MBC Masjid Tv

MBC Masjid Tv Official page of Madrasa Bazar Central Jame Masjid. Dedicated to Islamic activities, community service & mosque development.

For any questions or thoughts on religious matters, feel free
to- 👇👇👇
Email: [email protected]

🌙 ১৪৪৮ হিজরী নববর্ষের শুভেচ্ছা 🌙الحمد للهএকটি নতুন হিজরী বছরের সূচনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ঈমান, ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লা...
17/06/2026

🌙 ১৪৪৮ হিজরী নববর্ষের শুভেচ্ছা 🌙

الحمد لله

একটি নতুন হিজরী বছরের সূচনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ঈমান, ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার এক মহান ইতিহাস— হিজরতের ইতিহাস।

হিজরী নববর্ষ শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়; এটি আত্মসমালোচনা, তওবা, আত্মশুদ্ধি এবং নতুন উদ্যমে দ্বীনের পথে চলার অঙ্গীকারের একটি মূল্যবান উপলক্ষ। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এবং সাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) হিজরত ছিল সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নতুন হিজরী বছরে আসুন আমরা—

✔️ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি আরও যত্নবান হই।
✔️ কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণকে জীবনের মূলনীতি বানাই।
✔️ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় সংকল্প করি।
✔️ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।
✔️ মসজিদকেন্দ্রিক জীবন গড়ে তুলি।

দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা নতুন হিজরী বছরকে আমাদের জন্য শান্তি, কল্যাণ, বরকত, ঈমানের দৃঢ়তা এবং নেক আমলে পরিপূর্ণ করে দিন। তিনি আমাদের অতীতের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে ভবিষ্যৎ জীবনকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন।

🤲 "হে আল্লাহ! নতুন বছরকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি, কল্যাণ এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের বছর হিসেবে কবুল করুন।"

হিজরী নববর্ষ ১৪৪৮ উপলক্ষে
সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

🕌 মাদ্রাসা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
📍 কুলচরী পাতারচর, কুচাইপট্টি, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর।

#হিজরী_নববর্ষ_১৪৪৮
#হিজরী_নববর্ষ
#ইসলামিক_নতুন_বছর
#মাদ্রাসা_বাজার_কেন্দ্রীয়_জামে_মসজিদ
#মসজিদকেন্দ্রিক_জীবন

🤲 সন্তানকে সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা: প্রতিটি অভিভাবকের আমানতমানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সন্তান। একজন পিতা-মাতা ...
14/06/2026

🤲 সন্তানকে সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা: প্রতিটি অভিভাবকের আমানত

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সন্তান। একজন পিতা-মাতা সন্তানের জন্য সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু প্রকৃত সফলতা তখনই আসে যখন সন্তান দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের জন্যও প্রস্তুত হয়। ইসলাম সন্তানকে কেবল লালন-পালনের নয়, বরং ঈমান, নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রে গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে।

▪️ কুরআনের নির্দেশ

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।”
— সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৬

এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পরিবারকে শুধু দুনিয়াবি সফলতার জন্য নয়; বরং আখিরাতের মুক্তির পথেও পরিচালিত করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব।

▪️ রাসূল ﷺ-এর শিক্ষা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে (প্রয়োজনে) এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করো।”
— সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ৪৯৫

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ইবাদত, শৃঙ্খলা ও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করানো জরুরি।

বাস্তব জীবনের করণীয় ও শিক্ষা

✅ নিজে নিয়মিত সালাত আদায় করে সন্তানের সামনে উত্তম উদাহরণ স্থাপন করুন।
✅ প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় পরিবার নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত বা ইসলামী আলোচনা করুন।
✅ সন্তানকে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও শালীনতার শিক্ষা দিন।
✅ ভালো বন্ধু ও ভালো পরিবেশ নির্বাচনে তাকে সাহায্য করুন।
✅ মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা এবং নৈতিক দিকনির্দেশনা দিন।
✅ সন্তানের ভুল হলে রাগ নয়, ভালোবাসা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করুন।

