18/09/2026
ছি: তারেক রহমান, জানিনা অন ক্যামেরায় বড় বড় কথা বলতে আপনার লজ্জা হয় কি-না!
হাসপাতালের বেডে শুয়েই জেলখানায় নিজের ওপর চলা পাশবিক নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন গাজী সালাউদ্দীন। তার দেওয়া তথ্যগুলো শুনে যেকোন বিবেকবান ব্যক্তির আত্মা কেপে উঠবে। বর্ননায় অনুযায়ী–
গাজী সালাউদ্দীনকে রাখা হয়েছিলো এমন একটি সেল এ যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবেই সারাক্ষন অতিউজ্জল আলো জ্বালিয়ে রাখা হতো।অত্যাধিক আলোর কারনে সে ঘুমাতে না পেরে চোখের ওপর গামছা দিয়ে রাখতেন। কিন্ত জেলের কারারক্ষীরা জোরকরে তার চোখ থেকে গামছা সরিয়ে দিতো,যেন সে ঘুমাতে না পারে।ফ্লোরে একটা যায় নামাজ বিছিয়ে ঘুমাতো সে,মশার কামড় সহ্য করতে না পেরে কয়েল চাইলেও মশার কয়েলও দেওয়া হতনা। সারা রাত যেন সে ঘুমাতে না পারে তাই তার সেল এ বাড়ি মেরে শব্ধ করা হতো।
তবে পাশবিক নির্যাতনের শুরুটা এখনো বাকি আছে। সালাউদ্দিন গাজী যখন কারারক্ষীদের বলতো 'আমার প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব হচ্ছে' তখন জেল কতৃপক্ষ থেকে বলা হতো 'কোথায় ব্যাথা হচ্ছে বলুন,আপনাকে সেখানেই ইনজেকশন দিয়ে দেই'। এরপরেই গাজী সালাউদ্দীনকে কখনো হাতে,কখন বুকে,কখনো পায়ে,কখনো কোমরে অজানা সব ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার পায়ের গোড়ালীতের ইনজেকশন দিয়েছে। আরো ভয়ানক ব্যাপার হলো, তাকে যখন যখন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে তখন পুরো জেলখানার বিদ্যুৎ বন্ধ করে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ইনজেকশন দেওয়া হতো। যেন ইনজেকশন প্রদানকারীদের চেহারা গাজী সালাউদ্দীন দেখতে না পারে। এবং গাজী সালাউদ্দীন যখন জিজ্ঞেস করতো এগুলো কিসের ইনজেকশন তখন তাকে কিছুই জানানো হয়নি।
গাজী সালাউদ্দীন বলেন, এই ইনজেকশন গুলো দেওয়ার পর থেকেই তার কোমর থেকে পা পর্যন্ত বিকল হয়ে গেছে। সে আর হাটাচলা করতে পারছেনা।এক কথায় তার শরীরের নিম্নাংশ এখন প্যারালাইজড।
সে বলে, 'আমি সস্থ সবল মানুষ তাদের হেফাজতে গিয়েছিলাম,কিন্ত আমাকে তারা মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই সেখানে পাশবিক নির্যাতন চালায়'। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে সেই বিগত রেজিমের মতো নির্যাতনের জন্যই কি আমরা পাচ আগস্ট ঘটিয়েছিলাম!
গাজী সালাউদ্দীনের কথাগুলো শুনে শুধু ভাবছি, অভ্যুত্থানের ঘা এখনো শুকায়নি অথচ বিএনপি সরকার ঠিক একেবারে হাসিনা স্টাইলে জেলে ভরে এভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। দেশটা আসলে কোনদিকে যাচ্ছে? কিছু বলার মতো ভাষা খুজে পাচ্ছিনা। এক ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়ে লাভটা কি হলো?