়ে দেয়।

এই ঘটনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ একদিকে যেমন তাঁর রাসূলের সত্যতা প্রমাণ করেছিলেন, তেমনি নবীজির অতুলনীয় ধৈর্য ও ক্ষমার এক নজির স্থাপন করেছিলেন।

সেই ইহুদি নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে রান্না করা বিষযুক্ত মাংস উপহার হিসেবে পাঠায়। রাসূলুল্লাহ (ছা.) এবং তাঁর সাথে থাকা সাহাবী বিশর ইবনুল বারা (রা.) সেই মাংস থেকে সামান্য কিছু গ্রহণ করেন। কিন্তু দাঁত দিয়ে চিবানোর পরপরই রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, "তোমরা হাত গুটিয়ে নাও! এই মাংসের হাড় আমাকে খবর দিচ্ছে যে এতে বিষ মেশানো হয়েছে।"
📚সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৫০৮

পরবর্তীতে সেই নারীকে তলব করা হলে সে তার অপরাধ স্বীকার করে এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলে,

"আমি পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম আপনি যদি সাধারণ রাজা হন তবে আমরা মুক্তি পাব, আর যদি আপনি সত্য নবী হন তবে আল্লাহ আপনাকে আগেভাগেই জানিয়ে দেবেন।"

"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে বিষযুক্ত বকরি আনা হলে তিনি তা থেকে খেলেন। অতঃপর সেই নারীকে আনা হলে সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আমরা কি তাকে হত্যা করব না? তিনি বললেন, 'না'।"
📚সহীহ বুখারি, হাদিস নং- ২৬১৭

প্রিয় নবীজি (ছা.) প্রথম দিকে তাকে ব্যক্তিগত কারণে ক্ষমা করলেও, তাঁর সাথে থাকা সাহাবী বিশর ইবনুল বারা (রা.) ওই বি'ষক্রিয়ায় শহীদ হন।

সাহাবীর মৃত্যুর পর 'কিসাস' বা রক্তের বিনিময়ে রক্ত (কিসাস) হিসেবে সেই নারীর মৃ'ত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
📚সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং ৪৫০৮

এই ঘটনা থেকে আমরা কয়েকটি বিষয় শিখতে পারি...

মুজেজা বা অলৌকিকতা!
জড় পদার্থ (মাংসের হাড়) আল্লাহর হুকুমে কথা বলে নবীজি (ﷺ)-কে সতর্ক করে দিয়েছিল।

নবীজির (ছা.) ক্ষমা: নিজের ওপর করা চরম অন্যায়ের পরও তিনি প্রথমে তাকে ক্ষমা করতে চেয়েছিলেন।

ন্যায়বিচার: যখন একজন সাহাবীর মৃত্যু হলো, তখন ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে ইসলামী আইন অনুযায়ী বিচার করা হলো।

নবীজি (ﷺ) তাঁর ইন্তেকালের সময়ও সেই বিষের তীব্রতা অনুভব করেছিলেন, যা তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করে।
​দলিলঃ- "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বলতেন,

'খায়বারে আমি যে বিষযুক্ত খাবার খেয়েছিলাম, আজ আমি তার প্রভাব অনুভব করছি। মনে হচ্ছে আমার হৃদপিণ্ডের ধমনী কেটে যাচ্ছে।'"
📚সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৪৪২৮

খায়বারের বিষযুক্ত গোশতের এই ঘটনাটি কেবল ষড়যন্ত্রের গল্প নয়, বরং এটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নবুয়ত, ধৈর্য এবং ইনসাফের এক অনন্য সংমিশ্রণ।

​খায়বারের এই বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। এটি একদিকে যেমন ইπহুদি নারী জয়নব বিনতে আল-হারিসের চরম বিদ্বেষ ও ধূর্ততাকে প্রকাশ করে, অন্যদিকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীজি (ﷺ)-কে রক্ষার মাধ্যমে তাঁর নবুয়তের সত্যতা বিশ্ববাসীর সামনে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

​রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাধারণ ক্ষমা এবং পরবর্তীতে সাহাবীর মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ইনসাফ কায়েমের জন্য ‘কিসাস’ গ্রহণ—এই দুইয়ের মাঝে লুকিয়ে আছে ইসলামী বিচারব্যবস্থার এক ভারসাম্যপূর্ণ আদর্শ।

সর্বোপরি, জীবনের শেষ মুহূর্তেও সেই বিষের যন্ত্রণা অনুভব করা এবং তার ফলে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করা প্রমাণ করে যে, প্রিয় নবী (ﷺ) দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

​এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, সত্যের পথে বাধা আসবেই, কিন্তু আল্লাহ সর্বদা তাঁর প্রিয়জনদের সাহায্য করেন। সেই সাথে এটি নবীজির (ﷺ) প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাকে আরও গভীর করে তোলে, যিনি উম্মতের জন্য আজীবন কষ্ট সহ্য করে গেছেন।

​আল্লাহ আমাদের প্রিয় নবীজি (ﷺ)-এর সুন্নাহকে সঠিকভাবে বোঝার এবং তাঁর আদর্শে জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