উপসংহার

সন্তান আল্লাহর দেওয়া এক মহামূল্যবান আমানত। এই আমানতের সঠিক হক আদায় করা প্রতিটি পিতা-মাতার দায়িত্ব। দুনিয়ার শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যদি তার ঈমান, আমল ও চরিত্র গঠনে আমরা যত্নবান হই, তবে ইনশাআল্লাহ সে হবে সমাজের জন্য কল্যাণকর মানুষ এবং আখিরাতে আমাদের জন্য সদকায়ে জারিয়ার কারণ।

দোয়া:
আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবার-পরিজনকে নেককার, দ্বীনদার ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলার তাওফীক দান করুন এবং আমাদের সবাইকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করুন। আমীন।

#পরিবার_ও_সমাজ
#সন্তান_প্রতিপালন
#ইসলামী_শিক্ষা
#কুরআন_ও_সুন্নাহ
#মাদ্রাসা_বাজার_কেন্দ্রীয়_জামে_মসজিদ
#দ্বীনের_দাওয়াহ

❖ আপনার জিজ্ঞাসা ❖ 📌প্রশ্ন: মিসওয়াক করা সুন্নত কেন?উত্তর: মিসওয়াক করা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি শ...
09/06/2026

❖ আপনার জিজ্ঞাসা ❖ 📌প্রশ্ন: মিসওয়াক করা সুন্নত কেন?

উত্তর: মিসওয়াক করা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি শুধু মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখার মাধ্যম নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইবাদতের প্রস্তুতির একটি উত্তম আমল।

হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে, বিশেষ করে ওযুর সময়, নামাজের আগে এবং কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে মিসওয়াক করা সুন্নতে মুআক্কাদা হিসেবে গণ্য করা হয়।

🔹 মিসওয়াকের উপকারিতা:

✔️ মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।
✔️ দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার রাখে।
✔️ নামাজ ও ইবাদতের জন্য উত্তম প্রস্তুতি সৃষ্টি করে।
✔️ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নতের উপর আমলের সৌভাগ্য অর্জিত হয়।
✔️ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম হয়।

দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“মিসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।”
— (সুনানে নাসাঈ)

অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন: “আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করলে আমি তাদের প্রত্যেক ওযুর সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।”
— (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

গুরুত্বপূর্ণ কথা: বর্তমান যুগে টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট ব্যবহার করা হলেও মিসওয়াকের সুন্নত ও ফজিলত আলাদা। তাই সম্ভব হলে নিয়মিত মিসওয়াক করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রিয় নবী ﷺ-এর সুন্নতসমূহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

#আপনার_জিজ্ঞাসা #মিসওয়াক #সুন্নতের_আমল #হানাফী_মাযহাব #দ্বীনি_জ্ঞান

❖ আপনার জিজ্ঞাসা ❖📌প্রশ্ন: শিশুকে কোলে নিয়ে নামাজ পড়া যাবে কি?উত্তর: হ্যাঁ, প্রয়োজন হলে শিশুকে কোলে নিয়ে বা বহন করে ...
09/06/2026

❖ আপনার জিজ্ঞাসা ❖📌প্রশ্ন: শিশুকে কোলে নিয়ে নামাজ পড়া যাবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রয়োজন হলে শিশুকে কোলে নিয়ে বা বহন করে নামাজ আদায় করা জায়েজ। হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে, শিশুকে সামলানোর প্রয়োজন দেখা দিলে তাকে কোলে নিয়েই নামাজ পড়া যেতে পারে। এতে নামাজ নষ্ট হবে না, যদি নামাজের মধ্যে এমন কোনো অতিরিক্ত কাজ না করা হয় যা নামাজের পরিপন্থী।

🔹এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা:

✔️ শিশু কোলে থাকা অবস্থায় কিয়াম, রুকু ও সিজদা যথাসম্ভব নিয়ম অনুযায়ী আদায় করতে হবে।

✔️ শিশুর কারণে যদি পোশাক বা শরীরে নাপাকি লেগে যায়, তাহলে সেই নাপাকির পরিমাণ শরয়ি সীমা অতিক্রম করলে নামাজ সহীহ হবে না।

✔️ শিশুকে শান্ত রাখা বা নিরাপদে রাখার প্রয়োজন হলে তাকে বহন করা জায়েজ।

✔️ নামাজে মনোযোগ ও একাগ্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

দলিল: হযরত আবু কাতাদা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর নাতনি উমামাহ (রাঃ)-কে বহন করে নামাজ আদায় করতেন। তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ালে আবার কোলে তুলে নিতেন।
— (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

গুরুত্বপূর্ণ কথা: ইসলাম সহজতার দ্বীন। শিশু লালন-পালন ও তার যত্ন নেওয়ার প্রয়োজনকে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। তাই সন্তানের কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং শরীয়তের অনুমোদিত পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নিজের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার এবং নামাজের প্রতি অভ্যস্ত করে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমীন।

মাদ্রাসা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।
কুলচরী পাতারচর, কুচাইপট্টি, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর।

#আপনার_জিজ্ঞাসা #নামাজের_মাসআলা #শিশু_ও_নামাজ #হানাফী_মাযহাব #দ্বীনি_জ্ঞান

০৮ ❖আপনার জিজ্ঞাসা❖প্রশ্ন: টুপি ছাড়া নামাজ আদায় করা যাবে কি?📝 উত্তর: হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে, টুপি বা পাগড়ি পরিধান ক...
30/05/2026

০৮ ❖আপনার জিজ্ঞাসা❖

প্রশ্ন: টুপি ছাড়া নামাজ আদায় করা যাবে কি?

📝 উত্তর: হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে, টুপি বা পাগড়ি পরিধান করে নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব এবং ইসলামী শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। তবে টুপি ছাড়া নামাজ আদায় করলে নামাজ সহীহ হয়ে যাবে; নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না।

তবে কোনো ব্যক্তি যদি টুপিকে তুচ্ছ মনে করে বা ইসলামী আদব-শিষ্টাচারকে অবজ্ঞা করে ইচ্ছাকৃতভাবে মাথা খোলা রেখে নামাজ আদায় করে, তাহলে তা নিন্দনীয় কাজ হবে।

🔹 এ বিষয়ে মনে রাখার বিষয়:
✔️ নামাজের জন্য টুপি পরা ফরজ বা ওয়াজিব নয়।
✔️ টুপি পরলে নামাজের সৌন্দর্য ও আদব বৃদ্ধি পায়।
✔️ মসজিদে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি পোশাকে উপস্থিত হওয়া সুন্নতের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
✔️ সামর্থ্য ও সুযোগ থাকলে টুপি বা পাগড়ি পরিধান করা উত্তম।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো।”
— (সূরা আল-আ'রাফ: ৩১)

গুরুত্বপূর্ণ কথা:
নামাজের মূল বিষয় হলো খুশু-খুযু, একাগ্রতা এবং আল্লাহর প্রতি বিনয়। টুপি পরা উত্তম হলেও টুপি না থাকার কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়া বা বিলম্ব করা উচিত নয়।

🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নামাজের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ আদবসমূহ সুন্দরভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

#আপনার_জিজ্ঞাসা
#টুপি_ও_নামাজ
#নামাজের_আদব
#হানাফী_মাযহাব
#দ্বীনি_জ্ঞান

পর্ব ১০ | জিলহজ্জের সোনালী দশক।ঈদুল আযহা: ত্যাগের শিক্ষা, তাকওয়ার বার্তা।بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِজিলহজ্জের...
27/05/2026

পর্ব ১০ | জিলহজ্জের সোনালী দশক।

ঈদুল আযহা: ত্যাগের শিক্ষা, তাকওয়ার বার্তা।

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

জিলহজ্জের বরকতময় দিনগুলোর পরম সমাপ্তি ঘটে ঈদুল আযহার আনন্দ ও কুরবানির মাধ্যমে।
এটি শুধু উৎসবের দিন নয়; বরং ত্যাগ, আনুগত্য, ইখলাস ও তাকওয়ার এক মহান শিক্ষা।

ঈদুল আযহা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষ কত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারে।

হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর আদেশে নিজের প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই অনন্য আত্মসমর্পণ ও আনুগত্যের স্মৃতিই আজও কুরবানির মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে আছে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
(সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭)