✍️ সাগর হারুন রশিদ সালাফী
বিদ'আতের অন্ধকারে সুন্নাহর মশাল।

ব্যস্ততা যখন অভিশাপ! রবের থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফল।আমাদের জীবনের এক অদ্ভুত সমীকরণ হলো— যখনই আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার থেকে...
04/05/2026

ব্যস্ততা যখন অভিশাপ! রবের থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফল।

আমাদের জীবনের এক অদ্ভুত সমীকরণ হলো— যখনই আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার থেকে দূরে সরে যাই, তখনই দুনিয়ার অহেতুক ব্যস্ততা আমাদের ঘিরে ধরে। যে প্রশান্তির খোঁজে আমরা দৌড়াই, তা যেন আরও দূরে হারিয়ে যায়।

ফলাফলস্বরূপঃ-
ছালাত হয়ে পড়ে কেবল কতগুলো যান্ত্রিক নড়াচড়া।

যিকির ও তিলাওয়াত থেকে জিহ্বা এবং মন দুটোই উঠে যায়।

একসময়ের প্রিয় ইবাদতগুলো তখন বিষাদ আর বোঝা মনে হতে থাকে।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,

"যে আমার স্মরণ (যিকির) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ..."
(সূরা ত্বহা, আয়াত ১২৪)

রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন,
"আল্লাহ তাআলা বলেন— হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য সময় বের করো, আমি তোমার অন্তরকে সচ্ছলতা দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করে দেব। আর যদি তা না করো, তবে আমি তোমার হাতকে দুনিয়ার ব্যস্ততায় ভরে দেব কিন্তু তোমার অভাব দূর করব না।"
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২৪৬৬)

আসুন, ক্লান্ত এই আত্মাকে একটু জিরিয়ে নিতে দেই। সিজদাহর মাধ্যমে রবের কাছে ফিরে আসি। কারণ রবের সাথে সম্পর্ক যত গভীর হয়, দুনিয়ার ব্যস্ততা তত সহজ হয়ে যায় এবং প্রতিটি ইবাদত হয়ে ওঠে হৃদয়ের প্রশান্তি।

সাগর হারুন রশিদ সালাফী

25/04/2026
21/04/2026

অসহায় পরিবারের জন্য

21/04/2026

মেহেদির রং শুকানোর আগেই শহীদ! উহুদ প্রান্তরের এক হৃদয়স্পর্শী ইতিহাস।

উহুদ যুদ্ধের ইতিহাসের পাতায় বীরত্ব আর ত্যাগের অসংখ্য কাহিনী রয়েছে, তবে কিছু কাহিনী হৃদয়ের গভীরে এমনভাবে দাগ কেটে যায় যা যুগ যুগ ধরে মুমিনদের চোখে অশ্রু ঝরায়। এটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনী নয়, বরং আল্লাহর প্রতি নিখাদ ভালোবাসা এবং কর্তব্যের টানে পার্থিব সুখকে তুচ্ছ জ্ঞান করার এক অনন্য উপাখ্যান। বাসর ঘরের মায়া কাটিয়ে যে যুবক সাহাবী জান্নাতের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, তাঁর সেই মহান ত্যাগের অমর কাহিনী নিচে তুলে ধরা হলোঃ-

উহুদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ। বীর শহীদানদের লাশ একে একে একত্র করা হচ্ছে। আল্লাহর রাসূল (ছা.) অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে শহীদদের গণনা করছেন। ৭০ জন শহীদের মাঝে ৬৮ জনের দেহ পাওয়া গেল, কিন্তু তখনও দুইজন নিখোঁজ। একজন নবীজির প্রিয় চাচা হামজা (রাঃ), আর অন্যজন যুবক সাহাবী হানজালা (রাঃ)।

রাসূল (ছা.) সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন তাঁদের খুঁজে বের করতে। ঠিক সেই মুহূর্তে একজন নারী নবীজির সামনে এসে দাঁড়ালেন। নবীজি (ছা.) তাকে চিনতে পারছিলেন না।

মহিলাটি বিনয়ের সাথে বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! গতকাল আপনি কি একটি বিয়ের খুৎবা পড়িয়েছিলেন মনে আছে? যার খুশিতে আপনি খুরমা খেজুর ছিটিয়েছিলেন?"

নবীজি (ছা.) বললেন, "হ্যাঁ, আমি তো হানজালার বিয়ে করিয়েছিলাম।"

মহিলাটি অশ্রুসজল চোখে নিজের হাত দেখিয়ে বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার হাতের মেহেদির রং আজও শুকায়নি। গতকাল বিকেলে আমাদের বিয়ে হয়েছিল, আর রাতে যুদ্ধের ডাক আসতেই হানজালা যুদ্ধের ময়দানে চলে গেছেন। বাসর রাতে তার সাথে আমার ঠিকমতো পরিচয়টুকুও হয়নি। যাওয়ার সময় তিনি শুধু বলে গিয়েছিলেন—

'যদি বেঁচে থাকি তবে দুনিয়ায় দেখা হবে, আর শহীদ হলে দেখা হবে জান্নাতে'।"

লজ্জাবনত হয়ে সেই নারী আরও বললেন, "বিদায়বেলায় তিনি যখন আমার কপালে চুমু দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি লজ্জায় বলতে পারিনি যে তিনি তখন নাপাক অবস্থায় ছিলেন (অর্থাৎ তাঁর ওপর গোসল ফরজ ছিল)। যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি গোসল না করেই ময়দানে ছুটে গিয়েছিলেন।"

নবীজি (ছা.) এই আত্মত্যাগের কথা শুনে অঝোর ধারায় কাঁদতে শুরু করলেন। মহিলাটি আরজি জানালেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! শহীদদের তো সাধারণত গোসল দেওয়া হয় না, কিন্তু আমার স্বামীকে আপনি কি একটু গোসলের ব্যবস্থা করবেন?"