এই আয়াত আমাদের শেখায়—
কুরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়; বরং অন্তরের খাঁটি নিয়ত, আল্লাহভীতি এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
“আল্লাহর নিকট কুরবানির দিনের আমলের মধ্যে রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই।”
(জামে তিরমিযী, হাদিস: ১৪৯৩)

হানাফি মাযহাবের আলোকে,
ঈদুল আযহার দিনগুলোতে আমাদের করণীয়—
✔ ঈদের সালাত আদায় করা।
✔ তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা।
✔ কুরবানি আদায় করা।
✔ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিবদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করা।
✔ কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সাথে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা
আজ আমরা নিজেদের একটি প্রশ্ন করি—

আমি কি শুধু পশু কুরবানি করছি, নাকি নিজের অহংকার, লোভ, গুনাহ ও খারাপ অভ্যাসগুলোও আল্লাহর জন্য ত্যাগ করছি?
জিলহজ্জের এই সোনালী দশক শেষে আমাদের হৃদয়ে নতুন এক অঙ্গীকার জাগুক—

ত্যাগের শিক্ষা যেন শুধু এক দিনের না হয়ে, সারা জীবনের পথচলার অংশ হয়।

আজকের আমল:
✅ ঈদের আনন্দে গরিব ও অভাবীদের কথা মনে রাখুন।
✅ কুরবানির গোশত সুন্দরভাবে বণ্টন করুন।
✅ নিজের অন্তরের একটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করার সংকল্প করুন
✅ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন।

আজকের দোয়া:
হে আল্লাহ! আমাদের কুরবানি কবুল করুন, আমাদের অন্তরে তাকওয়া বৃদ্ধি করুন, এবং ইবরাহীম (আ.)-এর মতো আপনার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের তাওফিক দান করুন। আমীন।

আলহামদুলিল্লাহ।
“জিলহজ্জের সোনালী দশক” ধারাবাহিকের এই ১০টি পর্বের মাধ্যমে আমরা সবাই যেন আমলের প্রতি আরও যত্নবান হই, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করি, এবং এই শিক্ষা সারা জীবনে ধারণ করি—এই দোয়া রইল। ফি আমানিল্লাহ।

#জিলহজ্জের_সোনালী_দশক
#পর্ব_১০
#ঈদুল_আযহা
#ত্যাগের_শিক্ষা
#মাদ্রাসা_বাজার_কেন্দ্রীয়_জামে_মসজিদ
#হানাফি_মাযহাব

🕌 পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা 🌙মাদ্রাসা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদকুলচরী পাতারচর, কুচাইপট্টি, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর-এর পক্...
27/05/2026

🕌 পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা 🌙

মাদ্রাসা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
কুলচরী পাতারচর, কুচাইপট্টি, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর-এর পক্ষ থেকে
সকল মুসলিম উম্মাহকে জানাই পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

ঈদুল আজহা আমাদের শেখায়—
ত্যাগ, তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ কুরবানির মানসিকতা।

আসুন, এই পবিত্র দিনে আমরা শুধু পশু কুরবানিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে—
নিজেদের অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ ও গুনাহকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করি।

🤲 দোয়া করি—
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন,
আমাদের পরিবারে শান্তি, হৃদয়ে ঈমানের নূর এবং জীবনে বরকত দান করুন। আমীন।

✨ ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে,
ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বে ভরে উঠুক আমাদের সমাজ।

ঈদ মোবারক!
تقبل الله منا ومنكم صالح الأعمال

পর্ব ৯ | জিলহজ্জের সোনালী দশক।আরাফার দিন: দোয়া কবুলের মহামূল্যবান মুহূর্ত।بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِজিলহজ্জে...
26/05/2026

পর্ব ৯ | জিলহজ্জের সোনালী দশক।

আরাফার দিন: দোয়া কবুলের মহামূল্যবান মুহূর্ত।

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের সবচেয়ে মহিমান্বিত দিনগুলোর একটি হলো ৯ জিলহজ্জ—ইয়াওমে আরাফাহ (আরাফার দিন)।

এ দিনটি শুধু হজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় নয়; বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য দোয়া, ইস্তিগফার ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক অতুলনীয় সুযোগ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
“সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।”
(জামে তিরমিযী, হাদিস: ৩৫৮৫)

এ দিনের বিশেষ একটি জিকির, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেও বেশি বেশি পাঠ করতেন—

“আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, এবং তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।”
(জামে তিরমিযী, হাদিস: ৩৫৮৫)

এই দিনে বান্দার দোয়া আকাশ ছুঁয়ে যায়, অশ্রু কবুলিয়তের দরজায় কড়া নাড়ে, আর আল্লাহর রহমত অবারিতভাবে নেমে আসে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও ইরশাদ করেছেন—

“আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তাআলা অধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।”
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪৮)

কী অপার সৌভাগ্যের দিন!
একটি দিন—যেখানে দোয়া কবুলের আশা, গুনাহ মাফের সুযোগ, এবং নাজাতের সুসংবাদ একসাথে মিলে যায়।

হানাফি মাযহাবের আলোকে,
এই দিনে বেশি বেশি—
✔ দোয়া করা
✔ ইস্তিগফার পড়া
✔ তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)
✔ তাকবীর ও তাহমীদ
✔ নিজের, পরিবারের, উম্মাহর ও দেশের জন্য কান্নাভেজা প্রার্থনা করা—

অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
হয়তো এই আরাফার দিনই হতে পারে—

আমাদের জীবনের সেই দিন, যেদিন আল্লাহ আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ দেবেন।

আজকের আমল:
নিজের জন্য একটি দোয়ার তালিকা তৈরি করুন।
বাবা-মা, পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।
বেশি বেশি “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়ুন।
আরাফার দিনের বিশেষ জিকিরটি বারবার পাঠ করুন।

আজকের দোয়া:
হে আল্লাহ! আরাফার দিনের বরকতে আমাদের দোয়াগুলো কবুল করুন, আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন, এবং আমাদেরকে আপনার ক্ষমাপ্রাপ্ত ও প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

#জিলহজ্জের_সোনালী_দশক
#পর্ব_৯
#আরাফার_দিন
#দোয়া_কবুলের_মুহূর্ত
#মাদ্রাসা_বাজার_কেন্দ্রীয়_জামে_মসজিদ
#হানাফি_মাযহাব

পর্ব ৮ | জিলহজ্জের সোনালী দশক।দান-সদকা ও আত্মীয়তার বন্ধন: বরকতময় দিনগুলোতে নেকির দ্বিগুণ সুযোগ।بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰن...
26/05/2026

পর্ব ৮ | জিলহজ্জের সোনালী দশক।

দান-সদকা ও আত্মীয়তার বন্ধন: বরকতময় দিনগুলোতে নেকির দ্বিগুণ সুযোগ।

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের সময় নয়; বরং এটি মানুষের উপকার, দান-সদকা এবং আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করারও এক অনন্য সুযোগ।
এই বরকতময় দিনগুলোতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি ছোট সাহায্য, একটি আন্তরিক খোঁজখবর, কিংবা একটি হাসিমুখও হতে পারে বিশাল নেকির কারণ।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“তোমরা যা কিছু কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।”
(সূরা আল-বাকারা: ২৭৩)

আরেক স্থানে আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচার এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন।”
(সূরা আন-নাহল: ৯০)

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
“দান সম্পদ কমায় না।”
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)

আর আত্মীয়তার সম্পর্ক সম্পর্কে তিনি বলেছেন—
“যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং আয়ুতে বরকত হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”
(সহীহ বুখারী, হাদিস: ২০৬৭)

হানাফি মাযহাবের আলোকে,
এই দিনগুলোতে নফল দান-সদকা, গরিব-মিসকিনের সাহায্য, মসজিদ-মাদ্রাসায় সহযোগিতা, এবং আত্মীয়দের খোঁজখবর নেওয়া—সবই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।

ভাবুন তো—
হয়তো আপনার সামান্য সাহায্যে কারো ঘরে হাসি ফিরবে, কারো দুআয় আপনার জীবন বদলে যাবে!
জিলহজ্জের এই সোনালী দিনগুলোতে আমরা শুধু নিজের আমল নিয়েই ব্যস্ত না থেকে, অন্যের কল্যাণেও এগিয়ে আসি।