কিছুক্ষণ পর সাহাবীরা এসে খবর দিলেন হানজালা (রা.)-এর পবিত্র দেহ পাওয়া গেছে। রাসূল (ছা.) এবং সাহাবীরা সেখানে গিয়ে এক অলৌকিক দৃশ্য দেখলেন। হানজালার লাশের মাথা থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে।
ঠিক তখনই জিবরাঈল (আ.) অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন—

"ইয়া রাসূলাল্লাহ! হানজালার এই কুরবানিতে আল্লাহ তায়ালা এতটাই সন্তুষ্ট হয়েছেন যে, তিনি ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাকে আসমানে নিয়ে যেতে। ফেরেশতারা তাকে মেঘমালার স্তরে নিয়ে রুপার পাত্রে জমজমের পানি দিয়ে গোসল করিয়েছেন।"

নবীজি (ছা.) তার শরীরে জান্নাতি সুঘ্রাণ পেলেন এবং তাকে ‘গাসিলুল মালাইকাহ’ বা ‘ফেরেশতাদের দ্বারা গোসলপ্রাপ্ত ব্যক্তি’ উপাধিতে ভূষিত করলেন।

তথ্যসূত্র ও দলিলঃ-
১. আর-রাহীকুল মাখতূম (উহুদ যুদ্ধ পরিচ্ছেদ)।

২. যাদুল মা‘আদ (ইবনুল কাইয়্যিম), ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৪।

৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইবনে কাসীর), ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩।

৪. মুসতাদরাক আল-হাকিম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৪।

আলহামদুলিল্লাহ!
ইসলামের জন্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পার্থিব সব সুখ বিসর্জন দেওয়ার নামই হলো প্রকৃত ঈমান। আল্লাহ আমাদের সেই ঈমান নসিব করুন। আমীন।
Salafi Halal Rujir Foundation

ইসলামে নারীর মর্যাদা ও জান্নাতের সোপান 🌹আলহামদুলিল্লাহইসলাম নারীকে দিয়েছে অভাবনীয় সম্মান। একজন নারীর জীবনের তিনটি গুরুত্...
21/04/2026

ইসলামে নারীর মর্যাদা ও জান্নাতের সোপান 🌹

আলহামদুলিল্লাহ
ইসলাম নারীকে দিয়েছে অভাবনীয় সম্মান। একজন নারীর জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে জান্নাত লাভের মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

১. কন্যা হিসেবে, বাবার জান্নাতের সুসংবাদ!

কন্যা সন্তান মানেই আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার।
রাসুলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন,
"যে ব্যক্তির তিনজন কন্যা সন্তান রয়েছে, সে তাদের (লালন-পালনে) ধৈর্য ধারণ করে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদ দান করে—কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী পর্দা হবে।"
📚সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৬৬৯ ✅সনদ সহীহ

২. স্ত্রী হিসেবে, স্বামীর অর্ধেক দ্বীন!
দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর গুরুত্ব তুলে ধরে নবীজি (ছা.) ইরশাদ করেছেন,

"যখন কোনো বান্দা বিয়ে করল, সে তার দ্বীনের (ধর্মের) অর্ধেক পূর্ণ করল। এখন সে যেন বাকি অর্ধেকের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে।"
📚শুআবুল ঈমান (বায়হাকী), হাদিস নং ৫৪৮২
📚সহীহ আল-জামে, হাদিস নং ৬১৪)।

৩. মা হিসেবে, সন্তানের জান্নাতের ঠিকানা।

মায়ের সেবা ও আনুগত্যকে জান্নাত প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা আস-সালামী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (ছা.) তাকে বলেছিলেন,

"তুমি তোমার মায়ের সেবা করো, কেননা তাঁর পায়ের নিচেই জান্নাত রয়েছে।"
📚সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং ৩১০৪
📚সহীহ তারগিব, হাদিস নং ২৪৮৪
( রাব্বির হামমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা)

ইসলাম নারীকে কখনো কন্যা, কখনো স্ত্রী, আবার কখনো মা হিসেবে জান্নাতের চাবিকাঠি বানিয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ!
মহান আল্লাহ আমাদের ঘরের মা, বোন ও স্ত্রীদের যথাযথ সম্মান ও অধিকার প্রদানের তাওফিক দান করুন। আমিন।
Salafi Halal Rujir Foundation

Address

Jamalpur Sadar Upazila
2000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Salafi Halal Rujir Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share