আজকের আমল:
সামর্থ্য অনুযায়ী একজন গরিব বা অভাবী মানুষকে সাহায্য করুন।
মসজিদ বা মাদ্রাসায় সামান্য হলেও দান করুন।
অন্তত একজন আত্মীয়ের খোঁজখবর নিন।
কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে, সম্পর্ক ঠিক করার উদ্যোগ নিন।

আজকের দোয়া:
হে আল্লাহ! আমাদেরকে দানশীল অন্তর দান করুন, আত্মীয়তার সম্পর্ক সুন্দর রাখার তাওফিক দিন, এবং এই বরকতময় দিনগুলোতে আমাদের ছোট ছোট নেক আমলগুলো কবুল করে নিন। আমীন।

#জিলহজ্জের_সোনালী_দশক
#পর্ব_৮
#দান_সদকা_ও_আত্মীয়তা
#মাদ্রাসা_বাজার_কেন্দ্রীয়_জামে_মসজিদ
#হানাফি_মাযহাব

পর্ব ৭ | জিলহজ্জের সোনালী দশক।কুরবানিদাতার জন্য চুল-নখ না কাটা: সুন্নতের প্রতি ভালোবাসার এক সুন্দর প্রকাশ।بِسْمِ اللّٰهِ...
25/05/2026

পর্ব ৭ | জিলহজ্জের সোনালী দশক।

কুরবানিদাতার জন্য চুল-নখ না কাটা: সুন্নতের প্রতি ভালোবাসার এক সুন্দর প্রকাশ।

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

জিলহজ্জের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে কুরবানির পশু জবাই করা পর্যন্ত—যারা কুরবানি করার নিয়ত করেছেন, তাদের জন্য চুল ও নখ না কাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল ও সুন্নতের আদব।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
“তোমাদের কেউ যখন কুরবানি করার ইচ্ছা করে এবং জিলহজ্জের চাঁদ দেখা যায়, তখন সে যেন তার চুল ও নখ থেকে কিছুই না কাটে, যতক্ষণ না কুরবানি সম্পন্ন করে।”
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৭৭)

এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা—
এ যেন কুরবানির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজের পুরো সত্তাকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করার এক প্রতীকী প্রকাশ।

হানাফি মাযহাবের দৃষ্টিতে,
কুরবানিদাতার জন্য চুল, নখ বা শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম না কাটা মুস্তাহাব (উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ আমল); এটি ওয়াজিব নয়, তবে সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের একটি সুন্দর মাধ্যম।

অর্থাৎ—
যদি কেউ এই আমল পালন করেন, ইনশাআল্লাহ সওয়াব পাবেন;
আর যদি কোনো প্রয়োজনবশত চুল বা নখ কেটে ফেলেন, তবে কুরবানি আদায়ে কোনো সমস্যা হবে না।

এই ছোট্ট আমল আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
কুরবানি শুধু পশুর নয়; নিজের ইচ্ছা, অভ্যাস ও স্বাচ্ছন্দ্যকেও আল্লাহর জন্য কিছু সময় ত্যাগ করার নাম।

জিলহজ্জের এই বরকতময় দিনগুলোতে আমরা সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করি, এবং প্রতিটি ছোট আমলকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করি।

আজকের আমল:
যদি কুরবানির নিয়ত করে থাকেন, কুরবানি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটার চেষ্টা করুন।
এই আমলের মাধ্যমে সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুন।
অন্তরে নিয়ত করুন— “হে আল্লাহ! আপনার সন্তুষ্টির জন্যই আমি এই ছোট্ট ত্যাগ করছি।”

আজকের দোয়া:
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা দান করুন, ছোট-বড় সকল আমলকে আপনার সন্তুষ্টির জন্য করার তাওফিক দিন, এবং আমাদের কুরবানিকে কবুল করুন। আমীন।

#জিলহজ্জের_সোনালী_দশক
#পর্ব_৭
#কুরবানিদাতার_চুল_ও_নখ
#মাদ্রাসা_বাজার_কেন্দ্রীয়_জামে_মসজিদ
#হানাফি_মাযহাব

Address

কুলচরী পাতারচর, কুচাইপট্টি, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর।
Goshairhat
8050

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MBC Masjid Tv posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share